WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা (বায়োলজি) সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Biology (Biological Sciences) Semester 4 Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (মানবকল্যাণ, জৈবপ্রযুক্তি ও বাস্তুবিদ্যা ৩৫ নম্বর)

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা (বায়োলজি) সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Biology (Biological Sciences) Semester 4 Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (মানবকল্যাণ, জৈবপ্রযুক্তি ও বাস্তুবিদ্যা ৩৫ নম্বর)

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশ শ্রেণির (Class 12 / HS) চূড়ান্ত লিখিত বোর্ড পরীক্ষা হলো ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ৪র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা বা বায়োলজি পরীক্ষা (Semester 4 Biological Sciences — ৩৫ নম্বরের ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক পরীক্ষা)। সংসদের নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আমাদের এই উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা সাজেশন (দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার বায়োলজি সম্পূর্ণ সাজেশন ও WBCHSE Class 12 Biology Semester 4 Suggestion PDF) আর্টিকেলে আমরা ৪র্থ সেমিস্টারের তিনটি প্রধান ইউনিট—Unit 1: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (১০ নম্বর), Unit 2: জৈবপ্রযুক্তি ও তার প্রয়োগ (১২ নম্বর) এবং Unit 3: বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ (১৩ নম্বর)—থেকে বাছাই করা ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নের সম্পূর্ণ আদর্শ উত্তর পরিষ্কার প্যারাগ্রাফে সাজিয়ে দিয়েছি।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা (বায়োলজি) সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Biology (Biological Sciences) Semester 4 Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (মানবকল্যাণ, জৈবপ্রযুক্তি ও বাস্তুবিদ্যা ৩৫ নম্বর)
  2. উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন (WBCHSE Class 12 Semester 4 Biology Syllabus & Blueprint)
  3. ১. Unit – 1: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (Biology and Human Welfare) — ২ ও ৩ নম্বরের সম্পূর্ণ উত্তর (১০ নম্বর নিশ্চিত)
  4. প্রশ্ন ১: একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি অণুর (ইমিউনোগ্লোবুলিন IgG) গঠন বর্ণনা করো এবং পাঁচ প্রকার ইমিউনোগ্লোবুলিনের (IgG, IgA, IgM, IgE, IgD) একটি করে প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো। (৩ নম্বর)
  5. প্রশ্ন ২: (ক) ‘রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা’ (Humoral Immunity) ও ‘কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা’ (Cell-mediated Immunity)-র পার্থক্য লেখো এবং (খ) উদ্ভিদ কলাপালনে ‘টোটিপোটেন্সি’, ‘ক্যালাস’, ‘মাইক্রোপ্রোপাগেশন’ এবং ‘নর্দমার জল শোধনে (Sewage Treatment) ফ্লক ও BOD’-এর ভূমিকা লেখো। (৩+৩ নম্বর)
  6. ২. Unit – 2: জৈবপ্রযুক্তি ও তার প্রয়োগ (Biotechnology and its Applications) — ৩ ও ৪ নম্বরের সম্পূর্ণ উত্তর (১২ নম্বর নিশ্চিত)
  7. প্রশ্ন ৩: ক্লোনিং ভেক্টর প্লাজমিড pBR322-এর গঠন ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো এবং ‘পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন’ (PCR)-এর তিনটি ধাপ ও গুরুত্ব লেখো। (৪ নম্বর)
  8. প্রশ্ন ৪: রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির সাহায্যে কীভাবে কৃত্রিম মানব ইনসুলিন (‘হিউমুলিন’) তৈরি করা হয়? ‘জিন থেরাপি’ (Gene Therapy) এবং ‘বায়োপাইরেসি’ (Biopiracy) ও ‘বায়োপ্যাটেন্ট’ বলতে কী বোঝো? (৪ নম্বর)
  9. ৩. Unit – 3: বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ (Ecology and Environment) — ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (১৩ নম্বর নিশ্চিত)
  10. প্রশ্ন ৫ (বড়ো প্রশ্ন): পপুলেশন বৃদ্ধির ‘J’-আকৃতির (সূচকীয়) এবং ‘S’-আকৃতির (লজিস্টিক) লেখচিত্র দুটি সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো এবং বিভিন্ন প্রকার পপুলেশন আন্তঃক্রিয়া (ধনাত্মক ও ঋণাত্মক) উদাহরণসহ আলোচনা করো। (৫ নম্বর)
  11. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 
  12. উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

চতুর্থ সেমিস্টারের সমস্ত বিষয়ের নোটবুক পিডিএফ সংগ্রহ করতে আমাদের বুক স্টোর দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের সমস্ত নোট বই এবং WBCHSE Semester PDF Store দেখে নিতে পারো।

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন (WBCHSE Class 12 Semester 4 Biology Syllabus & Blueprint)

দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যায় (পূর্ণমান: ৩৫ লিখিত + ১৫ প্র্যাকটিক্যাল, সময়: ২ ঘণ্টা) তিনটি ইউনিট থেকে কীভাবে ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন আসবে, তার অফিশিয়াল ছক নিচে দেওয়া হলো:

ইউনিট ও বিভাগ (Syllabus Unit) নির্ধারিত পাঠ্য অধ্যায়সমূহ (Prescribed Chapters — Class 12 Biology Semester 4) ২ নম্বর (SAQ) ৩ নম্বর (Short) ৪ নম্বর (Case/Comp.) ৫ নম্বর (LAQ) মোট নম্বর
Unit – 1: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (Biology & Human Welfare) ১. মানব স্বাস্থ্য ও রোগ (অনাক্রম্যতা, অ্যান্টিবডি, ম্যালেরিয়া, ক্যান্সার, এইডস) ; ২. খাদ্য উৎপাদনে উন্নতিসাধন (সংকর ওজ, কলাপালন, মাইক্রোপ্রোপাগেশন, SCP) ; ৩. মানবকল্যাণে অণুজীব (বর্জ্য জল শোধন, বায়োগ্যাস, জৈব সার ও বায়োপেস্টিসাইড) ২×২ = ৪ ২×৩ = ৬ — — ১০ নম্বর
Unit – 2: জৈবপ্রযুক্তি ও তার প্রয়োগ (Biotechnology & Applications) ৪. জৈবপ্রযুক্তির নীতি ও প্রক্রিয়া (rDNA প্রযুক্তি, রেস্ট্রিকশন উৎসেচক, প্লাজমিড pBR322, জেল ইলেকট্রোফোরেসিস ও PCR) ; ৫. জৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগ (Bt ফসল, রিকম্বিন্যান্ট ইনসুলিন, জিন থেরাপি, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, বায়োপাইরেসি ও বায়োপ্যাটেন্ট) ১×২ = ২ ২×৩ = ৬ ১×৪ = ৪ — ১২ নম্বর
Unit – 3: বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ (Ecology & Environment) ৬. জীব ও পপুলেশন (J ও S আকৃতির বৃদ্ধি লেখচিত্র, বয়সের পিরামিড ও পপুলেশন আন্তঃক্রিয়া) ; ৭. বাস্তুতন্ত্র (শক্তিপ্রবাহ, পিরামিড, পর্যায়ক্রম) ; ৮. জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সমস্যা (হটস্পট, ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) ১×২ = ২ ২×৩ = ৬ — ১×৫ = ৫ ১৩ নম্বর
সর্বমোট লিখিত নম্বর (Total Semester 4) বর্ণনামূলক লিখিত পরীক্ষা (Descriptive Exam) ৮ নম্বর ১৮ নম্বর ৪ নম্বর ৫ নম্বর ৩৫ নম্বর

১. Unit – 1: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (Biology and Human Welfare) — ২ ও ৩ নম্বরের সম্পূর্ণ উত্তর (১০ নম্বর নিশ্চিত)

প্রশ্ন ১: একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি অণুর (ইমিউনোগ্লোবুলিন IgG) গঠন বর্ণনা করো এবং পাঁচ প্রকার ইমিউনোগ্লোবুলিনের (IgG, IgA, IgM, IgE, IgD) একটি করে প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো। (৩ নম্বর)

উত্তর:

১. আদর্শ অ্যান্টিবডি অণুর গঠন (H2L2): বিজ্ঞানী রডনি পোর্টার ও জেরাল্ড এডেলম্যান প্রদত্ত নকশা অনুযায়ী প্রতিটি অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবুলিন অণু ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো দেখতে এবং ৪টি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত—যার মধ্যে ২টি দীর্ঘ বা ভারী শৃঙ্খল (Heavy Chains – H) এবং ২টি ক্ষুদ্র বা হালকা শৃঙ্খল (Light Chains – L) থাকে (তাই একে H2L2 দ্বারা প্রকাশ করা হয়)। শৃঙ্খল চারটি পরস্পর ডাইসালফাইড বন্ধনী (-S-S-) দ্বারা যুক্ত থাকে। প্রতিটি শৃঙ্খলের শীর্ষদেশে অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য একটি করে পরিবর্তনশীল অঞ্চল থাকে, যাকে ‘প্যারাটোপ’ (Paratope / Antigen-binding site) বলে এবং নিচের স্থির অংশকে Fc অঞ্চল বলে।

২. পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির বৈশিষ্ট্য: প্রথমত, IgG: রক্তে সর্বাধিক পরিমাণে থাকে (প্রায় ৭৫%–৮০%) এবং এটিই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা অমরা বা প্লাসেন্টা ভেদ করে মায়ের দেহ থেকে ভ্রূণের দেহে প্রবেশ করে স্বাভাবিক নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা দেয়। দ্বিতীয়ত, IgA: মায়ের প্রথম দুধ বা কোলোস্ট্রাম, লালারস ও অশ্রুতে থাকে এবং নবজাতককে সুরক্ষা দেয়। তৃতীয়ত, IgM: আকারে সবচেয়ে বড়ো (পেন্টামার) এবং সংক্রমণের পর দেহে সর্বপ্রথম উৎপন্ন হয়। চতুর্থত, IgE: রক্তে সবচেয়ে কম থাকে এবং অ্যালার্জি ও অ্যানাফাইল্যাক্সিস বিক্রিয়ায় অংশ নেয়। পঞ্চমত, IgD: B-লিম্ফোসাইট কোষের পৃষ্ঠে গ্রাহক হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন ২: (ক) ‘রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা’ (Humoral Immunity) ও ‘কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতা’ (Cell-mediated Immunity)-র পার্থক্য লেখো এবং (খ) উদ্ভিদ কলাপালনে ‘টোটিপোটেন্সি’, ‘ক্যালাস’, ‘মাইক্রোপ্রোপাগেশন’ এবং ‘নর্দমার জল শোধনে (Sewage Treatment) ফ্লক ও BOD’-এর ভূমিকা লেখো। (৩+৩ নম্বর)

উত্তর:

১. রসভিত্তিক (AMI) বনাম কোষভিত্তিক (CMI) অনাক্রম্যতা: রসভিত্তিক অনাক্রম্যতার প্রধান সৈনিক হলো অস্থিমজ্জায় পরিপক্ব হওয়া B-লিম্ফোসাইট কোষ, যা প্লাজমা কোষ তৈরি করে রক্তরস বা লসিকায় প্রচুর অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে বহিরাগত জীবাণু ধ্বংস করে (এতে কোনো অ্যান্টিবডি সরাসরি কোষ ধ্বংস করে না)। পক্ষান্তরে কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতার প্রধান সৈনিক হলো থাইমাস গ্রন্থিতে পরিপক্ব হওয়া T-লিম্ফোসাইট কোষ (Helper T, Cytotoxic/Killer T ও Suppressor T কোষ), যা কোনো অ্যান্টিবডি উৎপাদন না করে সরাসরি ভাইরাস-আক্রান্ত কোষ, ক্যান্সার কোষ ও প্রতিস্থাপিত অঙ্গের (Graft Rejection) বিরুদ্ধে লড়াই করে।

২. উদ্ভিদ কলাপালনের মৌলিক ধারণা: বিজ্ঞানী হ্যাবারল্যান্ডট (১৯০২) প্রবর্তিত কলাপালন প্রযুক্তিতে উদ্ভিদের যেকোনো সজীব সস্যল কোষের একটি সম্পূর্ণ নতুন উদ্ভিদে পরিণত হওয়ার অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে ‘টোটিপোটেন্সি’ (Cellular Totipotency) বলে। কলাপালনের জন্য ব্যবহৃত উদ্ভিদের নির্বাচিত ভাজক কলা বা অঙ্গের খণ্ডকে ‘এক্সপ্লান্ট’ (Explant) বলে। কর্ষণ মাধ্যমে অক্সিন ও সাইটোকাইনিন হরমোনের প্রভাবে এক্সপ্লান্টের কোষ বিভাজিত হয়ে যে অবিভেদিত ও অনিয়তাকার কোষপুঞ্জ গঠন করে তাকে ‘ক্যালাস’ (Callus) বলে; এবং কলাপালন পদ্ধতিতে অল্প সময়ে ও স্বল্প স্থানে হাজার হাজার ক্লোন চারাগাছ তৈরি করাকে ‘মাইক্রোপ্রোপাগেশন’ বলে।

৩. বর্জ্য জল শোধনে (Sewage Treatment) ‘ফ্লক’ (Flocs) ও ‘BOD’-এর ভূমিকা: পৌরসভার বর্জ্য জলের গৌণ বা জৈবিক শোধনে (Secondary Treatment) বায়ুচলাচল ট্যাঙ্কে সবাত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের তন্তু জালের মতো জড়িয়ে যে পিণ্ডাকার গঠন তৈরি করে, তাকে ‘ফ্লক’ (Flocs) বলে। এই ফ্লকের জীবাণুগুলি বর্জ্য জলের জৈব পদার্থগুলিকে দ্রুত জারিত করে জলের BOD (Biological Oxygen Demand)-এর মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে জলকে দূষণমুক্ত করে এবং পরে অবক্ষেপণ ট্যাঙ্কে থিতিয়ে ‘সক্রিয় কর্দম’ (Activated Sludge) গঠন করে, যা থেকে অবায়ুজীবী Methanobacterium-এর সাহায্যে বায়োগ্যাস (প্রধান উপাদান মিথেন CH4 ৫০–৭০%) তৈরি করা হয়।

২. Unit – 2: জৈবপ্রযুক্তি ও তার প্রয়োগ (Biotechnology and its Applications) — ৩ ও ৪ নম্বরের সম্পূর্ণ উত্তর (১২ নম্বর নিশ্চিত)

প্রশ্ন ৩: ক্লোনিং ভেক্টর প্লাজমিড pBR322-এর গঠন ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো এবং ‘পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন’ (PCR)-এর তিনটি ধাপ ও গুরুত্ব লেখো। (৪ নম্বর)

উত্তর:

১. আদর্শ ক্লোনিং ভেক্টর pBR322-এর গঠন: ১৯৭৭ সালে বিজ্ঞানী বলিভার (Bolivar) ও রড্রিগেজ (Rodriguez) কর্তৃক কৃত্রিমভাবে নির্মিত প্রথম ও সর্বাধিক ব্যবহৃত প্লাজমিড ভেক্টর হলো pBR322 (যেখানে p = Plasmid, BR = Bolivar & Rodriguez এবং 322 = পৃথকীকরণ সংখ্যা)। এর প্রধান অংশগুলি হলো—(ক) প্রতিলিপিকরণের উৎস (ori – Origin of Replication): যেখান থেকে প্লাজমিডের স্ব-প্রতিলিপিকরণ শুরু হয় এবং যা প্লাজমিডের কপি সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। (খ) নির্বাচনযোগ্য মার্কার জিন (Selectable Markers): এতে দুটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন থাকে—অ্যাম্পিসিলিন প্রতিরোধী জিন (ampR) এবং টেট্রাসাইক্লিন প্রতিরোধী জিন (tetR), যা ট্রান্সফরম্যান্ট ও রিকম্বিন্যান্ট কোষ চিনতে সাহায্য করে। (গ) ক্লোনিং স্থান (Recognition Sites): এতে EcoRI, HindIII, BamHI, SalI, PvuI, PstI প্রভৃতি রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ উৎসেচকের নির্দিষ্ট ছেদন স্থান রয়েছে। (ঘ) rop জিন: যা প্লাজমিড প্রতিলিপিকরণে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংকেতাবদ্ধ করে।

২. পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন (PCR – Polymerase Chain Reaction): ১৯৮৩ সালে বিজ্ঞানী ক্যারি মুলিস (Kary Mullis) আবিষ্কৃত এই প্রযুক্তিতে কোষের বাইরে (in vitro) থার্মোসাইক্লার যন্ত্রে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় একটি ক্ষুদ্র DNA খণ্ডের লক্ষ লক্ষ প্রতিলিপি তৈরি করা হয়। এর ৩টি ধারাবাহিক ধাপ হলো—প্রথমত, ডিন্যাচুরেশন (Denaturation — ৯৪°C–৯৬°C): উচ্চ তাপমাত্রায় দ্বিসূত্রক DNA-র হাইড্রোজেন বন্ধনী ভেঙে দুটি একসূত্রক ছাঁচে পরিণত করা হয়। দ্বিতীয়ত, অ্যানিলিং (Annealing — ৫০°C–৬০°C): উষ্ণতা কমিয়ে দুটি একসূত্রক DNA-র 3' প্রান্তে দুটি ক্ষুদ্র অলিগোনিউক্লিওটাইড ‘প্রাইমার’ (Primers) যুক্ত করা হয়। তৃতীয়ত, এক্সটেনশন বা পলিমারাইজেশন (Extension — ৭২°C): উষ্ণ প্রস্রবণের ব্যাকটেরিয়া Thermus aquaticus থেকে প্রাপ্ত তাপসহনশীল উৎসেচক ‘ট্যাক পলিমারেজ’ (Taq DNA Polymerase) এবং dNTPs-এর সাহায্যে নতুন DNA তন্তু সংশ্লেষিত হয়।

প্রশ্ন ৪: রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির সাহায্যে কীভাবে কৃত্রিম মানব ইনসুলিন (‘হিউমুলিন’) তৈরি করা হয়? ‘জিন থেরাপি’ (Gene Therapy) এবং ‘বায়োপাইরেসি’ (Biopiracy) ও ‘বায়োপ্যাটেন্ট’ বলতে কী বোঝো? (৪ নম্বর)

উত্তর:

১. রিকম্বিন্যান্ট মানব ইনসুলিন (‘হিউমুলিন’ / Humulin) উৎপাদন: মানুষের অপরিণত ইনসুলিন বা ‘প্রো-ইনসুলিন’ হরমোনে তিনটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে—A শৃঙ্খল (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড), B শৃঙ্খল (৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড) এবং মধ্যবর্তী অতিরিক্ত C পেপটাইড। পরিণত ও সক্রিয় ইনসুলিনে এই C পেপটাইডটি কেটে বাদ চলে যায় এবং কেবল A ও B শৃঙ্খল দুটি ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে (মোট ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড)। ১৯৮৩ সালে আমেরিকার ‘এলি লিলি’ (Eli Lilly) কোম্পানি মানুষের ইনসুলিনের A এবং B শৃঙ্খলের জন্য দায়ী দুটি DNA ক্রম কৃত্রিমভাবে তৈরি করে দুটি পৃথক E. coli ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিডে প্রবেশ করায়। এর ফলে দুটি পৃথক কালচারে A ও B শৃঙ্খল আলাদাভাবে উৎপন্ন হয়; পরে সেগুলিকে নিষ্কাশিত করে টেস্টটিউবে ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত করে তৈরি করা হয় বিশ্বের প্রথম নিরাপদ রিকম্বিন্যান্ট মানব ইনসুলিন ‘হিউমুলিন’।

২. জিন থেরাপি (Gene Therapy): কোনো শিশুর বা ভ্রূণের কোষে উপস্থিত ত্রুটিপূর্ণ বা মিউট্যান্ট জিনের পরিবর্তে একটি স্বাভাবিক ও কার্যকরী জিন প্রতিস্থাপন করে বংশগত রোগ নিরাময় করার পদ্ধতিকে ‘জিন থেরাপি’ বলে। ১৯৯০ সালে ৪ বছর বয়সি এক বালিকার দেহে ADA (Adenosine Deaminase) উৎসেচকের অভাবজনিত মারাত্মক অনাক্রম্যতাহীনতা রোগ (SCID)-এর চিকিৎসার জন্য রেট্রোভাইরাল ভেক্টরের সাহায্যে লিম্ফোসাইট কোষে কার্যকরী ADA cDNA প্রবেশ করিয়ে বিশ্বের প্রথম সফল জিন থেরাপি করা হয়।

৩. বায়োপাইরেসি (Biopiracy) ও বায়োপ্যাটেন্ট (Biopatent): কোনো বহুজাতিক কোম্পানি বা উন্নত দেশ যখন উন্নয়নশীল দেশের (যেমন ভারতের) নিজস্ব জীবসম্পদ এবং পরম্পরাগত জৈবিক জ্ঞানকে সংশ্লিষ্ট দেশ বা স্থানীয় মানুষের অনুমতি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই চুরি করে নিজেদের নামে পেটেন্ট করে নেয়, তখন তাকে ‘বায়োপাইরেসি’ (জৈব দস্যুতা) বলে (যেমন: ভারতের ঐতিহ্যবাহী বাসমতী চাল, হলুদের ক্ষত নিরাময়কারী গুণ এবং নিমের ছত্রাকনাশক গুণের ওপর মার্কিন কোম্পানির পেটেন্ট নেওয়ার চেষ্টা)। আর কোনো জৈবিক আবিষ্কার বা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড জীবের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সরকার প্রদত্ত একচেটিয়া আইনি অধিকারকে ‘বায়োপ্যাটেন্ট’ বলে।

৩. Unit – 3: বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ (Ecology and Environment) — ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (১৩ নম্বর নিশ্চিত)

প্রশ্ন ৫ (বড়ো প্রশ্ন): পপুলেশন বৃদ্ধির ‘J’-আকৃতির (সূচকীয়) এবং ‘S’-আকৃতির (লজিস্টিক) লেখচিত্র দুটি সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো এবং বিভিন্ন প্রকার পপুলেশন আন্তঃক্রিয়া (ধনাত্মক ও ঋণাত্মক) উদাহরণসহ আলোচনা করো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

১. পপুলেশন বৃদ্ধির ‘J’-আকৃতির (Exponential) এবং ‘S’-আকৃতির (Logistic) লেখচিত্র:

প্রথমত, ‘J’-আকৃতির বা সূচকীয় বৃদ্ধি রূপ (Exponential Growth Curve): যখন কোনো বাসস্থানে খাদ্য ও স্থানের জোগান অফুরন্ত বা সীমাহীন থাকে এবং কোনো পরিবেশগত বাধা কাজ করে না, তখন পপুলেশন জ্যামিতিক বা সূচকীয় হারে অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সময়ের সাপেক্ষে পপুলেশন ঘনত্ব (N) লেখচিত্রে স্থাপন করলে ইংরেজি ‘J’ অক্ষরের মতো লেখচিত্র পাওয়া যায় (যেমন: বর্ষাকালে পতঙ্গ বা অ্যালগাল ব্লুমের বৃদ্ধি)। এর সমীকরণটি হলো: dN / dt = rN (যেখানে r = প্রাকৃতিক বৃদ্ধির অন্তর্নিহিত হার)। হঠাৎ খাদ্যাভাব ঘটলে এই বৃদ্ধি চরম সীমায় পৌঁছেই ধসে পড়ে (Crash phase)।

দ্বিতীয়ত, ‘S’-আকৃতির বা লজিস্টিক বৃদ্ধি রূপ (Logistic / Sigmoid Growth Curve — ভারহুলস্ট-পার্ল সমীকরণ): প্রকৃতিতে কোনো বাসস্থানেই খাদ্য ও স্থান সীমাহীন নয়; একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ সর্বাধিক যে সংখ্যক জীবের ভরণপোষণ করতে পারে তাকে ওই পরিবেশের ‘বহন ক্ষমতা’ (Carrying Capacity – K) বলে। সীমিত সম্পদের পরিবেশে পপুলেশন প্রথমে ধীরগতিতে (ল্যাগ দশা), পরে দ্রুতগতিতে (লগ বা ত্বরণ দশা), তারপর মন্দন দশার মধ্য দিয়ে গিয়ে অবশেষে পরিবেশের বহন ক্ষমতা (K)-এ পৌঁছে স্থির বা সাম্যাবস্থায় (অ্যাসিম্পটোট বা স্থির দশা) চলে আসে। এর ফলে ইংরেজি ‘S’ বা সিগময়েড আকৃতির লেখচিত্র পাওয়া যায়। এর সমীকরণটি হলো: dN / dt = rN [(K - N) / K]।

২. পপুলেশন আন্তঃক্রিয়া (Population Interactions — ধনাত্মক ও ঋণাত্মক):

প্রথমত, মিউচুয়ালিজম বা মিথোজীবিতা (+ / + — ধনাত্মক): যেখানে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবই পরস্পরের দ্বারা আবশ্যিকভাবে উপকৃত হয়—যেমন: শৈবাল ও ছত্রাকের সমন্বয়ে গঠিত ‘লাইকেন’, শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলের অর্বুদে বসবাসকারী ‘রাইজোবিয়াম’ ব্যাকটেরিয়া এবং পাইন গাছের মূলে ছত্রাকের ‘মাইকোরাইজা’।

দ্বিতীয়ত, কমেনসালিজম বা সহভোজিতা (+ / 0 — ধনাত্মক): যেখানে একটি প্রজাতি উপকৃত হয় কিন্তু অপর প্রজাতির কোনো উপকার বা অপকার কিছুই হয় না (0)—যেমন: আমগাছের ডালে আশ্রয় নেওয়া পরজীবী নয় এমন অর্কিড (Epiphyte — রাস্না) কিংবা হাঙরের দেহে আটকে থাকা চোষক মাছ (Remora)।

তৃতীয়ত, পরজীবিতা (+ / -), শিকার (+ / -) ও অ্যামেনসালিজম (- / 0 — ঋণাত্মক): পরজীবিতায় (Parasitism) পরজীবী উপকৃত হয় ও পোষক ক্ষতিগ্রস্ত হয় (যেমন: মানুষের অন্ত্রে গোলকৃমি বা আমগাছে স্বর্ণলতা)। শিকারে (Predation) শিকারি প্রাণী (বাঘ) শিকারকে (হরিণ) মেরে খেয়ে ফেলে। আর অ্যামেনসালিজমে (- / 0) একটি প্রজাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু অপর প্রজাতিটি প্রভাবহীন থাকে—যেমন: Penicillium notatum ছত্রাক থেকে নিঃসৃত পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে Staphylococcus ব্যাকটেরিয়ার মৃত্যু।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 

উচ্চমাধ্যমিক ৩য় ও ৪র্থ সেমিস্টার সমস্ত বিষয়ের সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যা (Biology) পরীক্ষায় কোন ইউনিট থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসে?

উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যার ৩৫ নম্বরের মধ্যে Unit 1: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ থেকে ১০ নম্বর, Unit 2: জৈবপ্রযুক্তি ও তার প্রয়োগ থেকে ১২ নম্বর এবং Unit 3: বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ থেকে ১৩ নম্বর আসে।

প্রশ্ন ২: ৪র্থ সেমিস্টার জীববিদ্যায় ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন কোন ইউনিট থেকে আসে?

উত্তর: একমাত্র Unit 3: বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ (Ecology & Environment) থেকেই ১টি ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন আসে (যেমন: পপুলেশন বৃদ্ধির J ও S আকৃতির লেখচিত্র, পপুলেশন আন্তঃক্রিয়া, বাস্তুতান্ত্রিক পর্যায়ক্রম বা জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ ও সংরক্ষণ)।

প্রশ্ন ৩: জৈবপ্রযুক্তি (Unit 2 — ১২ নম্বর) থেকে ৪ নম্বরের ও ৩ নম্বরের জন্য কোন প্রশ্নগুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: প্লাজমিড pBR322-এর চিত্রসহ গঠন, PCR (পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন)-এর তিনটি ধাপ, রিকম্বিন্যান্ট মানব ইনসুলিন (‘হিউমুলিন’) প্রস্তুতি, জিন থেরাপি এবং বায়োপাইরেসি ও বায়োপ্যাটেন্ট।

প্রশ্ন ৪: মানব স্বাস্থ্য ও রোগ এবং কলাপালন (Unit 1 — ১০ নম্বর) থেকে কোন প্রশ্নগুলি অবশ্যই পড়তে হবে?

উত্তর: অ্যান্টিবডি (IgG)-র চিত্রসহ গঠন ও প্রকারভেদ, রসভিত্তিক ও কোষভিত্তিক অনাক্রম্যতার পার্থক্য, উদ্ভিদ কলাপালন ও মাইক্রোপ্রোপাগেশন এবং বর্জ্য জল শোধন (Sewage Treatment) ও বায়োগ্যাস উৎপাদন।

সুস্মিতা সেনগুপ্ত (Susmita Sengupta) ✓
👨🏫 জীবন বিজ্ঞান ও জীববিদ্যা শিক্ষিকা • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১০+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
সুস্মিতা সেনগুপ্ত (Susmita Sengupta)
🎓 M.Sc. (Botany & Zoology), B.Ed., WBSSC SLST Qualified
সুস্মিতা সেনগুপ্ত নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) জীবন বিজ্ঞান এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিদ্যার (Biological Sciences) শিক্ষিকা। তাঁর তৈরি চিত্রসহ নোটস ও পার্থক্য ছক ছাত্রছাত্রীদের পুরো নম্বর পেতে সাহায্য করে।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!