Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer এবং প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আমাদের আজকের এই কবিতা নোটবুকে দশম শ্রেণির সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাগত। পরাধীন ভারতবর্ষের অন্ধকার কারাগার ভেঙে কালবোশেখীর ঝড়ের মতো বিপ্লবী তরুণ শক্তির আগমনকে কীভাবে মহাকাল রূপী শিবের তাণ্ডবনৃত্যের প্রতীকে আবাহন জানানো হয়েছে এবং কেন ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন সৃষ্টির আনন্দ—বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি তারই এক অগ্নিঝরা জয়গান।
- প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর — উৎস ও পৌরাণিক-ঐতিহাসিক প্রতীক তালিকা (Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer Overview)
- ১. প্রলয়োল্লাস কবিতার বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer)
- ২. প্রলয়োল্লাস কবিতার ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
- ১. প্রশ্ন: “তোরা সব জয়ধ্বনি কর! / তোরা সব জয়ধ্বনি কর!! / ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়”—‘তোরা’ কারা? কালবোশেখীর ঝড়কে কেন ‘নূতনের কেতন’ বলা হয়েছে? (৩ নম্বর ১০০% কমন)
- ২. প্রশ্ন: “আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল, / সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল!”—‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’ কে? কীভাবে সে সিংহ-দ্বারের আগল ভেঙেছে? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
- ৩. প্রশ্ন: “এবার মহানিশার শেষে / আসবে ঊষা অরুণ হেসে / করুণ বেশে! / দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর”—পঙক্তিগুলির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৩ নম্বর ১০০% কমন)
- ৪. প্রশ্ন: “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?—প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন! / আসছে নবীন—জীবন-হারা অসুন্দরে করতে ছেদন!”—কবি কেন প্রলয়কে ‘নূতন সৃজন-বেদন’ বলেছেন? (৩ নম্বর)
- ৩. প্রলয়োল্লাস কবিতার ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer)
- ১. প্রশ্ন: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় একদিকে ধ্বংসের ভয়ংকর রূপ এবং অন্যদিকে নতুন সৃষ্টির যে আশাবাদী চিত্র ফুটে উঠেছে তা কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
- ২. প্রশ্ন: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কীভাবে পৌরাণিক অনুষঙ্গ ও সমকালীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটকে একসূত্রে গেঁথেছেন তা বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
- প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক
- ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমে এই কবিতাটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় শর্ট ও বড়ো প্রশ্নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাসরুমে খাতা দেখার সময় প্রায়ই দেখি, কবিতাটিতে ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ পঙক্তিটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে, ‘দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা’, ‘সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বার’ কিংবা “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?—প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!”—এই লাইনগুলোর ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক তাৎপর্য লিখতে গিয়ে অনেকেই গুলিয়ে ফেলে।
তাই আজকের এই মাধ্যমিক বাংলা প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর ও কাজী নজরুল ইসলাম প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর গাইডে আমরা কবিতার উৎস, পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক প্রতীকের ছক, বাছাই করা MCQ ও SAQ এবং ৩ ও ৫ নম্বরের প্রতিটি লাইনের আদর্শ পয়েন্টভিত্তিক উত্তর সাজিয়ে দিয়েছি। মাধ্যমিকের সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ নোটবুক পেতে আমাদের WBBSE NOTE Books Library দেখে নিতে পারো।
প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর — উৎস ও পৌরাণিক-ঐতিহাসিক প্রতীক তালিকা (Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer Overview)
আমাদের Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer অনুশীলন করার আগে নিচের টেবিল থেকে কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ এবং প্রতিটি পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক প্রতীকের অর্থ একনজরে দেখে নাও:
| মূল আলোচ্য বিষয় | নির্ধারিত পাঠ্য তথ্য ও বিশ্লেষণ (WBBSE Class 10 Proloyollas — Kazi Nazrul Islam) | পরীক্ষায় আসার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (Exam Key Points) |
| কবি ও মূল কাব্যগ্রন্থ (উৎস) | বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬)। মূল কাব্যগ্রন্থ: ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা) | কবিতাটি প্রথমে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতায় “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” পঙক্তিটি মোট ১৯ বার ব্যবহৃত হয়েছে। |
| ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রতীক | কালবোশেখীর ঝড় ও নূতনের কেতন: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিপ্লবী তরুণ শক্তির অভ্যুত্থান। সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বার: আন্দামান সেলুলার জেল বা ব্রিটিশ কারাগারের লৌহকপাট | মহানিশা: ব্রিটিশ পরাধীনতার দীর্ঘ অন্ধকার রাত্রি। অরুণ হেসে করুণ বেশে ঊষা: রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের শেষে পাওয়া স্বাধীনতার নতুন প্রভাত। |
| পৌরাণিক অনুষঙ্গ ও দেবদেবী | প্রলয়ঙ্কর / দিগম্বর / মহাকাল-সারথি: ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা মহাদেব (শিব)। দ্বাদশ রবি: বারোটি আদিত্য বা মধ্যাহ্ন সূর্যের প্রচণ্ড তেজ | হৈমবতী ও চণ্ডী: দেবী দুর্গা বা পার্বতী এবং মা কালী। গড়ুর: বিষ্ণুর বাহন পক্ষিরাজ। অসুর-রিপু: অসুরদের শত্রু ভগবান বিষ্ণু বা শ্রীকৃষ্ণ। |
১. প্রলয়োল্লাস কবিতার বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer)
১. প্রশ্ন: ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ ও অর্থ কী এবং কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ হলো প্রলয় + উল্লাস এবং এর অর্থ ধ্বংসের আনন্দ। কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।
২. প্রশ্ন: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” পঙক্তিটি মোট কতবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং কাদের জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” পঙক্তিটি মোট ১৯ বার ব্যবহৃত হয়েছে এবং পরাধীন দেশের ভীত, হতাশ ও নিপীড়িত ভারতবাসীকে জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে।
৩. প্রশ্ন: কবি কালবোশেখীর ঝড়কে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং কার আগল ভাঙার কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি কালবোশেখীর ঝড়কে ‘নূতনের কেতন’ (নতুন যুগের বা বিপ্লবের বিজয় পতাকা)-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং ‘সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বার’ (ব্রিটিশ কারাগার বা আন্দামান জেলের লৌহকপাট)-এর আগল ভাঙার কথা বলেছেন।
৪. প্রশ্ন: প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগলের নয়ন-কটায় ও পিঙ্গল জটায় কী রয়েছে এবং তার এক বিন্দু নয়ন-জলে কী দোলে?
উত্তর: প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল মহাদেবের ভয়াল নয়ন-কটায় রয়েছে ‘দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা’, পিঙ্গল ত্রস্ত জটায় লুটোয় ‘দিগন্তরের কাঁদন’ এবং তার কপোল-তলে এক বিন্দু নয়ন-জলে ‘সপ্ত মহাসিন্ধু’ (সাত সমুদ্র) দোলে।
৫. প্রশ্ন: “মাভৈঃ! মাভৈঃ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে”—‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী এবং বিনাশের মধ্যে কী লুকানো আছে?
উত্তর: আমাদের Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer প্রস্তুতিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ হলো ‘ভয় পেয়ো না’ বা ‘ভয় নেই’। আর ওই বিনাশের মধ্যেই জরায়-মরা মুমূর্ষুদের নতুন ‘প্রাণ’ লুকানো আছে।
৬. প্রশ্ন: মহানিশার শেষে কে কীভাবে আসবে এবং দিগম্বরের জটায় কে হাসে?
উত্তর: মহানিশার (পরাধীনতার অন্ধকার রাত্রির) শেষে ‘অরুণ হেসে করুণ বেশে’ ঊষা (স্বাধীনতার প্রভাত) আসবে। আর দিগম্বর মহাদেবের জটায় ‘শিশু-চাঁদের কর’ (দ্বিতীয়ার অর্ধচন্দ্রের স্নিগ্ধ কিরণ) হাসে।
৭. প্রশ্ন: “ঐ সে মহাকাল-সারথি রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানে”—‘মহাকাল-সারথি’ কে এবং তার হাঁকে কী কাঁপে?
উত্তর: এখানে ‘মহাকাল-সারথি’ বলতে কাল বা সময়ের রথের চালক দেবাদিদেব মহাদেব এবং বিপ্লবী তরুণ শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তাঁর বজ্র-গর্জনে ও ঝড়ের হাঁকে ‘অসীম আকাশ’ কেঁপে ওঠে এবং বাতাসে ‘হ্রেষার কাঁদন’ (ঘোড়ার ডাক) রণিয়ে ওঠে।
৮. প্রশ্ন: মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে কে কীসের রব শুনতে পায়?
উত্তর: পরাধীনতার মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে বন্দি ভারতবাসী আকাশে-বাতাসে অসুর-রিপু (ভগবান বিষ্ণু বা শ্রীকৃষ্ণ)-র রথের চাকার ঘর্ঘর রব এবং বিষ্ণুর বাহন পক্ষিরাজ গড়ুরের পাখার ঝাপটার শব্দ শুনতে পায়।
৯. প্রশ্ন: ‘পাগলি মায়ের দামাল ছেলে’ বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন?
উত্তর: এখানে ‘পাগলি মা’ হলেন রণচণ্ডী দেশমাতৃকা এবং তাঁর ‘দামাল ছেলে’ বলতে দেশের স্বাধীনতার জন্য হাসিমুখে মৃত্যুবরণকারী দুরন্ত ও নির্ভীক বিপ্লবী তরুণদের বোঝানো হয়েছে।
১০. প্রশ্ন: “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?—প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!”—নবীন কেন আসছে এবং সে কী জানে?
উত্তর: নবীন আসছে জীবন-হারা অসুন্দরকে ছেদন করতে। আর সে যেমন পুরাতনকে ভেঙে চুরমার করতে জানে, তেমনি “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!”
২. প্রলয়োল্লাস কবিতার ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
১. প্রশ্ন: “তোরা সব জয়ধ্বনি কর! / তোরা সব জয়ধ্বনি কর!! / ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়”—‘তোরা’ কারা? কালবোশেখীর ঝড়কে কেন ‘নূতনের কেতন’ বলা হয়েছে? (৩ নম্বর ১০০% কমন)
উত্তর: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘তোরা’ বলতে ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ, ভীত ও হতাশাগ্রস্ত ভারতবাসীকে বোঝানো হয়েছে।
কালবোশেখীর ঝড়কে ‘নূতনের কেতন’ বলার কারণ: প্রকৃতির বুকে বৈশাখ মাসের কালবোশেখীর ঝড় যেমন জীর্ণ-পুরাতন শুকনো পাতা ও আবর্জনাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতিকে নতুন প্রাণের সজীবতায় ভরিয়ে তোলে, ঠিক তেমনি পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অত্যাচার ও সমাজের জীর্ণতাকে ধ্বংস করতে এগিয়ে আসছে বিপ্লবী তরুণদের মুক্তি-আন্দোলন। এই প্রলয়ঙ্করী বিপ্লবের ঝড়ই দেশে স্বাধীনতার নতুন যুগ ডেকে আনবে বলে কবি কালবোশেখীর ঝড়কে ‘নূতনের কেতন’ বা নতুনের বিজয় পতাকা বলেছেন।
২. প্রশ্ন: “আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল, / সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল!”—‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’ কে? কীভাবে সে সিংহ-দ্বারের আগল ভেঙেছে? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
উত্তর: আমাদের প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর সংকলনে এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পৌরাণিক অর্থে ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’ হলেন প্রলয় ও তাণ্ডবনৃত্যের দেবতা মহাদেব (শিব) এবং সমকালীন ঐতিহাসিক অর্থে ভারতের স্বাধীনতাকামী বিপ্লবী তরুণ সমাজ।
সিংহ-দ্বারের আগল ভাঙার তাৎপর্য: ব্রিটিশ শাসকরা ভারতীয় বিপ্লবীদের বন্দি করে রাখত সমুদ্রের ওপারে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের ভয়ংকর সেলুলার জেলে—যাকে কবি ‘সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বার’ বলেছেন। কিন্তু অকুতোভয় বিপ্লবী তরুণদের প্রবল বিদ্রোহ ও আত্মবলিদানের ধাক্কায় আজ সমুদ্রপারের সেই দুর্ভেদ্য ব্রিটিশ কারাগারের লোহার দরজার খিল বা আগল ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে—যার মধ্য দিয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির সূচনা হয়েছে।
৩. প্রশ্ন: “এবার মহানিশার শেষে / আসবে ঊষা অরুণ হেসে / করুণ বেশে! / দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর”—পঙক্তিগুলির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৩ নম্বর ১০০% কমন)
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘মহানিশা’ বলতে ব্রিটিশ পরাধীনতার দীর্ঘ, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও দুঃসহ রাত্রিকে এবং ‘ঊষা’ বলতে বহু প্রতীক্ষিত স্বাধীনতার নতুন প্রভাতকে বোঝানো হয়েছে।
অন্তর্নিহিত তাৎপর্য: বিপ্লবীদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পরাধীনতার মহানিশার অবসান ঘটলে রক্তিম সূর্যের (‘অরুণ’) হাসি নিয়ে স্বাধীনতার ঊষা আত্মপ্রকাশ করবে। তবে এই স্বাধীনতা অর্জনের পথে অসংখ্য বিপ্লবী তরুণের প্রাণ বিসর্জন ও মায়েদের অশ্রুপাত ঘটেছে বলে সেই ঊষার বেশটি হবে ‘করুণ’ (বেদনার্দ্র)। ভয়ংকর প্রলয়ঙ্করী দিগম্বর শিবের জটায় যেমন স্নিগ্ধ শিশু-চাঁদের কিরণ (‘কর’) হাসে, তেমনি ভয়াবহ বিপ্লবের ধ্বংসলীলার শেষে শান্তি ও মুক্তির স্নিগ্ধ আলোয় দেশবাসীর ঘর ভরে উঠবে।
৪. প্রশ্ন: “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?—প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন! / আসছে নবীন—জীবন-হারা অসুন্দরে করতে ছেদন!”—কবি কেন প্রলয়কে ‘নূতন সৃজন-বেদন’ বলেছেন? (৩ নম্বর)
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় পরাধীন দেশের সাধারণ মানুষ বিপ্লবের রক্তক্ষয় ও ধ্বংসলীলা দেখে যাতে ভীত না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
প্রলয়কে ‘নূতন সৃজন-বেদন’ বলার কারণ: মা যেমন প্রসববেদনার তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করেই একটি নতুন শিশুর জন্ম দেন, ঠিক তেমনি জীর্ণ, গলিত ও জীবন-হারা অসুন্দর সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করার রক্তক্ষয়ী যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই এক চির-সুন্দর ও স্বাধীন সমাজের জন্ম হয়। তাই এই প্রলয় বা ধ্বংস কোনো নেতিবাচক বিনাশ নয়—এটি আসলে নতুন সৃষ্টিরই প্রসববেদনা (‘নূতন সৃজন-বেদন’)।
৩. প্রলয়োল্লাস কবিতার ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer)
১. প্রশ্ন: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় একদিকে ধ্বংসের ভয়ংকর রূপ এবং অন্যদিকে নতুন সৃষ্টির যে আশাবাদী চিত্র ফুটে উঠেছে তা কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
উত্তর:
১. প্রলয় ও উল্লাসের যুগলবন্দি: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’-এ ধ্বংসের ভয়াবহতা এবং নতুন সৃষ্টির আনন্দের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। ব্রিটিশ পরাধীনতার অন্ধকার ও জীর্ণ সমাজকে ভেঙে ফেলার জন্য কবি কালবোশেখীর ঝড়ের প্রতীকে বিপ্লবী তরুণ শক্তির আগমনকে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ১৯ বার “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” ধ্রুবপদের মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে অভয় দিয়েছেন।
২. প্রলয়ঙ্করের ভয়ংকর রূপ: আমাদের Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনাগত এই বিপ্লবী শক্তিকে কবি প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল মহাদেবের রূপে চিত্রিত করেছেন। সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে সে কারাগারের আগল ভেঙেছে। তার ভয়াল নয়ন-কটায় জ্বলছে দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা, পিঙ্গল জটায় লুটোপুটি খাচ্ছে দিগন্তরের কাঁদন এবং গালের এক বিন্দু চোখের জলে দুলছে সপ্ত মহাসিন্ধু! মহাকাল-সারথি রূপে সে রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানছে, যার আঘাতে বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে ভয়ংকর ঝড় নেমে এসেছে।
৩. মহানিশার অবসান ও স্নিগ্ধ ঊষার আগমন: কিন্তু কবির কাছে এই ভয়ংকর ধ্বংসই শেষ কথা নয়। জরায়-মরা মুমূর্ষু জাতির নতুন প্রাণ লুকিয়ে আছে এই বিনাশের মধ্যেই। তাই কবি আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরাধীনতার দীর্ঘ ‘মহানিশা’-র শেষে অরুণ হেসে ও করুণ বেশে স্বাধীনতার নতুন ‘ঊষা’ উদিত হবে। রুদ্র দিগম্বরের জটায় থাকা স্নিগ্ধ শিশু-চাঁদের কিরণে তখন প্রতিটি ভারতবাসীর অন্ধকার ঘর আলোয় ভরে উঠবে।
৪. চির-সুন্দরের সৃজন-বেদন: কবিতার উপসংহারে কবি ধ্বংস ও সৃষ্টির চিরন্তন সত্যটি তুলে ধরেছেন। প্রলয় হলো নতুন সৃষ্টিরই প্রসববেদনা (‘নূতন সৃজন-বেদন’)। যে নবীন বিপ্লবী শক্তি জীবন-হারা অসুন্দরকে ছেদন করতে প্রলয় বয়ে আনছে, তার মুখে রয়েছে মধুর হাসি—কারণ পুরাতনকে ভেঙে আবার নতুন করে এক ‘চির-সুন্দর’ ভারতবর্ষ গড়ে তোলার মন্ত্র তার জানা আছে।
২. প্রশ্ন: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কীভাবে পৌরাণিক অনুষঙ্গ ও সমকালীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটকে একসূত্রে গেঁথেছেন তা বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
উত্তর:
১. পৌরাণিক রূপকে স্বদেশচেতনার প্রকাশ: বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে ব্রিটিশ শাসনের কড়া নজরদারি ও সেন্সরশিপ এড়িয়ে দেশবাসীর মনে বিপ্লবের আগুন জ্বালিয়ে দিতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ভারতীয় পুরাণের দেবদেবীদের রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
২. নটরাজ শিব ও বিপ্লবী তরুণ সমাজ: কবিতায় ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’, ‘প্রলয়ঙ্কর’, ‘দিগম্বর’ ও ‘মহাকাল-সারথি’ হলেন পৌরাণিক ধ্বংসের দেবতা মহাদেব (শিব)। নজরুল এই রুদ্র মহাদেবের প্রতীকেই সমকালীন ভারতের অগ্নিযুগের বিপ্লবী তরুণদের কল্পনা করেছেন—যাঁরা বিশ্ব-মায়ের (ভারতমাতার) আসন নিজেদের বিপুল বাহুর ওপর তুলে নিয়েছেন এবং আন্দামান সেলুলার জেলের (‘সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বার’) লৌহকপাট ভেঙে ফেলেছেন।
৩. চণ্ডী, হৈমবতী ও পাগলি মায়ের দামাল ছেলে: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে কবি দেবী চণ্ডী বা হৈমবতীর (দেবী দুর্গার) অসুর দলনের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রণচণ্ডী দেশমাতৃকা এখানে ‘পাগলি মা’ এবং দেশের জন্য ফাঁসির মঞ্চে জীবন উৎসর্গকারী ভগৎ সিং, ক্ষুদিরামদের মতো নির্ভীক বিপ্লবীরাই হলেন সেই পাগলি মায়ের ‘দামাল ছেলে’।
৪. গড়ুর ও অসুর-রিপুর রথের চাকা: পরাধীনতার ‘মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে’ বন্দি ভারতবাসীকে জাগাতে কবি বিষ্ণুর বাহন পক্ষিরাজ ‘গড়ুর’-এর পাখার ঝাপটা এবং অসুর বিনাশকারী শ্রীকৃষ্ণ বা বিষ্ণুর (‘অসুর-রিপু’) রথের চাকার ঘর্ঘর রবের অনুষঙ্গ এনেছেন। এভাবেই পৌরাণিক দেবশক্তির অসুর বিনাশের কাহিনির আড়ালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের উচ্ছেদ করে স্বাধীন ভারত গঠনের অগ্নিমন্ত্রটি কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে।
প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক
মাধ্যমিক দশম শ্রেণি বাংলা ও সকল বিষয়ের সাজেশন এবং পিডিএফ বুক ডাউনলোড:
- মাধ্যমিক বাংলা পূর্ববর্তী অধ্যায়সমূহ: জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর | বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর | পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর | অদল বদল প্রশ্ন উত্তর | নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন উত্তর | অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর | আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর | আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর | অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অল-সাবজেক্ট পিডিএফ বুক স্টোর: WBBSE NOTE Books Library | WBCHSE & WBBSE PDF Store
- মাধ্যমিক দশম শ্রেণি মূল ক্যাটাগরি ও সাজেশন হাব: মাধ্যমিক বাংলা (Madhyamik Bengali) | মাধ্যমিক সাজেশন ২০২৭ (Madhyamik Suggestion)
ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Proloyollas Question Answer)
প্রশ্ন ১: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২)-র প্রথম কবিতা।
প্রশ্ন ২: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” পঙক্তিটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” পঙক্তিটি মোট ১৯ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: “দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর”—এখানে ‘দিগম্বর’ ও ‘শিশু-চাঁদের কর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে ‘দিগম্বর’ বলতে দেবাদিদেব মহাদেবকে (শিব) এবং ‘শিশু-চাঁদের কর’ বলতে মহাদেবের জটায় থাকা কাস্তের মতো বাঁকা দ্বিতীয়ার চাঁদের স্নিগ্ধ কিরণ বা আলোকে বোঝানো হয়েছে।





