WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক বাংলা | Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer PDF

Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer এবং আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আমাদের আজকের এই কবিতা নোটবুকে দশম শ্রেণির সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাগত। যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ে বিপন্ন সাধারণ মানুষ কীভাবে পারস্পরিক ঐক্য ও সহমর্মিতার শক্তিতে ভর করে বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পায়—আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিবেকস্বরূপ কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি তারই এক কালজয়ী আহ্বান।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর — উৎস ও প্রতীকী তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer Overview)
  2. ১. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer)
  3. ২. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
  4. ১. প্রশ্ন: “আমাদের পথ নেই কোনো”—‘আমাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? কেন তাদের কোনো পথ নেই তা কবিতা অবলম্বনে লেখো। (৩ নম্বর ১০০% কমন)
  5. ২. প্রশ্ন: “আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!”—উদ্ধৃত পঙক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  6. ৩. প্রশ্ন: “আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস / আমাদের চোখমুখ ঢাকা”—কবি কেন এমন কথা বলেছেন তা বুঝিয়ে দাও। (৩ নম্বর ১০০% কমন)
  7. ৪. প্রশ্ন: “পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”—পৃথিবী সম্পর্কে কবির মনে এই সংশয় জাগার কারণ কী? (৩ নম্বর)
  8. ৩. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer)
  9. ১. প্রশ্ন: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় যুদ্ধ ও অস্থির সময় কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে এবং কবি কোন পথে এই সংকট থেকে উত্তরণের আহ্বান জানিয়েছেন তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
  10. ২. প্রশ্ন: “আমরা ভিখারি বারোমাস”—কারা, কেন নিজেদের ‘বারোমাস ভিখারি’ বলেছে? ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা এই সূত্রে বিচার করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  11. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 
  12. ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমে এই ছোটো অথচ গভীর ব্যঞ্জনাময় কবিতাটি থেকে প্রতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় শর্ট ও বড়ো প্রশ্ন আসে। ক্লাসরুমে খাতা দেখার সময় প্রায়ই দেখি, কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থের নাম (জলই পাষাণ হয়ে আছে), আমাদের ডানপাশে ও বাঁয়ে কী রয়েছে কিংবা “আমাদের ইতিহাস নেই”—এই পঙক্তিগুলোর প্রতীকী অর্থ লিখতে গিয়ে অনেকেই গুলিয়ে ফেলে।

তাই আজকের এই মাধ্যমিক বাংলা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর ও শঙ্খ ঘোষ আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর গাইডে আমরা কবিতার উৎস, প্রতীকী অর্থের ছক, বাছাই করা MCQ ও SAQ এবং ৩ ও ৫ নম্বরের প্রতিটি লাইনের আদর্শ পয়েন্টভিত্তিক উত্তর সাজিয়ে দিয়েছি। মাধ্যমিকের সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ নোটবুক পেতে আমাদের WBBSE NOTE Books Library দেখে নিতে পারো।

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর — উৎস ও প্রতীকী তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer Overview)

আমাদের Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer অনুশীলন করার আগে নিচের টেবিল থেকে কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ এবং প্রতিটি প্রতীকের অর্থ একনজরে দেখে নাও:

মূল আলোচ্য বিষয় নির্ধারিত পাঠ্য তথ্য ও বিশ্লেষণ (WBBSE Class 10 Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki — Sankha Ghosh) পরীক্ষায় আসার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (Exam Key Points)
কবি ও মূল কাব্যগ্রন্থ (উৎস) আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২–২০২১; প্রকৃত নাম: চিত্তপ্রিয় ঘোষ; ছদ্মনাম: কুন্তক; জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত) ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ (২০০৪ সালে প্রকাশিত) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
চারপাশের বিপন্নতার ৪টি প্রতীক ডানপাশে: ধস (অনিশ্চয়তা ও পতন)। বাঁয়ে: গিরিখাত (মৃত্যুফাঁদ)। মাথার ওপরে: বোমারু (যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণ)। পায়ে পায়ে: হিমানীর বাঁধ (তুষার বা বরফের প্রাচীর — অগ্রগতির পথে বাধা) যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের ‘ঘর গেছে উড়ে’ এবং কাছে ও দূরে ছড়িয়ে রয়েছে ‘শিশুদের শব’ (ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অপমৃত্যু)।
উত্তরণের একমাত্র পথ ও মূল বার্তা চারপাশের এই চরম ধ্বংস, গৃহহীনতা ও ইতিহাসহীনতার মধ্যেও কবি হতাশ হয়ে মরতে চাননি “কিছুই কোথাও যদি নেই / তবু তো কজন আছি বাকি / আয় আরো হাতে হাত রেখে / আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।” (ঐক্যবদ্ধ মানবিকতাই মুক্তির পথ)।

১. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer)

১. প্রশ্ন: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটির রচয়িতা কে, তাঁর প্রকৃত নাম ও ছদ্মনাম কী এবং কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: কবিতাটির রচয়িতা হলেন কবি শঙ্খ ঘোষ (প্রকৃত নাম: চিত্তপ্রিয় ঘোষ, ছদ্মনাম: কুন্তক) এবং কবিতাটি তাঁর ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. প্রশ্ন: কবিতায় ‘আমাদের’ ডানপাশে, বাঁয়ে, মাথার ওপরে এবং পায়ে পায়ে কী কী বিপদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: কবিতায় বিপন্ন সাধারণ মানুষের ডানপাশে রয়েছে ‘ধস’, বাঁয়ে রয়েছে ‘গিরিখাত’, মাথার ওপরে রয়েছে ‘বোমারু’ (বোমারু বিমান) এবং পায়ে পায়ে রয়েছে ‘হিমানীর বাঁধ’ (বরফের প্রাচীর)।

৩. প্রশ্ন: ‘হিমানীর বাঁধ’ কথাটির আক্ষরিক ও প্রতীকী অর্থ কী?

উত্তর: ‘হিমানী’ শব্দের অর্থ তুষার বা বরফ; তাই ‘হিমানীর বাঁধ’-এর আক্ষরিক অর্থ বরফের প্রাচীর এবং প্রতীকী অর্থ হলো—মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পথে সৃষ্টি হওয়া শীতল, হৃদয়হীন ও দুর্লঙ্ঘ্য প্রতিবন্ধকতা।

৪. প্রশ্ন: কাছে ও দূরে কী ছড়ানো রয়েছে এবং কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?

উত্তর: কাছে ও দূরে নিষ্পাপ শিশুদের শব (মৃতদেহ) ছড়ানো রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নির্বিচার যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণের ফলেই মানুষের ঘর উড়ে গেছে এবং শিশুদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।

৫. প্রশ্ন: “আমরাও তবে এইভাবে / এই মুহূর্তে মরে যাব না কি?”—কবির মনে এই প্রশ্ন জেগেছে কেন?

উত্তর: আমাদের Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer প্রস্তুতিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। চারপাশে ধস, গিরিখাত, বোমারু বিমান এবং শিশুদের শব দেখে যখন বাঁচার সমস্ত পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, তখন অসহায় মানুষের মনে বেঁচে থাকা নিয়েই এই সংশয় বা প্রশ্ন জেগেছে।

৬. প্রশ্ন: “আমাদের চোখমুখ ঢাকা”—কথাটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: ক্ষমতাবান শাসক ও বিজয়ীদের লেখা ইতিহাসে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সত্যিকারের পরিচয় ও অবদানকে মুছে ফেলা হয় বা বিকৃত করা হয়—সাধারণ মানুষের এই আত্মপরিচয়হীনতা ও কণ্ঠরোধের অবস্থাকেই ‘চোখমুখ ঢাকা’ বলা হয়েছে।

৭. প্রশ্ন: কবিতায় কারা এবং কেন ‘ভিখারি বারোমাস’?

উত্তর: কবিতায় সমাজের শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত সাধারণ মানুষরা ‘ভিখারি বারোমাস’। কারণ নিজের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদটুকুর জন্য তাদের সারাবছর ক্ষমতাবানদের দোরে দোরে হাত পাততে হয়।

৮. প্রশ্ন: “পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”—এখানে ‘পৃথিবী’ বলতে আসলে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: এখানে ‘পৃথিবী’ বলতে ভৌগোলিক গ্রহটিকে নয়, বরং পৃথিবীর বুকে বসবাসকারী মানুষের মানবিকতা, বিবেক, সহানুভূতি ও শুভবুদ্ধিকে বোঝানো হয়েছে।

৯. প্রশ্ন: “তবু তো কজন আছি বাকি”—‘কজন’ বলতে কবি কাদের কথা বলেছেন?

উত্তর: ‘কজন’ বলতে কবি সেইসব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ও সংগ্রামী সাধারণ মানুষের কথা বলেছেন, যাঁরা সর্বগ্রাসী ধ্বংস ও হতাশার মধ্যেও এখনো বেঁচে আছেন এবং মানবিকতা হারাননি।

১০. প্রশ্ন: ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কবি সমস্ত ভেদাভেদ ও বিচ্ছিন্নতা ভুলে গিয়ে বিপন্ন মানুষের হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধভাবে বেঁচে থাকার কথা বুঝিয়েছেন।

২. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)

১. প্রশ্ন: “আমাদের পথ নেই কোনো”—‘আমাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? কেন তাদের কোনো পথ নেই তা কবিতা অবলম্বনে লেখো। (৩ নম্বর ১০০% কমন)

উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমাদের’ বলতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংকটাপন্ন পৃথিবীর শান্তিকামী, নিরীহ ও অসহায় সাধারণ মানুষের কথা বলা হয়েছে।

পথ না থাকার কারণ: সমকালীন বিশ্বে সাধারণ মানুষের চারপাশ আজ মরণফাঁদে ঘেরা। তাদের ডানপাশে রয়েছে ভয়াবহ ধস, বাঁয়ে অতল গিরিখাত, মাথার ওপরে মৃত্যুদূতের মতো উড়ছে যুদ্ধবাজদের বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে গড়ে উঠেছে হিমানীর (বরফের) দুর্লঙ্ঘ্য বাঁধ! প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের এই সাঁড়াশি আক্রমণে মানুষের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে, তাই তাদের পালানোর বা নিরাপদে এগিয়ে যাওয়ার আর কোনো পথ খোলা নেই।

২. প্রশ্ন: “আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!”—উদ্ধৃত পঙক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর: আমাদের আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর সংকলনে এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচ্য পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি শঙ্খ ঘোষ যুদ্ধবাজ শক্তির নির্মম ও পৈশাচিক ধ্বংসলীলার চিত্র তুলে ধরেছেন।

তাৎপর্য: শিশুরা হলো নিষ্পাপ প্রাণের প্রতীক এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ। কিন্তু ক্ষমতা ও সাম্রাজ্য বিস্তারের অন্ধ নেশায় মেতে ওঠা রাষ্ট্রশক্তির বোমারু বিমান থেকে ফেলা বোমায় আজ মানুষের ঘরবাড়ি যেমন উড়ে গেছে, তেমনি কাছে ও দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য নিষ্পাপ শিশুর নিথর মৃতদেহ (শব)। শিশুদের এই অপমৃত্যু আসলে সমগ্র মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেই হত্যা করার নামান্তর—যা কবির সংবেদনশীল হৃদয়কে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

৩. প্রশ্ন: “আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস / আমাদের চোখমুখ ঢাকা”—কবি কেন এমন কথা বলেছেন তা বুঝিয়ে দাও। (৩ নম্বর ১০০% কমন)

উত্তর: শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সমাজের প্রান্তিক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহাসিক বঞ্চনার কথা বলতে গিয়ে কবি আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

মন্তব্যের তাৎপর্য: যুগ যুগ ধরে সভ্যতার চাকা সচল রাখে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, অথচ রাজতন্ত্র বা ধনতন্ত্রের লেখা ইতিহাসে সর্বদা রাজা-মহারাজা ও ক্ষমতাবান শাসকদেরই জয়গান গাওয়া হয়—সেখানে সাধারণ মানুষের কোনো স্থান থাকে না (‘আমাদের ইতিহাস নেই’)। আর কখনো যদি ইতিহাসে তাদের কথা লেখাও হয়, তবে শাসকের স্বার্থে সত্যকে আড়াল করে এমন এক বিকৃত ইতিহাস রচনা করা হয় যেখানে সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুখ ও কণ্ঠস্বর ঢাকা পড়ে থাকে (‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’)।

৪. প্রশ্ন: “পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”—পৃথিবী সম্পর্কে কবির মনে এই সংশয় জাগার কারণ কী? (৩ নম্বর)

উত্তর: শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় বিপন্ন ও গৃহহারা সাধারণ মানুষের আর্তনাদে বাকি পৃথিবীর চরম উদাসীনতা দেখেই কবির মনে এই গভীর সংশয় জেগেছে।

সংশয়ের কারণ: যুদ্ধ ও শোষণের শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে বারোমাস ভিখারির মতো দোরে দোরে ঘুরছে এবং তাদের শিশুদের শব চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে, তখনো তথাকথিত সভ্য পৃথিবীর বিত্তবান মানুষরা নির্বিকার চিত্তে নিজেদের বিলাসিতায় ডুবে আছে—তাদের কথা কেউ জানেও না বা খোঁজও রাখে না। ভৌগোলিক পৃথিবীটা হয়তো এখনো টিকে আছে (‘বেঁচে আছে’), কিন্তু মানুষের বুকের সহানুভূতি, বিবেক ও মানবিকতার পৃথিবীটা যেন চিরতরে লুপ্ত হয়ে গেছে (‘গেছে মরে’)।

৩. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer)

১. প্রশ্ন: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় যুদ্ধ ও অস্থির সময় কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে এবং কবি কোন পথে এই সংকট থেকে উত্তরণের আহ্বান জানিয়েছেন তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)

উত্তর:

১. সর্বগ্রাসী বিপন্নতার প্রেক্ষাপট: কবি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি সমকালীন যুদ্ধ, দাঙ্গা ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে বিপন্ন মানবতার এক জীবন্ত দলিল। কবিতার শুরুতেই কবি দেখিয়েছেন যে সাধারণ মানুষের চারপাশ আজ মৃত্যুফাঁদে ঘেরা—ডানপাশে ধস, বাঁয়ে গিরিখাত, মাথার ওপরে বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ।

২. গৃহহীনতা ও শিশুদের শব: আমাদের Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুদ্ধবাজ শক্তির নির্বিচার আক্রমণে সাধারণ মানুষের মাথার ওপরকার আশ্রয় বা ঘর উড়ে গেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য হলো, কাছে ও দূরে ছড়িয়ে রয়েছে নিষ্পাপ শিশুদের শব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড দেখে স্তম্ভিত মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—“আমরাও তবে এইভাবে / এই মুহূর্তে মরে যাব না কি?”

৩. ইতিহাসের বঞ্চনা ও মানবিকতার মৃত্যু: কেবল যুদ্ধের আঘাতই নয়, সামাজিক ও ঐতিহাসিক স্তরেও সাধারণ মানুষ চরমভাবে উপেক্ষিত। ক্ষমতাবানদের ইতিহাসে তাদের কোনো স্থান নেই, অথবা থাকলেও সেখানে তাদের চোখমুখ ঢাকা। বারোমাস ভিখারির মতো দোরে দোরে ঘুরেও তারা কারও সহানুভূতি পায় না; মনে হয় বিবেকহীন এই পৃথিবীটা বুঝি মরেই গেছে।

৪. ঐক্যবদ্ধ মানবিকতায় উত্তরণের পথ: কিন্তু এই চরম নৈরাশ্য ও ধ্বংসের মধ্যেও কবি শঙ্খ ঘোষ আত্মসমর্পণের কথা বলেননি। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে—চারপাশে কিছুই যদি অবশিষ্ট না থাকে, তবুও তো আমরা কয়েকজন মানুষ এখনো বেঁচে আছি! তাই ভয় ও বিচ্ছিন্নতাকে জয় করে মানুষে-মানুষে হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংঘবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোই (‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’) এই মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচার একমাত্র পথ।

২. প্রশ্ন: “আমরা ভিখারি বারোমাস”—কারা, কেন নিজেদের ‘বারোমাস ভিখারি’ বলেছে? ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা এই সূত্রে বিচার করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর:

১. ‘আমরা’ ও বারোমাস ভিখারি হওয়ার কারণ: কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমরা’ বলতে রাষ্ট্রশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদের হাতে শোষিত, বঞ্চিত ও যুদ্ধপীড়িত সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে বোঝানো হয়েছে। সভ্যতার নির্মাতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের নিজেদের কোনো স্বীকৃত ইতিহাস নেই, তাদের কণ্ঠস্বর ও আত্মপরিচয়কে ঢেকে রাখা হয়েছে। নিজেদের বাসভূমি, ঘরবাড়ি ও ন্যায্য অধিকার হারিয়ে বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদ ও নিরাপত্তার জন্য তাদের সারাবছর ক্ষমতাবানদের দোরে দোরে হাত পেতে ঘুরতে হয় বলেই তারা নিজেদের ‘ভিখারি বারোমাস’ বলেছে।

২. ধ্রুবপদ হিসেবে শিরোনামের ব্যবহার: কবিতাটির নামকরণ করা হয়েছে কবিতার মূল সুর বা ধ্রুবপদ (Refrain) ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ পঙক্তিটি দিয়ে, যা কবিতার দুটি স্তবকের শেষে দুবার ধ্বনিত হয়েছে।

৩. বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধতার ডাক: আধুনিক বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী ও শোষক শক্তি চায় সাধারণ মানুষ যেন ভয়ে বিচ্ছিন্ন ও একাকী হয়ে পড়ে। ডানপাশে ধস, বাঁয়ে গিরিখাত, মাথার ওপরে বোমারু বিমান এবং শিশুদের শবের মিছিল দেখে মানুষ যখন বাঁচার আশা হারিয়ে ফেলতে বসে, তখন কবি উপলব্ধি করেন একাকী বিচ্ছিন্ন থাকলে মৃত্যু অনিবার্য।

৪. নামকরণের সার্থকতা: তাই সমস্ত ভয়, ইতিহাসহীনতা ও নিঃস্বতাকে অতিক্রম করে বেঁচে থাকা মুষ্টিমেয় মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার যে উদাত্ত আহ্বান কবি জানিয়েছেন—কবিতাটির শিরোনাম ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’-র মধ্যেই সেই অমর জীবনমন্ত্রটি ফুটে উঠেছে। তাই ভাব ও ব্যঞ্জনায় এই নামকরণটি সর্বাংশে সার্থক।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 

মাধ্যমিক দশম শ্রেণি বাংলা ও সকল বিষয়ের সাজেশন এবং পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Ay Aro Bedhe Bedhe Thaki Question Answer)

প্রশ্ন ১: শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর: কবিতাটি কবি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ (২০০৪) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

প্রশ্ন ২: কবিতায় আমাদের ডানপাশে এবং বাঁয়ে কী কী থাকার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: কবিতায় আমাদের ডানপাশে ‘ধস’ এবং বাঁয়ে ‘গিরিখাত’ থাকার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ৩: কবি শঙ্খ ঘোষের প্রকৃত নাম এবং ছদ্মনাম কী?

উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ এবং তাঁর বিখ্যাত ছদ্মনাম হলো ‘কুন্তক’।

পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya) ✓
👨🏫 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষিকা • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১৩+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya)
🎓 M.A. (Bengali), B.Ed., UGC-NET & WBSET Qualified
পারমিতা ভট্টাচার্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার) বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরণ, প্রবন্ধ রচনা এবং বঙ্গানুবাদ বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা। তাঁর লেখা পয়েন্ট-ভিত্তিক নোটস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য আদর্শ।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!