উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব (সমাজবিজ্ঞান) সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Sociology Semester 4 Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, লিঙ্গ ও যৌনতা, গণমাধ্যম ও সামাজিক আন্দোলন ৪০ নম্বর)
পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশ শ্রেণির (Class 12 / HS) কলা বিভাগের চূড়ান্ত লিখিত বোর্ড পরীক্ষা হলো ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ৪র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব বা সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা (Semester 4 Sociology — ৪০ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক বা SAQ ও LAQ পরীক্ষা)। সংসদের নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আমাদের এই উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব সাজেশন (দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার সমাজবিজ্ঞান সম্পূর্ণ সাজেশন ও WBCHSE Class 12 Sociology Semester 4 Suggestion PDF) আর্টিকেলে আমরা ৪র্থ সেমিস্টারের ৬টি অধ্যায়—জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব ও অভিবাসন, দুর্নীতি ও সাম্প্রতিক আইন, লিঙ্গ ও যৌনতা (Sex ও Gender, LGBTQ+ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা), পরিবেশ সংকট ও প্রতিক্রিয়া, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া এবং সামাজিক আন্দোলন (নারীমুক্তি ও পরিবেশ আন্দোলন)—থেকে বাছাই করা ২, ৩ ও ৫/৮ নম্বরের প্রশ্নের সম্পূর্ণ আদর্শ উত্তর পরিষ্কার প্যারাগ্রাফে সাজিয়ে দিয়েছি।
- উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব (সমাজবিজ্ঞান) সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Sociology Semester 4 Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, লিঙ্গ ও যৌনতা, গণমাধ্যম ও সামাজিক আন্দোলন ৪০ নম্বর)
- উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব নতুন সিলেবাস ও অধ্যায় তালিকা (WBCHSE Class 12 Semester 4 Sociology Syllabus & Blueprint)
- ১. বিভাগ – ক: ২ ও ৩ নম্বরের মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ — নিশ্চিত কমন)
- ২. বিভাগ – খ: ৫/৮ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — নিশ্চিত কমন)
- প্রশ্ন ১: ভারতে ‘দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও বেকারত্ব’—এই তিনটি সামাজিক সমস্যার পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করো এবং ভারতে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায়গুলি আলোচনা করো। (৫/৮ নম্বর)
- প্রশ্ন ২: ‘সেক্স’ (Sex) ও ‘জেন্ডার’ (Gender)-এর তাত্ত্বিক পার্থক্য বিস্তারিত আলোচনা করো এবং ভারতীয় সমাজে নারীর বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (Gender-based Violence) বিভিন্ন রূপ ও তার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা লেখো। (৫/৮ নম্বর)
- প্রশ্ন ৩: আধুনিক সমাজে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ (Social Media)-র ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব আলোচনা করো এবং ভারতে ‘নারীমুক্তি আন্দোলন’ ও ‘পরিবেশ আন্দোলন’ (চিপকো ও নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন)-এর গুরুত্ব লেখো। (৫/৮ নম্বর)
- প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
- উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
চতুর্থ সেমিস্টারের সমস্ত বিষয়ের নোটবুক পিডিএফ সংগ্রহ করতে আমাদের বুক স্টোর দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের সমস্ত নোট বই এবং WBCHSE Semester PDF Store দেখে নিতে পারো।
উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব নতুন সিলেবাস ও অধ্যায় তালিকা (WBCHSE Class 12 Semester 4 Sociology Syllabus & Blueprint)
দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্বে বা সমাজবিজ্ঞানে (পূর্ণমান: ৪০ লিখিত + ১০ প্রজেক্ট/মৌখিক, সময়: ২ ঘণ্টা) মোট ৬টি অধ্যায় থেকে সংক্ষিপ্ত (২ ও ৩ নম্বর) এবং রচনাধর্মী বড়ো প্রশ্ন (৫/৮ নম্বর) আসবে:
| অধ্যায় ক্রম (Chapter) | নির্ধারিত পাঠ্য অধ্যায়সমূহ (Prescribed Chapters — Class 12 Sociology Semester 4) | গুরুত্বপূর্ণ টপিক (Must-Read Topics for Exam) | প্রশ্নের ধরন |
| অধ্যায় ১ | জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, সামাজিক গতিশীলতা ও অভিবাসন | • জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কারণ ও ফলাফল ; • দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও বেকারত্বের আন্তঃসম্পর্ক ও সমাধান ; • সামাজিক গতিশীলতা (উল্লম্ব ও অনুভূমিক) এবং গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন (Push ও Pull ফ্যাক্টর) | ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও বড়ো প্রশ্ন |
| অধ্যায় ২ | দুর্নীতি — ধারণা ও সাম্প্রতিক আইনসমূহ (Corruption & Recent Legislations) | • দুর্নীতির সংজ্ঞা, কারণ ও প্রশাসনিক প্রভাব ; • তথ্যের অধিকার আইন (RTI 2005), লোকপাল ও লোকাযুক্ত আইন (2013) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন | ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও বড়ো প্রশ্ন |
| অধ্যায় ৩ | লিঙ্গ ও যৌনতা — সেক্স ও জেন্ডার, নারী, LGBTQ+ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা | • Sex (জৈবিক লিঙ্গ) ও Gender (সামাজিক লিঙ্গ)-এর তাত্ত্বিক পার্থক্য ; • LGBTQ+-এর ধারণা ও সমস্যা ; • নারী নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন |
২ নম্বর, ৩ নম্বর ও বড়ো প্রশ্ন |
| অধ্যায় ৪ | পরিবেশ — সংকট ও প্রতিক্রিয়া (রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ) | • পরিবেশ সংকট ও দূষণের কারণ ; • পরিবেশ রক্ষায় সরকারি আইন ও বেসরকারি সংস্থা (NGO)-র ভূমিকা | ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও বড়ো প্রশ্ন |
| অধ্যায় ৫ | গণমাধ্যম — প্রিন্ট মিডিয়া, টেলিমিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া (Mass Media) | • সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের ভূমিকা ; • সোশ্যাল মিডিয়া (Facebook, YouTube, Instagram, Reels, Vlog) ও সমাজে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব |
২ নম্বর, ৩ নম্বর ও বড়ো প্রশ্ন |
| অধ্যায় ৬ | সামাজিক আন্দোলন — নারীমুক্তি আন্দোলন ও পরিবেশ আন্দোলন (Social Movements) | • সামাজিক আন্দোলনের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব ; • ভারতে নারীমুক্তি আন্দোলনের দাবি ও সাফল্য ; • ভারতের পরিবেশ আন্দোলন (চিপকো, নর্মদা বাঁচাও ও সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন) | ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও বড়ো প্রশ্ন |
১. বিভাগ – ক: ২ ও ৩ নম্বরের মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ — নিশ্চিত কমন)
১. প্রশ্ন: ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’ (Population Explosion) কাকে বলে এবং ভারতে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের দুটি প্রধান কারণ কী?
উত্তর: যখন কোনো দেশে মৃত্যুহার দ্রুত হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও জন্মহার অত্যন্ত উচ্চ থাকে এবং তার ফলে দেশের উপলব্ধ খাদ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অতি দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বৃদ্ধি পায়, তখন সেই জনমিতিক পরিস্থিতিকে ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’ বলে। ভারতে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের দুটি প্রধান সামাজিক কারণ হলো—(১) বাল্যবিবাহ ও সর্বজনীন বিবাহ প্রথা এবং (২) পুত্রসন্তান লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, নিরক্ষরতা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কুসংস্কার।
২. প্রশ্ন: ‘চরম দারিদ্র্য’ (Absolute Poverty) ও ‘আপেক্ষিক দারিদ্র্য’ (Relative Poverty) এবং ‘প্রচ্ছন্ন বা ছদ্ম বেকারত্ব’ (Disguised Unemployment) কাকে বলে?
উত্তর: যখন কোনো মানুষ জীবনধারণের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাগুলি—অন্ন (দৈনিক ন্যূনতম ক্যালোরি), বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা—জোগাড় করতেও ব্যর্থ হয়, তখন তাকে ‘চরম দারিদ্র্য’ বলে। আর সমাজের উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রার মানের তুলনায় নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের আয় ও সম্পদের তুলনামূলক ঘাটতিকে ‘আপেক্ষিক দারিদ্র্য’ বলে। অন্যদিকে ভারতের কৃষিক্ষেত্রে যেখানে একটি জমিতে ৫ জন শ্রমিকের কাজ ৮ জন মিলে করছে—অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩ জন শ্রমিককে সরিয়ে নিলেও মোট উৎপাদনের কোনো হ্রাস ঘটে না (যাদের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য)—সেই আপাতদৃষ্টিতে কর্মরত থাকা বেকারত্বকে ‘প্রচ্ছন্ন বা ছদ্ম বেকারত্ব’ বলে।
৩. প্রশ্ন: ‘সামাজিক গতিশীলতা’ (Social Mobility) ও ‘অভিবাসন’ (Migration) কাকে বলে? অভিবাসনের ‘Push’ ও ‘Pull’ উপাদান কী?
উত্তর: সমাজতাত্ত্বিক পিটিরিম সরোকিনের মতে, সামাজিক স্তরবিন্যাসে এক সামাজিক অবস্থান বা মর্যাদা থেকে অন্য সামাজিক অবস্থানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্থানান্তরকে ‘সামাজিক গতিশীলতা’ বলে (মর্যাদার পরিবর্তন না হলে তা ‘অনুভূমিক গতিশীলতা’ এবং মর্যাদার উন্নতি বা অবনতি হলে তা ‘উল্লম্ব গতিশীলতা’)। আর কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা নিরাপত্তার তাগিদে মানুষের এক ভৌগোলিক স্থান ছেড়ে অন্য স্থানে (বিশেষত গ্রাম থেকে শহরে) বসবাসের জন্য চলে যাওয়াকে ‘অভিবাসন বা পরিযান’ বলে। গ্রামের দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করে বলে এগুলিকে ‘বিকর্ষণকারী উপাদান’ (Push Factors) এবং শহরের উন্নত চাকরি, মজুরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ মানুষকে আকর্ষণ করে বলে এগুলিকে ‘আকর্ষণকারী উপাদান’ (Pull Factors) বলে।
৪. প্রশ্ন: ‘দুর্নীতি’ (Corruption) বলতে কী বোঝায় এবং ভারতে দুর্নীতি দমনে প্রণীত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের নাম লেখো।
উত্তর: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও সান্থানম কমিটির মতে, জনস্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত অবৈধ আর্থিক ও বৈষয়িক লাভের উদ্দেশ্যে সরকারি পদ, ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের ইচ্ছাকৃত অপব্যবহারকে ‘দুর্নীতি’ বলে (যেমন: ঘুষ গ্রহণ, স্বজনপোষণ ও সরকারি তহবিল তছরুপ)। ভারতে দুর্নীতি দমনে প্রণীত ৩টি প্রধান আইন হলো—(১) দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ (সংশোধিত ২০১৮), (২) তথ্যের অধিকার আইন বা RTI Act, ২০০৫ এবং (৩) লোকপাল ও লোকাযুক্ত আইন, ২০১৩।
৫. প্রশ্ন: ‘সেক্স’ (Sex) ও ‘জেন্ডার’ (Gender)-এর মূল পার্থক্য কী এবং LGBTQ+-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: সমাজতাত্ত্বিক অ্যান ওকলি (Sex, Gender and Society)-র মতে, ‘সেক্স’ (Sex বা জৈবিক লিঙ্গ) হলো নারী ও পুরুষের জন্মগত, শারীরবৃত্তীয় ও জৈবিক পার্থক্য যা প্রকৃতিপ্রদত্ত ও অপরিবর্তনীয়; পক্ষান্তরে ‘জেন্ডার’ (Gender বা সামাজিক লিঙ্গ) হলো সমাজ ও সংস্কৃতি দ্বারা নির্মিত নারীসুলভ ও পুরুষসুলভ ভূমিকা, আচরণ ও শ্রমবিভাজন যা স্থান-কাল ভেদে পরিবর্তনশীল। আর প্রান্তিক যৌন ও লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষদের বোঝাতে ব্যবহৃত LGBTQ+-এর পুরো নাম হলো—L = Lesbian (সমপ্রেমী নারী), G = Gay (সমপ্রেমী পুরুষ), B = Bisexual (উভপ্রেমী), T = Transgender (রূপান্তরকামী বা তৃতীয় লিঙ্গ) এবং Q = Queer / Questioning।
৬. প্রশ্ন: ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ (Social Media) কী এবং এতে ‘ফেক নিউজ’ ও ‘সাইবার বুলিং’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ইন্টারনেট ও ওয়েব ২.০ প্রযুক্তিনির্ভর যে ডিজিটাল মাধ্যমগুলিতে (Facebook, YouTube, Instagram, WhatsApp, X, Reddit, LinkedIn) ব্যবহারকারীরা নিজেরাই তথ্য, ছবি, ভিডিও (Vlog, Reels) তৈরি ও তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বজুড়ে আদানপ্রদান করতে পারে, তাকে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ বলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাচাই না করে গুজব বা মিথ্যা খবর ছড়িয়ে সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করাকে ‘ফেক নিউজ’ (Fake News) এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে মানসিকভাবে হেনস্থা, অপমান বা হুমকি দেওয়াকে ‘সাইবার বুলিং’ (Cyberbullying) বলে।
২. বিভাগ – খ: ৫/৮ নম্বরের রচনামূলক বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (LAQ — নিশ্চিত কমন)
প্রশ্ন ১: ভারতে ‘দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও বেকারত্ব’—এই তিনটি সামাজিক সমস্যার পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করো এবং ভারতে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায়গুলি আলোচনা করো। (৫/৮ নম্বর)
উত্তর:
১. দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও বেকারত্বের দুষ্টচক্র ও আন্তঃসম্পর্ক: ভারতের আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং বেকারত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এরা পরস্পর কার্য-কারণ সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে একটি অবিচ্ছেদ্য ‘দুষ্টচক্র’ (Vicious Circle) তৈরি করেছে—
প্রথমত, দারিদ্র্য থেকে নিরক্ষরতা: যে পরিবার চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে (BPL) বসবাস করে, সেখানে পিতামাতা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে অল্প বয়সেই শিশুশ্রমিক হিসেবে কাজে লাগাতে বাধ্য হন। ফলে দারিদ্র্য সরাসরি নিরক্ষরতা ও স্কুলছুট (Drop-out)-এর জন্ম দেয়।
দ্বিতীয়ত, নিরক্ষরতা থেকে বেকারত্ব: আধুনিক শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে নিরক্ষর ও কারিগরি দক্ষতাহীন মানুষের কোনো স্থায়ী ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে না। ফলে নিরক্ষরতা ও উপযুক্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষার অভাব মানুষকে বেকারত্ব বা স্বল্প-মজুরির অসংগঠিত শ্রমিকের দিকে ঠেলে দেয়।
তৃতীয়ত, বেকারত্ব থেকে পুনরায় দারিদ্র্য: কর্মসংস্থান ও নিয়মিত আয়ের অভাবে বেকার ব্যক্তি নিজের ও পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য, পুষ্টি, বাসস্থান ও চিকিৎসার সংস্থান করতে পারে না এবং ঋণের জালে জড়িয়ে পুনরায় চরম দারিদ্র্যের গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হয়। পাশাপাশি নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের কারণেই পরিবার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ ঘটে, যা বেকারত্বকে আরও তীব্র করে তোলে।
২. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূরীকরণের সমাধানমূলক পদক্ষেপ: প্রথমত, বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার: প্রথাগত পুঁথিগত শিক্ষার পরিবর্তে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী বিদ্যালয় স্তর থেকেই হাতে-কলমে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির প্রসার ঘটাতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৃষির আধুনিকীকরণ ও গ্রামীণ ক্ষুদ্রশিল্পের বিকাশ: কৃষিতে জলসেচ ও বহুমুখী ফসল চাষ এবং গ্রামীণ কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের (MSME) প্রসার ঘটিয়ে প্রচ্ছন্ন ও মরশুমি বেকারত্ব দূর করতে হবে। তৃতীয়ত, সরকারি কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভর প্রকল্প: মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA — ১০০ দিনের কাজ), স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG — আনন্দধারা/জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন) এবং স্বরোজগার প্রকল্পে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
প্রশ্ন ২: ‘সেক্স’ (Sex) ও ‘জেন্ডার’ (Gender)-এর তাত্ত্বিক পার্থক্য বিস্তারিত আলোচনা করো এবং ভারতীয় সমাজে নারীর বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (Gender-based Violence) বিভিন্ন রূপ ও তার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা লেখো। (৫/৮ নম্বর)
উত্তর:
১. ‘সেক্স’ (জৈবিক লিঙ্গ) ও ‘জেন্ডার’ (সামাজিক লিঙ্গ)-এর তাত্ত্বিক পার্থক্য: নারীবাদী সমাজতত্ত্বে (বিশেষত সিমোন দ্য বোভোয়ারের ‘The Second Sex’ এবং অ্যান ওকলির গবেষণায়) ‘সেক্স’ ও ‘জেন্ডার’-কে সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ধারণা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—প্রথমত, উৎস ও প্রকৃতি: ‘সেক্স’ হলো নারী ও পুরুষের জন্মগত, শারীরবৃত্তীয় ও জৈবিক বৈশিষ্ট্য (ক্রোমোজোম, হরমোন ও প্রজনন অঙ্গের পার্থক্য); কিন্তু ‘জেন্ডার’ হলো পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি দ্বারা আরোপিত ‘নারীসুলভ’ (নম্র, গৃহমুখী) ও ‘পুরুষসুলভ’ (সাহসী, উপার্জনকারী) আচরণ ও সামাজিক ভূমিকা। দ্বিতীয়ত, পরিবর্তনশীলতা: জৈবিক লিঙ্গ বা সেক্স সার্বজনীন ও অপরিবর্তনীয় (সন্তান ধারণ কেবল নারীর জৈবিক কাজ); কিন্তু সামাজিক লিঙ্গ বা জেন্ডার স্থান, কাল ও সমাজভেদে পরিবর্তনশীল (সন্তান পালন ও রান্নাবান্না সমাজ নারীকে চাপিয়ে দিয়েছে, যা পুরুষও করতে পারে)। তৃতীয়ত, বৈষম্যের ভিত্তি: জৈবিক পার্থক্যের দোহাই দিয়ে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ জেন্ডার বা লিঙ্গগত শ্রমবিভাজন তৈরি করে নারীকে গৃহে বন্দি ও ক্ষমতাহীন করে রেখেছে।
২. ভারতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার রূপ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: ভারতে একজন নারী জন্মের পূর্ব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন—(ক) কন্যাভ্রূণ হত্যা ও শিশুকন্যা হত্যা (যার ফলে নারী-পুরুষের অনুপাত কমে যাচ্ছে), (খ) বাল্যবিবাহ ও পণপ্রথাজনিত বধূনির্যাতন ও বধূহত্যার ঘটনা, (গ) গার্হস্থ্য হিংসা (Domestic Violence — স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির দ্বারা শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন) এবং (ঘ) কর্মস্থলে ও জনস্থানে যৌন হেনস্থা, ধর্ষণ, অ্যাসিড আক্রমণ ও নারী পাচার। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: ভারত সরকার পণপ্রথা নিষিদ্ধকরণ আইন (১৯৬১), গর্ভধারণ-পূর্ব লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধকরণ আইন (PCPNDT Act, 1994), গার্হস্থ্য হিংসা থেকে নারী সুরক্ষা আইন (২০০৫) এবং কর্মস্থলে যৌন হেনস্থা প্রতিরোধ আইন (POSH Act, 2013) প্রণয়ন করেছে। তবে কেবল আইন নয়, নারীশিক্ষার প্রসার (কন্যাশ্রী ও বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও), নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার আমূল পরিবর্তনই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নির্মূল করতে পারে।
প্রশ্ন ৩: আধুনিক সমাজে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ (Social Media)-র ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব আলোচনা করো এবং ভারতে ‘নারীমুক্তি আন্দোলন’ ও ‘পরিবেশ আন্দোলন’ (চিপকো ও নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন)-এর গুরুত্ব লেখো। (৫/৮ নম্বর)
উত্তর:
১. সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক সামাজিক প্রভাব:
প্রথমত, ইতিবাচক প্রভাব: ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্বকে এক লহমায় যুক্ত করেছে, তথ্যের গণতান্ত্রিকীকরণ ঘটিয়েছে, ইউটিউব ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার সুযোগ অবারিত করেছে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আত্মকর্মসংস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
দ্বিতীয়ত, নেতিবাচক প্রভাব: অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ও রিলস (Reels) আসক্তি তরুণ প্রজন্মের মনোযোগ ও পড়াশোনার ক্ষতি করছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মুখোমুখি মানবিক যোগাযোগ নষ্ট করে মানসিক একাকীত্ব ও অবসাদ বাড়াচ্ছে এবং ফেক নিউজ (গুজব), সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা ও ডিপফেকের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধ্বংস করছে।
২. ভারতে নারীমুক্তি আন্দোলন ও পরিবেশ আন্দোলনের গুরুত্ব:
প্রথমত, নারীমুক্তি আন্দোলন: উনিশ শতকে রাজা রামমোহন রায় ও বিদ্যাসাগরের সমাজসংস্কারের হাত ধরে শুরু হয়ে বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে ভারতে স্বতন্ত্র নারীমুক্তি আন্দোলন গড়ে ওঠে (মথুরা ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদ, পণপ্রথা ও মদ্যপান বিরোধী আন্দোলন, শাহ বানো মামলা ও নির্ভয়া আন্দোলন)। এর ফলেই ভারতে গার্হস্থ্য হিংসা রোধ আইন (২০০৫), পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যার সমানাধিকার (২০০৫), কর্মস্থলে বিশাখা গাইডলাইন এবং পঞ্চায়েত ও আইনসভায় নারীদের আসন সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, পরিবেশ আন্দোলন: উন্নয়নের নামে নির্বিচারে অরণ্যবিনাশ ও নদীবাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ভারতের প্রান্তিক মানুষ ও নারীরা ঐতিহাসিক পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। যেমন—১৯৭৩ সালে উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয়ে সুন্দরলাল বহুগুণা, চণ্ডীপ্রসাদ ভট্ট ও গৌরা দেবীর নেতৃত্বে ‘চিপকো আন্দোলন’ (যেখানে গ্রামবাসী ও নারীরা গাছকে জড়িয়ে ধরে ঠিকাদারদের কুড়ুল থেকে অরণ্য রক্ষা করেছিলেন), কর্ণাটকের ‘আপ্পিকো আন্দোলন’, কেরালার ‘সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন’ এবং মেধা পাটকর ও বাবা আমতের নেতৃত্বে ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ (সর্দার সরোবর বাঁধের ফলে উদ্বাস্তু আদিবাসীদের পুনর্বাসন ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন)। এই আন্দোলনগুলি ভারত সরকারকে পরিবেশ সুরক্ষা আইন প্রণয়নে বাধ্য করেছে।
প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
উচ্চমাধ্যমিক ৩য় ও ৪র্থ সেমিস্টার সমস্ত বিষয়ের সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড:
- উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেমিস্টার অল-সাবজেক্ট পিডিএফ বুক স্টোর: দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের সমস্ত নোট বই | WBCHSE Semester 1–4 PDF Store
- উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, শিক্ষাবিজ্ঞান ও দর্শন: দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান নোট বই PDF | দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের ইতিহাস নোট বই PDF | দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষা বিজ্ঞান নোট বই PDF | দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের দর্শন নোট বই PDF
- উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার ৪ অল-সাবজেক্ট ক্যাটাগরি হাব: Class 12 Semester 4 (SAQ & LAQ) | উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন ২০২৭
উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্রশ্ন ১: উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব (Sociology) পরীক্ষায় মোট কত নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়?
উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্ব বা সমাজবিজ্ঞানে মোট ৪০ নম্বরের বর্ণনামূলক লিখিত পরীক্ষা (২ নম্বর, ৩ নম্বর ও ৫/৮ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন) অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ২: ৪র্থ সেমিস্টার সমাজতত্ত্বে ১ম অধ্যায় থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বড়ো প্রশ্ন কোনটি?
উত্তর: ভারতের জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কারণ ও ফলাফল, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও বেকারত্বের আন্তঃসম্পর্ক ও সমাধান এবং গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনের কারণ (Push ও Pull ফ্যাক্টর) ও প্রভাব।
প্রশ্ন ৩: লিঙ্গ ও যৌনতা এবং গণমাধ্যম অধ্যায় থেকে কোন প্রশ্ন দুটি অবশ্যই পড়তে হবে?
উত্তর: ‘সেক্স’ (জৈবিক লিঙ্গ) ও ‘জেন্ডার’ (সামাজিক লিঙ্গ)-এর তাত্ত্বিক পার্থক্য ও নারী নির্যাতন এবং আধুনিক সমাজে সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব।
প্রশ্ন ৪: সামাজিক আন্দোলন অধ্যায় থেকে কোন দুটি আন্দোলন পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসে?
উত্তর: ভারতে নারীমুক্তি আন্দোলনের লক্ষ্য ও সাফল্য এবং পরিবেশ আন্দোলন (বিশেষত চিপকো আন্দোলন ও নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন)।





