WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক বাংলা | Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer PDF

Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer এবং জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আমাদের এই সাহিত্য নোটবুকে দশম শ্রেণির সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাগত। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর তোমাদের ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’ বইটির পাতা খুললেই প্রথম যে গল্পটি মন ছুঁয়ে যায়, তা হলো কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবীর অমর সৃষ্টি ‘জ্ঞানচক্ষু’।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর — উৎস, নামকরণ ও একনজরে তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer Overview)
  2. ১. জ্ঞানচক্ষু গল্পের বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer)
  3. ২. জ্ঞানচক্ষু গল্পের ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
  4. ১. প্রশ্ন: “নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।”—‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের অর্থ কী? নতুন মেসোকে দেখে তপনের কীভাবে জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  5. ২. প্রশ্ন: “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।”—কোন বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল এবং কীভাবে তার সেই সন্দেহ দূর হয়েছিল? (৩ নম্বর)
  6. ৩. প্রশ্ন: “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের, মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল।”—কোন ঘটনায় তপনের এমন অনুভূতি হয়েছিল এবং কেন? (৩ নম্বর)
  7. ৪. প্রশ্ন: “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?”—কোন ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে এবং কেন তপনের কাছে তা অলৌকিক মনে হয়েছিল? (৩ নম্বর ১০০% কমন)
  8. ৩. জ্ঞানচক্ষু গল্পের ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer)
  9. ১. প্রশ্ন: “তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।”—কোন দিনটির কথা বলা হয়েছে? যে দিনটি তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন হতে পারত, সেটি কেন তার কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন হয়ে উঠল তা ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
  10. ২. প্রশ্ন: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে কিশোর তপন চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো এবং গল্পের শেষে তপনের যে গভীর সংকল্পের পরিচয় পাওয়া যায় তা লেখো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  11. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 
  12. ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer)

কিশোর তপনের লেখক হয়ে ওঠার স্বপ্ন, ছোটোমেসোকে দেখে তার প্রথম ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মীলন এবং শেষে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের আগাগোড়া বদলে যাওয়া গল্প পড়ে তার বুকভাঙা কান্নার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে যাওয়ার এই কাহিনিটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ক্লাসরুমে খাতা দেখার সময় দেখেছি, ছাত্রছাত্রীরা ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নে উদ্ধৃতি ও উৎস না লিখে ঢালাও গল্প লিখে দেয়, ফলে পুরো নম্বর পায় না।

তাই আজকের এই মাধ্যমিক বাংলা জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর ও আশাপূর্ণা দেবী জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর গাইডে আমরা গল্পের উৎস, শব্দার্থ ও ৩০টি বাছাই করা MCQ/SAQ থেকে শুরু করে ৩ ও ৫ নম্বরের প্রতিটি লাইন ধরে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের আদর্শ পয়েন্টভিত্তিক উত্তর সাজিয়ে দিয়েছি। মাধ্যমিকের সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ নোটবুক পেতে আমাদের WBBSE NOTE Books Library দেখে নিতে পারো।

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর — উৎস, নামকরণ ও একনজরে তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer Overview)

আমাদের Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer ও প্রশ্ন ব্যাংক শুরু করার আগে দেখে নাও আশাপূর্ণা দেবীর এই গল্পটির এমন কিছু খুঁটিনাটি তথ্য, যা থেকে প্রতি বছর মাধ্যমিক ও স্কুলের ইউনিট টেস্টে ১ নম্বরের প্রশ্ন আসে:

মূল আলোচ্য বিষয় নির্ধারিত পাঠ্য তথ্য ও বিশ্লেষণ (WBBSE Class 10 Sahitya Sanchayan) পরীক্ষায় আসার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (Exam Key Points)
লেখিকা ও মূল গ্রন্থ (উৎস) কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯–১৯৯৫; জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক, ত্রিলজী: প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা, বকুলকথা) ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি আশাপূর্ণা দেবীর বিখ্যাত ‘কুমকুম’ গল্পগ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে।
প্রধান চরিত্র ও পত্রিকা কিশোর তপন কুমার রায় (প্রধান চরিত্র), ছোটোমাসি (তপনের চেয়ে বছর পাঁচেকের বড়ো), নতুন ছোটোমেসো (পেশায় কলেজের অধ্যাপক ও লেখক), মেজোকাকু ও মা পত্রিকার নাম: ‘সন্ধ্যাতারা’ এবং তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম ছিল ‘প্রথম দিন’ (স্কুলে ভর্তির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা)
দুইবার ‘জ্ঞানচক্ষু’ খোলার তাৎপর্য ১ম বার: লেখক ছোটোমেসোকে নিছক সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে দেখে তপনের বোধোদয় হয় যে মানুষই গল্প লেখে। ২য় বার: ছাপার অক্ষরে নিজের ‘কারেকশন’ করা অচেনা লেখা দেখে তপনের আত্মমর্যাদা জাগ্রত হয় এবং সে সংকল্প করে ভবিষ্যতে নিজের কাঁচা লেখাই নিজে গিয়ে পত্রিকা অফিসে জমা দেবে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় এখান থেকে MCQ (১ নম্বর), SAQ (১ নম্বর), সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৩ নম্বর) এবং রচনামূলক প্রশ্ন (৫ নম্বর) আসে।

১. জ্ঞানচক্ষু গল্পের বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer)

১. প্রশ্ন: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটির রচয়িতা কে এবং গল্পটি কোন মূল গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটির রচয়িতা হলেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবী এবং গল্পটি তাঁর ‘কুমকুম’ নামক গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. প্রশ্ন: “কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল!”—কোন কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গিয়েছিল?

উত্তর: তপনের ছোটোমাসির যাঁর সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে, সেই নতুন ছোটোমেসোমশাই একজন সত্যিকারের লেখক এবং তাঁর লেখা অজস্র বই ছাপা হয়েছে—এই কথাটা শুনে বিস্ময়ে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গিয়েছিল।

৩. প্রশ্ন: নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপনের কোন ভুল ধারণা ভেঙে গেল বা কীভাবে তার প্রথম ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে গেল?

উত্তর: ছোটোবেলা থেকে তপন ভাবত লেখকরা বুঝি আকাশ থেকে পড়া কোনো ভিনগ্রহের জীব বা সাধারণ মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা; কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে তপনের বাবার বা ছোটোমামার মতোই দাড়ি কামাতে, সিগারেট খেতে, বেশি খাবার দিলে ‘এত কখনো খাওয়া যায়’ বলে অর্ধেক তুলিয়ে দিতে এবং দুপুরবেলা দিবানিদ্রা দিতে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল যে লেখকরাও আমাদের মতোই সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ।

৪. প্রশ্ন: তপনের ছোটোমাসি তপনের চেয়ে কত বছরের বড়ো ছিলেন এবং বিয়ের সময় মা তপনকে কী না আনিয়ে ছাড়েননি?

উত্তর: ছোটোমাসি তপনের চেয়ে বছর পাঁচেকের বড়ো ছিলেন বলে তাঁর সঙ্গে তপনের বন্ধুত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। আর ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে মামার বাড়িতে আসার সময় তপনের মা তপনকে দিয়ে গরমের ছুটির হোমটাস্কের খাতা ও বই না আনিয়ে ছাড়েননি।

৫. প্রশ্ন: তপন কোথায় বসে, কখন এবং কী বিষয়ে তার জীবনের প্রথম গল্পটি লিখেছিল?

উত্তর: গ্রীষ্মের নিথর দুপুরে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়েছিল, তখন তপন তিনতলার সিঁড়িতে একাসনে বসে তার হোমটাস্কের খাতায় ‘প্রথম দিন’ নাম দিয়ে তার স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি বিষয়ে একটি আস্ত গল্প লিখে ফেলেছিল।

৬. প্রশ্ন: তপনের নতুন মেসোমশাই পেশায় কী ছিলেন এবং কেন তিনি কদিন শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন?

উত্তর: তপনের নতুন মেসোমশাই পেশায় ছিলেন একজন কলেজের প্রফেসর (অধ্যাপক)। সেই সময় কলেজে গরমের ছুটি চলায় তিনি কয়েক দিনের জন্য শ্বশুরবাড়িতে এসে ছিলেন।

৭. প্রশ্ন: “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই!”—এখানে ‘রত্ন’ এবং ‘জহুরি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: আমাদের Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই উদ্ধৃতিটিতে ‘রত্ন’ বলতে তপনের লেখা প্রথম গল্পটিকে (বা লেখক তপনকে) এবং ‘জহুরি’ বলতে তার লেখক ছোটোমেসোমশাইকে বোঝানো হয়েছে।

৮. প্রশ্ন: তপনের মেসোমশাই কোন পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং কেন বলেছিলেন সহজেই ছাপা হবে?

উত্তর: তপনের মেসোমশাই ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের গল্পটি ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কারণ ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মেসোমশাইয়ের বিশেষ পরিচিত এবং মেসো বললে তিনি ‘না’ করতে পারবেন না।

৯. প্রশ্ন: ছোটোমাসি একটু মুরুব্বি ধরনের সুরে মেসোকে কী বলেছিলেন এবং চায়ের টেবিলে মেসো কী বলেছিলেন?

উত্তর: ছোটোমাসি একটু মুরুব্বির সুরে বলেছিলেন যে তপনের লেখাটা যেন কোনো জায়গা থেকে টোকা বা নকল করা না হয়। আর বিকেলে চায়ের টেবিলে মেসোমশাই তপনের লেখার প্রশংসা করে বলেছিলেন যে তপনের হাত আছে ও চোখও আছে, শুধু লেখাটা ‘একটু কারেকশন’ (সংশোধন) করে দিতে হবে।

১০. প্রশ্ন: ছুটি ফুরিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর তপন কাদের নিপীড়ন নীরবে সহ্য করত এবং তার মনে কীসের নেশা চেপেছিল?

উত্তর: মামার বাড়ি থেকে ফিরে তপনকে গল্প লেখার নেশায় পেয়েছিল; সে হোমটাস্ক ফেলে ছাদে বা নিরিবিলিতে লুকিয়ে দু-তিনটে গল্প লিখে ফেলেছিল এবং সেজন্য বাবা, মেজোকাকু ও মায়ের বকুনি বা শাসন নীরবে সহ্য করত।

২. জ্ঞানচক্ষু গল্পের ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)

১. প্রশ্ন: “নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।”—‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের অর্থ কী? নতুন মেসোকে দেখে তপনের কীভাবে জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কুমকুম’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটিতে ‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো অন্তর্দৃষ্টি বা প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করার ক্ষমতা (বোধোদয়)।

জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়ার কারণ: কিশোর তপন এতদিন মনে করত যাঁরা গল্প বা বই লেখেন তাঁরা বুঝি সাধারণ মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা কোনো অলৌকিক জগতের জীব। কিন্তু ছোটোমাসির বিয়েতে লেখক ছোটোমেসোকে কাছ থেকে দেখে তপন অবাক হয়ে লক্ষ করে যে, মেসোমশাইও তপনের বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খাবার বেশি দিলে অর্ধেক তুলিয়ে দেন, খবরের কাগজে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তর্ক করেন এবং দুপুরে সিনেমা দেখতে না গিয়ে ঘুমিয়ে কাটান। অর্থাৎ লেখকরাও যে আমাদের মতোই নিছক সাধারণ মানুষ—এই বাস্তব সত্যটি উপলব্ধি করেই তপনের প্রথম ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে গিয়েছিল।

২. প্রশ্ন: “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।”—কোন বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল এবং কীভাবে তার সেই সন্দেহ দূর হয়েছিল? (৩ নম্বর)

উত্তর: আমাদের জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর সংকলনে এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপনের মনে ঘোর সন্দেহ ছিল যে, সত্যিকারের কোনো লেখকও বুঝি সাধারণ মানুষের মতোই আচরণ করেন বা সাধারণ মানুষেরই লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে বই হয়ে বেরোয়।

সন্দেহ দূর হওয়ার প্রক্রিয়া: ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে মামার বাড়িতে গিয়ে তপনের পরিচয় হয় তার নতুন লেখক মেসোমশাইয়ের সঙ্গে। তপন দেখে তার লেখক মেসোমশাই মোটেই আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব নন—তিনিও আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই স্নান করেন, খান, ঘুমান এবং সংসারের সাধারণ কথা বলেন। মেসোমশাইয়ের এই আটপৌরে জীবনযাত্রা স্বচক্ষে দেখেই তপনের মনের দীর্ঘদিনের সন্দেহ চিরতরে দূর হয়ে যায় এবং সে নিজেও গল্প লেখার সাহস পায়।

৩. প্রশ্ন: “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের, মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল।”—কোন ঘটনায় তপনের এমন অনুভূতি হয়েছিল এবং কেন? (৩ নম্বর)

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে গ্রীষ্মের নিথর দুপুরে সবাই যখন ঘুমাচ্ছিল, তখন তপন তিনতলার সিঁড়িতে বসে তার স্কুলে ভর্তির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘প্রথম দিন’ নামক একটি আস্ত গল্প লিখে ফেলে। নিজের লেখা সেই সম্পূর্ণ গল্পটি নিজেই আগাগোড়া পড়ার পর রোমাঞ্চ ও উত্তেজনায় তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল এবং মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠেছিল।

এমন অনুভূতির কারণ: এতদিন তপন কেবল ছাপার অক্ষরে অন্যের লেখা গল্প পড়েছে; কিন্তু আজ সে নিজেই যে একজন লেখকের মতো নিখুঁত একটা গল্প সৃষ্টি করে ফেলতে পেরেছে, তা ভেবে তার মনে এক অভাবনীয় পুলক ও সৃষ্টির আনন্দ জাগে। নিজের সুপ্ত সৃজনশীল শক্তির এই প্রথম আত্মপ্রকাশেই তপন এমন ভয়ানক উত্তেজনা অনুভব করেছিল।

৪. প্রশ্ন: “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?”—কোন ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে এবং কেন তপনের কাছে তা অলৌকিক মনে হয়েছিল? (৩ নম্বর ১০০% কমন)

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে কিশোর তপনের লেখা প্রথম গল্প ‘প্রথম দিন’ যখন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়ে তার হাতে এসে পৌঁছায়, সেই ঘটনাকেই এখানে ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলা হয়েছে।

অলৌকিক মনে হওয়ার কারণ: ছোটোমেসো গল্পটি ছাপিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ায় তপন প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন ছোটোমাসি ও মেসোমশাইয়ের হাতে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকাটি দেখে এবং তার সূচিপত্রে ঝকঝকে ছাপার অক্ষরে ‘প্রথম দিন (গল্প) — শ্রীতপন কুমার রায়’ নামটি দেখে তপন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সাধারণ এক কিশোরের খাতার পাতায় লেখা গল্প যে সত্যিই হাজার হাজার মানুষের পড়ার মতো পত্রিকায় ছাপা হতে পারে, সেই অবিশ্বাস্য আনন্দেই ঘটনাটিকে তার অলৌকিক বলে মনে হয়েছিল।

৩. জ্ঞানচক্ষু গল্পের ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer)

১. প্রশ্ন: “তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।”—কোন দিনটির কথা বলা হয়েছে? যে দিনটি তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন হতে পারত, সেটি কেন তার কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন হয়ে উঠল তা ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)

উত্তর:

১. উদ্দিষ্ট দিনটির পরিচয়: কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কুমকুম’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে যেদিন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের প্রথম গল্প ছাপা হয়ে বাড়িতে আসে এবং মায়ের নির্দেশে তপন পরিবারের সকলের সামনে নিজের সেই ছাপা গল্পটি সরবে পড়তে বসে—সেই বিশেষ দিনটির কথাই এখানে বলা হয়েছে।

২. সুখের দিন হয়ে ওঠার সম্ভাবনা: জীবনে প্রথমবার ছাপার অক্ষরে নিজের নাম (‘শ্রীতপন কুমার রায়’) ও নিজের লেখা গল্প (‘প্রথম দিন’) দেখে তপনের মনে হয়েছিল এটি একটি অলৌকিক ঘটনা। যেকোনো নবীন লেখকের কাছেই তার প্রথম রচনা মুদ্রিত হওয়ার দিনটি জীবনের সবচেয়ে সুখের ও গৌরবের দিন হওয়ার কথা ছিল।

৩. কৃতিত্ব হরণ ও পরিবারের উপহাস: আমাদের Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer বিশ্লেষণে দেখা যায়, পত্রিকাটি আসার পর থেকেই বাড়িতে তপনের লেখার চেয়ে লেখক ছোটোমেসোর মহত্ত্ব নিয়েই বেশি শোরগোল পড়ে যায়। মেসোমশাই নিজেও করুণার সুরে জানান যে তপনের কাঁচা হাতের লেখাটিকে তাঁকে ‘একটু কারেকশন’ করে দিতে হয়েছে। ফলে তপনের বাবা ও মেজোকাকু তপনকে প্রশংসা করার বদলে বলেন—“তা ওরকম একটি লেখক মেসো থাকা মন্দ নয়, আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম!” গুরুজনদের এই কথায় তপনের নিজস্ব প্রতিভা সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যায়।

৪. লেখকসত্তার চরম অপমান ও দুঃখের কারণ: আসল আঘাতটি তপন পায় যখন সে মায়ের কথায় গল্পটি পড়তে শুরু করে। দু-চার লাইন পড়েই তপনের মাথা লজ্জায় ও অপমানে ভেঙে পড়ে—সে দেখে ‘কারেকশন’ করার নামে ছোটোমেসো তার আসল লেখাটিকে আগাগোড়া বদলে নিজের পাকা হাতের ভাষায় নতুন করে লিখে দিয়েছেন! সেখানে তপনের নিজের কোনো লাইন বা অনুভূতিই আর অবশিষ্ট নেই। পরিবারের সকলের সামনে অন্যের লেখা নিজের নামে পড়তে গিয়ে এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শিল্পীর মতো তপনের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে এবং জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটিই চরম অপমান ও প্রতারণার যন্ত্রণায় তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনে পরিণত হয়।

২. প্রশ্ন: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে কিশোর তপন চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো এবং গল্পের শেষে তপনের যে গভীর সংকল্পের পরিচয় পাওয়া যায় তা লেখো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর:

১. কল্পনাপ্রবণ ও জিজ্ঞাসু কিশোর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন এক সংবেদনশীল, কল্পনাপ্রবণ ও সাহিত্যপ্রেমী কিশোর। প্রথমে লেখকদের সম্পর্কে তার মনে এক শিশুসুলভ বিস্ময় থাকলেও লেখক ছোটোমেসোকে কাছ থেকে দেখে তার বাস্তববোধ বা প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত হয়।

২. সৃজনশীলতা ও একনিষ্ঠ সাধনা: মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন কেবল স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকেনি; গ্রীষ্মের ছুটির দুপুরে তিনতলার সিঁড়িতে বসে সে এক নিঃশ্বাসে লিখে ফেলে তার জীবনের প্রথম গল্প ‘প্রথম দিন’। এমনকি বাড়ি ফিরে আসার পরও গল্প লেখার নেশায় সে হোমটাস্ক ফেলে ছাদে লুকিয়ে আরও দু-তিনটে গল্প লিখে ফেলে এবং সেজন্য বাড়ির বড়োদের শাসনও নীরবে সহ্য করে—যা তার একনিষ্ঠ সাহিত্যপ্রীতির পরিচয় দেয়।

৩. প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ ও সততা: তপন চরিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো তার প্রখর আত্মসম্মানবোধ ও শিল্পীসুলভ সততা। ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় গল্প ছাপা হলে মেসোর করুণা ও বাড়ির লোকের তির্যক মন্তব্যে সে আহত হয়। আর যখন সে দেখে মেসোমশাই সংশোধনের নামে তার পুরো গল্পটাই নিজের ভাষায় বদলে দিয়েছেন, তখন অন্যের লেখাকে নিজের বলে চালিয়ে দেওয়ার লজ্জায় তার চোখ জলে ভরে ওঠে।

৪. তপনের চূড়ান্ত সংকল্প (দ্বিতীয় জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন): গল্পের শেষে অপমানিত ও ব্যথিত তপন ছাদে গিয়ে শার্টের তলা দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে জীবনের সবচেয়ে বড়ো সংকল্পটি গ্রহণ করে যে—ভবিষ্যতে যদি কখনো লেখা ছাপাতে হয়, তবে তপন নিজে গিয়ে পত্রিকার অফিসে নিজের কাঁচা লেখাই জমা দেবে; তা ছাপা হোক বা না হোক, নিজের লেখাকে আর কখনো অন্যকে দিয়ে ছাপাতে দেবে না। এই আত্মশক্তির জাগরণের মধ্য দিয়েই তপনের প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে যায়।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 

মাধ্যমিক দশম শ্রেণি বাংলা ও সকল বিষয়ের সাজেশন এবং পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Gyanchakshu Question Answer)

প্রশ্ন ১: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবীর বিখ্যাত ‘কুমকুম’ গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ২: তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম কী ছিল এবং সেটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল?

উত্তর: তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম ছিল ‘প্রথম দিন’ এবং সেটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ‘শ্রীতপন কুমার রায়’ নামে ছাপা হয়েছিল।

প্রশ্ন ৩: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের মোট কয়বার জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল?

উত্তর: গল্পে তপনের মোট দুইবার জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল—প্রথমবার লেখক ছোটোমেসোকে সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখে এবং দ্বিতীয়বার ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের আগাগোড়া বদলে দেওয়া গল্প পড়ে আত্মমর্যাদার জাগরণে।

পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya) ✓
👨🏫 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষিকা • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১৩+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya)
🎓 M.A. (Bengali), B.Ed., UGC-NET & WBSET Qualified
পারমিতা ভট্টাচার্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার) বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরণ, প্রবন্ধ রচনা এবং বঙ্গানুবাদ বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা। তাঁর লেখা পয়েন্ট-ভিত্তিক নোটস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য আদর্শ।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!