Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer এবং বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ সাহিত্য পর্বে দশম শ্রেণির সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাগত। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও একজন প্রকৃত লোকশিল্পী কীভাবে নিজের শিল্পসত্তা ও সততার খাতিরে একশো এক টাকার লোভনীয় প্রণামী অনায়াসে পায়ে ঠেলে চলে যেতে পারেন—কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের হরিদা চরিত্রটি তার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত।
- বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর — উৎস, হরিদার ছদ্মবেশ ও একনজরে তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer Overview)
- ১. বহুরূপী গল্পের বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer)
- ২. বহুরূপী গল্পের ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
- ১. প্রশ্ন: “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।”—হরিদা কে? তাঁর জীবনের এই ‘নাটকীয় বৈচিত্র্য’ কী ছিল তা সংক্ষেপে লেখো। (৩ নম্বর ১০০% কমন)
- ২. প্রশ্ন: “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?”—কে, কাকে এবং কোন প্রসঙ্গে এই কথাটি বলেছিলেন? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
- ৩. প্রশ্ন: “অদৃষ্ট কখনো হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।”—হরিদা কী ভুল করেছিলেন এবং কেন অদৃষ্ট তাঁর সেই ভুল ক্ষমা করবে না বলা হয়েছে? (৩ নম্বর)
- ৪. প্রশ্ন: “খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারে?”—বক্তা কে? কেন তিনি নিজেকে ‘খাঁটি মানুষ তো নয়’ বলেছেন? (৩ নম্বর)
- ৩. বহুরূপী গল্পের ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer)
- ১. প্রশ্ন: ‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে বহুরূপী শিল্পী হরিদার চরিত্র বিশ্লেষণ করো। অথবা, দারিদ্র্যের কাছে মাথা নত না করে হরিদা কীভাবে একজন প্রকৃত শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করেছিলেন তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
- ২. প্রশ্ন: “অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন!”—কার কথা বলা হয়েছে? জগদীশবাবুর বাড়িতে তিনি কীভাবে ‘খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো’ আচরণ করেছিলেন তা নিজের ভাষায় লেখো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
- প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক
- ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমে ‘বহুরূপী’ গল্পটি এমন এক অধ্যায়, যা থেকে প্রতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় যেমন প্রচুর শর্ট প্রশ্ন (MCQ ও SAQ) আসে, তেমনই ৩ ও ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্নও বাঁধাধরা থাকে। বিশেষ করে হরিদার বিভিন্ন ছদ্মবেশ (উন্মাদ পাগল, রূপসী বাইজি, নকল পুলিশ ও বিরাগী সন্ন্যাসী) এবং জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী হরিদার সংলাপ থেকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন দিলে অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা গুলিয়ে ফেলে।
তাই আজকের এই মাধ্যমিক বাংলা বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর ও সুবোধ ঘোষ বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর গাইডে আমরা গল্পের উৎস, হরিদার প্রতিটি বেশের রোজগার এবং ১, ৩ ও ৫ নম্বরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পয়েন্টভিত্তিক উত্তর একদম সহজ ভাষায় সাজিয়ে দিয়েছি। দশম শ্রেণির সমস্ত বিষয়ের নোটবুক পেতে আমাদের WBBSE NOTE Books Library ও WBBSE & WBCHSE PDF Store দেখে নিতে পারো।
বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর — উৎস, হরিদার ছদ্মবেশ ও একনজরে তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer Overview)
আমাদের Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer অনুশীলন করার আগে নিচের টেবিল থেকে হরিদার বিভিন্ন ছদ্মবেশ ও গল্পের মূল তথ্যগুলো একনজরে দেখে নাও—এখান থেকেই পরীক্ষায় ৮০% শর্ট প্রশ্ন কমন পাবে:
| আলোচ্য বিষয় ও চরিত্র | নির্ধারিত পাঠ্য তথ্য ও বিশ্লেষণ (WBBSE Class 10 Bahurupi — Subodh Ghosh) | পরীক্ষায় আসার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (Exam Key Points) |
| লেখক ও মূল গ্রন্থ (উৎস) | কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ (১৯০৯–১৯৮০; বিখ্যাত গল্প: অযান্ত্রিক, ফসিল, থির বিজুরি, সুন্দরম্) | ‘বহুরূপী’ গল্পটি সুবোধ ঘোষের ‘গল্প সমগ্র’ (তৃতীয় খণ্ড) থেকে গৃহীত হয়েছে। |
| হরিদার আড্ডার সঙ্গী ও অন্যান্য চরিত্র | হরিদা (প্রধান চরিত্র — পেশায় বহুরূপী), গল্পকথক, অনাদি ও ভবতোষ (হরিদার ঘরের আড্ডার তিন বন্ধু), জগদীশবাবু (এগারো লক্ষ টাকার সম্পত্তির কৃপণ ধনী মালিক) ও দয়ালবাবু | হিমালয়ের গুহায় থাকা সন্ন্যাসী হরতুকী ছাড়া কিছু খেতেন না; জগদীশবাবু তাঁকে সোনার বোল লাগানো খড়ম পরিয়ে পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন এবং একশো টাকার একটি নোট দিয়েছিলেন। |
| হরিদার বিভিন্ন ছদ্মবেশ ও রোজগার | ১. উন্মাদ পাগল (চকের বাসস্ট্যান্ডে), ২. রূপসী বাইজি (ঘুঙুর পরে চায়ের দোকানে — রোজগার আট টাকা দশ আনা), ৩. নকল পুলিশ (দয়ালবাবুর লিচুবাগানে — মাস্টারমশাইয়ের থেকে আট আনা ঘুষ), ৪. বিরাগী সন্ন্যাসী (জগদীশবাবুর বাড়িতে — ১০১ টাকা প্রত্যাখ্যান, দাবি কেবল আট আনা বা দশ আনা বকশিশ), এবং বাউল, কাপালিক, বুড়ো কাবুলিওয়ালা ও ফিরিঙ্গি কেরামতি সাহেব | হরিদা সপ্তাহে বড়োজোর একদিন বহুরূপী সেজে বেরোতেন। |
১. বহুরূপী গল্পের বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer)
১. প্রশ্ন: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের উৎস কী এবং হরিদার ঘরে কারা আড্ডা দিতে আসতেন?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পটি লেখকের ‘গল্প সমগ্র’ (তৃতীয় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে। শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভেতর হরিদার ছোট্ট ঘরে সকাল-সন্ধ্যা আড্ডা দিতে আসতেন গল্পকথক, অনাদি এবং ভবতোষ (যেখানে হরিদা শুধু গরম জলের ব্যবস্থা করতেন, আর চিনি-দুধ ও চায়ের পাতা আনতেন বন্ধুরা)।
২. প্রশ্ন: হিমালয়ের গুহায় থাকা সন্ন্যাসীর বয়স কত ছিল, তিনি কী খেতেন এবং জগদীশবাবু কীভাবে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন?
উত্তর: হিমালয়ের উত্তর দিকের গুহায় থাকা সেই সন্ন্যাসীর বয়স ছিল হাজার বছরের বেশি এবং তিনি সারা বছরে কেবল একটিমাত্র হরতুকী ছাড়া আর কিছুই খেতেন না। জগদীশবাবু কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরলে সন্ন্যাসী পা বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগে জগদীশবাবু তাঁর দুর্লভ পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন।
৩. প্রশ্ন: হরিদা কেন অফিসের চাকরি বা দোকানের কাজ পছন্দ করতেন না এবং তাঁর উনুনে কখন শুধু জল ফুটত?
উত্তর: হরিদা ছিলেন অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও শিল্পীমনের মানুষ; ঘড়ির কাঁটা ধরে বাঁধাধরা নিয়মে একঘেয়ে কাজ করাকে তিনি ভয়ানক বিস্বাদ ও বিরক্তিকর মনে করতেন। আর বহুরূপী সেজে সামান্য রোজগার হওয়ায় অনেক দিনই হরিদার ভাতের হাঁড়িতে চাল থাকত না—অসহ্য ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে তখন তাঁর উনুনে হাঁড়িতে শুধু জল ফুটত।
৪. প্রশ্ন: চকের বাসস্ট্যান্ডে হরিদা কী সেজে গিয়েছিলেন এবং তাঁর চেহারা কেমন ছিল?
উত্তর: চকের বাসস্ট্যান্ডে দুপুরবেলা হরিদা একজন উন্মাদ পাগল সেজে গিয়েছিলেন; তাঁর মুখ থেকে লালা ঝরছিল, চোখ দুটি ছিল কটকটে লাল, কোমরে জড়ানো ছিল একটুকরো ছেঁড়া কম্বল এবং গলায় ঝুলছিল টিনের কৌটোর মালা।
৫. প্রশ্ন: রূপসী বাইজি সেজে হরিদার কত টাকা রোজগার হয়েছিল এবং কে তাঁকে দেখে চিনতে পেরে হেসে ফেলেছিলেন?
উত্তর: সন্ধ্যাবেলা পায়ে ঘুঙুর বেঁধে ও ফুলসজ্জিতা রূপসী বাইজি সেজে শহরের দোকানদারদের কাছ থেকে সিকি-দুয়ানি আদায় করে হরিদার থলেতে মোট আট টাকা দশ আনা জমা হয়েছিল। আর বাসস্ট্যান্ডের কাছে দোকানদার কাশীনাথ বাইজি ছদ্মবেশী হরিদাকে চিনতে পেরে ফিক করে হেসে ফেলেছিলেন।
৬. প্রশ্ন: দয়ালবাবুর লিচুবাগানে হরিদা কী সেজে গিয়েছিলেন এবং কেন মাস্টারমশাই তাঁকে আট আনা ঘুষ দিয়েছিলেন?
উত্তর: দয়ালবাবুর লিচুবাগানের ভেতর হরিদা নকল পুলিশ সেজে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং স্কুলের চারজন ছেলেকে চুরির অপরাধে ধরেছিলেন। পরে ওই স্কুলের মাস্টারমশাই এসে কেঁদে-কেটে ক্ষমা চেয়ে ও নকল পুলিশ হরিদাকে আট আনা ঘুষ দিয়ে ছাত্রদের ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন (যদিও দয়ালবাবু বলেছিলেন তাঁর কখনো লিচুবাগানই ছিল না!)।
৭. প্রশ্ন: বিরাগী সন্ন্যাসী রূপে হরিদার সাজপোশাক কেমন ছিল এবং তাঁর ঝোলাতে কী ছিল?
উত্তর: আমাদের Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer প্রস্তুতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নালোকিত সন্ধ্যায় বিরাগী সন্ন্যাসী রূপে হরিদা ছিলেন আদুড় গায়ে, তাঁর ওপরে ছিল কেবল একখানা ধবধবে সাদা উত্তরীয়, পরনে ছোটো বহরের সাদা থান, মাথায় ফুরফুরে সাদা চুল এবং হাতে ছিল একটি সাদা ঝোলা—যার ভেতরে ছিল কেবল একটিমাত্র ‘গীতা’।
৮. প্রশ্ন: “আমি এই সৃষ্টির মধ্যে এক কণা ধূলি।”—বিরাগী সন্ন্যাসী জগদীশবাবুকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন?
উত্তর: বিরাগী সন্ন্যাসী জগদীশবাবুকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন যে—ধন, জন ও যৌবন কিছুই নয়, এগুলি আসলে এক-একটি সুন্দর বঞ্চনা মাত্র; মনপ্রাণ দিয়ে কেবল এক পরমেশ্বরের সন্ধান করাই হলো জীবনের আসল ধর্ম।
৯. প্রশ্ন: জগদীশবাবু বিরাগী সন্ন্যাসীকে তীর্থভ্রমণের জন্য কত টাকা প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন এবং বিরাগী কেন তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?
উত্তর: এগারো লক্ষ টাকার সম্পত্তির মালিক কৃপণ জগদীশবাবু বিরাগী সন্ন্যাসীর অলৌকিক কথায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা (১০১ টাকা) প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিরাগী বলেন—“আমার বুকের ভিতরেই যে সব তীর্থ! পরমাত্মা ছাড়া আমি কোনো কিছুরই প্রার্থনা করি না”—এই বলে সিঁড়ির ওপর পড়ে থাকা টাকার থলির দিকে ফিরেও না তাকিয়ে তিনি চলে যান।
১০. প্রশ্ন: “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।”—‘ঢং’ শব্দের অর্থ কী এবং হরিদা শেষ পর্যন্ত জগদীশবাবুর কাছে কত টাকা বকশিশ দাবি করার কথা ভেবেছিলেন?
উত্তর: এখানে ‘ঢং’ শব্দের অর্থ হলো বহুরূপী শিল্পের অভিনয় রীতি বা শিল্পীর খাঁটি নিষ্ঠা। হরিদা জানিয়েছিলেন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর অভিনয়ের পবিত্রতা বা ঢং নষ্ট হয়ে যেত; তাই তিনি এবার সাধারণ বহুরূপীর পোশাকে গিয়ে জগদীশবাবুর কাছ থেকে তাঁর ন্যায্য পাওনা আট আনা কিংবা দশ আনা বকশিশ চেয়ে নেবেন।
২. বহুরূপী গল্পের ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
১. প্রশ্ন: “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।”—হরিদা কে? তাঁর জীবনের এই ‘নাটকীয় বৈচিত্র্য’ কী ছিল তা সংক্ষেপে লেখো। (৩ নম্বর ১০০% কমন)
উত্তর: কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা ছিলেন শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভেতর একটি ছোট্ট ঘরে বসবাসকারী অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু স্বাধীনচেতা একজন লোকশিল্পী।
নাটকীয় বৈচিত্র্যের স্বরূপ: অর্থের চরম অভাব থাকা সত্ত্বেও হরিদা ঘড়ির কাঁটা ধরে অফিস বা দোকানের একঘেয়ে বাঁধাধরা কাজ সহ্য করতে পারতেন না। এই একঘেয়েমি কাটাতে এবং পেটের দায়ে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ‘বহুরূপী’ সাজাকে। সপ্তাহে একদিন তিনি কখনো উন্মাদ পাগল, কখনো রূপসী বাইজি, কখনো নকল পুলিশ, আবার কখনো বাউল, কাপালিক, বুড়ো কাবুলিওয়ালা বা বিরাগী সন্ন্যাসীর বিচিত্র ছদ্মবেশে রাস্তায় বেরিয়ে পড়তেন এবং মানুষকে চমকে দিয়ে দু-চার পয়সা রোজগার করতেন। তাঁর এই অনিশ্চিত কিন্তু বর্ণময় পেশাই ছিল তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য।
২. প্রশ্ন: “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?”—কে, কাকে এবং কোন প্রসঙ্গে এই কথাটি বলেছিলেন? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
উত্তর: আমাদের বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর সংকলনের এই বিখ্যাত উক্তিটি সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী সন্ন্যাসী ছদ্মবেশী হরিদা ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন।
প্রসঙ্গ ও কারণ: এক জ্যোৎস্নালোকিত সন্ধ্যায় বিরাগী সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর বাড়ির বারান্দার সিঁড়ির নিচে এসে দাঁড়ালে বাতের ব্যথাগ্রস্ত ও ধনীর অহংকারে অভ্যস্ত জগদীশবাবু সিঁড়ি থেকে নিচে না নেমে ওপর থেকেই হাত জোড় করে বিরাগীকে অভ্যর্থনা জানান। জগদীশবাবুর এই প্রচ্ছন্ন অহংকার লক্ষ্য করেই নির্ভীক বিরাগী তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, তিনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো, যে কারণে তিনি ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন আর বিরাগীকে নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে! বিরাগীর এই একটি কথাতেই জগদীশবাবুর দর্প চূর্ণ হয়ে যায় এবং তিনি থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে নিচে নেমে এসে বিরাগীর পায়ের ধুলো নেন।
৩. প্রশ্ন: “অদৃষ্ট কখনো হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।”—হরিদা কী ভুল করেছিলেন এবং কেন অদৃষ্ট তাঁর সেই ভুল ক্ষমা করবে না বলা হয়েছে? (৩ নম্বর)
উত্তর: সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পে চরম দরিদ্র হরিদা বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে ধনী জগদীশবাবুর কাছে গিয়ে তাঁর নিখুঁত অভিনয়ে মুগ্ধ করে একশো এক টাকা (১০১ টাকা) প্রণামী পেয়েও তা স্পর্শ না করে সিঁড়ির ওপর ফেলে রেখে চলে এসেছিলেন—গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুদের চোখে হরিদার এই কাজটিই ছিল এক মস্ত বড়ো ‘ভুল’।
অদৃষ্ট ক্ষমা না করার কারণ: হরিদার ভাতের হাঁড়িতে অনেক দিনই চালের বদলে শুধু জল ফোটে; সপ্তাহে একদিন বহুরূপী সেজে তাঁর বড়োজোর আট আনা বা দশ আনা রোজগার হয়। অথচ সেদিন স্বয়ং ভাগ্যদেবী (অদৃষ্ট) প্রসন্ন হয়ে কৃপণ জগদীশবাবুর হাত দিয়ে হরিদাকে একশো এক টাকার বিশাল অংক পাইয়ে দিয়েছিলেন, যা দিয়ে হরিদার মাসের পর মাস অনায়াসে চলে যেত। কিন্তু শিল্পের নিষ্ঠা বাঁচাতে হরিদা সেই টাকা পায়ে ঠেলে দেওয়ায় কথক আক্ষেপ করে বলেছেন যে অদৃষ্ট কখনো হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।
৪. প্রশ্ন: “খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারে?”—বক্তা কে? কেন তিনি নিজেকে ‘খাঁটি মানুষ তো নয়’ বলেছেন? (৩ নম্বর)
উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন বহুরূপী শিল্পী হরিদা স্বয়ং।
উক্তির তাৎপর্য: জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার থলি প্রত্যাখ্যান করে ফিরে আসার পর অনাদি ও ভবতোষ হরিদাকে তিরস্কার করলে হরিদা ম্লান হেসে জানান যে, সেদিন তিনি ছিলেন একজন নিরাসক্ত ‘বিরাগী সন্ন্যাসী’—যিনি সোনা ও ধুলো সমান মনে করেন। সেদিন যদি তিনি টাকার লোভ সামলাতে না পেরে ওই একশো এক টাকা কুড়িয়ে নিতেন, তবে তিনি আর খাঁটি বিরাগী থাকতেন না, তাঁর শিল্পীসত্তার ‘ঢং’ বা পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যেত। আসলে সমাজ যাকে ছদ্মবেশী বা নকল ‘বহুরূপী’ বলে তাচ্ছিল্য করে, সেই বহুরূপী হরিদার শিল্পীমন যে কতখানি খাঁটি ও নির্লোভ—আত্মশ্লাঘাহীন এই বিনম্র সংলাপের আড়ালে সেটাই ফুটে উঠেছে।
৩. বহুরূপী গল্পের ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer)
১. প্রশ্ন: ‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে বহুরূপী শিল্পী হরিদার চরিত্র বিশ্লেষণ করো। অথবা, দারিদ্র্যের কাছে মাথা নত না করে হরিদা কীভাবে একজন প্রকৃত শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করেছিলেন তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
উত্তর:
১. দরিদ্র কিন্তু স্বাধীনচেতা মানুষ: কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা ছিলেন অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দরিদ্র। শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভেতর একটি ছোট্ট ঘরে তাঁর বাস এবং অনেক দিনই অভাবে তাঁর ভাতের হাঁড়িতে চালের বদলে শুধু জল ফুটত। কিন্তু তবুও তিনি নিজের স্বাধীনতার সাথে আপস করে অফিস বা দোকানের বাঁধাধরা একঘেয়ে কাজ করতে রাজি হননি।
২. বন্ধুবৎসল ও আড্ডাপ্রিয়: আমাদের Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer আলোচনায় দেখা যায়, চরম অভাবের মধ্যেও হরিদার হৃদয় ছিল অত্যন্ত উদার ও রসিক। তাঁর ছোট্ট ঘরে সকাল-সন্ধ্যা গল্পকথক, অনাদি ও ভবতোষের সাথে প্রাণখোলা আড্ডা বসত। চায়ের চিনি, দুধ বা পাতা কেনার সামর্থ্য না থাকলেও বন্ধুদের জন্য গরম জল ফুটিয়ে দিতে এবং বিচিত্র পরিকল্পনার রসদ জোগাতে তাঁর কোনো কার্পণ্য ছিল না।
৩. নিপুণ ও জীবন্ত অভিনয়শিল্পী: হরিদা কেবল বহুরূপীর পোশাক পরতেন না, প্রতিটি চরিত্রের আত্মাকে নিজের মধ্যে ধারণ করতেন। চকের বাসস্ট্যান্ডে উন্মাদ পাগল, সন্ধ্যায় ঘুঙুর পায়ে রূপসী বাইজি, কিংবা দয়ালবাবুর লিচুবাগানে নকল পুলিশ—প্রতিটি বেশেই তাঁর রূপসজ্জা ও অভিনয় ছিল এতটাই নিখুঁত যে চেনা মানুষরাও তাঁকে ধরতে পারত না। আর জ্যোৎস্নালোকিত সন্ধ্যায় ধবধবে সাদা উত্তরীয় পরে তাঁর ‘বিরাগী সন্ন্যাসী’ রূপটি ছিল তাঁর শিল্পীজীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
৪. নির্লোভ শিল্পীসত্তা ও সততার চূড়ান্ত জয়: হরিদা চরিত্রের মহত্তম দিকটি উন্মোচিত হয় গল্পের উপসংহারে। কৃপণ জগদীশবাবু যখন বিরাগী রূপী হরিদার আধ্যাত্মিক কথায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান, তখন চরম অভাবী হরিদাও সেই টাকা স্পর্শ করেন না। কারণ তাঁর কাছে টাকার চেয়ে নিজের শিল্পের পবিত্রতা বা ‘ঢং’ অনেক বেশি মূল্যবান। একশো এক টাকার লোভ পায়ে ঠেলে মাত্র আট-দশ আনা বকশিশের প্রত্যাশায় ফিরে এসে হরিদা প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল একজন বহুরূপী নন, তিনি এক আপসহীন ও মহৎ শিল্পী।
২. প্রশ্ন: “অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন!”—কার কথা বলা হয়েছে? জগদীশবাবুর বাড়িতে তিনি কীভাবে ‘খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো’ আচরণ করেছিলেন তা নিজের ভাষায় লেখো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
উত্তর:
১. উদ্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়: সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে পরম নিরাসক্ত লোকশিল্পী হরিদার (বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে) কথা বলা হয়েছে। গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরা হরিদার উদ্দেশ্যে এই মন্তব্যটি করেছিলেন।
২. বিরাগীর অলৌকিক আবির্ভাব ও জগদীশবাবুর দর্পচূর্ণ: হিমালয়ের গুহার সাধুর কাছে সোনার বোল লাগানো খড়মের কৌশলে পায়ের ধুলো নেওয়া ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবুর বাড়িতে এক স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নালোকিত সন্ধ্যায় হরিদা এক ‘বিরাগী’ সন্ন্যাসী সেজে উপস্থিত হন। তাঁর আদুড় গায়ে সাদা উত্তরীয়, পরনে সাদা থান, হাতে গীতা ও প্রশান্ত উদাত্ত দৃষ্টি দেখে মনে হচ্ছিল জগতের সীমার ওপার থেকে তিনি হেঁটে এসেছেন। তাঁর এক কথাতেই (“আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?”) অহংকারী জগদীশবাবু কাঁপতে কাঁপতে নিচে নেমে এসে তাঁর পায়ের ধুলো নেন।
৩. নিরাসক্ত আচরণ ও আধ্যাত্মিক উপদেশ: ভক্ত জগদীশবাবু বিরাগীকে বাড়িতে কদিন থাকতে ও আতিথ্য গ্রহণ করতে অনুরোধ করলে বিরাগী স্পষ্ট জানান যে—বাইরের খোলা আকাশ ও ধরিত্রী থাকতে তিনি কোনো খাঁচার ভেতর বন্দি থাকেন না; তিনি কেবল তৃষ্ণা মেটাতে এক গ্লাস ঠান্ডা জল পান করেন। এরপর জগদীশবাবু উপদেশ চাইলে তিনি খাঁটি যোগীর মতো বলেন যে—ধন, জন ও যৌবন সবই সুন্দর বঞ্চনা মাত্র, কেবল মনপ্রাণ দিয়ে পরমেশ্বরের সন্ধান করাই মানুষের পরম কর্তব্য।
৪. একশো এক টাকার প্রণামী প্রত্যাখ্যান: বিরাগীর কথায় অভিভূত হয়ে কৃপণ জগদীশবাবু যখন তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার থলি তাঁর পায়ের কাছে রাখেন, তখন বিরাগী হরিদা মৃদু হেসে বলেন—“আমার বুকের ভিতরেই যে সব তীর্থ! আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।” এই বলে সিঁড়িতে পড়ে থাকা একশো এক টাকার থলির দিকে ফিরেও না তাকিয়ে তিনি অন্ধকারে মিলিয়ে যান—যা প্রমাণ করে যে সেদিনের জন্য তিনি সত্যিই এক খাঁটি সন্ন্যাসী হয়ে উঠেছিলেন।
প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক
মাধ্যমিক দশম শ্রেণি বাংলা ও সকল বিষয়ের সাজেশন এবং পিডিএফ বুক ডাউনলোড:
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অল-সাবজেক্ট পিডিএফ বুক স্টোর: WBBSE NOTE Books Library | WBCHSE & WBBSE PDF Store
- মাধ্যমিক দশম শ্রেণি মূল ক্যাটাগরি ও সাজেশন হাব: মাধ্যমিক বাংলা (Madhyamik Bengali) | মাধ্যমিক সাজেশন ২০২৭ (Madhyamik Suggestion)
ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Bahurupi Question Answer)
প্রশ্ন ১: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্পটি কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘গল্প সমগ্র’ (তৃতীয় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ২: রূপসী বাইজি সেজে এবং নকল পুলিশ সেজে হরিদার কত টাকা রোজগার হয়েছিল?
উত্তর: রূপসী বাইজি সেজে শহরের দোকানদারদের কাছ থেকে হরিদার আট টাকা দশ আনা এবং দয়ালবাবুর লিচুবাগানে নকল পুলিশ সেজে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে আট আনা রোজগার হয়েছিল।
প্রশ্ন ৩: বিরাগী সন্ন্যাসী ছদ্মবেশী হরিদা কেন জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা গ্রহণ করেননি?
উত্তর: বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে হরিদার নিখুঁত অভিনয়ের পবিত্রতা বা ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যেত—তাই চরম দারিদ্র্য সত্ত্বেও নিজের শিল্পীসত্তার মর্যাদা রক্ষার জন্য হরিদা সেই একশো এক টাকা গ্রহণ করেননি।





