WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক বাংলা | Class 10 Bengali Abhishek Question Answer PDF

Class 10 Bengali Abhishek Question Answer এবং অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আমাদের আজকের এই কবিতা নোটবুকে দশম শ্রেণির সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাগত। প্রিয় অনুজ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে কীভাবে প্রমোদ-উদ্যানের বিলাসিতা ত্যাগ করে বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ) মাতৃভূমি রক্ষার শপথে গর্জে উঠেছিলেন এবং পুত্রশোকাতুর পিতা রাবণের হাত থেকে লঙ্কার সেনাপতি পদের অভিষেক গ্রহণ করেছিলেন—মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি তারই এক ওজস্বী মহাকাব্যিক আখ্যান।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর — উৎস ও পৌরাণিক উপমা তালিকা (Class 10 Bengali Abhishek Question Answer Overview)
  2. ১. অভিষেক কবিতার বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Abhishek Question Answer)
  3. ২. অভিষেক কবিতার ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
  4. ১. প্রশ্ন: “হা ধিক্ মোরে! বৈরিদল বেড়ে / স্বর্ণলঙ্কা, হেথা আমি বামা-দল-মাঝে?”—বক্তা কে? কেন তিনি নিজেকে এইভাবে ধিক্কার দিয়েছেন? (৩ নম্বর ১০০% কমন)
  5. ২. প্রশ্ন: “হায়, তাত, উচিত কি তব / এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী, / সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ / কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!”—কে, কাকে এবং কেন এ কথা বলেছেন? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  6. ৩. প্রশ্ন: “হায়, বিধি বাম মম প্রতি। / কে কবে শুনেছে, পুত্র, ভাসে শিলা জলে, / কে কবে শুনেছে, লোক মরি পুনঃ বাঁচে?”—বক্তা কে? কেন তিনি বিধাতাকে ‘বাম’ (বিরূপ) বলেছেন? (৩ নম্বর ১০০% কমন)
  7. ৪. প্রশ্ন: “কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিল জলধি!”—কখন এবং কেন লঙ্কা ও জলধি (সমুদ্র) কেঁপে উঠেছিল? (৩ নম্বর)
  8. ৩. অভিষেক কবিতার ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Abhishek Question Answer)
  9. ১. প্রশ্ন: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ অবলম্বনে বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ) চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
  10. ২. প্রশ্ন: ‘অভিষেক’ কবিতায় লঙ্কাপতি রাবণ চরিত্রের যে মহিমাময় ও মানবিক রূপ ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  11. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক
  12. ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Abhishek Question Answer)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমে ‘অভিষেক’ কবিতাটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। ক্লাসরুমে খাতা দেখার সময় প্রায়ই দেখি, কবিতাটির তৎসম শব্দভাণ্ডার ও পৌরাণিক উপমাগুলোর (অম্বুরাশি-সুতা, হৈমবতী-সুত, বৃহন্নলারূপী কিরীটী, শূলিশম্ভুনিভ কুম্ভকর্ণ, নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার) অর্থ না বোঝার কারণে অনেকেই উত্তরের মূল পয়েন্ট ছেড়ে দেয়।

তাই আজকের এই মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্ন উত্তর ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত অভিষেক প্রশ্ন উত্তর গাইডে আমরা কবিতার উৎস, পৌরাণিক চরিত্র ও উপমার ছক, বাছাই করা MCQ ও SAQ এবং ৩ ও ৫ নম্বরের প্রতিটি লাইনের আদর্শ পয়েন্টভিত্তিক উত্তর সাজিয়ে দিয়েছি। মাধ্যমিকের সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ নোটবুক পেতে আমাদের WBBSE NOTE Books Library দেখে নিতে পারো।

অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর — উৎস ও পৌরাণিক উপমা তালিকা (Class 10 Bengali Abhishek Question Answer Overview)

আমাদের Class 10 Bengali Abhishek Question Answer অনুশীলন করার আগে নিচের ছকটি থেকে কবিতাটির মূল গ্রন্থ, সর্গ এবং পরীক্ষায় বারবার আসা পৌরাণিক উপমাগুলোর অর্থ একনজরে দেখে নাও:

মূল আলোচ্য বিষয় নির্ধারিত পাঠ্য তথ্য ও বিশ্লেষণ (WBBSE Class 10 Abhishek — Michael Madhusudan Dutt) পরীক্ষায় আসার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (Exam Key Points)
কবি, মূল কাব্যগ্রন্থ ও ছন্দ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩; ছদ্মনাম: টিমোথি পেনপোয়েম)। মূল গ্রন্থ: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১ সালে প্রকাশিত)-এর প্রথম সর্গ ‘অভিষেক’ থেকে সংকলিত কাব্যটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ সার্থক মহাকাব্য (মোট সর্গ সংখ্যা: ৯টি)।
প্রধান চরিত্র ও বিশেষণ ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ): বীরেন্দ্রকেশরী, অরিন্দম, বাসববিজয়ী, দশাননাত্মজ। দেবী লক্ষ্মী: অম্বুরাশি-সুতা, রত্নাকর-রত্নোত্তমা, ইন্দিরা, রমা (ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে আগমন) রাবণ: রক্ষোরথি, লঙ্কাপতি, দশানন। প্রমীলা: মেঘনাদের পত্নী ও বীরাঙ্গনা। বীরবাহু: রাবণের পুত্র ও মেঘনাদের প্রিয় অনুজ।
গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক উপমা হৈমবতী-সুত: দেবী পার্বতীর পুত্র দেবসেনাপতি কার্তিক (যিনি তারকাসুর বধ করেছিলেন)। বৃহন্নলারূপী কিরীটী: বিরাট রাজার প্রাসাদে ছদ্মবেশী অর্জুন (গोधন রক্ষার্থে শমীবৃক্ষ মূলে অস্ত্র ধারণ) শূলিশম্ভুনিভ: ত্রিশূলধারী মহাদেবের (শিবের) মতো পরাক্রমশালী কুম্ভকর্ণ। নিকষা সতী: রাবণের মাতা। নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার: মেঘনাদের ইষ্টদেবতা অগ্নির যজ্ঞস্থল।

১. অভিষেক কবিতার বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Abhishek Question Answer)

১. প্রশ্ন: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি কার লেখা কোন মহাকাব্যের কততম সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) মহাকাব্যের প্রথম সর্গ (‘অভিষেক’) থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. প্রশ্ন: কনক-আসন ত্যাগ করে বীরেন্দ্রকেশরী ইন্দ্রজিৎ কাকে প্রণাম করেছিলেন এবং তিনি কার ছদ্মবেশ ধরে এসেছিলেন?

উত্তর: কনক-আসন ত্যাগ করে ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীমাতা প্রভাষার চরণে প্রণাম করেছিলেন। আসলে স্বয়ং দেবী লক্ষ্মী (অম্বুরাশি-সুতা বা ভগবতী রমা) ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রমোদ-উদ্যানে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন।

৩. প্রশ্ন: দেবী লক্ষ্মীকে কেন ‘অম্বুরাশি-সুতা’ ও ‘রত্নাকর-রত্নোত্তমা’ বলা হয়েছে?

উত্তর: পুরাণ মতে সমুদ্রমন্থনের সময় সমুদ্র (অম্বুরাশি বা রত্নাকর) থেকে দেবী লক্ষ্মীর জন্ম হয়েছিল বলে তাঁকে সমুদ্রের কন্যা বা ‘অম্বুরাশি-সুতা’ এবং সমুদ্রের শ্রেষ্ঠ রত্ন বা ‘রত্নাকর-রত্নোত্তমা’ বলা হয়েছে।

৪. প্রশ্ন: ছদ্মবেশী লক্ষ্মী মেঘনাদকে লঙ্কার কোন ঘোর বিপদের সংবাদ দিয়েছিলেন?

উত্তর: ছদ্মবেশী লক্ষ্মী জানিয়েছিলেন যে, রাঘব (রামচন্দ্র)-এর হাতে মেঘনাদের প্রিয় ভাই বীরবাহু নিহত হয়েছেন এবং পুত্রশোকে জর্জরিত লঙ্কাপতি রাবণ স্বয়ং সসৈন্যে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

৫. প্রশ্ন: বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে মেঘনাদ কেন বিস্মিত হয়েছিলেন?

উত্তর: আমাদের Class 10 Bengali Abhishek Question Answer প্রস্তুতিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মেঘনাদ নিজেই নিশারণে (রাত্রিকালীন যুদ্ধে) প্রচণ্ড শরজালে রঘুবর রামচন্দ্রকে খণ্ড খণ্ড করে সংহার করেছিলেন—তাই মৃত রামচন্দ্র কীভাবে আবার বেঁচে উঠে বীরবাহুকে হত্যা করলেন, তা ভেবেই মেঘনাদ বিস্মিত হয়েছিলেন।

৬. প্রশ্ন: আত্মধিক্কারের পর ক্রুদ্ধ মেঘনাদ কী কী আভরণ বা অলংকার দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন?

উত্তর: লঙ্কা শত্রুবেষ্টিত থাকা সত্ত্বেও নিজে প্রমোদ-উদ্যানে বামাদল মাঝে ডুবে ছিলেন বলে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে মেঘনাদ গলার ‘কুসুমদাম’ (ফুলের মালা) ছিঁড়ে ফেলেন এবং হাতের ‘কনক-বলয়’ (সোনার বালা) ও কানের ‘কুণ্ডল’ দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেন।

৭. প্রশ্ন: রণসাজে সজ্জিত মেঘনাদকে কবি কোন দুটি পৌরাণিক চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

উত্তর: রণসাজে সজ্জিত মেঘনাদকে কবি তারকাসুর বধকারী হৈমবতী-সুত কার্তিক এবং বিরাট রাজার গোধন রক্ষার্থে শমীবৃক্ষ মূলে অস্ত্রধারণকারী বৃহন্নলারূপী কিরীটী (অর্জুন)-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

৮. প্রশ্ন: মেঘনাদ যুদ্ধে যাওয়ার সময় পত্নী প্রমীলা কীভাবে তাঁর পথ রোধ করেছিলেন এবং মেঘনাদ তাঁকে কী বলে সান্ত্বনা দেন?

উত্তর: পত্নী প্রমীলা কাতরভাবে মেঘনাদের দুটি চরণ জড়িয়ে ধরে (“হস্তীশ্বর-পদ দুটি বাঁধে লতা যেন”) তাঁকে ফেলে কোথায় যাচ্ছেন তা জানতে চান। মেঘনাদ তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, প্রমীলার ভালোবাসার দৃঢ় বন্ধন (অভেদ্য কবচ) যাঁর রক্ষাকবচ, যুদ্ধে তাঁর জয় সুনিশ্চিত।

৯. প্রশ্ন: “ছিঁড়িলা কুসুমদাম রোষে মহাবলী”—মহাবলী মেঘনাদের রোষের বা ক্রোধের কারণ কী ছিল?

উত্তর: মায়াবী রামচন্দ্রের হাতে অনুজ বীরবাহুর মৃত্যু হয়েছে এবং স্বর্ণলঙ্কা শত্রুবেষ্টিত হয়ে পড়েছে, অথচ সেই চরম সংকটের মুহূর্তে তিনি নিজে প্রমোদ-উদ্যানে নারীদের মাঝখানে বিলাসব্যসনে মত্ত রয়েছেন—এই লজ্জা ও আত্মগ্লানিই ছিল মহাবলী মেঘনাদের রোষের কারণ।

১০. প্রশ্ন: রাবণ কেন মেঘনাদকে তৎক্ষণাৎ যুদ্ধে না গিয়ে পরদিন সকালে যেতে বলেছিলেন এবং কীভাবে তাঁর অভিষেক সম্পন্ন করেন?

উত্তর: রাবণ চেয়েছিলেন মেঘনাদ যেন পরদিন সকালে ‘নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে’ ইষ্টদেবতা অগ্নির পূজা সমাপন করে অজেয় শক্তি লাভ করে তবেই যুদ্ধে যান। কিন্তু মেঘনাদের প্রবল অনুরোধে শেষ পর্যন্ত রাবণ বিধিমত গঙ্গাজল (গঙ্গোদক) দিয়ে মেঘনাদকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।

২. অভিষেক কবিতার ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)

১. প্রশ্ন: “হা ধিক্ মোরে! বৈরিদল বেড়ে / স্বর্ণলঙ্কা, হেথা আমি বামা-দল-মাঝে?”—বক্তা কে? কেন তিনি নিজেকে এইভাবে ধিক্কার দিয়েছেন? (৩ নম্বর ১০০% কমন)

উত্তর: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত ‘অভিষেক’ কবিতায় আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন রাবণ-পুত্র বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদ।

আত্মধিক্কারের কারণ: প্রমোদ-উদ্যানে ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশধারী দেবী লক্ষ্মীর মুখ থেকে মেঘনাদ জানতে পারেন যে, মায়াবী রামচন্দ্র পুনর্জীবন লাভ করে তাঁর প্রিয় ভাই বীরবাহুকে হত্যা করেছেন এবং শোকগ্রস্ত পিতা রাবণ স্বয়ং যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রিয় জন্মভূমি স্বর্ণলঙ্কা আজ শত্রুবেষ্টিত (‘বৈরিদল বেড়ে’) এবং রাজপরিবার চরম সংকটে, অথচ লঙ্কার শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ও দশানন-পুত্র ইন্দ্রজিৎ হয়েও তিনি কিনা এই সময়ে প্রমোদ-উদ্যানে নারীদের মাঝখানে (‘বামা-দল-মাঝে’) বিলাসিতায় ডুবে আছেন! একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও ক্ষত্রিয় বীর হিসেবে নিজের এই কর্তব্যচ্যুতিতে লজ্জিত হয়েই মেঘনাদ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।

২. প্রশ্ন: “হায়, তাত, উচিত কি তব / এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী, / সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ / কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!”—কে, কাকে এবং কেন এ কথা বলেছেন? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর: আমাদের অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর সংকলনে এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচ্য উক্তিটি বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ) তাঁর পিতা লঙ্কাপতি রাবণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।

এ কথা বলার কারণ: অনুজ বীরবাহুর মৃত্যুর পর পিতা রাবণ যখন স্বয়ং যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সসৈন্যে সাজসজ্জা করছিলেন, তখন মেঘনাদ পিতাকে নিবৃত্ত করতে এই কথা বলেন। মেঘনাদের মতে, যাঁর গর্ভধারিণী মাতা নিকষা সতী, সহোদর ভাই মহাদেবের (শূলিশম্ভু) মতো পরাক্রমশালী কুম্ভকর্ণ এবং যাঁর পুত্র স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রকে জয়কারী ‘বাসববিজয়ী’ ইন্দ্রজিৎ—তেমন মহান রাজার পক্ষে পুত্র বেঁচে থাকতে নিজে যুদ্ধে যাওয়া চরম অপমানের। ইন্দ্রজিৎ থাকতে রাবণের যুদ্ধে যাওয়া মানে নিজের ঘরের পথ চোরকে দেখিয়ে দেওয়া এবং রাজার সিংহাসনে চণ্ডালকে বসানোর সমান।

৩. প্রশ্ন: “হায়, বিধি বাম মম প্রতি। / কে কবে শুনেছে, পুত্র, ভাসে শিলা জলে, / কে কবে শুনেছে, লোক মরি পুনঃ বাঁচে?”—বক্তা কে? কেন তিনি বিধাতাকে ‘বাম’ (বিরূপ) বলেছেন? (৩ নম্বর ১০০% কমন)

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন পুত্রশোকাতুর লঙ্কাধিপতি রাবণ।

বিধাতাকে ‘বাম’ বলার কারণ: প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ভারী পাথর (শিলা) কখনো জলে ভাসে না এবং মৃত মানুষ কখনো পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠে না। কিন্তু রাবণের দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই দুটি অলৌকিক ও অপ্রাকৃত ঘটনাই ঘটেছে—বানর সেনারা সমুদ্রের জলে পাথর ভাসিয়ে লঙ্কায় আসার সেতু (বন্ধন) নির্মাণ করেছে এবং মেঘনাদের শরে নিশারণে নিহত রামচন্দ্র মায়াবলে পুনর্জীবন লাভ করে বীরবাহুকে হত্যা করেছেন! প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে ঘটা এই দুটি অসম্ভব ঘটনার মধ্য দিয়েই রাবণ বুঝতে পেরেছেন যে স্বয়ং বিধাতা বা নিয়তি তাঁর প্রতি বিরূপ (‘বিধি বাম মম প্রতি’), তাই তিনি পুত্র মেঘনাদকে এই অসম যুদ্ধে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

৪. প্রশ্ন: “কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিল জলধি!”—কখন এবং কেন লঙ্কা ও জলধি (সমুদ্র) কেঁপে উঠেছিল? (৩ নম্বর)

উত্তর: ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশধারী দেবী লক্ষ্মীর মুখে অনুজ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও পিতা রাবণের যুদ্ধে যাওয়ার খবর শুনে ক্রুদ্ধ মেঘনাদ প্রমোদ-উদ্যান ত্যাগ করে রণসাজে সজ্জিত হন।

লঙ্কা ও সমুদ্র কেঁপে ওঠার কারণ: মেঘনাদের আদেশে অশ্বরক্ষক রথ নিয়ে এলে পরাক্রমশালী ইন্দ্রজিৎ মেঘবর্ণ রথে আরোহণ করেন এবং বীরদর্পে হাতে বিশাল ধনুক (চাপ) তুলে নিয়ে তার ছিলায় (গুণে) প্রচণ্ড টঙ্কার দেন। মহাবীর ইন্দ্রজিতের সেই ধনুকের গগনভেদী টঙ্কার ও রথের ঘর্ঘর ধ্বনিতেই স্বর্ণলঙ্কাপুরী এবং চারপাশের উত্তাল সমুদ্র (জলধি) থরথর করে কেঁপে উঠেছিল।

৩. অভিষেক কবিতার ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Abhishek Question Answer)

১. প্রশ্ন: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ অবলম্বনে বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ) চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)

উত্তর:

১. দেশপ্রেমিক ও কর্তব্যপরায়ণ বীর: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর অন্তর্গত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন রাবণ-পুত্র ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ)। প্রমোদ-উদ্যানে অবসর যাপনের সময় ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মীর মুখে বীরবাহুর মৃত্যু ও লঙ্কার সংকটের কথা শোনামাত্রই তিনি বিলাসিতা ত্যাগ করেন। স্বর্ণলঙ্কা শত্রুবেষ্টিত জেনে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে ফুলের মালা ও সোনার বলয় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তিনি মুহূর্তের মধ্যে রণসাজে সজ্জিত হন—যা তাঁর অতুলনীয় দেশপ্রেম ও কর্তব্যবোধের পরিচয় দেয়।

২. ভ্রাতৃপ্রেম ও পিতৃভক্তি: আমাদের Class 10 Bengali Abhishek Question Answer বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ মেঘনাদের হৃদয়কে গভীর শোকে ও ক্রোধে বিদ্ধ করেছে। আবার পিতা রাবণের প্রতি তাঁর ভক্তি ও শ্রদ্ধা অবিচল। বৃদ্ধ ও শোকাতুর পিতাকে যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তিনি পিতার চরণে পতিত হয়ে নিজে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন এবং পিতার মর্যাদা রক্ষায় নিজের প্রাণ বাজি রাখতেও দ্বিধা করেননি।

৩. আদর্শ ও প্রেমময় পতি: মেঘনাদ কেবল একজন কঠোর যোদ্ধাই নন, তিনি একজন কোমল হৃদয়ের প্রেমিক স্বামীও। যুদ্ধে যাত্রার প্রাক্কালে পত্নী প্রমীলা যখন কাতরভাবে তাঁর চরণ জড়িয়ে ধরে কেঁদে ওঠেন, তখন মেঘনাদ অত্যন্ত স্নেহভরে তাঁকে আলিঙ্গন করে আশ্বস্ত করেন। প্রমীলার ভালোবাসাকে নিজের ‘অভেদ্য কবচ’ বলে উল্লেখ করে তিনি দাম্পত্য প্রেমের এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

৪. আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও নির্ভীক যোদ্ধা: রাবণ যখন বিধাতার বিরূপতার কথা বলে মেঘনাদকে যুদ্ধে যেতে বাধা দেন, তখনও মেঘনাদ ভীত হননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে রামচন্দ্রকে দুবার পরাজিত করা তাঁর কাছে কোনো ব্যাপারই নয় (“দেখিব এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে!”)। ভয়হীন চিত্তে পিতার কাছ থেকে সেনাপতি পদের অভিষেক গ্রহণ করে তিনি এক ট্র্যাজিক অথচ আদর্শ মহাকাব্যিক বীরের মহিমায় উন্নীত হয়েছেন।

২. প্রশ্ন: ‘অভিষেক’ কবিতায় লঙ্কাপতি রাবণ চরিত্রের যে মহিমাময় ও মানবিক রূপ ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর:

১. মহাকাব্যিক শৌর্য ও রাজকীয় মহিমা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ঐতিহ্যগত রামায়ণের খলনায়ক রাবণকে ভেঙে এক সুমহান, ট্র্যাজিক ও মানবিক পিতৃহৃদয়ের অধিকারী সম্রাট হিসেবে গড়ে তুলেছেন। কবিতার শুরুতেই দেখা যায়, পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুতে শোকাকুল হলেও রাজধর্ম ও দেশরক্ষার তাগিদে লঙ্কাপতি রাবণ চতুরঙ্গ সেনা (হস্তী, অশ্ব, রথ ও পদাতিক) সাজিয়ে স্বয়ং যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

২. স্নেহকাতর পিতৃহৃদয়: রাবণ চরিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো তাঁর গভীর পুত্রস্নেহ। একে একে প্রিয় পুত্র ও আত্মীয়দের হারিয়ে রাবণের বুক হাহাকার করছে। তাই যোগ্যতম পুত্র ইন্দ্রজিৎ যখন যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি চান, তখন সম্রাট রাবণের চেয়ে পিতা রাবণ বড়ো হয়ে ওঠেন—তিনি মেঘনাদকে বুকে জড়িয়ে ধরে চোখের জলে ভাসেন এবং বলেন যে রাক্ষসকুলের শেষ ভরসা এই পুত্রকে তিনি আর কিছুতেই একা রণক্ষেত্রে পাঠাতে চান না।

৩. নিয়তিলাঞ্ছিত ট্র্যাজিক চেতনা: প্রবল পরাক্রমশালী হয়েও রাবণ উপলব্ধি করেছেন যে স্বয়ং বিধাতা আজ তাঁর প্রতি বিরূপ (“হায়, বিধি বাম মম প্রতি”)। জলে পাথর ভাসা এবং মৃত মানুষের পুনর্জীবন লাভের মতো অলৌকিক ঘটনা দেখে তাঁর মনে অশুভ আশঙ্কা ঘনিয়ে উঠেছে। তাই পুত্রের জীবন রক্ষার্থে তিনি মেঘনাদকে পরদিন সকালে নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে যুদ্ধে যেতে অনুরোধ করেছেন।

৪. কর্তব্যের কাছে পিতৃস্নেহের আত্মসমর্পণ: শেষ পর্যন্ত বীর পুত্রের যুক্তি ও ক্ষত্রিয় ধর্মের কাছে স্নেহকাতর পিতা রাবণকে নতিস্বীকার করতে হয়। বুকের ভেতর প্রবল আশঙ্কা চেপে রেখেও রাজধর্মের খাতিরে তিনি বিধিমত গঙ্গাজল দিয়ে প্রিয় পুত্র মেঘনাদকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন—যা রাবণ চরিত্রকে এক অনন্য ট্র্যাজিক মহিমা দান করেছে।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক

মাধ্যমিক দশম শ্রেণি বাংলা ও সকল বিষয়ের সাজেশন এবং পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Abhishek Question Answer)

প্রশ্ন ১: ‘অভিষেক’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত এবং কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর: ‘অভিষেক’ কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (প্রথম সর্গ) থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

প্রশ্ন ২: কে কার ছদ্মবেশ ধারণ করে ইন্দ্রজিতের কাছে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন?

উত্তর: স্বয়ং দেবী লক্ষ্মী (অম্বুরাশি-সুতা বা রমা) মেঘনাদের ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশ ধারণ করে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন।

প্রশ্ন ৩: ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর নাম কী এবং ইন্দ্রজিতের যজ্ঞাগারটির নাম কী ছিল?

উত্তর: ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর নাম ছিল প্রমীলা এবং তাঁর যজ্ঞাগারটির নাম ছিল ‘নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার’।

পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya) ✓
👨🏫 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষিকা • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১৩+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya)
🎓 M.A. (Bengali), B.Ed., UGC-NET & WBSET Qualified
পারমিতা ভট্টাচার্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার) বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরণ, প্রবন্ধ রচনা এবং বঙ্গানুবাদ বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা। তাঁর লেখা পয়েন্ট-ভিত্তিক নোটস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য আদর্শ।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!