WBBSE মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২৭ (Madhyamik History Suggestion 2027 PDF): ১ম থেকে ৮ম অধ্যায়ের ২, ৪ ও ৮ নম্বরের বাছাই করা প্রশ্ন ও সম্পূর্ণ উত্তর ডাউনলোড করুন।
- ১. মাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নপত্রের নম্বর বিভাজন ২০২৭ (Marks Distribution Table)
- ২. অধ্যায়ভিত্তিক মাধ্যমিক ইতিহাস ৪ নম্বরের প্রশ্ন সাজেশন ২০২৭ (বিভাগ – ঘ: ৬ × ৪ = ২৪ নম্বর)
- ১ম অধ্যায়: ইতিহাসের ধারণা (Ideas of History)
- ২য় অধ্যায়: সংস্কার — বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (Reform: Characteristics and Observations)
- ৩য় অধ্যায়: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ (Resistance and Rebellion)
- ৪র্থ অধ্যায়: সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা (Early Stages of Collective Action)
- ৫ম অধ্যায়: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ (Alternative Ideas and Initiatives)
- ৬ষ্ঠ ও ৭ম অধ্যায়: কৃষক, শ্রমিক, নারী ও ছাত্র আন্দোলন
- ৮ম অধ্যায়: উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত (Post-Colonial India)
- ৩. মাধ্যমিক ইতিহাস ৮ নম্বরের বড় প্রশ্ন সাজেশন ২০২৭ (বিভাগ – ঙ: ১ × ৮ = ৮ নম্বর)
- ৪. বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সম্পূর্ণ মডেল উত্তর (Full Score Ready Answers)
- মডেল উত্তর ১ (৮ নম্বর): নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯–৬০) কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো। এই বিদ্রোহে সংবাদপত্র ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা কীরূপ ছিল? [৫ + ৩ = ৮]
- মডেল উত্তর ২ (৪ নম্বর): ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কেমন ছিল এবং কেন?
- মডেল উত্তর ৩ (৪ নম্বর): উনিশ শতকের বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার বিকাশে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’ (IACS)-এর অবদান লেখো।
- ৫. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ — Madhyamik History 2027)
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পরিচালিত ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আজকের এই বিশেষ পর্বে আমরা নিয়ে এসেছি সম্পূর্ণ নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন অনুযায়ী তৈরি মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২৭ (Madhyamik History Suggestion 2027)। ইতিহাস বিষয়ে ভালো নম্বর তোলার প্রধান কৌশল হলো অন্ধভাবে মুখস্থ না করে প্রতিটি অধ্যায়ের ২ নম্বর, ৪ নম্বর এবং ৮ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্নগুলো পয়েন্ট করে সাল-তারিখসহ গুছিয়ে লেখা।
WBBSE NOTE-এর অভিজ্ঞ ইতিহাস শিক্ষকদের দ্বারা বিগত ১০ বছরের মাধ্যমিক প্রশ্নপত্র এবং পর্ষদ টেস্ট পেপার বিশ্লেষণ করে ১ম থেকে ৮ম অধ্যায় পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং বাছাই করা ৮ ও ৪ নম্বরের প্রশ্নের সম্পূর্ণ মডেল উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এছাড়াও তুমি আমাদের মাধ্যমিক সব বিষয়ের সাজেশন ২০২৭ পেজ থেকে বাকি বিষয়গুলোর গাইড দেখে নিতে পারো।
১. মাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নপত্রের নম্বর বিভাজন ২০২৭ (Marks Distribution Table)
পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে কোন অধ্যায় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসে এবং কোন বিভাগে কয়টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়, তা নিচের সারণি থেকে এক নজরে দেখে নাও:
| বিভাগ (Group) | প্রশ্নের ধরন (Question Type) | মোট উত্তর দিতে হবে | প্রতিটি প্রশ্নের মান | মোট নম্বর |
| বিভাগ – ক | বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) | ২০টি (কোনো বিকল্প থাকে না) | ১ নম্বর | ২০ × ১ = ২০ |
| বিভাগ – খ | অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (এক কথায় উত্তর, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, ম্যাপ পয়েন্টিং ও বিবৃতি) | ১৬টি (৫টি উপবিভাগ থেকে মোট ২০টির মধ্যে ১৬টি) | ১ নম্বর | ১৬ × ১ = ১৬ |
| বিভাগ – গ | সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (২–৩টি বাক্যে উত্তর) | ১১টি (১৬টি প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো ১১টি) | ২ নম্বর | ১১ × ২ = ২২ |
| বিভাগ – ঘ | বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (৭–৮টি বাক্যে উত্তর) | ৬টি (৪টি উপবিভাগ থেকে ১টি করে মোট ৬টি) | ৪ নম্বর | ৬ × ৪ = ২৪ |
| বিভাগ – ঙ | রচনাধর্মী বা বড় প্রশ্ন (১৫–১৬টি বাক্যে উত্তর) | ১টি (৩টি প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো ১টি) | ৮ নম্বর | ১ × ৮ = ৮ |
| মোট লিখিত ও প্রজেক্ট | লিখিত পরীক্ষা: ৯০ নম্বর + বিদ্যালয় ভিত্তিক প্রজেক্ট: ১০ নম্বর | সর্বমোট | — | ১০০ নম্বর |
২. অধ্যায়ভিত্তিক মাধ্যমিক ইতিহাস ৪ নম্বরের প্রশ্ন সাজেশন ২০২৭ (বিভাগ – ঘ: ৬ × ৪ = ২৪ নম্বর)
মাধ্যমিক ইতিহাসে ৪ নম্বরের মোট ৬টি প্রশ্ন লিখতে হয় (২৪ নম্বর)। নিচে ১ম থেকে ৮ম অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪ নম্বরের প্রশ্নগুলো দেওয়া হলো:
১ম অধ্যায়: ইতিহাসের ধারণা (Ideas of History)
১. আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চার উপাদান হিসেবে ‘সরকারি নথিপত্র’-এর গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো। ⭐⭐⭐
২. আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা কীভাবে আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়? উদাহরণসহ লেখো (যেমন: জীবনস্মৃতি, সত্তর বৎসর, জীবনের ঝরাপাতা)। ⭐⭐⭐
৩. ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা এবং ‘বঙ্গদর্শন’ সাময়িকপত্র উনিশ শতকের বাংলার সমাজ ও জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে কী ভূমিকা পালন করেছিল? ⭐⭐
৪. নারী ইতিহাসের গুরুত্ব কী? আধুনিক ইতিহাস চর্চায় পরিবেশের ইতিহাস ও নতুন সামাজিক ইতিহাসের প্রাসঙ্গিকতা সংক্ষেপে লেখো। ⭐⭐
২য় অধ্যায়: সংস্কার — বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (Reform: Characteristics and Observations)
১. উনিশ শতকের বাংলায় নারীশিক্ষা বিস্তারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও ড্রিংকওয়াটার বেথুন-এর অবদান মূল্যায়ন করো।⭐⭐⭐
২. উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪)-কে ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ‘ম্যাগনা কার্টা’ বলা হয় কেন?⭐⭐⭐
৩. স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ বা ‘নব্য বেদান্তবাদ’ ব্যাখ্যা করো। শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের ‘যত মত তত পথ’ আদর্শের তাৎপর্য কী ছিল? ⭐⭐⭐
৪. পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সমাজসংস্কারে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (১৮৩৫) এবং হিন্দু কলেজ (১৮১৭)-এর ভূমিকা আলোচনা করো। ⭐⭐
৫. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও এবং ‘নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী’ (Young Bengal)-র সংস্কার আন্দোলনের ইতিবাচক দিক ও সীমাবদ্ধতা লেখো। ⭐⭐
৩য় অধ্যায়: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ (Resistance and Rebellion)
১. ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণ ও ফলাফল বা গুরুত্ব আলোচনা করো। ⭐⭐⭐
২. নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯–৬০) প্রতি শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের মনোভাব কেমন ছিল? এই বিদ্রোহে ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকা ও হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা লেখো। ⭐⭐⭐
৩. ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন কীভাবে ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায়ের চিরাচরিত অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছিল? ⭐⭐
৪. তিতুমীরের নেতৃত্বে বারাসাত বিদ্রোহ এবং দুদু মিঞার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলনের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো। ⭐⭐
৪র্থ অধ্যায়: সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা (Early Stages of Collective Action)
১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি ও চরিত্র বিশ্লেষণ করো। এটিকে কি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা যায়? ⭐⭐⭐
২. মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কেমন ছিল এবং কেন তারা এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেননি? ⭐⭐⭐
৩. মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮)-এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও মূল বক্তব্য কী ছিল? ⭐⭐⭐
৪. ভারতমাতা চিত্র (ভারতমাতা — অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর) এবং গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র কীভাবে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটিয়েছিল? ⭐⭐⭐
৫. স্বামী বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস কীভাবে স্বদেশপ্রেম জাগ্রত করেছিল? ⭐⭐
৫ম অধ্যায়: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ (Alternative Ideas and Initiatives)
১. বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস ও উইলিয়াম কেরি-র অবদান আলোচনা করো। ⭐⭐⭐
২. বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে মহেন্দ্রলাল সরকার ও ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’ (IACS) এবং বসু বিজ্ঞান মন্দির (আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু)-এর ভূমিকা লেখো। ⭐⭐⭐
৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার মূল শিক্ষাচিন্তা (প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয়) ব্যাখ্যা করো। ⭐⭐⭐
৪. বাংলা ছাপাখানার ব্যবসায়িক প্রসারে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (ইউ রায় অ্যান্ড সন্স) এবং বিদ্যাসাগর-এর অবদান লেখো। ⭐⭐
৬ষ্ঠ ও ৭ম অধ্যায়: কৃষক, শ্রমিক, নারী ও ছাত্র আন্দোলন
১. বারদৌলি সত্যাগ্রহ (১৯২৮)-এ বল্লভভাই প্যাটেল ও কৃষকদের ভূমিকা এবং তেভাগা আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ⭐⭐⭐
২. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনে (১৯৪২) নারীদের অংশগ্রহণের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো। ⭐⭐⭐
৩. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ‘বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স’ (বিনয়-বাদল-দীনেশ), প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং মাতঙ্গিনী হাজরা-র অবদান আলোচনা করো। ⭐⭐⭐
৪. দলিত অধিকার আন্দোলনে ড. বি. আর. আম্বেদকর-এর ভূমিকা ও পুণা চুক্তির (১৯৩২) গুরুত্ব লেখো। ⭐⭐
৮ম অধ্যায়: উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত (Post-Colonial India)
১. হায়দ্রাবাদ রাজ্যটি কীভাবে ভারতভুক্ত হয়েছিল? জুনাগড় ও কাশ্মীর সমস্যা কীভাবে সমাধান করা হয়? ⭐⭐⭐
২. দেশভাগের (১৯৪৭) পর ভারতে উদ্বাস্তু সমস্যা (Refugee Crisis) এবং উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে ভারত সরকারের উদ্যোগ আলোচনা করো। ⭐⭐⭐
৩. স্বাধীন ভারতে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩) ও অন্ধ্রপ্রদেশ গঠনের প্রেক্ষাপট লেখো। ⭐⭐
৩. মাধ্যমিক ইতিহাস ৮ নম্বরের বড় প্রশ্ন সাজেশন ২০২৭ (বিভাগ – ঙ: ১ × ৮ = ৮ নম্বর)
মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভাগ-ঙ তে ৩টি ৮ নম্বরের প্রশ্ন দেওয়া থাকে, যার মধ্যে যেকোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিচের ৫টি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ (এর মধ্যে প্রথম ৩টি করলেই ১টি প্রশ্ন ১০০% কমন পাবে):
১. উনিশ শতকের বাংলার সমাজ ও শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান মূল্যায়ন করো। (অথবা, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিষয়ক দ্বন্দ্ব এবং উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।) ⭐⭐⭐⭐⭐
২. নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯–৬০) কারণ, বিস্তার ও ফলাফল আলোচনা করো। এই বিদ্রোহে খ্রিস্টান মিশনারি, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ ও সংবাদপত্রের ভূমিকা কীরূপ ছিল? ⭐⭐⭐⭐⭐
৩. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি ও চরিত্র বিশ্লেষণ করো। লেখায় ও রেখায় (আনন্দমঠ, বর্তমান ভারত, গোরা, ভারতমাতা চিত্র ও ব্যঙ্গচিত্র) ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশ কীভাবে ঘটেছিল? ⭐⭐⭐⭐⭐
৪. বিশ শতকের ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্র ও নারীদের অংশগ্রহণের চরিত্র বিশ্লেষণ করো। ⭐⭐⭐⭐
৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তা ও শান্তিনিকেতন ভাবনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ছাপাখানা কীভাবে বাংলায় শিক্ষা বিস্তারে সাহায্য করেছিল? ⭐⭐⭐⭐
৪. বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সম্পূর্ণ মডেল উত্তর (Full Score Ready Answers)
পরীক্ষার খাতায় ঠিক কীভাবে পয়েন্ট, সাব-হেডিং এবং ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে উত্তর লিখলে ৮-এ ৮ এবং ৪-এ ৪ পাওয়া যায়, তার জন্য নিচে ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর দেওয়া হলো:
মডেল উত্তর ১ (৮ নম্বর): নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯–৬০) কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো। এই বিদ্রোহে সংবাদপত্র ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা কীরূপ ছিল? [৫ + ৩ = ৮]
ভূমিকা: উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ শাসনাধীন বাংলায় সংঘটিত কৃষক বিদ্রোহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও সফল গণআন্দোলন ছিল ১৮৫৯–৬০ খ্রিস্টাব্দের নীল বিদ্রোহ। ইউরোপের শিল্পবিপ্লবের পর বস্ত্রশিল্পে নীলের চাহিদা বাড়লে অত্যাচারী ইউরোপীয় নীলকর সাহেবরা বাংলার কৃষকদের জোরপূর্বক নীল চাষে বাধ্য করে, যার বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
নীল বিদ্রোহের প্রধান কারণসমূহ:
- ১. দাদন প্রথার ফাঁদ: নীলকর সাহেবরা দরিদ্র চাষিদের সামান্য ২–৩ টাকা অগ্রিম বা ‘দাদন’ দিয়ে চুক্তিপত্রে টিপসই করিয়ে নিত। একবার দাদন নিলে চাষিরা বংশপরম্পরায় ওই ঋণ শোধ করতে পারত না।
- ২. উর্বর জমিতে জোরপূর্বক নীল চাষ: চাষিরা নিজেদের পরিবারের খাদ্যের জন্য ধান চাষ করতে চাইলেও নীলকররা তাদের সবচেয়ে উর্বর জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করত।
- ৩. নীল চাষে আর্থিক ক্ষতি: নীল চাষের খরচ ও খাজনা মেটানোর পর চাষির হাতে কিছুই থাকত না, বরং উল্টে নীলকরদের কাছে ঋণের বোঝা বাড়ত।
- ৪. নীলকরদের অমানুষিক অত্যাচার: কোনো চাষি নীল চাষে অস্বীকার করলে তার ওপর ‘শ্যামচাঁদ’ (চামড়ার চাবুক) দিয়ে প্রহার করা হতো, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হতো, গবাদিপশু কেড়ে নেওয়া হতো এবং নীলকুঠির অন্ধকার ‘গুদামঘরে’ আটকে রাখা হতো।
- ৫. পঞ্চম আইন (১৮৩০) ও অসম বিচারব্যবস্থা: ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চম আইন দ্বারা চুক্তিভঙ্গকারী চাষিদের জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা করা হয় এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রকাশ্যে নীলকরদের পক্ষ নিতেন।
বিদ্রোহের সূচনা ও বিস্তার: ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের শরৎকালে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের কাছে চৌগাছা গ্রামে বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাসের নেতৃত্বে প্রথম নীল বিদ্রোহের সূচনা হয়। দ্রুত এই বিদ্রোহ নদিয়া, যশোর, পাবনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, খুলনা, মুর্শিদাবাদ ও বারাসাতে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বনাথ সর্দার, রফিক মণ্ডল, কাদের মোল্লা প্রমুখ নেতা লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে নীলকুঠি আক্রমণ করেন।
শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ ও সংবাদপত্রের ভূমিকা:
- হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ দূরে থাকলেও নীল বিদ্রোহে তারা সর্বশক্তি দিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ান। ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নিজের বাড়ি ও অর্থ ব্যয় করে চাষিদের আইনি সহায়তা দেন এবং নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রবন্ধ লেখেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০): দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ‘নীলদর্পণ’ নাটক রচনা করে নীলকরদের বর্বরতার জীবন্ত ছবি তুলে ধরেন। পাদ্রি জেমস লং-এর তত্ত্বাবধানে মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- শিশিরকুমার ঘোষ ও মনমোহন ঘোষ: শিশিরকুমার ঘোষ ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’-এ “এম. এল. লাল” ছদ্মনামে যশোরের চাষিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষ আদালতে চাষিদের হয়ে সওয়াল করেন।
ফলাফল ও গুরুত্ব (উপসংহার): এই প্রবল গণআন্দোলনের চাপে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ ‘নীল কমিশন’ (Indigo Commission) গঠন করতে বাধ্য হয়। কমিশন ঘোষণা করে যে—“নীল চাষ সম্পূর্ণভাবেই রায়তের ইচ্ছাধীন”। এর পর ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে অষ্টম আইন দ্বারা নীল চুক্তি আইন রদ করা হয় এবং বাংলা থেকে চিরতরে নীল চাষের অবসান ঘটে। হিন্দু-মুসলমান কৃষক এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের এই অভূতপূর্ব ঐক্য পরবর্তীকালের জাতীয় আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করেছিল।
মডেল উত্তর ২ (৪ নম্বর): ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কেমন ছিল এবং কেন?
ভূমিকা: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিলেও সমকালীন কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত ও জমিদার সমাজ এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেনি, বরং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেছিল।
শিক্ষিত বাঙালি সমাজের বিরূপ মনোভাবের কারণসমূহ:
- ১. প্রগতিশীল ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আস্থা: রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের যুগ থেকে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ মনে করত যে ব্রিটিশ শাসনের সংস্পর্শে এসেই ভারতে পাশ্চাত্য বিজ্ঞান, আধুনিক শিক্ষা এবং সতীদাহ রদ ও বিধবাবিবাহের মতো সমাজসংস্কার সম্ভব হয়েছে।
- ২. মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্র ফিরে আসার আশঙ্কা: বিদ্রোহী সিপাহিরা বৃদ্ধ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এবং নানা সাহেবকে নেতা ঘোষণা করায় শিক্ষিত বাঙালিরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, সিপাহিরা জয়ী হলে আধুনিক আইনের শাসনের বদলে পুনরায় মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক ও রক্ষণশীল শাসন ফিরে আসবে।
- ৩. অর্থনৈতিক স্বার্থ ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সৃষ্ট বাংলার জমিদার শ্রেণি এবং ইংরেজ কোম্পানির অধীনে কর্মরত চাকুরিজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণির আর্থিক স্বার্থ ব্রিটিশ শাসনের স্থায়িত্বের সাথে জড়িত ছিল।
- ৪. সমকালীন পত্রপত্রিকার প্রতিক্রিয়া: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ এবং গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশের ‘সম্বাদ ভাস্কর’ পত্রিকায় সিপাহিদের উচ্ছৃঙ্খল বলে সমালোচনা করা হয় এবং রাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ সরকারের সমর্থনে প্রস্তাব গ্রহণ করে।
মূল্যায়ন: তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় লর্ড ডালহৌসির সাম্রাজ্যবাদী নীতিকেই এই বিদ্রোহের মূল কারণ বলে চিহ্নিত করেছিলেন এবং কালীপ্রসন্ন সিংহ ও মধুসূদন দত্তের রচনায় বিদ্রোহীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সহানুভূতি দেখা গিয়েছিল।
মডেল উত্তর ৩ (৪ নম্বর): উনিশ শতকের বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার বিকাশে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’ (IACS)-এর অবদান লেখো।
প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য: উনিশ শতকে ব্রিটিশ সরকার ভারতে শুধুমাত্র কেরানি তৈরির উদ্দেশ্যে পুঁথিগত শিক্ষা চালু রাখলেও মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার কোনো সুযোগ দেয়নি। এই অভাব দূর করতে বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুলাই কলকাতার বৌবাজার স্ট্রিটে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’ (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল এদেশের ছাত্র ও বিজ্ঞানীদের নিজস্ব উদ্যোগে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় উৎসাহিত করা।
বিজ্ঞান চর্চায় IACS-এর অবদান:
- ১. বিভিন্ন বিভাগের গবেষণা: পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, ভূতত্ত্ব এবং শারীরবিদ্যা—মোট এই সাতটি বিষয়ে এখানে নিয়মিত বক্তৃতা ও গবেষণার ব্যবস্থা করা হয়।
- ২. বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণ: ড. মহেন্দ্রলাল সরকার, ফাদার ইউজিন লাফোঁ, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো মনীষীরা এখানে নিয়মিত বিজ্ঞান বক্তৃতা দিতেন।
- ৩. সি. ভি. রমন ও নোবেল জয় (১৯৩০): এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারেই বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন (C. V. Raman) আলোর বিচ্ছুরণ সংক্রান্ত তাঁর যুগান্তকারী ‘রমন এফেক্ট’ (Raman Effect) আবিষ্কার করেন, যার জন্য ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এশিয়ার প্রথম বিজ্ঞানী হিসেবে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ৪. জাতীয়তাবাদী বিজ্ঞান চেতনা: সরকারি সাহায্য ছাড়াই দেশীয় মানুষের দানে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করেছিল যে ভারতীয়রাও বিশ্বমানের মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় সক্ষম।
প্রিমিয়াম নোটবুক সংগ্রহ করো: মাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাসের সমস্ত অধ্যায়ের এমসিকিউ, এসএকিউ এবং ৪ ও ৮ নম্বরের প্রতিটি প্রশ্নের পয়েন্ট-ভিত্তিক উত্তর একত্রে প্রিন্ট-রেডি বই হিসেবে পেতে ভিজিট করো আমাদের অফিসিয়াল স্টোর WBBSE NOTE Books Library।
৫. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ — Madhyamik History 2027)
প্রশ্ন ১: মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষায় ৮ নম্বরের কয়টি প্রশ্ন লিখতে হয়? উত্তর: মাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নপত্রের ‘বিভাগ – ঙ’-তে মোট ৩টি ৮ নম্বরের প্রশ্ন দেওয়া থাকে, যার মধ্য থেকে যেকোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর (১৫–১৬টি বাক্যে) লিখতে হয়।
প্রশ্ন ২: মাধ্যমিক ইতিহাসে ম্যাপ পয়েন্টিং কি বাধ্যতামূলক? উত্তর: ‘বিভাগ – খ’-তে (১ নম্বরের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে) ভারতের রেখা মানচিত্রে ৪টি ঐতিহাসিক স্থান চিহ্নিতকরণের একটি উপবিভাগ থাকে। যেহেতু ৫টি উপবিভাগ থেকে মোট ১৬টি প্রশ্ন করতে হয়, তাই ম্যাপ পয়েন্টিংয়ে ৪-এ ৪ নম্বর পাওয়া অত্যন্ত সহজ।
প্রশ্ন ৩: ইতিহাসে ৪ ও ৮ নম্বরের প্রশ্নে পুরো নম্বর পাওয়ার উপায় কী? উত্তর: প্রতিটি বড় প্রশ্নের উত্তরে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা, ৫ থেকে ৮টি স্পষ্ট পয়েন্ট বা সাব-হেডিং, সঠিক সাল-তারিখ ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম এবং শেষে ২ লাইনের মূল্যায়ন বা উপসংহার লিখলে পরীক্ষক পুরো নম্বর দেন।





