পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির (Class 10) জীবনবিজ্ঞান (Life Science) প্রশ্নপত্রে বিভাগ ‘গ’ (Group C)-তে ১৭টি প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো ১২টি ২ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর (১২ × ২ = ২৪ নম্বর) লিখতে হয়। তা ছাড়া বিভাগ ‘ঘ’-এর ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্নগুলিও মূলত 3 + 2 অথবা 2 + 3 নম্বরের ছোটো প্রশ্নের সমষ্টি হিসেবে আসে। আমরা আমাদের আগের আর্টিকেলে ৫ নম্বরের চিত্র ও বড়ো প্রশ্ন (মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭ (চিত্র ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন PDF)) এবং অনলাইন প্র্যাকটিস (মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান Mock Test ২০২৭) আলোচনা করেছি।
- মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান (জীবন বিজ্ঞান) নম্বর বিভাজন ও প্রশ্ন কাঠামো (Marks Distribution 2027)
- ১ম অধ্যায়: জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 1)
- ২য় অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 2)
- ৩য় অধ্যায়: বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 3)
- ৪র্থ অধ্যায়: অভিব্যক্তি ও অভিযোজন — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 4)
- ৫ম অধ্যায়: পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 5)
- মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান সেরা ৬টি পার্থক্য ছক (২ বা ৩ নম্বর ১০০% কমন)
- পার্থক্য ১: ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে পার্থক্য
- পার্থক্য ২: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine) ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি (Exocrine)-র মধ্যে পার্থক্য
- পার্থক্য ৩: মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য
- পার্থক্য ৪: স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে পার্থক্য
- পার্থক্য ৫: সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous) ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous)-র মধ্যে পার্থক্য
- পার্থক্য ৬: ইন-সিটু (In-situ) ও এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের মধ্যে পার্থক্য
- প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
- মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
আমাদের এই মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর ও পার্থক্য সাজেশন (২০২৭) আর্টিকেলে আমরা দশম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞানের ১ম থেকে ৫ম অধ্যায়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর এবং ৬টি নিশ্চিত পার্থক্য ছক (Comparison Tables) পর্ষদের নম্বর বিভাজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ উত্তরসহ সাজিয়ে দিয়েছি।
মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান (জীবন বিজ্ঞান) নম্বর বিভাজন ও প্রশ্ন কাঠামো (Marks Distribution 2027)
মাধ্যমিক ২০২৭ (Madhyamik 2027) জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষায় কোন অধ্যায় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসে, তার পূর্ণাঙ্গ ব্লু-প্রিন্ট নিচের টেবিলে দেখে নাও:
| অধ্যায় ও নাম (Chapter Name) | MCQ – বিভাগ ‘ক’ (১ নম্বর) | VSAQ – বিভাগ ‘খ’ (১ নম্বর) | সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন – বিভাগ ‘গ’ (২ নম্বর) | রচনাধর্মী ও চিত্র – বিভাগ ‘ঘ’ (৫ নম্বর) | মোট নম্বর (Total Marks) |
| ১ম অধ্যায়: জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় | ৩টি (৩×১=৩) | ৫টি (৫×১=৫) | ৩টি (৩×২=৬) | ১টি চিত্র + ১টি প্রশ্ন (৫+৫=১০) | ২৪ নম্বর |
| ২য় অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা | ৩টি (৩×১=৩) | ৪টি (৪×১=৪) | ২টি (২×২=৪) | ১টি প্রশ্ন (১×৫=৫) | ১৬ নম্বর |
| ৩য় অধ্যায়: বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ | ৩টি (৩×১=৩) | ৪টি (৪×১=৪) | ২টি (২×২=৪) | ১টি প্রশ্ন (১×৫=৫) | ১৬ নম্বর |
| ৪র্থ অধ্যায়: অভিব্যক্তি ও অভিযোজন | ৩টি (৩×১=৩) | ৪টি (৪×১=৪) | ২টি (২×২=৪) | ১টি প্রশ্ন (১×৫=৫) | ১৬ নম্বর |
| ৫ম অধ্যায়: পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ | ৩টি (৩×১=৩) | ৪টি (৪×১=৪) | ৩টি (৩×২=৬) | ১টি প্রশ্ন (১×৫=৫) | ১৮ নম্বর |
| সর্বমোট প্রদেয় নম্বর (Total Written = 90) | ১৫ নম্বর (১৫×১) | ২১ নম্বর (২৬টির মধ্যে ২১টি) | ২৪ নম্বর (১৭টির মধ্যে ১২টি) | ৩০ নম্বর (৬×৫) (বিকল্পসহ) | ৯০ নম্বর |
১ম অধ্যায়: জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 1)
প্রশ্ন ১: ‘সংবেদনশীলতা’ বা ‘উত্তেজিতা’ (Sensitivity / Irritability) কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
- উত্তর: পরিবেশের বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের (যেমন—আলো, তাপ, স্পর্শ, রাসায়নিক পদার্থ) প্রভাবে জীবদেহের সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে ‘সংবেদনশীলতা’ বা ‘উত্তেজিতা’ বলে।
- উদাহরণ: লজ্জাবতী উদ্ভিদের (Mimosa pudica) পাতা স্পর্শ করলে পাতার পত্রকগুলি তৎক্ষণাৎ মুদে যায় (সিসমোন্যাস্টিক চলন)।
প্রশ্ন ২: উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিন (Auxin) হরমোনের দুটি ভূমিকা লেখো।
- উত্তর: ১. ফটোট্রপিক চলনে ভূমিকা: উদ্ভিদের কাণ্ডের অগ্রভাগে আলোর বিপরীত দিকে (অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে) অক্সিন হরমোন বেশি ঘনত্বে সঞ্চিত হয়ে কোষের দ্রুত বিভাজন ঘটায়, ফলে কাণ্ড আলোর উৎসের দিকে বেঁকে যায় (আলোক অনুকূলবর্তী)। ২. জিওট্রপিক চলনে ভূমিকা: উদ্ভিদের মূলের কোষ কম ঘনত্বের অক্সিনে সংবেদনশীল হওয়ায় মূলের অগ্রভাগের ওপরের দিকে কোষের বৃদ্ধি বেশি হয় এবং মূল অভিকর্ষের অনুকূলে মাটির গভীরে বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন ৩: জিব্বেরেলিন ও সাইটোকাইনিন হরমোনের দুটি করে ব্যবহারিক কাজ লেখো।
- উত্তর:
- জিব্বেরেলিনের কাজ: (১) বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে দ্রুত অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে এবং (২) বংশগতভাবে খর্বাকৃতি উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়।
- সাইটোকাইনিনের কাজ: (১) উদ্ভিদ কোষের সাইটোকাইনেসিস বা কোষ বিভাজন ঘটায় এবং (২) পাতার ক্লোরোফিল বিনষ্টকরণ বিলম্বিত করে উদ্ভিদের বার্ধক্য বিলম্বিত করে (‘রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব’)।
প্রশ্ন ৪: পিটুইটারি গ্রন্থিকে ‘প্রভু গ্রন্থি’ (Master Gland) এবং অ্যাড্রিনালিন হরমোনকে ‘আপৎকালীন হরমোন’ (Emergency Hormone) বলা হয় কেন?
- উত্তর:
- প্রভু গ্রন্থি: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন ট্রপিক হরমোন (যেমন—TSH, ACTH, GTH) মানবদেহের অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স, শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) বৃদ্ধি ও হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে বলে পিটুইটারিকে ‘প্রভু গ্রন্থি’ বলা হয়।
- আপৎকালীন হরমোন: ভয়, রাগ, দুশ্চিন্তা বা চরম উত্তেজনার সময় অ্যাড্রিনাল মেডালা থেকে অ্যাড্রিনালিন হরমোন দ্রুত নিঃসৃত হয়ে হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও শ্বাসহার বাড়িয়ে দেহকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে এবং সংকট কাটলে পুনরায় স্বাভাবিক করে বলে একে ‘আপৎকালীন হরমোন’ বলে।
প্রশ্ন ৫: ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোনের কাজ পরস্পর বিপরীতধর্মী কেন?
- উত্তর: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর বিটা (β) কোষ থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা কমাতে সাহায্য করে (যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত করে—গ্লাইকোজেনেসিস)। অন্যদিকে আলফা (α) কোষ থেকে নিঃসৃত গ্লুকাগন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে যকৃতের গ্লাইকোজেনকে ভেঙে পুনরায় গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। তাই এদের কাজ পরস্পর বিপরীতধর্মী।
প্রশ্ন ৬: ‘সাইন্যাপস’ (Synapse) বা প্রান্তসন্নিকর্ষ কাকে বলে? এর কাজ কী?
- উত্তর: দুটি নিউরনের সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত এবং অপর নিউরনের ডেনড্রাইটের সূচনা প্রান্ত সূক্ষ্ম ব্যবধানে (সাইন্যাপটিক ক্লেফট) মুখোমুখি অবস্থান করে, তাকে ‘সাইন্যাপস’ বলে।
- কাজ: নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন—অ্যাসিটাইলকোলিন)-এর সাহায্যে পূর্ববর্তী নিউরন থেকে পরবর্তী নিউরনে স্নায়ুস্পন্দন একমুখীভাবে পরিবহন করা।
প্রশ্ন ৭: ‘উপযোজন’ (Accommodation) কাকে বলে? প্রাত্যহিক জীবনে এর একটি উদাহরণ দাও।
- উত্তর: স্থান পরিবর্তন না করে চোখের সিলিয়ারি পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে লেন্সের বক্রতা ও ফোকাস দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বস্তুকে রেটিনায় স্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতাকে ‘উপযোজন’ বলে।
- উদাহরণ: রাস্তায় হাঁটার সময় দূরের বাসের নম্বর দেখে পরমুহূর্তেই হাতের ঘড়ির সময় বা হাতের বইয়ের লেখা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া।
প্রশ্ন ৮: মায়োপিয়া (Myopia) ও হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) ত্রুটির কারণ ও প্রতিকার লেখো।
- উত্তর:
- মায়োপিয়া (নিকট দৃষ্টি): অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড়ো হলে বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়, ফলে দূরের বস্তু ঝাপসা দেখায়। প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের অবতল লেন্স (Concave Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার।
- হাইপারমেট্রোপিয়া (দূরদৃষ্টি): অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে ছোটো হলে প্রতিবিম্ব রেটিনার পেছনে গঠিত হয়, ফলে কাছের বস্তু ঝাপসা দেখায়। প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্স (Convex Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার।
২য় অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 2)
প্রশ্ন ৯: ‘কোষচক্র’ (Cell Cycle) কাকে বলে? ইন্টারফেজ দশার তিনটি উপদশার নাম লেখো।
- উত্তর: একটি কোষের উৎপত্তি থেকে শুরু করে তার বৃদ্ধি ও পুনরায় বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটনাক্রমকে ‘কোষচক্র’ বলে। ইন্টারফেজ দশার তিনটি উপদশা হলো—(১) G₁ দশা (Gap 1), (২) S দশা (Synthesis — DNA সংশ্লেষ দশা) এবং (৩) G₂ দশা (Gap 2)।
প্রশ্ন ১০: মাইটোসিসকে ‘সমবিভাজন’ এবং মিয়োসিসকে ‘হ্রাস বিভাজন’ বলা হয় কেন?
- উত্তর:
- সমবিভাজন: মাইটোসিস কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার মাত্র বিভাজিত হয়ে সমগুণসম্পন্ন ও সমান সংখ্যক ক্রোমোজোমযুক্ত (2n) দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে বলে একে ‘সমবিভাজন’ বলে।
- হ্রাস বিভাজন: মিয়োসিস কোষ বিভাজনে ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোম একবার মাত্র বিভাজিত হয়, ফলে উৎপন্ন চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (n) হয়ে যায় বলে একে ‘হ্রাস বিভাজন’ বলে।
প্রশ্ন ১১: ‘ক্রসিং ওভার’ (Crossing Over) কী? এর গুরুত্ব লেখো।
- উত্তর: মিয়োসিস-১ এর প্যাকাইটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয়ের নন-সিস্টার ক্রোমাটিড দুটির মধ্যে কায়াজমা গঠনের মাধ্যমে জিনের বা খণ্ডাংশের বিনিময় ঘটাকে ‘ক্রসিং ওভার’ বলে।
- গুরুত্ব: এর ফলে নতুন জিনগত পুনর্সংযুক্তি ঘটে এবং অপত্য জীবে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণ (Variation) সৃষ্টি হয়, যা অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ১২: ‘জনুক্রম’ (Alternation of Generations) কাকে বলে? কোন উদ্ভিদে এটি স্পষ্ট দেখা যায়?
- উত্তর: কোনো জীবের জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড রেণুধর জনু (Sporophytic generation – 2n) এবং হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর জনু (Gametophytic generation – n)-র পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে ‘জনুক্রম’ বলে। এটি ফার্ন (ড্রায়োপটেরিস) ও মস জাতীয় উদ্ভিদে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
প্রশ্ন ১৩: ‘দ্বিনিষেক’ (Double Fertilization) কী?
- উত্তর: সপুষ্পক গুপ্তবীজী উদ্ভিদের যৌন জননের সময় পরাগনালিকার একটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বাণুর (n) সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) এবং অপর পুংগ্যামেটটি (n) নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড শস্য নিউক্লিয়াস (3n) গঠন করে—একই ভ্রূণস্থলীতে দুবার নিষেকের এই ঘটনাকে ‘দ্বিনিষেক’ বলে।
৩য় অধ্যায়: বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 3)
প্রশ্ন ১৪: মেন্ডেল তাঁর বংশগতি সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য কেন মটর গাছ (Pisum sativum) নির্বাচন করেছিলেন? (দুটি প্রধান কারণ লেখো)
- উত্তর: ১. মটর গাছ একবর্ষজীবী হওয়ায় জীবনচক্র খুব সংক্ষিপ্ত, ফলে অল্প সময়ে অনেকগুলি বংশধর পরীক্ষা করা যায়। ২. মটর ফুল উভলিঙ্গ ও স্বপরাগযোগী হলেও প্রয়োজনে কৃত্রিমভাবে ইতর পরাগযোগ ঘটানো যায় এবং এতে ৭ জোড়া স্পষ্ট বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্তমান।
প্রশ্ন ১৫: ‘ফিনোটাইপ’ (Phenotype) ও ‘জিনোটাইপ’ (Genotype) বলতে কী বোঝায়?
- উত্তর:
- ফিনোটাইপ: কোনো জীবের বাহ্যিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশকে ‘ফিনোটাইপ’ বলে (যেমন—মেন্ডেলের একসংকর জননে F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত লম্বা : বেঁটে = 3 : 1)।
- জিনোটাইপ: জীবের ফিনোটাইপ নিয়ন্ত্রণকারী জিনগত গঠনকে ‘জিনোটাইপ’ বলে (যেমন—একসংকর জননে F₂ জনুর জিনোটাইপিক অনুপাত TT : Tt : tt = 1 : 2 : 1)।
প্রশ্ন ১৬: ‘অসম্পূর্ণ প্রকটতা’ (Incomplete Dominance) কী? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশুদ্ধ জীবের সংকরায়ণে F₁ জনুতে প্রকট জিনটি তার বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে না পারায় যখন প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মাঝামাঝি একটি মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তাকে ‘অসম্পূর্ণ প্রকটতা’ বলে।
- উদাহরণ: সন্ধ্যাশালুক (Mirabilis jalapa) উদ্ভিদে বিশুদ্ধ লাল (RR) ও বিশুদ্ধ সাদা (rr) ফুলের সংকরায়ণে F₁ জনুতে সব ফুল গোলাপি (Rr) হয় এবং F₂ জনুতে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ উভয় অনুপাতই হয় 1 : 2 : 1।
প্রশ্ন ১৭: মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা প্রধান কেন?
- উত্তর: মানুষের ক্ষেত্রে মাতা হলেন হোমোগ্যামেটিক (44A + XX), তাই মাতা কেবল একপ্রকার ডিম্বাণু (22A + X) উৎপন্ন করেন। কিন্তু পিতা হলেন হেটেরোগ্যামেটিক (44A + XY), যিনি দুই প্রকার শুক্রাণু—গাইনোস্পার্ম (22A + X) এবং অ্যান্ড্রোস্পার্ম (22A + Y) উৎপন্ন করেন। নিষেকের সময় পিতার X-বাহী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে কন্যা (XX) এবং Y-বাহী শুক্রাণু নিষিক্ত করলে পুত্র (XY) সন্তান জন্মায়। তাই মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকাই প্রধান।
প্রশ্ন ১৮: থ্যালাসেমিয়া রোগে বারবার রক্ত সঞ্চালনের ফলে দেহে কী সমস্যা দেখা দেয়? জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর গুরুত্ব কী?
- উত্তর: থ্যালাসেমিয়া রোগীদের হিমোগ্লোবিন কম থাকায় বারবার রক্ত দিতে হয়। এর ফলে রোগীর যকৃৎ, হৃৎপিণ্ড ও প্লীহায় অতিরিক্ত লোহা (Iron) জমে অঙ্গগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিয়ের আগে হবু দম্পতির রক্ত পরীক্ষা (HPLC টেস্ট) ও জেনেটিক কাউন্সেলিং করলে ভবিষ্যৎ সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা যায়।
৪র্থ অধ্যায়: অভিব্যক্তি ও অভিযোজন — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 4)
প্রশ্ন ১৯: ল্যামার্কের ‘অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র’ এবং ডারউইনের ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ’ বলতে কী বোঝায়?
- উত্তর:
- ল্যামার্কের সূত্র: পরিবেশের প্রয়োজনে জীবদেহের যে অঙ্গ বেশি ব্যবহৃত হয় তা ক্রমশ সবল ও সুগঠিত হয় (যেমন—জিরাফের গলা) এবং যে অঙ্গ ব্যবহৃত হয় না তা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয়।
- প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ: জীবনসংগ্রামে যেসব জীব অনুকূল প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশনের অধিকারী হয়, প্রকৃতি তাদেরই বেঁচে থাকার জন্য নির্বাচন করে (‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’) এবং প্রতিকূল প্রকরণযুক্ত জীবেরা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
প্রশ্ন ২০: ‘নিষ্ক্রিয় অঙ্গ’ (Vestigial Organ) কাকে বলে? মানবদেহের দুটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গের নাম লেখো।
- উত্তর: জীবদেহে অবস্থিত যে সমস্ত অঙ্গ পূর্বপুরুষের দেহে সক্রিয় ও কর্মক্ষম থাকলেও বিবর্তনের ধারায় বর্তমানে কর্মহীন ও ক্ষুদ্র অবশেষ হিসেবে অবস্থান করে, তাদের ‘নিষ্ক্রিয় অঙ্গ’ বলে।
- মানবদেহের উদাহরণ: পৌষ্টিকতন্ত্রের ভার্মিফর্ম অ্যাপেনডিক্স, মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তের কক্সিস এবং চোখের নিকটিটেটিং পর্দা (প্লিকা সেমিলুনারিস)।
প্রশ্ন ২১: সুন্দরী গাছের লবণ সহনের জন্য দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
- উত্তর: সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে জন্মানো হ্যালোফাইট উদ্ভিদ সুন্দরীর দুটি প্রধান অভিযোজন হলো— ১. মাটিতে অক্সিজেনের অভাব মেটানোর জন্য এদের মূলে অসংখ্য শ্বাসছিদ্রযুক্ত অভিকর্ষের প্রতিকূলবর্তী শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর থাকে। ২. পাতায় ও মূলে অতিরিক্ত লবণ সঞ্চয়কারী গ্রন্থি থাকে এবং পাতার ত্বক পুরু ও মোমজাতীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত থাকে।
প্রশ্ন ২২: মাছের পটকা (Swim Bladder) এবং পায়রার বায়ুথলি (Air Sacs)-র অভিযোজনগত ভূমিকা কী?
- উত্তর:
- মাছের পটকা: পটকার অগ্রপ্রকোষ্ঠের ‘রেড গ্রন্থি’ গ্যাস উৎপন্ন করে পটকা ফোলালে মাছের দেহ হালকা হয়ে জলের ওপরে ভেসে ওঠে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের ‘রেটিয়া মিরাবিলিয়া’ গ্যাস শোষণ করলে মাছ জলের গভীরে ডুবে যায় (আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ)।
- পায়রার বায়ুথলি: পায়রার ফুসফুসের সাথে যুক্ত ৯টি বায়ুথলি ওড়ার সময় দেহকে হালকা রাখে এবং অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে উড্ডয়ন পেশির ক্লান্তি দূর করে।
৫ম অধ্যায়: পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 5)
প্রশ্ন ২৩: ‘অ্যামোনিফিকেশন’ ও ‘নাইট্রিফিকেশন’ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর:
- অ্যামোনিফিকেশন: মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ এবং রেচন পদার্থের প্রোটিনকে অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়ার (Bacillus mycoides) সাহায্যে বিয়োজিত করে অ্যামোনিয়ায় (NH₃) পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ‘অ্যামোনিফিকেশন’ বলে।
- নাইট্রিফিকেশন: মাটির অ্যামোনিয়াকে নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার (Nitrosomonas ও Nitrobacter) সাহায্যে প্রথমে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রেট লবণে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ‘নাইট্রিফিকেশন’ বলে।
প্রশ্ন ২৪: ‘জীববিবর্ধন’ বা ‘বায়োম্যাগনিফিকেশন’ (Biomagnification) কাকে বলে?
- উত্তর: DDT, ক্লোরিনযুক্ত কীটনাশক বা পারদের মতো অভঙ্গুর বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ জল বা মাটি থেকে খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম স্তরের খাদক থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর পুষ্টিস্তরের খাদকদের দেহকলায় ঘনীভূত ও বিবর্ধিত হওয়ার ঘটনাকে ‘জীববিবর্ধন’ বলে (যেমন—জল ➔ প্ল্যাঙ্কটন ➔ ছোটো মাছ ➔ বড়ো মাছ ➔ মেছো ঈগল বা মানুষ)।
প্রশ্ন ২৫: ‘জীববৈচিত্র্যের হটস্পট’ (Biodiversity Hotspot) নির্ধারণের দুটি শর্ত লেখো এবং ভারতের চারটি হটস্পটের নাম লেখো।
- উত্তর:
- শর্ত: (১) অঞ্চলটিতে কমপক্ষে ১,৫০০টি এন্ডেমিক (আঞ্চলিক) সংবহনকলাযুক্ত উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে এবং (২) অঞ্চলটির আদি স্বাভাবিক বাসস্থানের অন্তত ৭০% ইতিমধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে হবে।
- ভারতের ৪টি হটস্পট: (১) পূর্ব হিমালয়, (২) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও শ্রীলঙ্কা, (৩) ইন্দো-বার্মা এবং (৪) সুন্দাল্যান্ড (আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ)।
প্রশ্ন ২৬: ‘ক্রায়োপ্রিজারভেশন’ (Cryopreservation) এবং ‘JFM’ ও ‘PBR’ কী?
- উত্তর:
- ক্রায়োপ্রিজারভেশন: −196°C উষ্ণতায় তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে উদ্ভিদের পরাগরেণু, বীজ, ভ্রূণ বা প্রাণীর শুক্রাণুকে দীর্ঘকাল ধরে সজীব অবস্থায় এক্স-সিটু সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে ‘ক্রায়োপ্রিজারভেশন’ বলে।
- JFM (Joint Forest Management): ১৯৭১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের আরাবাড়ি অরণ্যে শালগাছের জঙ্গল পুনরুদ্ধারের জন্য বনদপ্তর ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের যৌথ অংশগ্রহণে যে বন সংরক্ষণ ব্যবস্থা শুরু হয়, তাকে JFM বলে।
- PBR (People’s Biodiversity Register): স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতি এবং ঐতিহ্যগত জ্ঞানের যে লিখিত নথি তৈরি করা হয়, তাকে PBR বলে।
মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান সেরা ৬টি পার্থক্য ছক (২ বা ৩ নম্বর ১০০% কমন)
পার্থক্য ১: ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে পার্থক্য
| পার্থক্যের বিষয় | ট্রপিক চলন (Tropic Movement) | ন্যাস্টিক চলন (Nastic Movement) |
| ১. উদ্দীপকের ভূমিকা | উদ্ভিদ অঙ্গের চলন উদ্দীপকের গতিপথ বা উৎসের দিক অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়। | উদ্ভিদ অঙ্গের চলন উদ্দীপকের গতিপথের বদলে উদ্দীপকের তীব্রতা অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়। |
| ২. বৃদ্ধির সম্পর্ক ও হরমোন | এটি একটি বৃদ্ধিজনিত বক্রচলন এবং এটি অক্সিন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। | এটি কোষের রসস্ফীতি চাপের পরিবর্তনজনিত চলন এবং এতে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা নেই। |
| ৩. উদাহরণ | কাণ্ডের আলোর দিকে বৃদ্ধি (ফটোট্রপিক চলন)। | লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শে মুদে যাওয়া (সিসমোন্যাস্টিক) ও পদ্মফুলের ফোটা (ফটোন্যাস্টিক)। |
পার্থক্য ২: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine) ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি (Exocrine)-র মধ্যে পার্থক্য
| পার্থক্যের বিষয় | অন্তঃক্ষরা বা অনাল গ্রন্থি | বহিঃক্ষরা বা সনাল গ্রন্থি |
| ১. নালির উপস্থিতি | এই গ্রন্থির কোনো নিজস্ব নালি থাকে না, তাই ক্ষরিত বস্তু সরাসরি রক্ত ও লসিকায় মেশে। | এই গ্রন্থির নিজস্ব নালি থাকে এবং নালির মাধ্যমে ক্ষরিত রস নির্দিষ্ট স্থানে বাহিত হয়। |
| ২. ক্ষরিত পদার্থ | নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থটি হলো হরমোন (যেমন—থাইরক্সিন, ইনসুলিন)। | নিঃসৃত পদার্থটি হলো উৎসেচক বা পাচক রস (যেমন—লালারস, ঘাম)। |
| ৩. উদাহরণ | পিটুইটারি গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি। | লালাগ্রন্থি, যকৃৎ, ঘর্মগ্রন্থি। |
পার্থক্য ৩: মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য
| পার্থক্যের বিষয় | মাইটোসিস (Mitosis) | মিয়োসিস (Meiosis) |
| ১. সংঘটন স্থল | জীবদেহের দেহকোষে (Somatic cell) সংঘটিত হয়। | জীবদেহের জনন মাতৃকোষে (Germ mother cell) সংঘটিত হয়। |
| ২. অপত্য কোষের সংখ্যা | একটি মাতৃকোষ থেকে ২টি অপত্য কোষ উৎপন্ন হয়। | একটি মাতৃকোষ থেকে ৪টি অপত্য কোষ উৎপন্ন হয়। |
| ৩. ক্রোমোজোম সংখ্যা | অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান (2n) থাকে (সমবিভাজন)। | অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (n) হয়ে যায় (হ্রাস বিভাজন)। |
পার্থক্য ৪: স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে পার্থক্য
| পার্থক্যের বিষয় | স্বপরাগযোগ (Self-Pollination) | ইতর পরাগযোগ (Cross-Pollination) |
| ১. বাহকের প্রয়োজনীয়তা | একই ফুল বা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে ঘটে বলে সাধারণত বাহকের প্রয়োজন হয় না। | একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে ঘটে বলে বায়ু, জল বা পতঙ্গ বাহকের প্রয়োজন হয়। |
| ২. নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব | অপত্য উদ্ভিদে নতুন কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ ঘটে না (প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে)। | দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের জিনের সংমিশ্রণ ঘটে বলে অপত্য উদ্ভিদে নতুন উন্নত বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়। |
| ৩. উদাহরণ | মটর, সন্ধ্যামালতী, টমেটো। | আম, কুমড়ো, শিমুল, ধান। |
পার্থক্য ৫: সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous) ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous)-র মধ্যে পার্থক্য
| পার্থক্যের বিষয় | সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous Organ) | সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous Organ) |
| ১. উৎপত্তি ও গঠন | অঙ্গগুলির উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ অস্থি-গঠন একই রকমের, কিন্তু কাজ আলাদা। | অঙ্গগুলির উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু কাজ একই রকমের। |
| ২. বিবর্তনের প্রকৃতি | এটি অপসারী বিবর্তন (Divergent Evolution) নির্দেশ করে। | এটি অভিসারী বিবর্তন (Convergent Evolution) নির্দেশ করে। |
| ৩. উদাহরণ | মানুষের হাত, তিমির ফ্লিপার, বাদুড়ের ডানা ও ঘোড়ার অগ্রপদ। | পাখির ডানা ও পতঙ্গের (প্রজাপতির) ডানা। |
পার্থক্য ৬: ইন-সিটু (In-situ) ও এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের মধ্যে পার্থক্য
| পার্থক্যের বিষয় | ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ Conservation) | এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ Conservation) |
| ১. সংরক্ষণের স্থান | জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে বা অরণ্যে রেখে সংরক্ষণ করা হয়। | বিপন্ন জীবকে তার প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে এনে সংরক্ষণ করা হয়। |
| ২. পরিধি ও অভিযোজন | বিশাল এলাকা জুড়ে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষিত হয় এবং জীব প্রকৃতির সাথে অভিযোজিত হয়। | ক্ষুদ্র স্থানে কেবল নির্দিষ্ট বিপন্ন প্রজাতিটিকে বিশেষ পরিচর্যায় বাঁচিয়ে রাখা হয়। |
| ৩. উদাহরণ | জাতীয় উদ্যান (জলদাপাড়া), অভয়ারণ্য (গরুমারা), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (সুন্দরবন)। | চিড়িয়াখানা (আলিপুর), বোটানিক্যাল গার্ডেন (শিবপুর), ক্রায়োপ্রিজারভেশন ও জিন ব্যাংক। |
প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
মাধ্যমিক ২০২৭ বিষয়ভিত্তিক সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড (গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনাল লিঙ্ক):
- সব বিষয়ের মেগা সাজেশন হাব: মাধ্যমিক সাজেশন ২০২৭ সব বিষয় (All Subjects Suggestion) | মাধ্যমিক ২০২৭ লাস্ট মিনিট সাজেশন
- জীবনবিজ্ঞান ৫ নম্বরের চিত্র ও মক টেস্ট: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭ (চিত্র ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন PDF) | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান Mock Test ২০২৭
- ভৌতবিজ্ঞান ও গণিত সাজেশন: মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭ | মাধ্যমিক গণিত উপপাদ্য ও সম্পাদ্য সাজেশন ২০২৭
- ইতিহাস ও ভূগোল সাজেশন: মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২৭ | মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন ২০২৭ | মাধ্যমিক ভূগোল ম্যাপ পয়েন্টিং সাজেশন ২০২৭
- বাংলা ও ইংরেজি সাজেশন: মাধ্যমিক বাংলা প্রবন্ধ রচনা সাজেশন ২০২৭ | মাধ্যমিক ইংরেজি রাইটিং স্কিল সাজেশন ২০২৭
- জীবনবিজ্ঞান চ্যালেঞ্জার ও ৭-বিষয়ের কম্বো পিডিএফ বুক: Madhyamik 2027 Challenger PDF Download | Madhyamik 2027 Complete 7 Subject Combo PDF Book | Madhyamik Suggestion Guide Books Store
মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্রশ্ন ১: মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষায় ২ নম্বরের মোট কয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়? উত্তর: প্রশ্নপত্রের বিভাগ ‘গ’ (Group C)-তে ১৭টি ২ নম্বরের প্রশ্ন দেওয়া থাকে, যার মধ্যে যেকোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর (১২ × ২ = ২৪ নম্বর) লিখতে হয়।
প্রশ্ন ২: জীবনবিজ্ঞানে ২ নম্বরের পার্থক্য লেখার সময় কয়টি পয়েন্ট লিখতে হয়? উত্তর: ২ নম্বরের পার্থক্যের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২টি বা ৩টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট ছক আকারে (পার্থক্যের বিষয় উল্লেখ করে) লিখলেই পুরো ২ নম্বর পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩: মাধ্যমিক ২০২৭ জীবনবিজ্ঞানে ৫ নম্বরের কোন চিত্রটি (Diagram) আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি? উত্তর: ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ‘মানুষের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ’ অথবা ‘প্রতিবর্ত চাপ (Reflex Arc)’ বা ‘আদর্শ নিউরন’-এর চিত্র আসার সম্ভাবনা সর্বাধিক। বিস্তারিত দেখতে আমাদের জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭ পোস্টটি পড়ো।
প্রশ্ন ৪: জীবনবিজ্ঞানে সংজ্ঞামূলক প্রশ্নে কি উদাহরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক? উত্তর: হ্যাঁ, সংজ্ঞার শেষে অন্তত ১টি সঠিক উদাহরণ (যেমন—ট্রপিক চলন, হরমোন, নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বা নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া) উল্লেখ করলে উত্তরের মান সম্পূর্ণ হয় এবং নম্বর কাটার কোনো সুযোগ থাকে না।
প্রশ্ন ৫: মাধ্যমিক 2027 জীবনবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ সাজেশন ও নোটবুক পিডিএফ কোথায় পাওয়া যাবে? উত্তর: আমাদের ওয়েবসাইট wbbsenote.in এবং পিডিএফ বুক স্টোর books.wbbsenote.in থেকে দশম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ নোটবুক পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবে।





