WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (২০২৭) | WBBSE Class 10 History 2 Marks Suggestion 2027 PDF (১ম থেকে ৮ম অধ্যায়)

মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (২০২৭) | WBBSE Class 10 History 2 Marks Suggestion 2027 PDF (১ম থেকে ৮ম অধ্যায়)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির (Class 10) ইতিহাস পরীক্ষায় ৯০-এ ৮৫+ নম্বর তোলার সবচেয়ে বড়ো চাবিকাঠি হলো মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর (বিভাগ ‘গ’ — ১১টি প্রশ্নের উত্তর, ১১ × ২ = ২২ নম্বর)। আমরা আমাদের আগের আর্টিকেলে মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২৭ (৪ ও ৮ নম্বরের প্রশ্নোত্তর PDF) আলোচনা করেছি, কিন্তু ইতিহাসে ভালো রেজাল্ট করতে হলে ১ম থেকে ৮ম অধ্যায়ের (অতীত ও ঐতিহ্য) বাছাই করা ২ নম্বরের প্রশ্নগুলিতে ২২-এ ২২ পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (২০২৭) | WBBSE Class 10 History 2 Marks Suggestion 2027 PDF (১ম থেকে ৮ম অধ্যায়)
  2. মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস নম্বর বিভাজন ও ২ নম্বরের প্রশ্নের গুরুত্ব (WBBSE Class 10 History Marks Blueprint 2027)
  3. ১ম অধ্যায়: ইতিহাসের ধারণা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 1)
  4. ২য় অধ্যায়: সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 2)
  5. ৩য় অধ্যায়: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 3)
  6. ৪র্থ অধ্যায়: সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 4)
  7. ৫ম অধ্যায়: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 5)
  8. ৬ষ্ঠ অধ্যায়: বিশ শতকে ভারতের কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 6)
  9. ৭ম অধ্যায়: বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 7)
  10. ৮ম অধ্যায়: উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত (১৯৪৭–১৯৬৪) — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 8)
  11. মাধ্যমিক ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্নে ২২-এ ২২ পাওয়ার খাতা সাজানোর টিপস
  12. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
  13. মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

আমাদের এই মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (২০২৭) আর্টিকেলে আমরা দশম শ্রেণির ইতিহাসের ১ম অধ্যায় (ইতিহাসের ধারণা) থেকে ৮ম অধ্যায় (উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত) পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায় থেকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি ২ নম্বরের প্রশ্ন ও পর্ষদের নির্দেশানুযায়ী ২–৩টি বাক্যে লেখা সম্পূর্ণ পয়েন্ট-ভিত্তিক আদর্শ উত্তর আলোচনা করেছি।

মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস নম্বর বিভাজন ও ২ নম্বরের প্রশ্নের গুরুত্ব (WBBSE Class 10 History Marks Blueprint 2027)

মাধ্যমিক ২০২৭ (Madhyamik 2027) ইতিহাস প্রশ্নপত্রে কোন অধ্যায় থেকে কত নম্বরের সংক্ষিপ্ত ও ২ নম্বরের প্রশ্ন আসে, তার পূর্ণাঙ্গ ছক নিচে দেওয়া হলো:

অধ্যায় ও নাম (Chapter Name) MCQ (১ নম্বর) SAQ (১ নম্বর) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২ নম্বর – বিভাগ ‘গ’) বিশ্লেষণধর্মী (৪ নম্বর) রচনাধর্মী (৮ নম্বর)
১ম অধ্যায়: ইতিহাসের ধারণা ২টি (২×১=২) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) আসে না
২য় অধ্যায়: সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা ৩টি (৩×১=৩) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) ১টি (বিকল্পসহ)
৩য় অধ্যায়: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ ২টি (২×১=২) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) ১টি (বিকল্পসহ)
৪র্থ অধ্যায়: সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা ৩টি (৩×১=৩) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) ১টি (বিকল্পসহ)
৫ম অধ্যায়: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ ২টি (২×১=২) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) ১টি (বিকল্পসহ)
৬ষ্ঠ অধ্যায়: বিশ শতকে ভারতের কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন ৩টি (৩×১=৩) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) ১টি (বিকল্পসহ)
৭ম অধ্যায়: বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ৩টি (৩×১=৩) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) ১টি (বিকল্পসহ)
৮ম অধ্যায়: উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত (১৯৪৭–১৯৬৪) ২টি (২×১=২) ২টি (২×১=২) ২টি প্রশ্ন থাকে (২×২=৪) ১টি (বিকল্পসহ) আসে না
সর্বমোট (Total Marks = 90) ২০ নম্বর ১৬ নম্বর (২০টির মধ্যে ১৬টি) ২২ নম্বর (১৬টির মধ্যে ১১টি করতে হয়) ২৪ নম্বর (৬টি করতে হয়) ৮ নম্বর (১টি করতে হয়)

১ম অধ্যায়: ইতিহাসের ধারণা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 1)

প্রশ্ন ১: ‘নতুন সামাজিক ইতিহাস’ (New Social History) বলতে কী বোঝায়?

  • উত্তর: বিশ শতকের ষাটের দশক থেকে রাজা-মহারাজা ও যুদ্ধবিগ্রহের প্রথাগত রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিবর্তে সমাজের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, নারী, দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে যে ইতিহাসচর্চা শুরু হয়, তাকে ‘নতুন সামাজিক ইতিহাস’ বলা হয়। ভারতের রণজিৎ গুহ প্রমুখ ঐতিহাসিকদের ‘সাবঅল্টার্ন স্টাডিজ’ বা নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চা এর অন্যতম উদাহরণ।

প্রশ্ন ২: আঞ্চলিক ইতিহাস বা স্থানীয় ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব কী?

  • উত্তর: ১. কোনো একটি নির্দিষ্ট গ্রাম, শহর বা অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ, জনবসতি, অর্থনীতি ও লোকসংস্কৃতির নিখুঁত পরিচয় আঞ্চলিক ইতিহাস থেকে পাওয়া যায়। ২. জাতীয় ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য ও শূন্যস্থান পূরণ করতে স্থানীয় ইতিহাস প্রধান সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে (যেমন—কুমুদনাথ মল্লিকের ‘নদীয়া কাহিনী’ বা সতীশচন্দ্র মিত্রের ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’)।

প্রশ্ন ৩: ইতিহাসের উপাদান রূপে আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথার দুটি গুরুত্ব লেখো।

  • উত্তর: ১. লেখক তাঁর সমসাময়িক কালের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনাবলি নিজের চোখে দেখে আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথায় লিপিবদ্ধ করেন বলে তা থেকে তৎকালীন যুগের জীবন্ত চিত্র পাওয়া যায় (যেমন—রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি’, সরলাদেবী চৌধুরানীর ‘জীবনের ঝরাপাতা’)। ২. দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যার মতো সংবেদনশীল ঘটনার মানসিক ও মানবিক দিকগুলি জানার ক্ষেত্রে স্মৃতিকথা (যেমন—দক্ষিণারঞ্জন বসুর ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’) অপরিহার্য।

প্রশ্ন ৪: সরকারি নথিপত্র বলতে কী বোঝায়? এই নথিপত্রগুলি কোথায় সংরক্ষিত থাকে?

  • উত্তর: ব্রিটিশ শাসনকালে সরকারি আধিকারিক, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও মহাফেজখানায় রক্ষিত চিঠিপত্র, প্রতিবেদন ও গেজেটিয়ারগুলিকে ‘সরকারি নথিপত্র’ বলা হয়। এই নথিপত্রগুলি দিল্লির জাতীয় মহাফেজখানা (National Archives of India) এবং রাজ্য লেখ্যাগারগুলিতে সংরক্ষিত থাকে।

প্রশ্ন ৫: ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা কেন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল?

  • উত্তর: ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ প্রকাশিত ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকায় ব্রিটিশ সরকারের সাম্রাজ্যবাদী নীতি ও নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের তীব্র সমালোচনা করা হতো। ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড লিটন দেশীয় সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) জারি করলে তার প্রতিবাদে সোমপ্রকাশ সাময়িকভাবে প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়।

২য় অধ্যায়: সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 2)

প্রশ্ন ৬: ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকা প্রকাশের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • উত্তর: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে উমেশচন্দ্র দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল— ১. অন্তঃপুরবাসিনী বাঙালি নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং তাদের জ্ঞান ও রুচির বিকাশ ঘটানো। ২. বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে নারীসমাজের সার্বিক উন্নতি সাধন করা।

প্রশ্ন ৭: ‘মেকলে মিনিট’ (Macaulay Minute) বা মেকলের প্রতিবেদন কী?

  • উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি গভর্নর জেনারেলের আইনসভার সদস্য ও জনশিক্ষা কমিটির সভাপতি টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের পক্ষে বড়োলাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে যে বিখ্যাত প্রস্তাব পেশ করেন, তা ‘মেকলে মিনিট’ নামে পরিচিত। এই প্রতিবেদনে তিনি ‘চুঁইয়ে পড়া নীতি’ (Downward Filtration Theory)-র মাধ্যমে উচ্চবিত্ত ভারতীয়দের ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করার কথা বলেন।

প্রশ্ন ৮: ‘উডের ডেসপ্যাচ’ (Wood’s Despatch – ১৮৫৪)-কে ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয় কেন?

  • উত্তর: ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনামা প্রকাশ করেন। এর ভিত্তিতেই ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়, শিক্ষা দপ্তর গঠিত হয় এবং স্ত্রীশিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের সূচনা হয় বলে একে ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার ‘ম্যাগনাকার্টা’ (মহাসনদ) বলা হয়।

প্রশ্ন ৯: মধুসূদন গুপ্ত স্মরণীয় কেন?

  • উত্তর: ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি কলকাতা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ও পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত ভারতের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সংস্কার ও কুসংস্কার ভেঙে প্রথম ভারতীয় হিসেবে শবব্যবচ্ছেদ (Dead body dissection) করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই যুগান্তকারী ঘটনার জন্যই তিনি স্মরণীয়।

প্রশ্ন ১০: নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী বা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ (Young Bengal) কাদের বলা হতো?

  • উত্তর: উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর যুক্তিবাদী ও মুক্তচিন্তার আদর্শে অনুপ্রাণিত ছাত্রদের (যেমন—কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক প্রমুখ) একত্রে ‘নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী’ বা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ বলা হতো।

প্রশ্ন ১১: ‘তিন আইন’ (Act III of 1872) কী?

  • উত্তর: কেশবচন্দ্র সেনের প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ সরকার ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে যে সমাজসংস্কারমূলক আইন পাস করে, তা ‘তিন আইন’ নামে পরিচিত। এই আইনের দ্বারা বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিধবাবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহকে আইনগত বৈধতা দেওয়া হয়।

৩য় অধ্যায়: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 3)

প্রশ্ন ১২: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের অরণ্য আইনের দ্বারা অরণ্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয় ও কী কী?

  • উত্তর: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় ভারতীয় অরণ্য আইনের দ্বারা ভারতের অরণ্যভূমিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়—(১) সংরক্ষিত অরণ্য (Reserved Forest — যেখানে আদিবাসীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল), (২) সুরক্ষিত অরণ্য (Protected Forest) এবং (৩) গ্রামীণ অরণ্য (Village Forest)।

প্রশ্ন ১৩: ‘চুয়ার’ ও ‘দিকু’ বলতে কাদের বোঝানো হতো?

  • উত্তর:
    • চুয়ার: জঙ্গলমহল অঞ্চলের আদিম অধিবাসী বা ভূমিজ কৃষকদের ব্রিটিশ ও জমিদাররা অবজ্ঞা করে ‘চুয়ার’ (যার আক্ষরিক অর্থ দুর্বৃত্ত বা বর্বর) বলত।
    • দিকু: কোল, সাঁওতাল ও মুন্ডা অধ্যুষিত আদিবাসী অঞ্চলে বাইরে থেকে আসা অত্যাচারী মহাজন, জমিদার ও ঠিকাদারদের আদিবাসীরা ‘দিকু’ (বহিরাগত শত্রু) বলত।

প্রশ্ন ১৪: ‘কেনাপাড়া’ বা ‘খুঁৎকাঠি’ প্রথা কী?

  • উত্তর: মুন্ডা আদিবাসী সমাজে প্রচলিত যৌথ মালিকানাভিত্তিক ভূমিব্যবস্থাকে ‘খুঁৎকাঠি’ প্রথা বলা হতো। এই প্রথায় মুন্ডারা যৌথভাবে জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করত এবং জমির ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না। ব্রিটিশ সরকার এই প্রথা বাতিল করে ব্যক্তিগত জমিদারি প্রথা চালু করলে মুন্ডা বিদ্রোহের (১৮৯৯–১৯০০) সূচনা হয়।

প্রশ্ন ১৫: ‘বারাসাত বিদ্রোহ’ কী?

  • উত্তর: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মীর নিসার আলি বা তিতুমিরের নেতৃত্বে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত ও বসিরহাট অঞ্চলে অত্যাচারী জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যে ওয়াহাবি ধর্মসংস্কার ও কৃষক অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তা ‘বারাসাত বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। তিতুমির নারকেলবেড়িয়া গ্রামে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে লড়াই করেছিলেন।

প্রশ্ন ১৬: ‘এলাকা চাষ’ ও ‘বে-এলাকা চাষ’ (রায়তি চাষ) বলতে কী বোঝায়?

  • উত্তর:
    • এলাকা চাষ (নিজ আবাদি): নীলকর সাহেবরা যখন নিজেদের কেনা বা ভাড়া নেওয়া জমিতে ভাড়াটে শ্রমিক দিয়ে নীল চাষ করাত, তাকে ‘এলাকা চাষ’ বলা হতো।
    • বে-এলাকা চাষ (রায়তি চাষ): নীলকররা যখন দরিদ্র চাষিদের জোর করে অগ্রিম টাকা বা ‘দাদন’ দিয়ে চাষির নিজস্ব উর্বর ধানের জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করত, তাকে ‘বে-এলাকা চাষ’ বলা হতো।

৪র্থ অধ্যায়: সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 4)

প্রশ্ন ১৭: ‘মহারানির ঘোষণাপত্র’ (Queen’s Proclamation – ১৮৫৮)-এর দুটি প্রধান প্রতিশ্রুতি কী ছিল?

  • উত্তর: ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর এলাহাবাদ দরবারে লর্ড ক্যানিং পাঠ করা মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রের দুটি প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল— ১. ব্রিটিশ সরকার ভারতে আর কোনো দেশীয় রাজ্য গ্রাস করবে না এবং স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হলো। ২. জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে ভারতীয়দের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে এবং দেশীয়দের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না।

প্রশ্ন ১৮: উনিশ শতককে ‘সভাসমিতির যুগ’ (Age of Associations) বলা হয় কেন?

  • উত্তর: উনিশ শতকের মধ্যভাগে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বাংলা তথা ভারতের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিজেদের দাবি-দাওয়া জানানোর জন্য একের পর এক রাজনৈতিক সংগঠন—যেমন বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা (১৮৩৬), জমিদার সভা (১৮৩৮), ভারতসভা (১৮৭৬) ও জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫)—গড়ে তোলে। তাই ঐতিহাসিক অনিল শীল উনিশ শতককে ‘সভাসমিতির যুগ’ বলেছেন।

প্রশ্ন ১৯: ‘ইলবার্ট বিল বিতর্ক’ (Ilbert Bill Controversy) কী?

  • উত্তর: ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড রিপনের আইনসভার সদস্য সি. পি. ইলবার্ট একটি খসড়া আইনে প্রস্তাব করেন যে, ভারতীয় বিচারকরাও শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারবেন। ইউরোপীয়রা এই বিলের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে সরকার বিলটি সংশোধন করতে বাধ্য হয়—এই ঘটনা ‘ইলবার্ট বিল বিতর্ক’ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ২০: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্রগুলি কীভাবে উপনিবেশিক সমাজের সমালোচনা করেছিল?

  • উত্তর: শিল্পী গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বিরূপ বজ্র’, ‘অদ্ভুত লোক’ ও ‘নব হুল্লোড়’ গ্রন্থের ব্যঙ্গচিত্রগুলির মাধ্যমে একদিকে ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচার এবং অন্যদিকে পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণকারী তথাকথিত বাবু বাঙালিদের ভণ্ডামি, দুর্নীতি ও ঔপনিবেশিক শিক্ষা-ব্যবস্থার (‘বিদ্যার কারখানা’) তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

৫ম অধ্যায়: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 5)

প্রশ্ন ২১: ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ কাদের বলা হয়?

  • উত্তর: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন ও ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করে বাংলা মুদ্রণ ও শিক্ষাবিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী তিনজন খ্রিস্টান মিশনারি—উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড-কে একত্রে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হয়।

প্রশ্ন ২২: পঞ্চানন কর্মকার ও চার্লস উইলকিন্স স্মরণীয় কেন?

  • উত্তর: চার্লস উইলকিন্স ও তাঁর সহযোগী বাঙালি শিল্পী পঞ্চানন কর্মকার সর্বপ্রথম ছাপার কাজের জন্য সচল বাংলা ধাতব হরফ (Movable Bengali Typeface) তৈরি করেছিলেন (১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হ্যালহেডের ব্যাকরণ গ্রন্থে ব্যবহৃত)। এ জন্য চার্লস উইলকিন্সকে ‘বাংলার গুটেনবার্গ’ বলা হয় এবং পঞ্চানন কর্মকার বাংলা মুদ্রণশিল্পের পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয়।

প্রশ্ন ২৩: মহেন্দ্রলাল সরকার কেন ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্স’ (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন?

  • উত্তর: ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার ভারতীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানচেতনার প্রসার ঘটানোর উদ্দেশ্যে কলকাতায় IACS প্রতিষ্ঠা করেন। এখানেই গবেষণা করে বিজ্ঞানী সি. ভি. রমন নোবেল পুরস্কার পান।

প্রশ্ন ২৪: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠার মূল আদর্শ কী ছিল?

  • উত্তর: ঔপনিবেশিক তোতাকাহিনি-মার্কা যান্ত্রিক শিক্ষার পরিবর্তে প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটানো এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বমানবতার মিলনক্ষেত্র (“যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্”) গড়ে তোলাই ছিল ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার মূল আদর্শ।

৬ষ্ঠ অধ্যায়: বিশ শতকে ভারতের কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 6)

প্রশ্ন ২৫: ‘তিনকাঠিয়া প্রথা’ ও ‘তেভাগা আন্দোলন’ কী?

  • উত্তর:
    • তিনকাঠিয়া প্রথা: বিহারের চম্পারণ অঞ্চলে নীলকর সাহেবরা কৃষকদের প্রতি বিঘা (২০ কাঠা) জমির মধ্যে ৩ কাঠা জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করত—একেই ‘তিনকাঠিয়া প্রথা’ বলা হতো।
    • তেভাগা আন্দোলন: ১৯৪৬–৪৭ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষকসভার নেতৃত্বে বাংলার ভাগচাষিরা উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক অংশের পরিবর্তে দুই-তৃতীয়াংশ (তিন ভাগের দুই ভাগ) ফসলের দাবিতে জোতদারদের বিরুদ্ধে যে জঙ্গি কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলে, তাকে ‘তেভাগা আন্দোলন’ বলে।

প্রশ্ন ২৬: ‘বারদৌলি সত্যাগ্রহ’ কেন ও কার নেতৃত্বে হয়েছিল?

  • উত্তর: ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকে ব্রিটিশ সরকার অযৌক্তিকভাবে ভূমি-রাজস্বের হার ২২ শতাংশ বৃদ্ধি করলে বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকরা খাজনা বন্ধের সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের সাফল্যে সেখানকার নারীরা প্যাটেলকে ‘সর্দার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

প্রশ্ন ২৭: ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ (১৯২৯) কী?

  • উত্তর: ভারতে ক্রমবর্ধমান শ্রমিক ও কমিউনিস্ট আন্দোলনকে দমন করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে মুজফ্ফর আহমেদ, এস. এ. ডাঙ্গে, ফিলিপ স্প্র্যাট প্রমুখ ৩৩ জন বামপন্থী ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে মিরাট আদালতে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করে, তা ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে পরিচিত।

৭ম অধ্যায়: বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 7)

প্রশ্ন ২৮: ‘অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি’ কেন ও কার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়?

  • উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের স্কুল-কলেজ থেকে বহিষ্কার করার জন্য সরকার ‘কার্লাইল সার্কুলার’ জারি করে। এই দমনমূলক সার্কুলারের প্রতিবাদে এবং বহিষ্কৃত ছাত্রদের বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য ১৯০৫ সালের ৪ নভেম্বর শচীন্দ্রপ্রসাদ বসুর নেতৃত্বে ‘অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন ২৯: ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ (Corridor Warfare) কী?

  • উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের তিন তরুণ বিপ্লবী—বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত এবং দীনেশ গুপ্ত—কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংসে (মহাকরণ) প্রবেশ করে কুখ্যাত কারা অধিকর্তা সিম্পসনকে হত্যা করেন এবং রাইটার্সের বারান্দায় ব্রিটিশ পুলিশের সাথে যে অসম সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হন, তা ইতিহাসে ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ৩০: মাতঙ্গিনী হাজরা ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণীয় কেন?

  • উত্তর:
    • মাতঙ্গিনী হাজরা: ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তমলুক থানা দখলের অভিযানে ৭৩ বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা হাতে জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে রেখে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। তিনি ‘গান্ধিবুড়ি’ নামে পরিচিত।
    • প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: মাস্টারদা সূর্য সেনের ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’-র সদস্যা প্রীতিলতা ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলি ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করেন এবং পুলিশের হাতে ধরা না দিয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে প্রথম নারী শহিদ হিসেবে আত্মবলিদান দেন।

প্রশ্ন ৩১: ‘রশিদ আলি দিবস’ কেন পালিত হয়েছিল?

  • উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন আব্দুল রশিদ আলিকে ব্রিটিশ সামরিক আদালত ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলে তার প্রতিবাদে এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করে—এই দিনটি ‘রশিদ আলি দিবস’ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ৩২: ‘পুনা চুক্তি’ (১৯৩২) কাদের মধ্যে এবং কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

  • উত্তর: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা नीति’ (১৯৩২) ঘোষণা করে দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে মহাত্মা গান্ধি অনশন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গান্ধিজি ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘পুনা চুক্তি’র মাধ্যমে যৌথ নির্বাচনের মধ্যে দলিতদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

৮ম অধ্যায়: উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত (১৯৪৭–১৯৬৪) — ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (Chapter 8)

প্রশ্ন ৩৩: ‘দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির দলিল’ বা ‘Instrument of Accession’ কী?

  • উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশীয় রাজ্যগুলির রাজারা প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য যে আইনগত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, তাকে ‘ভারতভুক্তির দলিল’ বা ‘Instrument of Accession’ বলা হয়।

প্রশ্ন ৩৪: জুনাগড় ও হায়দরাবাদ কীভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়?

  • উত্তর:
    • জুনাগড়: ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে গণভোটের (Plebiscite) মাধ্যমে জুনাগড়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ভারতে যোগদানের পক্ষে রায় দিলে জুনাগড় ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
    • হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদের নিজাম ভারতে যোগ দিতে অস্বীকার করলে এবং রাজাকার বাহিনী অত্যাচার শুরু করলে ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন পোলো’ (Operation Polo) নামক পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে হায়দরাবাদকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রশ্ন ৩৫: ‘নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি’ বা ‘দিল্লি চুক্তি’ (১৯৫০) কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

  • উত্তর: দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান করতে এবং উভয় দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদের জানমাল ও সমানাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৮ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি খানের মধ্যে ‘দিল্লি চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

প্রশ্ন ৩৬: ‘পত্তি শ্রীরামালু’ কে ছিলেন? ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কবে গঠিত হয়?

  • উত্তর: পত্তি শ্রীরামালু ছিলেন একজন বিশিষ্ট গান্ধিবাদী নেতা, যিনি তেলুগু ভাষাভাষীদের জন্য পৃথক ‘অন্ধ্রপ্রদেশ’ রাজ্য গঠনের দাবিতে ৫৮ দিন অনশন করে ১৯৫২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এর ফলে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে বিচারপতি ফজল আলির সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ গঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয়।

মাধ্যমিক ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্নে ২২-এ ২২ পাওয়ার খাতা সাজানোর টিপস

১. ২–৩টি বাক্যে টু-দ্য-পয়েন্ট উত্তর: ২ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর অযথা বড়ো না করে আমাদের দেওয়া উত্তরের মতো ১ এবং ২ নম্বর বুলেট পয়েন্ট করে অথবা ২–৩টি পূর্ণ বাক্যে লিখবে। ২. সাল, তারিখ ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম: উত্তরের মধ্যে অবশ্যই ঘটনাটির সাল (যেমন—১৮৫৪, ১৮৭৬, ১৯০৫, ১৯৪৮) এবং প্রাসঙ্গিক ব্যক্তির নাম কালো কালিতে হাইলাইট করবে। সাল ও মূল তথ্য ঠিক থাকলে ২-এ ২ দিতে পরীক্ষক বাধ্য।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)

মাধ্যমিক ২০২৭ বিষয়ভিত্তিক সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড (গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনাল লিঙ্ক):

মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস পরীক্ষায় ২ নম্বরের মোট কয়টি প্রশ্ন থাকে এবং কয়টি লিখতে হয়? উত্তর: মাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নপত্রের বিভাগ ‘গ’-তে ৩ নং দাগে ১ম থেকে ৮ম অধ্যায় মিলিয়ে মোট ১৬টি ২ নম্বরের প্রশ্ন দেওয়া থাকে, যার মধ্যে যেকোনো ১১টি প্রশ্নের উত্তর (১১ × ২ = ২২ নম্বর) লিখতে হয়।

প্রশ্ন ২: ইতিহাসে ২ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর কত শব্দের মধ্যে লেখা উচিত? উত্তর: পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী ২ নম্বরের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ২ থেকে ৩টি বাক্যে (কমবেশি ৩০–৪০ শব্দে) বা দুটি স্পষ্ট পয়েন্টে লেখা সবচেয়ে ভালো।

প্রশ্ন ৩: ২ নম্বরের প্রশ্নের জন্য কোন অধ্যায়গুলি সবচেয়ে সহজ ও স্কোরিং? উত্তর: ১ম অধ্যায় (ইতিহাসের ধারণা), ২য় অধ্যায় (সংস্কার), ৫ম অধ্যায় (বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ) এবং ৮ম অধ্যায় (উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত) থেকে প্রতি বছর খুব সহজ ও সরাসরি প্রশ্ন কমন পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৪: মাধ্যমিক ইতিহাসের ৪ ও ৮ নম্বরের বড়ো প্রশ্নের সাজেশন কোথায় পাব? উত্তর: আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২৭ (৪ ও ৮ নম্বরের প্রশ্নোত্তর PDF) পোস্টে ৪ ও ৮ নম্বরের সমস্ত বড়ো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া রয়েছে।

প্রশ্ন ৫: মাধ্যমিক 2027 ইতিহাস চ্যালেঞ্জার পিডিএফ বইটি কীভাবে ডাউনলোড করব? উত্তর: আমাদের অফিসিয়াল বুক লাইব্রেরি books.wbbsenote.in/wbbse-madhyamik-history-challenger-pdf/ থেকে অধ্যায়ভিত্তিক নোট, MCQ, SAQ ও বড়ো প্রশ্নের সম্পূর্ণ ই-বুকটি সংগ্রহ করতে পারবে।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (Debashis Mukherjee) ✓
👨🏫 ইতিহাস শিক্ষক (History) • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১৪+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (Debashis Mukherjee)
🎓 M.A. (History), B.Ed., WBSET Qualified
দেবাশিস মুখোপাধ্যায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার) ইতিহাসের একজন প্রবীণ শিক্ষক। ১ নম্বরের MCQ/SAQ থেকে শুরু করে ৪ ও ৮ নম্বরের বড় প্রশ্নের পয়েন্ট-ভিত্তিক উত্তর তৈরিতে তিনি পারদর্শী।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!