WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক বাংলা | Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer PDF

Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer এবং নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ সাহিত্য নোটবুকে দশম শ্রেণির সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাগত। মানুষ ও প্রকৃতির চিরন্তন টানাপোড়েন এবং যন্ত্রসভ্যতার নির্মম চাকার নিচে এক নদীপ্রেমিক মানুষের মর্মান্তিক পরিণতি কীভাবে ফুটে উঠেছে—কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ ছোটোগল্পটি তার এক কালজয়ী নিদর্শন।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর — উৎস, চরিত্র ও একনজরে তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer Overview)
  2. ১. নদীর বিদ্রোহ গল্পের বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer)
  3. ২. নদীর বিদ্রোহ গল্পের ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)
  4. ১. প্রশ্ন: “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।”—নদেরচাঁদ কী কৈফিয়ত দিতে পারে এবং কেন তার এই ভালোবাসাকে ‘স্বাভাবিক’ বলা যায় না? (৩ নম্বর ১০০% কমন)
  5. ২. প্রশ্ন: “নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।”—কীসের জন্য এবং কেন নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করেছিল? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  6. ৩. প্রশ্ন: “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—নদীর বিদ্রোহের কী কারণ নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছিল এবং তখন তার মনে কী আশঙ্কা জেগেছিল? (৩ নম্বর ১০০% কমন)
  7. ৪. প্রশ্ন: “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”—কখন এবং কেন নদেরচাঁদের বড়ো ভয় করতে লাগল? (৩ নম্বর)
  8. ৩. নদীর বিদ্রোহ গল্পের ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer)
  9. ১. প্রশ্ন: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে নদেরচাঁদের নদীপ্রীতির পরিচয় দাও এবং গল্পের শেষে তার মর্মান্তিক পরিণতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)
  10. ২. প্রশ্ন: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। অথবা, মানুষের তৈরি বাঁধ ও ব্রিজের বিরুদ্ধে নদীর বিদ্রোহ কীভাবে গল্পের মূল সুর হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)
  11. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 
  12. ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমে ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’ গ্রন্থের শেষ গল্প হিসেবে ‘নদীর বিদ্রোহ’ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাসরুমে খাতা দেখার সময় প্রায়ই লক্ষ্য করি, ছাত্রছাত্রীরা নদেরচাঁদের বয়স (ত্রিশ বছর), কত দিন ধরে বৃষ্টি হয়েছিল (পাঁচ দিন), চিঠির পাতার সংখ্যা (পাঁচ পৃষ্ঠা) এবং শেষে কোন ট্রেনটি তাকে পিষে দিয়েছিল (৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার)—এই সূক্ষ্ম তথ্যগুলো গুলিয়ে ফেলে।

তাই আজকের এই মাধ্যমিক বাংলা নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন উত্তর ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন উত্তর গাইডে আমরা গল্পের উৎস, নদেরচাঁদের চরিত্র ও প্রতীকী ব্যঞ্জনা, বাছাই করা MCQ ও SAQ এবং ৩ ও ৫ নম্বরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের আদর্শ পয়েন্টভিত্তিক উত্তর সাজিয়ে দিয়েছি। মাধ্যমিকের সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ নোটবুক পেতে আমাদের WBBSE NOTE Books Library দেখে নিতে পারো।

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর — উৎস, চরিত্র ও একনজরে তথ্যসূত্র (Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer Overview)

আমাদের Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer অনুশীলন করার আগে নিচের টেবিল থেকে গল্পের খুঁটিনাটি তথ্যগুলো একনজরে দেখে নাও—এখান থেকেই মাধ্যমিক ও টেস্ট পরীক্ষার যাবতীয় শর্ট প্রশ্ন হুবহু কমন পাবে:

মূল আলোচ্য বিষয় নির্ধারিত পাঠ্য তথ্য ও বিশ্লেষণ (WBBSE Class 10 Nadir Bidroho — Manik Bandyopadhyay) পরীক্ষায় আসার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (Exam Key Points)
লেখক ও মূল গ্রন্থ (উৎস) কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬; পিতৃদত্ত আসল নাম: প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; বিখ্যাত উপন্যাস: পদ্মা নদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য) ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরীসৃপ’ (১৯৩৯ সালে প্রকাশিত) গল্পগ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় চরিত্র ও সংখ্যাবাচক তথ্য কেন্দ্রীয় চরিত্র: নদেরচাঁদ (বয়স: ৩০ বছর, পেশা: রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার)। একটানা ৫ দিন ধরে অবিরাম বর্ষণ হয়েছিল এবং নদেরচাঁদ ৪ বছর ধরে স্টেশনের কাছের নদীটিকে চিনত নদেরচাঁদের পকেটে স্ত্রীর কাছে লেখা ৫ পৃষ্ঠার চিঠি ছিল; সে ৪ ঘণ্টার ওপরে ব্রিজের ওপর বসে ছিল; এবং ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়।
গল্পের মূল ব্যঞ্জনা ও প্রতীক নদী ও জলস্রোত: অকৃত্রিম ও বাঁধনহারা প্রকৃতির প্রতীক। কংক্রিটের ব্রিজ, বাঁধ ও ৭ নম্বর ডাউন ট্রেন: আগ্রাসী যন্ত্রসভ্যতার প্রতীক যন্ত্রসভ্যতার কর্মচারী (স্টেশন মাস্টার) হয়েও প্রকৃতিকে ভালোবেসে প্রকৃতির পক্ষ নেওয়ায় যন্ত্রের হাতেই (ট্রেন) নদেরচাঁদের করুণ মৃত্যু ঘটে।

১. নদীর বিদ্রোহ গল্পের বাছাই করা MCQ ও এককথায় SAQ প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর — Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer)

১. প্রশ্ন: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির রচয়িতা কে, তাঁর আসল নাম কী এবং গল্পটি কোন মূল গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির রচয়িতা হলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (আসল নাম: প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং গল্পটি তাঁর বিখ্যাত ‘সরীসৃপ’ নামক গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. প্রশ্ন: গল্পের শুরুতে নদেরচাঁদ কাকে ডেকে কী জিজ্ঞাসা করেছিল এবং সে পেশায় কী ছিল?

উত্তর: গল্পের শুরুতে ৪টে ৪৫ মিনিটের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করিয়ে দিয়ে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ লাইনের পয়েন্টসম্যান বা কুলি নতুন ছোকরাটিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিল—“নদীতে জল কতটা বাড়ল রে?” নদেরচাঁদ পেশায় ছিল একজন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার।

৩. প্রশ্ন: স্টেশন থেকে নদীর ওপরকার ব্রিজের দূরত্ব কতটা ছিল এবং কত দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছিল?

উত্তর: স্টেশন থেকে নদীর ওপরকার ব্রিজের দূরত্ব ছিল মাত্র এক মাইল। আর একটানা পাঁচ দিন ধরে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই দিন বিকেলে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি থেমেছিল।

৪. প্রশ্ন: নদেরচাঁদের বয়স কত ছিল এবং কেন নদীকে এভাবে ভালোবাসার একটা কৈফিয়ত সে দিতে পারে?

উত্তর: নদেরচাঁদের বয়স ছিল ত্রিশ বছর। নদীকে অস্বাভাবিকভাবে ভালোবাসার কৈফিয়ত হিসেবে নদেরচাঁদ বলতে পারে যে—নদীর ধারেই তার জন্ম হয়েছে এবং নদীর কোলেই সে মানুষ হয়েছে, তাই ছোটোবেলা থেকেই নদীর প্রতি তার এক সহজাত টান গড়ে উঠেছে।

৫. প্রশ্ন: নদেরচাঁদের দেশের নদীটি কেমন ছিল এবং একবার নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে নদেরচাঁদ কী করেছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল অত্যন্ত ক্ষীণস্রোতা ও দুর্বল। একবার অনাবৃষ্টিতে সেই ক্ষীণস্রোতা নদীটি প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে বিবাহিত যুবক নদেরচাঁদ নদীটির অসুস্থতা দেখে ছেলেমানুষের মতো কেঁদে ফেলেছিল এবং অশ্রুভেজা চোখে নদীর কাদা মাখানো তলাটির দিকে তাকিয়ে ছিল।

৬. প্রশ্ন: স্টেশনের কাছের নদীটিকে নদেরচাঁদ কত বছর ধরে চেনে এবং ব্রিজের কোথায় সে বসেছিল?

উত্তর: স্টেশনের কাছের এই গভীর ও চওড়া নদীটিকে নদেরচাঁদ গত চার বছর ধরে চেনে। সে ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি ও সিমেন্ট দিয়ে গাঁথা ধারকস্তম্ভের (Pillar) শেষ প্রান্তে বসে নদীকে দেখছিল।

৭. প্রশ্ন: নদেরচাঁদ কেন গর্ব অনুভব করেছিল?

উত্তর: আমাদের Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer প্রস্তুতিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নদীর ওপর তৈরি নতুন রঙ-করা ব্রিজটির দিকে তাকিয়ে এবং মানুষের তৈরি এই কংক্রিটের ব্রিজ ও বাঁধের শক্তির কথা ভেবে একজন রেলকর্মী তথা আধুনিক সভ্যতার মানুষ হিসেবে নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করেছিল।

৮. প্রশ্ন: নদেরচাঁদের পকেটে কীসের চিঠি ছিল এবং সে চিঠিটি নিয়ে কী করেছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদের পকেটে তার স্ত্রীর কাছে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একখানা বিরহবেদনাপূর্ণ পুরোনো চিঠি ছিল। সে পকেট থেকে চিঠিখানা বের করে এক-একটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে নদীর উন্মত্ত জলস্রোতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল।

৯. প্রশ্ন: নদীর বিদ্রোহের কী কারণ নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছিল?

উত্তর: ব্রিজের নিচে উদ্দাম জলস্রোতের আবর্ত ও গর্জন শুনে নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছিল যে—মানুষ কংক্রিটের ব্রিজ ও দুপাশের বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে রুদ্ধ করে তাকে বন্দি করতে চেয়েছে; এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই নদী আজ খেপে গিয়ে বিদ্রোহ করেছে।

১০. প্রশ্ন: ব্রিজ থেকে ফেরার পথে নদেরচাঁদের কী পরিণতি হয়েছিল?

উত্তর: ব্রিজের ওপর প্রায় চার ঘণ্টা কাটিয়ে অন্ধকারে যখন নদেরচাঁদ আনমনে রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফিরছিল, তখন পেছন থেকে ছুটে আসা ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ত্রিশ বছর বয়সি নদেরচাঁদকে নির্মমভাবে পিষে দিয়ে চলে যায়।

২. নদীর বিদ্রোহ গল্পের ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর (মাধ্যমিক বাংলা নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন উত্তর — ৩ নম্বর মান)

১. প্রশ্ন: “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।”—নদেরচাঁদ কী কৈফিয়ত দিতে পারে এবং কেন তার এই ভালোবাসাকে ‘স্বাভাবিক’ বলা যায় না? (৩ নম্বর ১০০% কমন)

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ নদী না দেখে একদণ্ডও থাকতে পারত না। নদীকে এভাবে পাগলের মতো ভালোবাসার কৈফিয়ত হিসেবে সে বলতে পারে যে, নদীর ধারেই তার জন্ম হয়েছে এবং নদীর তীরে খেলতে খেলতেই সে বড়ো হয়ে উঠেছে।

ভালোবাসা স্বাভাবিক না হওয়ার কারণ: নদীর ধারে তো লক্ষ লক্ষ মানুষই জন্মায় ও বড়ো হয়, কিন্তু ত্রিশ বছর বয়সি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত স্টেশন মাস্টারের মতো কেউ নদী না দেখলে ছটফট করে না বা নদীর জল শুকিয়ে গেলে শিশুর মতো কাঁদে না। তাই লেখকের মতে, নদেরচাঁদের এই কৈফিয়ত সংগত হলেও তার নদীপ্রীতি আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ছিল না—নদী ছিল তার কাছে এক জীবন্ত সত্তা ও খেলার সাথী।

২. প্রশ্ন: “নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।”—কীসের জন্য এবং কেন নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করেছিল? (৩ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর: আমাদের নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর সংকলনে এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টেশনের কাছে নদীর ওপরকার কংক্রিটের ব্রিজটির মাঝামাঝি ধারকস্তম্ভের প্রান্তে বসে নতুন রঙ-করা সুদৃঢ় ব্রিজটির দিকে তাকিয়ে নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করেছিল।

গর্ব অনুভব করার কারণ: পেশায় স্টেশন মাস্টার হওয়ায় নদেরচাঁদ প্রতিদিন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্রেন পারাপার করাত। পাঁচ দিনের অবিরাম বর্ষণে নদী যখন ফুলে-ফেঁপে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, তখনো ইট-সুরকি-সিমেন্ট ও লোহার তৈরি সেই ব্রিজটি নদীর প্রচণ্ড জলের চাপ অগ্রাহ্য করে অবিচল দাঁড়িয়ে আছে। প্রকৃতির এই রুদ্র শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রযুক্তি ও যন্ত্রসভ্যতার এই জয় দেখেই সভ্য সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নদেরচাঁদের মনে সাময়িক গর্ব জেগেছিল।

৩. প্রশ্ন: “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—নদীর বিদ্রোহের কী কারণ নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছিল এবং তখন তার মনে কী আশঙ্কা জেগেছিল? (৩ নম্বর ১০০% কমন)

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে ব্রিজের ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে পায়ের নিচে পঙ্কিল জলস্রোতের প্রবল ঘূর্ণি ও ফেনার শব্দ শুনে নদেরচাঁদ নদীর বিদ্রোহের আসল কারণটি অনুভব করতে পেরেছিল।

বিদ্রোহের কারণ ও আশঙ্কা: নদেরচাঁদ বুঝতে পারে যে, মানুষ নিজের সুবিধার জন্য নদীর দুই পাড়ে উঁচু মাটির বাঁধ দিয়ে এবং বুকের ওপর কংক্রিটের ব্রিজের স্তম্ভ বসিয়ে চিরকালের স্বাধীন ও স্রোতস্বিনী নদীকে শৃঙ্খলিত করেছে। আজ পাঁচ দিনের বর্ষণে শক্তি সঞ্চয় করে নদী তার সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে! তখন নদেরচাঁদের মনে আশঙ্কা জাগে যে—নদী কি কেবল এই ব্রিজ আর বাঁধ ভেঙে ক্ষান্ত হবে, নাকি তার তীরে মানুষের হাতে গড়া স্টেশনের ঘরবাড়িগুলোকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাবে!

৪. প্রশ্ন: “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”—কখন এবং কেন নদেরচাঁদের বড়ো ভয় করতে লাগল? (৩ নম্বর)

উত্তর: পাঁচ দিনের অবিরাম বৃষ্টির পর বিকেলে ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নদেরচাঁদ যখন নদীর পরিপূর্ণ ও উন্মত্ত জলস্রোতের গর্জন শুনছিল এবং স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠি এক-এক করে ছিঁড়ে জলের ঘূর্ণিতে ভাসিয়ে দিচ্ছিল—তখন আবার মুষলধারে অন্ধকার করে বৃষ্টি নামলে নদেরচাঁদের বড়ো ভয় করতে লাগল।

ভয় পাওয়ার কারণ: চারপাশে ঘন অন্ধকার নেমে আসায় এবং বৃষ্টির শব্দের সাথে নদীর গর্জন মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ায় চেনা নদীটিকে নদেরচাঁদের কাছে এক অচেনা ও রুদ্র দানবী বলে মনে হচ্ছিল। ব্রিজের ধারকস্তম্ভে জলস্রোতের প্রচণ্ড আঘাতে সারা ব্রিজটা যেন থরথর করে কাঁপছিল। নদেরচাঁদের মনে হচ্ছিল এই বুঝি উন্মত্ত নদী ব্রিজটাকে ভেঙে চুরমার করে তাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাবে—প্রকৃতির এই সর্বগ্রাসী রোষের সামনে নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করেই তার বুক ভয়ে কেঁপে উঠেছিল।

৩. নদীর বিদ্রোহ গল্পের ৫ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer)

১. প্রশ্ন: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে নদেরচাঁদের নদীপ্রীতির পরিচয় দাও এবং গল্পের শেষে তার মর্মান্তিক পরিণতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর — মাধ্যমিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)

উত্তর:

১. আজীবনের নদীপ্রেমিক নদেরচাঁদ: কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ত্রিশ বছর বয়সি স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ। তার নামের মধ্যেই নদীর স্পর্শ জড়িয়ে আছে। নদীর তীরে জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণে শৈশব থেকেই নদীর সাথে তার গড়ে উঠেছিল এক আত্মিক সখ্য। নদীকে সে কোনো জড় জলধারা বলে ভাবত না, ভাবত এক জীবন্ত আত্মীয় ও খেলার সাথী হিসেবে।

২. দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীর জন্য কান্না: আমাদের Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer আলোচনায় দেখা যায়, নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল অত্যন্ত ক্ষীণস্রোতা। একবার অনাবৃষ্টির বছর সেই নদীটি যখন প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও নদেরচাঁদ নদীর সেই মুমূর্ষু দশা দেখে কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত পরমাত্মীয়ের শোকে ছেলেমানুষের মতো কেঁদে ফেলেছিল।

৩. স্টেশনের নদীর সাথে সখ্য ও প্রকৃতির পক্ষ গ্রহণ: কর্মস্থলের স্টেশনের এক মাইল দূরের গভীর নদীটিকেও চার বছরে নদেরচাঁদ ভালোবেসে ফেলেছিল। টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীকে দেখতে গিয়ে সে প্রথমে মানুষের তৈরি কংক্রিটের ব্রিজের জন্য গর্ব অনুভব করলেও, শীঘ্রই নদীর রুদ্র গর্জনের ভাষা বুঝতে পারে। সে উপলব্ধি করে যে মানুষের তৈরি বাঁধ ও ব্রিজ নদীর স্বাভাবিক স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়েছে। তাই সে প্রশ্ন তোলে—“কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?”

৪. যন্ত্রসভ্যতার হাতে মর্মান্তিক পরিণতি: ব্রিজের ওপর চার ঘণ্টা কাটিয়ে অন্ধকারে রেললাইন ধরে ফেরার সময় নদেরচাঁদের মন ছিল নদীর বিদ্রোহের ভাবনায় বিভোর। আর তখনই পেছন থেকে ছুটে আসা ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। আসলে রেলের স্টেশন মাস্টার হয়েও নদেরচাঁদ যন্ত্রসভ্যতার বিরুদ্ধে গিয়ে প্রকৃতির (নদীর) পক্ষ নিয়েছিল; তাই নিষ্ঠুর যন্ত্রসভ্যতার প্রতীক লৌহদানব ট্রেন যেন তার এই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ক্ষমা না করে তাকে চিরতরে পিষে মেরে ফেলল!

২. প্রশ্ন: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। অথবা, মানুষের তৈরি বাঁধ ও ব্রিজের বিরুদ্ধে নদীর বিদ্রোহ কীভাবে গল্পের মূল সুর হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর নিশ্চিত কমন)

উত্তর:

১. ব্যঞ্জনামূলক ও প্রতীকী নামকরণ: সাহিত্যে ছোটোগল্পের নামকরণ তখনই সার্থক হয় যখন তা গল্পের বাহ্যিক ঘটনার পাশাপাশি লেখকের গভীর জীবনদর্শনকেও প্রকাশ করে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির নামকরণ একদিকে যেমন বর্ষার প্লাবনে নদীর বাঁধভাঙা রুদ্র রূপকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে তেমনি যন্ত্রসভ্যতার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রকৃতির চিরন্তন বিদ্রোহকেও ব্যঞ্জিত করে।

২. শৃঙ্খলিত নদীর মুক্তিপ্রয়াস: নদী প্রকৃতির এক স্বাধীন ও গতিশীল সৃষ্টি। কিন্তু আধুনিক মানুষ নিজের যাতায়াত ও সুবিধার জন্য নদীর দুই পাড়ে উঁচু বাঁধ দিয়ে এবং বুকের ওপর কংক্রিটের ব্রিজের ধারকস্তম্ভ বসিয়ে তার অবাধ গতিকে রুদ্ধ করেছে। শান্ত নদী এতদিন নীরবে এই অত্যাচার সহ্য করলেও টানা পাঁচ দিনের প্রবল বর্ষণে সে ফুলে-ফেঁপে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে।

৩. নদেরচাঁদের চেতনায় নদীর বিদ্রোহ: ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নদেরচাঁদ যখন দেখে যে পঙ্কিল জলস্রোত উন্মত্ত আক্রোশে ব্রিজের থামে আছড়ে পড়ছে এবং ফেনার ঘূর্ণি তুলে গর্জন করছে, তখন তার মনে হয় নদী যেন মানুষের হাতে পরানো এই কংক্রিটের শিকল ভেঙে ফেলতে চাইছে। নদীর এই রুদ্র আক্রোশকেই লেখক ‘নদীর বিদ্রোহ’ বলে অভিহিত করেছেন।

৪. নদেরচাঁদের মানসিক বিদ্রোহ ও নামকরণের সার্থকতা: গল্পের গভীরতর স্তরে দেখা যায়, নদীর এই বিদ্রোহ সঞ্চারিত হয় নদীপ্রেমিক স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদের মনেও। সে নিজের পেশাগত গর্ব ভুলে নদীর স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ায় এবং ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। যদিও শেষে ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে নদেরচাঁদের মৃত্যু ঘটে, তবুও প্রকৃতি ও মানবমনের যুগ্ম বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে ‘নদীর বিদ্রোহ’ নামকরণটি সর্বাংশে সার্থক ও অনন্য।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 

মাধ্যমিক দশম শ্রেণি বাংলা ও সকল বিষয়ের সাজেশন এবং পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সর্বাধিক সার্চ করা প্রশ্নোত্তর (FAQs — Class 10 Bengali Nadir Bidroho Question Answer)

প্রশ্ন ১: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরীসৃপ’ (১৯৩৯) গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ২: নদেরচাঁদের বয়স কত ছিল এবং তার পকেটে থাকা চিঠিটি কত পৃষ্ঠার ছিল?

উত্তর: স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদের বয়স ছিল ত্রিশ বছর এবং তার পকেটে স্ত্রীর কাছে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একটি চিঠি ছিল।

প্রশ্ন ৩: কোন ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে গিয়েছিল?

উত্তর: অন্ধকারে ব্রিজ থেকে স্টেশনে ফেরার পথে ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে গিয়েছিল।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (Debashis Mukherjee) ✓
👨🏫 ইতিহাস শিক্ষক (History) • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১৪+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (Debashis Mukherjee)
🎓 M.A. (History), B.Ed., WBSET Qualified
দেবাশিস মুখোপাধ্যায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার) ইতিহাসের একজন প্রবীণ শিক্ষক। ১ নম্বরের MCQ/SAQ থেকে শুরু করে ৪ ও ৮ নম্বরের বড় প্রশ্নের পয়েন্ট-ভিত্তিক উত্তর তৈরিতে তিনি পারদর্শী।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!