WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার বাংলা সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Bengali Semester 4 Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (হলুদ পোড়া, হারুন সালেমের মাসি, ডাকঘর ও রচনা)

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশ শ্রেণির (Class 12 / HS) চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা হলো ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ৪র্থ সেমিস্টার (Semester 4 — ৪০ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক বা SAQ ও LAQ পরীক্ষা)। সংসদের নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আমাদের এই উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার বাংলা সাজেশন (দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা সম্পূর্ণ সাজেশন ও WBCHSE Class 12 Bengali Semester 4 Suggestion PDF) আর্টিকেলে আমরা নতুন পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়—গল্প ‘হলুদ পোড়া’ ও ‘হারুন সালেমের মাসি’, কবিতা ‘প্রার্থনা’, ‘তিমির হননের গান’ ও ‘কেন এল না’, নাটক ‘নানা রঙের দিন’, পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ ‘ডাকঘর’, বাঙালির চিত্রকলা ও চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং প্রবন্ধ রচনা-র সম্পূর্ণ পয়েন্ট-ভিত্তিক আদর্শ উত্তর সাজিয়ে দিয়েছি।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার বাংলা নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন (WBCHSE Class 12 Semester 4 Bengali Syllabus & Blueprint)
  2. ১. গল্প: ‘হলুদ পোড়া’ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) ও ‘হারুন সালেমের মাসি’ (মহাশ্বেতা দেবী) — বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর
  3. প্রশ্ন ১: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো অথবা গ্রামীণ কুসংস্কার ও ভয়ের মনস্তত্ত্ব কীভাবে এই গল্পে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর)
  4. প্রশ্ন ২: মহাশ্বেতা দেবীর ‘হারুন সালেমের মাসি’ গল্পে দাঙ্গা ও দেশভাগের ক্ষত অতিক্রম করে কীভাবে মানবিক মাতৃত্বের জয়গান ঘোষিত হয়েছে তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর)
  5. ২. কবিতা: ‘প্রার্থনা’ (রবীন্দ্রনাথ), ‘তিমির হননের গান’ (জীবনানন্দ) ও ‘কেন এল না’ (সুভাষ মুখোপাধ্যায়) — বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর
  6. প্রশ্ন ৩: জীবনানন্দ দাশের ‘তিমির হননের গান’ কবিতায় ‘তিমির’ শব্দের অর্থ কী? কবি কীভাবে অন্ধকার বিনাশ করে সূর্য-সৌরভের বা আলোর উত্তরণের গান গেয়েছেন তা বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর)
  7. প্রশ্ন ৪: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল ভাববস্তু এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘কেন এল না’ কবিতায় কবির মানবিক উদ্বেগের স্বরূপ আলোচনা করো। (৫ নম্বর)
  8. ৩. নাটক: ‘নানা রঙের দিন’ (অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়) ও পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ: ‘ডাকঘর’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) — বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর
  9. প্রশ্ন ৫: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল চরিত্রটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। অমল কেন রাজার চিঠির জন্য অপেক্ষা করে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত রাজার কবিরাজ এসে কীভাবে তার মুক্তি ঘটান? (৫ নম্বর)
  10. প্রশ্ন ৬: ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ও কালীনাথ সেনের চরিত্র দুটির তুলনামূলক আলোচনা করো। (৫ নম্বর)
  11. ৪. বাঙালির চিত্রকলা ও চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং প্রবন্ধ রচনা (১৫ নম্বর নিশ্চিত)
  12. প্রশ্ন ৭: বাংলা চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট’ (নব্য বঙ্গীয় চিত্ররীতি), গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জামিনী রায়ের পটচিত্র রীতির অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫ নম্বর)
  13. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
  14. উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার বাংলা সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

চতুর্থ সেমিস্টারের সম্পূর্ণ বাংলা নোটবুক পিডিএফ সংগ্রহ করতে আমাদের বুক স্টোর দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের বাংলা নোট ও সাজেশন PDF এবং Semester 4 Bengali PDF Book ভিজিট করতে পারো।

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার বাংলা নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন (WBCHSE Class 12 Semester 4 Bengali Syllabus & Blueprint)

দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টারে (পূর্ণমান: ৪০, সময়: ২ ঘণ্টা) কোন কোন অধ্যায় পাঠ্য এবং কোন অংশ থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসবে, তার অফিশিয়াল ছক নিচের টেবিলে দেখে নাও:

পাঠ্য বিভাগ (Syllabus Unit) নির্ধারিত পাঠ্য রচনা ও লেখক (Prescribed Texts & Authors — Semester 4) প্রশ্নের ধরন (SAQ & Descriptive LAQ) নির্ধারিত নম্বর
১. গল্প (Short Stories) ১. হলুদ পোড়া — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ; ২. হারুন সালেমের মাসি — মহাশ্বেতা দেবী সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন (২ ও ৫ নম্বর) ৭–১০ নম্বর
২. কবিতা (Poems) ১. প্রার্থনা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ; ২. তিমির হননের গান — জীবনানন্দ দাশ ; ৩. কেন এল না — সুভাষ মুখোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন (২ ও ৫ নম্বর) ৭–৯ নম্বর
৩. নাটক (One-Act Play) নানা রঙের দিন — অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন (৫ নম্বর) ৫–৬ নম্বর
৪. পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ ডাকঘর — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্র ও তাৎপর্যমূলক রচনাধর্মী প্রশ্ন ৫–৮ নম্বর
৫. বাংলা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস ১. বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাস ; ২. বাঙালির চলচ্চিত্রের ইতিহাস ১টি রচনাধর্মী প্রশ্ন (২টির মধ্যে ১টি) ৫ নম্বর
৬. প্রবন্ধ রচনা (Essay Writing) ১. সূত্রনির্ভর রচনা (জীবনীমূলক) ; ২. প্রস্তাবনা বা প্রদত্ত অনুচ্ছেদ ভিত্তিক রচনা যেকোনো ১টি প্রবন্ধ রচনা ১০ নম্বর
সর্বমোট (Total Semester 4) বর্ণনামূলক লিখিত পরীক্ষা (Descriptive SAQ + LAQ) পূর্ণমান: ৪০ নম্বর ৪০ নম্বর

১. গল্প: ‘হলুদ পোড়া’ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) ও ‘হারুন সালেমের মাসি’ (মহাশ্বেতা দেবী) — বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর

প্রশ্ন ১: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো অথবা গ্রামীণ কুসংস্কার ও ভয়ের মনস্তত্ত্ব কীভাবে এই গল্পে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস ও প্রেক্ষাপট: বাস্তববাদী কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে গ্রামীণ সমাজের অন্ধ কুসংস্কার, অশরীরী বা ভৌতিক আতঙ্ক এবং মানুষের অবচেতন মনের ভয়ের মনস্তত্ত্ব অসাধারণ শিল্পনৈপুণ্যে চিত্রিত হয়েছে।
  • ‘হলুদ পোড়া’ সংস্কারের স্বরূপ: গ্রামবাংলায় প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কাউকে ভূতে বা পেত্নিতে ধরলে কাঁচা হলুদ আগুনে পুড়িয়ে তার ঝাঁঝালো ধোঁয়া রোগীর নাকে দিলে ভূত ছেড়ে পালিয়ে যায়। গল্পে কুঞ্জ ও গ্রামের মানুষদের মধ্যে এই সংস্কারের প্রবল প্রভাব দেখা যায়।
  • শুভ্রা ও ধীরেনের যুক্তিবাদ বনাম কুসংস্কার: শহুরে শিক্ষিত যুবক ধীরেন প্রথমে গ্রামের এই ভূত-প্রেতের বিশ্বাসকে হাস্যকর কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিতে চায়। কিন্তু গ্রামের গুমোট পরিবেশ, নিস্তব্ধ অন্ধকার এবং গ্রামবাসীদের সামগ্রিক আতঙ্ক কীভাবে শিক্ষিত মানুষের যুক্তিবাদী মনকেও ভেতর থেকে দুর্বল ও ভীত করে তোলে, লেখক তা মনস্তাত্ত্বিক সূক্ষ্মতায় দেখিয়েছেন।
  • নামকরণের সার্থকতা: এখানে ‘হলুদ পোড়া’ কেবল একটি লৌকিক টোটকা নয়, বরং তা গ্রামীণ মানুষের অসহায়তা, অন্ধবিশ্বাস এবং আদিম ভয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাই ব্যঞ্জনাময় ও প্রতীকী অর্থে গল্পটির নামকরণ সম্পূর্ণ সার্থক।

প্রশ্ন ২: মহাশ্বেতা দেবীর ‘হারুন সালেমের মাসি’ গল্পে দাঙ্গা ও দেশভাগের ক্ষত অতিক্রম করে কীভাবে মানবিক মাতৃত্বের জয়গান ঘোষিত হয়েছে তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস ও মূল ভাবনা: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী রচিত ‘হারুন সালেমের মাসি’ গল্পে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশভাগের রক্তাক্ত প্রেক্ষাপটে ধর্ম-বর্ণের সমস্ত প্রাচীর ভেঙে এক চিরন্তন মাতৃহৃদয়ের ছবি ফুটে উঠেছে।
  • গৌরী মাসির ট্র্যাজেডি ও নিঃসঙ্গতা: গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বৃদ্ধা গৌরী মাসির নিজের সন্তান দাঙ্গায় বা সময়ের নিষ্ঠুরতায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু সন্তানহারা এই হিন্দু বৃদ্ধা তাঁর হৃদয়ের সমস্ত স্নেহ উজাড় করে দিয়েছেন দরিদ্র মুসলমান যুবক হারুন সালেমের প্রতি।
  • ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মাতৃত্ব: সমাজ ও রাষ্ট্র যখন মানুষকে ‘হিন্দু’ ও ‘মুসলমান’ এই দুই ভাগে বিভক্ত করে কাঁটাতার ও ঘৃণার দেওয়াল তুলেছে, তখন গৌরী মাসির কাছে হারুন তাঁর নিজের নাড়িছেঁড়া ধনের চেয়েও আপন। হারুনের আপদে-বিপদে, অনাহারে ও অসুস্থতায় মাসি বুক দিয়ে তাকে আগলে রাখেন।
  • উপসংহার: মহাশ্বেতা দেবী দেখিয়েছেন যে, দাঙ্গা বা রাজনীতি মানুষের বাহ্যিক পরিচয় বদলে দিতে পারে, কিন্তু ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট এবং মায়ের নিঃস্বার্থ বাৎসল্য স্নেহের কোনো ধর্ম হয় না।

২. কবিতা: ‘প্রার্থনা’ (রবীন্দ্রনাথ), ‘তিমির হননের গান’ (জীবনানন্দ) ও ‘কেন এল না’ (সুভাষ মুখোপাধ্যায়) — বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ৩: জীবনানন্দ দাশের ‘তিমির হননের গান’ কবিতায় ‘তিমির’ শব্দের অর্থ কী? কবি কীভাবে অন্ধকার বিনাশ করে সূর্য-সৌরভের বা আলোর উত্তরণের গান গেয়েছেন তা বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশের ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘তিমির হননের গান’ একটি গভীর ইতিহাসচেতনা ও আশাবাদী জীবনদর্শনের কবিতা।
  • ‘তিমির’ ও ‘তিমির হনন’-এর তাৎপর্য: ‘তিমির’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ অন্ধকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কেই কবি এখানে ‘তিমির’ বলেছেন। আর এই সর্বগ্রাসী অন্ধকারকে বিনাশ করে মানবসভ্যতাকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রামই হলো ‘তিমির হননের গান’।
  • নৈরাশ্য থেকে উত্তরণের অঙ্গীকার: কবি দেখেছেন কীভাবে সভ্যতার সংকটে মানুষের মনে হতাশা ও ক্লান্তি নেমে এসেছে। কিন্তু কবি কেবল ধ্বংসের ছবি এঁকেই থেমে থাকেননি; তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের শুভবুদ্ধি ও যৌথ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই একদিন এই অন্ধকারের বিনাশ ঘটবে এবং মানবসমাজে নতুন ভোরের সূর্য উদিত হবে।

প্রশ্ন ৪: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল ভাববস্তু এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘কেন এল না’ কবিতায় কবির মানবিক উদ্বেগের স্বরূপ আলোচনা করো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল ভাববস্তু: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি পরম করুণাময় ঈশ্বরের কাছে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করেননি, বরং বিপদে যেন তিনি ভয় না পান এবং দুঃখের তাপে যেন তাঁর চিত্ত অবিচল থাকে—সেই আত্মশক্তি ও সাহসের প্রার্থনা করেছেন। সংসারের লোভ, মোহ ও দৈন্যের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও মঙ্গলের পথে অবিচল থাকাই কবির একমাত্র কামনা।
  • ‘কেন এল না’ কবিতায় মানবিক উদ্বেগ: পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘কেন এল না’ কবিতায় সমকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, মিছিল, গুলিবর্ষণ এবং ঘরে না ফেরা এক কিশোর বা প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষারত পরিবারের তীব্র উৎকণ্ঠা ফুটে উঠেছে। দেওয়ালের লেখা, রাস্তার স্লোগান এবং সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হলেও প্রিয় মানুষটির ঘরে না ফেরার যে যন্ত্রণা, তা আসলে প্রতিটি সংগ্রামী মা ও মানুষের চিরন্তন প্রতীক্ষার প্রতীক।

৩. নাটক: ‘নানা রঙের দিন’ (অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়) ও পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ: ‘ডাকঘর’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) — বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ৫: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল চরিত্রটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। অমল কেন রাজার চিঠির জন্য অপেক্ষা করে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত রাজার কবিরাজ এসে কীভাবে তার মুক্তি ঘটান? (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস ও অমল চরিত্রের প্রতীকী রূপ: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাংকেতিক নাটক ‘ডাকঘর’ (১৯১২)-এর প্রাণকেন্দ্র হলো বালক অমল। মাধব দত্তের পোষ্যপুত্র অমল আসলে বদ্ধ সংসারের খাঁচায় বন্দি মানবাত্মার প্রতীক, যে অসীম প্রকৃতি ও মুক্তির জন্য ব্যাকুল।
  • বদ্ধ ঘরের জানলা ও বাইরের জগতের ডাক: কবিরাজের নির্দেশে অসুস্থ অমলকে ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। কিন্তু রাস্তার ধারের ছোটো জানলাটির পাশে বসে অমল দইওয়ালা, প্রহরী, পান্থ, ছেলেদের দল এবং মালিনীর মেয়ে সুধার সাথে কথা বলে। দূরের পাহাড়, ঝরনা ও অজানা দেশে চলে যাওয়ার অদম্য কৌতূহল তার মনকে ভরিয়ে রাখে।
  • রাজার ডাকঘর ও রাজার চিঠির প্রতীক্ষা: প্রহরীর মুখে বাড়ির সামনের নতুন ‘রাজার ডাকঘর’-এর কথা শুনে অমলের মনে বিশ্বাস জন্মায় যে, স্বয়ং রাজা তার নাম করে চিঠি পাঠাবেন এবং অমল বড়ো হয়ে রাজার ‘হরকরা’ হয়ে দেশে দেশে রাজার বার্তা পৌঁছে দেবে। এখানে ‘রাজা’ হলেন পরমাত্মা বা ঈশ্বরের প্রতীক এবং ‘রাজার চিঠি’ হলো পরম মুক্তির আহ্বান।
  • রাজকবিরাজের আগমন ও অমলের মহাপ্রস্থান: নাটকের শেষে মোড়লের বিদ্রূপ সত্ত্বেও স্বয়ং রাজার কবিরাজ এসে ঘরের সব বন্ধ দরজা-জানলা খুলে দেন, প্রদীপ নিভিয়ে তারা-ভরা আকাশের আলো ঘরে প্রবেশ করতে দেন। অমলের সমস্ত শারীরিক যন্ত্রণা শান্ত হয়ে সে গভীর ঘুমে (মৃত্যুরূপ মহামুক্তিতে) তলিয়ে যায়, আর সুধা তার শিয়রে রেখে যায় আশ্বাসবাণী—“বোলো যে সুধা তোমাকে ভোলেনি।”

প্রশ্ন ৬: ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ও কালীনাথ সেনের চরিত্র দুটির তুলনামূলক আলোচনা করো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়: ৬৮ বছর বয়সি বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত হলেন নাট্যশিল্পের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক ট্র্যাজিক শিল্পী। যৌবনে পুলিশ ইন্সপেক্টরের চাকরি ও ধনী পরিবারের মেয়ের প্রেম ত্যাগ করে তিনি মঞ্চকে ভালোবেসেছিলেন। কিন্তু বার্ধক্যে পৌঁছে দর্শকদের স্বার্থপরতা ও নিঃসঙ্গতা তাঁকে তিক্ত করলেও, শেষ মুহূর্তে ‘সাজাহান’ নাটকের ঔরঙ্গজেবের সংলাপ বলার পর তিনি উপলব্ধি করেন—প্রতিভাবান অভিনেতার কোনো বার্ধক্য বা মৃত্যু নেই।
  • কালীনাথ সেন: প্রম্পটার কালীনাথ সেন হলেন থিয়েটারের নেপথ্যচারী নিঃস্ব মানুষদের প্রতিনিধি। তাঁর মাথার ওপরে ছাদ নেই, তাই চুরি করে গ্রিনরুমে ঘুমান। কিন্তু রজনীকান্তের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও মমতা অকৃত্রিম। তিনিই হতাশ রজনীকান্তকে মনে করিয়ে দেন যে, দর্শক আজও রজনীবাবুর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়।

৪. বাঙালির চিত্রকলা ও চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং প্রবন্ধ রচনা (১৫ নম্বর নিশ্চিত)

প্রশ্ন ৭: বাংলা চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট’ (নব্য বঙ্গীয় চিত্ররীতি), গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জামিনী রায়ের পটচিত্র রীতির অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • ১. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নব্য বঙ্গীয় চিত্ররীতি: বিংশ শতকের সূচনায় ইউরোপীয় তেলরঙের অন্ধ অনুকরণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় মুঘল, রাজপুত ও অজন্তা রীতির সাথে জাপানি ওয়াশ (Wash) পদ্ধতির সংমিশ্রণে ‘নব্য বঙ্গীয় চিত্ররীতি’ (Bengal School of Art) গড়ে তোলেন। তাঁর আঁকা ‘ভারতমাতা’ (১৯০৫), ‘শাহজাহানের অন্তিম কাল’ ও ‘কচ ও দেবযানী’ ভারতীয় শিল্পকলার অমূল্য সম্পদ।
  • ২. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর: অবনীন্দ্রনাথের অগ্রজ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় চিত্রকলায় সর্বপ্রথম ইউরোপীয় ‘কিউবিজম’ (Cubism) বা ঘনকবাদী জ্যামিতিক রীতি এবং আলো-ছায়ার জাদুকরী প্রয়োগ ঘটান। পাশাপাশি তাঁর ব্যঙ্গচিত্রগুলি (‘বিরূপ বজ্র’, ‘অদ্ভুত লোক’) ঔপনিবেশিক সমাজের মুখোশ খুলে দিয়েছিল।
  • ৩. জামিনী রায় ও লোকায়ত পটচিত্র: জামিনী রায় পাশ্চাত্য প্রতিকৃতি অঙ্কন ছেড়ে বাংলার নিজস্ব লোকশিল্প—কালীঘাটের পটচিত্র, বাঁকুড়ার টেরাকোটা ও আলপনা রীতিকে আধুনিক চিত্রকলায় প্রতিষ্ঠিত করেন। ভুসোকালি, খড়িমাটি, গেরিমাটি ও হরিতালের মতো দেশজ প্রাকৃতিক রং এবং মোটা রেখার টানে আঁকা তাঁর ‘মা ও শিশু’, ‘সাঁওতাল রমনী’ ও ‘রামায়ণ’ চিত্রমালা বিশ্বখ্যাত।

(দ্রষ্টব্য: বাঙালির চলচ্চিত্রের ইতিহাসে হীরালাল সেন, নিউ থিয়েটার্স, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক ও মৃণাল সেনের অবদান এবং ৪র্থ সেমিস্টারের সূত্রনির্ভর জীবনী ও প্রদত্ত অনুচ্ছেদ ভিত্তিক প্রবন্ধ রচনার সম্পূর্ণ উত্তর আমাদের পিডিএফ নোটবুকে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে।)

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)

উচ্চমাধ্যমিক ৩য় ও ৪র্থ সেমিস্টার সমস্ত বিষয়ের সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার বাংলা সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষায় মোট কত নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে? উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষায় মোট ৪০ নম্বরের বর্ণনামূলক লিখিত পরীক্ষা (SAQ ও LAQ) হবে এবং সময় থাকবে ২ ঘণ্টা।

প্রশ্ন ২: ৪র্থ সেমিস্টারের বাংলা সিলেবাসে পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে কোন বইটি রয়েছে? উত্তর: ৪র্থ সেমিস্টারের নতুন সিলেবাসে পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সাংকেতিক নাটক ‘ডাকঘর’ পাঠ্য রয়েছে (যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি নম্বর বরাদ্দ আছে)।

প্রশ্ন ৩: ৪র্থ সেমিস্টারে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস থেকে কোন দুটি অধ্যায় পাঠ্য? উত্তর: ৪র্থ সেমিস্টারে শুধুমাত্র দুটি অধ্যায় পাঠ্য—(১) বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাস এবং (২) বাঙালির চলচ্চিত্রের ইতিহাস। এই দুটি অধ্যায়ের মধ্যে যেকোনো একটি ভালো করে পড়লেই ৫ নম্বরের ১টি প্রশ্ন ১০০% কমন পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন ৪: ৪র্থ সেমিস্টারের গল্প ও কবিতা অংশে কোন কোন রচনা রয়েছে? উত্তর: গল্প অংশে রয়েছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ ও মহাশ্বেতা দেবীর ‘হারুন সালেমের মাসি’; এবং কবিতা অংশে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’, জীবনানন্দ দাশের ‘তিমির হননের গান’ ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘কেন এল না’।

প্রশ্ন ৫: উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেমিস্টার বাংলার সম্পূর্ণ উত্তরসহ পিডিএফ বই কোথায় পাওয়া যাবে? উত্তর: আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল wbbsenote.in, সেমিস্টার স্টোর semester.wbbsenote.in/product/wbchse-class-12-semester-4-bengali-pdf-book/ এবং books.wbbsenote.in থেকে চতুর্থ সেমিস্টারের সম্পূর্ণ বাংলা সাজেশন ও নোটবুক পিডিএফ সংগ্রহ করতে পারবে।

পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya) ✓
👨🏫 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষিকা • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১৩+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya)
🎓 M.A. (Bengali), B.Ed., UGC-NET & WBSET Qualified
পারমিতা ভট্টাচার্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার) বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরণ, প্রবন্ধ রচনা এবং বঙ্গানুবাদ বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা। তাঁর লেখা পয়েন্ট-ভিত্তিক নোটস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য আদর্শ।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!