মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় জীবনের প্রবাহমানতার সম্পূর্ণ নোট — কোষ বিভাজন, জনন, বৃদ্ধি সব কিছু সহজ বাংলায়। MCQ, SAQ ও রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর সহ। WBBSE 2027।
- ভূমিকা
- এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় কত নম্বর আসে?
- প্রথম অংশ — কোষ বিভাজন (Cell Division)
- দ্বিতীয় অংশ — জনন (Reproduction)
- তৃতীয় অংশ — বৃদ্ধি ও পরিস্ফুরণ (Growth and Development)
- গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা — পরীক্ষায় সরাসরি আসে
- MCQ প্রশ্নোত্তর — পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হও
- SAQ প্রশ্নোত্তর
- রচনাধর্মী প্রশ্ন
- মনে রাখার সহজ টিপস
- সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ভূমিকা
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবনের প্রবাহমানতা” (Continuity of Life) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলির একটি। প্রতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে সবচেয়ে বেশি নম্বরের প্রশ্ন আসে। MCQ, SAQ এবং রচনাধর্মী — তিন ধরনের প্রশ্নই এই অধ্যায় থেকে বেরোয়।
এই অধ্যায়ে মূলত তিনটি বড় বিষয় আছে — কোষ বিভাজন (Cell Division), জনন (Reproduction) এবং বৃদ্ধি ও পরিস্ফুরণ (Growth and Development)। এই তিনটি বিষয় একসাথে “জীবনের প্রবাহমানতা” তৈরি করে। অর্থাৎ, একটি জীব কীভাবে তার প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখে এবং জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায় সেটাই এই অধ্যায়ের মূল বিষয়।
wbbsenote.in-এর এই বিশেষ নোটে তুমি পাবে সম্পূর্ণ অধ্যায়ের সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা, গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, diagram-এর বিবরণ এবং পরীক্ষায় আসার মতো সব ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর। এই নোটটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে এই অধ্যায় থেকে পুরো নম্বর পাওয়া সম্ভব।

এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় কত নম্বর আসে?
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষায় প্রথম অধ্যায় থেকে নম্বর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো।
| প্রশ্নের ধরন | প্রশ্ন সংখ্যা | মোট নম্বর |
|---|---|---|
| MCQ (বহুবিকল্পীয়) | ৩-৪টি | ৩-৪ |
| SAQ (অতিসংক্ষিপ্ত) | ৪-৫টি | ৪-৫ |
| SAQ (সংক্ষিপ্ত উত্তর) | ২-৩টি | ৪-৬ |
| রচনাধর্মী | ১-২টি | ৫-১০ |
| মোট (আনুমানিক) | ১৬-২৫ |
এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই অধ্যায়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মোট ৬০ নম্বরের পরীক্ষায় শুধু এই একটি অধ্যায় থেকে প্রায় ২০-২৫ নম্বর আসতে পারে।
প্রথম অংশ — কোষ বিভাজন (Cell Division)
কোষ বিভাজন কী এবং কেন দরকার?
জীবদেহে কোষ বিভাজন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি বা ততোধিক অপত্য কোষ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে কোষ বিভাজন বলে। আমাদের শরীরে প্রতিদিন কোটি কোটি কোষ বিভাজিত হচ্ছে এবং নতুন কোষ তৈরি হচ্ছে।
কোষ বিভাজনের প্রয়োজন হয় তিনটি প্রধান কারণে। প্রথমত, জীবের বৃদ্ধির জন্য। একটি শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হয়, তখন তার শরীরের কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে — এটা হয় কোষ বিভাজনের মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের জন্য। শরীরের কোনো জায়গায় কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে নতুন কোষ তৈরি হয়ে ক্ষত সারিয়ে দেয় — এটাও কোষ বিভাজনের ফল। তৃতীয়ত, জনন বা প্রজননের জন্য। জীবের বংশবিস্তারের জন্য বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন দরকার।
কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ
মাধ্যমিক স্তরে কোষ বিভাজন প্রধানত তিন প্রকার — অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মিয়োসিস।
অ্যামাইটোসিস (Amitosis): এই ধরনের কোষ বিভাজনে কোনো জটিল প্রক্রিয়া নেই। কোষটি সরাসরি দুই ভাগ হয়ে যায়। এটি প্রধানত ব্যাকটেরিয়া ও কিছু এককোষী জীবে দেখা যায়। এই বিভাজন খুব দ্রুত হয়। উদাহরণ — ব্যাকটেরিয়া ও অ্যামিবার বিভাজন।
মাইটোসিস (Mitosis): মাইটোসিস হলো সমীকরণিক বিভাজন। এই বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং প্রতিটি অপত্য কোষে মাতৃকোষের সমান সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। এই বিভাজন মূলত দেহকোষে (Somatic cells) ঘটে। এর মাধ্যমে জীবের বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের মেরামত হয়।
মাইটোসিসের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো — একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়, ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে, দেহকোষে ঘটে এবং জীবের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
মিয়োসিস (Meiosis): মিয়োসিস হলো হ্রাস বিভাজন বা বিষমীকরণ বিভাজন। এই বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং প্রতিটি অপত্য কোষে মাতৃকোষের অর্ধেক ক্রোমোজোম থাকে। এই বিভাজন জনন অঙ্গে ঘটে এবং এর মাধ্যমে গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরি হয়।
মিয়োসিসের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো — একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়, ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়, জনন অঙ্গে ঘটে এবং গ্যামেট তৈরিতে সাহায্য করে।

মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য (পরীক্ষায় প্রায়ই আসে)
| বৈশিষ্ট্য | মাইটোসিস | মিয়োসিস |
|---|---|---|
| সংঘটনস্থল | দেহকোষে | জনন অঙ্গে |
| অপত্য কোষ | ২টি | ৪টি |
| ক্রোমোজোম সংখ্যা | মাতৃকোষের সমান | মাতৃকোষের অর্ধেক |
| বিভাজন পর্যায় | একটি পর্যায় | দুটি পর্যায় (মিয়োসিস I ও II) |
| কাজ | বৃদ্ধি ও মেরামত | গ্যামেট তৈরি |
| ক্রসিং ওভার | হয় না | মিয়োসিস I-এ হয় |
কোষ চক্র (Cell Cycle) — গুরুত্বপূর্ণ ধারণা
একটি কোষ বিভাজনের আগে ও পরে যা যা ঘটনা ঘটে সেগুলোকে একসাথে কোষ চক্র বলে। কোষ চক্রের দুটি প্রধান পর্যায় আছে — ইন্টারফেজ (Interphase) এবং মাইটোটিক ফেজ (Mitotic Phase)।
ইন্টারফেজ কোষ চক্রের সবচেয়ে দীর্ঘ পর্যায়। এই সময়ে কোষ DNA-র প্রতিলিপি তৈরি করে বিভাজনের জন্য প্রস্তুত হয়। ইন্টারফেজের তিনটি উপপর্যায় আছে — G₁ (কোষের বৃদ্ধি), S (DNA সংশ্লেষণ) এবং G₂ (বিভাজনের প্রস্তুতি)।
মাইটোটিক ফেজ-এ প্রকৃত কোষ বিভাজন ঘটে। এটি দুই ভাগে ভাগ — ক্যারিওকাইনেসিস (নিউক্লিয়াসের বিভাজন) এবং সাইটোকাইনেসিস (সাইটোপ্লাজমের বিভাজন)।
দ্বিতীয় অংশ — জনন (Reproduction)
জনন কী?
জনন হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি জীব তার মতো নতুন জীব তৈরি করে। জনন ছাড়া কোনো প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। জনন দুই প্রকার — অযৌন জনন এবং যৌন জনন।
অযৌন জনন (Asexual Reproduction)
অযৌন জননে একটি মাত্র জীব থেকে নতুন জীব তৈরি হয়। এতে গ্যামেটের মিলন দরকার হয় না এবং মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে এটি ঘটে। অযৌন জননে তৈরি সন্তানরা মাতৃজীবের মতোই হয় — জিনগতভাবে অভিন্ন।
অযৌন জননের প্রধান পদ্ধতিগুলো নিচে দেওয়া হলো।
বিভাজন (Fission): একটি জীব সরাসরি দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত হয়। দ্বিবিভাজন (Binary Fission) — অ্যামিবা ও ব্যাকটেরিয়ায় দেখা যায়। বহুবিভাজন (Multiple Fission) — প্লাজমোডিয়ামে (ম্যালেরিয়ার পরজীবী) দেখা যায়।
মুকুল সৃষ্টি (Budding): মাতৃজীবের দেহে একটি ছোট অংশ বৃদ্ধি পেতে পেতে নতুন জীবে পরিণত হয়। হাইড্রায় ও ইস্টে দেখা যায়।
পুনরুৎপাদন (Regeneration): জীবের দেহের ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে নতুন জীব তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে পুনরুৎপাদন বলে। প্ল্যানেরিয়া (এক ধরনের চ্যাপ্টা কৃমি) এবং স্টারফিশে দেখা যায়।
রেণু উৎপাদন (Spore Formation): কিছু জীব রেণু বা স্পোর তৈরি করে এবং সেই রেণু থেকে নতুন জীব জন্মায়। ছত্রাক, মস, ফার্ন ইত্যাদিতে দেখা যায়।
কোরকোদ্গম (Fragmentation): জীবের দেহ ছোট ছোট টুকরোয় বিভক্ত হয় এবং প্রতিটি টুকরো থেকে নতুন জীব তৈরি হয়। স্পাইরোগাইরায় দেখা যায়।
অঙ্গজ জনন (Vegetative Propagation): উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দেহের কোনো অংশ (মূল, কাণ্ড বা পাতা) থেকে নতুন উদ্ভিদ তৈরি হওয়াকে অঙ্গজ জনন বলে। স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন — আলু (কাণ্ডের সাহায্যে), পাথরকুচি (পাতার সাহায্যে), মিষ্টি আলু (মূলের সাহায্যে)। কৃত্রিম অঙ্গজ জনন — কলম লাগানো, গুটি কলম, টিস্যু কালচার ইত্যাদি।
যৌন জনন (Sexual Reproduction)
যৌন জননে দুটি জীবের অংশগ্রহণ দরকার। পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে (নিষেক/Fertilization) জাইগোট তৈরি হয় এবং সেই জাইগোট থেকে নতুন জীব তৈরি হয়। যৌন জননে মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট তৈরি হয়।
যৌন জননের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো — দুটি জীবের প্রয়োজন হয়, গ্যামেট উৎপন্ন হয় এবং তাদের মিলন ঘটে, সন্তান বাবা ও মা উভয়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং বিভিন্নতা (Variation) তৈরি হয়।
অযৌন ও যৌন জননের পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | অযৌন জনন | যৌন জনন |
|---|---|---|
| জনক সংখ্যা | একটি | দুটি |
| গ্যামেট | তৈরি হয় না | তৈরি হয় |
| নিষেক | হয় না | হয় |
| বিভাজন | মাইটোসিস | মিয়োসিস |
| সন্তানের বৈশিষ্ট্য | মাতৃজীবের মতো | বাবা-মা উভয়ের মিশ্রণ |
| বৈচিত্র্য | কম | বেশি |
ফুলের মাধ্যমে যৌন জনন — পরাগায়ন ও নিষেক
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে যৌন জনন ফুলের মাধ্যমে হয়। ফুলের পুংকেশর থেকে পরাগরেণু স্ত্রীকেশরের গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে পরাগায়ন বলে।
স্ব-পরাগায়ন (Self Pollination): একই ফুলের বা একই গাছের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটলে তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে।
পর-পরাগায়ন (Cross Pollination): এক গাছের ফুল থেকে পরাগরেণু অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোকে পর-পরাগায়ন বলে। বায়ু, জল, পোকা ও পাখি পর-পরাগায়নে সাহায্য করে।
পরাগায়নের পর পরাগরেণু থেকে পরাগনালি তৈরি হয় এবং শুক্রাণু ডিম্বাণুতে পৌঁছায়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের ফলে জাইগোট তৈরি হয় যা থেকে বীজ ও ফল তৈরি হয়।

তৃতীয় অংশ — বৃদ্ধি ও পরিস্ফুরণ (Growth and Development)
বৃদ্ধি কী?
জীবের আকার, আয়তন ও ভরের স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় বৃদ্ধিকে বৃদ্ধি বলে। বৃদ্ধি তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয় — কোষ বিভাজন (কোষ সংখ্যা বৃদ্ধি), কোষ বিস্তার (কোষের আকার বৃদ্ধি) এবং কোষ পার্থক্যায়ন (কোষের বিশেষায়ন)।
মানবদেহের বিকাশের পাঁচটি পর্যায়
মানবদেহের জীবনকাল পাঁচটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়।
শৈশব (Infancy): জন্ম থেকে ২ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে শিশু দ্রুত বৃদ্ধি পায়, মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে এবং শিশু হাঁটতে ও কথা বলতে শেখে।
বাল্যকাল (Childhood): ২ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে, স্কুলে পড়া শুরু হয় এবং সামাজিকতার বিকাশ ঘটে।
কৈশোর (Adolescence): ১২ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে যৌন পরিপক্কতা আসে, হরমোনের পরিবর্তন হয়, দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে এবং মানসিক পরিবর্তন হয়।
পরিণত বয়স (Adulthood): ১৮ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে শারীরিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হয়, প্রজনন ক্ষমতা পূর্ণ থাকে এবং শারীরিক ও মানসিক পরিপক্কতা আসে।
বার্ধক্য (Senescence): ৬০ বছরের পর। এই সময়ে শরীরের কোষ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়, অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা — পরীক্ষায় সরাসরি আসে
ক্রোমোজোম: কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত সুতার মতো গঠন যা DNA ও প্রোটিনের সমন্বয়ে তৈরি এবং বংশগত তথ্য বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।
DNA: Deoxyribose Nucleic Acid — এটি কোষের নিউক্লিয়াসে থাকা একটি দ্বিসূত্রক অণু যা জীবের সমস্ত বংশগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করে।
জিন: DNA-র নির্দিষ্ট একটি অংশ যা একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী, তাকে জিন বলে।
গ্যামেট: যৌন জননে অংশগ্রহণকারী বিশেষ ধরনের কোষকে গ্যামেট বলে। শুক্রাণু পুরুষ গ্যামেট এবং ডিম্বাণু স্ত্রী গ্যামেট।
জাইগোট: শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে (নিষেকে) তৈরি প্রথম কোষকে জাইগোট বলে।
ক্রোমাটিড: কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের প্রতিলিপি তৈরি হলে দুটি অভিন্ন সূত্র পাশাপাশি থাকে যাদের ক্রোমাটিড বলে। দুটি ক্রোমাটিড সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত থাকে।
সেন্ট্রোমিয়ার: ক্রোমোজোমের যে বিশেষ স্থানে দুটি ক্রোমাটিড যুক্ত থাকে এবং কোষ বিভাজনের সময় যেখানে স্পিন্ডল তন্তু সংযুক্ত হয়, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।
MCQ প্রশ্নোত্তর — পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হও
১. মাইটোসিস কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে কতটি অপত্য কোষ তৈরি হয়?
ক) একটি
খ) দুটি ✅
গ) তিনটি
ঘ) চারটি
ব্যাখ্যা: মাইটোসিসে একটি মাতৃকোষ দুটি সমান অপত্য কোষে বিভক্ত হয়।
২. নিচের কোনটিতে মুকুল সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন হয়?
ক) অ্যামিবা
খ) প্লাজমোডিয়াম
গ) হাইড্রা ✅
ঘ) স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা: হাইড্রায় মুকুল সৃষ্টি (Budding) পদ্ধতিতে অযৌন জনন হয়।
৩. DNA-এর দ্বিসূত্রক গঠন কারা আবিষ্কার করেন?
ক) মেন্ডেল ও ডারউইন
খ) ওয়াটসন ও ক্রিক ✅
গ) মর্গান ও বিডল
ঘ) ল্যামার্ক ও লিনিয়াস
ব্যাখ্যা: ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক DNA-এর দ্বিসূত্রক (Double Helix) গঠন আবিষ্কার করেন।
৪. মিয়োসিস বিভাজনের ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যার কী পরিবর্তন হয়?
ক) দ্বিগুণ হয়
খ) তিনগুণ হয়
গ) অর্ধেক হয় ✅
ঘ) অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা: মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। তাই মানুষের দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকলে গ্যামেটে ২৩টি থাকে।
৫. পাথরকুচি পাতায় কোন ধরনের অযৌন জনন দেখা যায়?
ক) মুকুল সৃষ্টি
খ) বিভাজন
গ) অ্যাডভেন্টিশাস বাড (পর্ণকলিকা) ✅
ঘ) রেণু উৎপাদন
ব্যাখ্যা: পাথরকুচি পাতার প্রান্তে অ্যাডভেন্টিশাস বাড বা পর্ণকলিকা তৈরি হয় এবং সেখান থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
SAQ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: কোষ চক্র কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর: একটি কোষের জন্ম থেকে বিভাজন পর্যন্ত যে পর্যায়ক্রমিক ঘটনাগুলি সংঘটিত হয় সেগুলিকে একত্রে কোষ চক্র বলে। কোষ চক্রে G₁, S, G₂ ও M পর্যায় থাকে।
কোষ চক্রের গুরুত্ব হলো — এটি কোষ বিভাজনের সময় ও ক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, DNA-এর সঠিক প্রতিলিপি তৈরি নিশ্চিত করে এবং কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। কোষ চক্রের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে ক্যান্সার হতে পারে।
প্রশ্ন ২: পরাগায়ন ও নিষেকের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: পরাগায়ন হলো পুংকেশর থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া। এটি বাহ্যিক প্রক্রিয়া। নিষেক হলো শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের প্রক্রিয়া। এটি ডিম্বাশয়ের ভেতরে ঘটে এবং জাইগোট তৈরি করে।
পার্থক্যের দিক থেকে বলা যায়, পরাগায়ন পরে নিষেক ঘটে, পরাগায়ন গ্যামেটের মিলন নয় কিন্তু নিষেক হলো গ্যামেটের প্রকৃত মিলন।
প্রশ্ন ৩: মাইটোসিসের গুরুত্ব কী?
উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব অনেক। প্রথমত, মাইটোসিসের মাধ্যমে জীবের বৃদ্ধি ঘটে কারণ দেহের কোষ সংখ্যা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত হয়। তৃতীয়ত, মাইটোসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জিনগত বৈশিষ্ট্য স্থির থাকে। চতুর্থত, অযৌন জননেও মাইটোসিস কাজ করে।
রচনাধর্মী প্রশ্ন
প্রশ্ন: মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য লিখো এবং প্রতিটির জৈবিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
মাইটোসিস ও মিয়োসিস দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের কোষ বিভাজন যা জীবের দেহে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজ করে।
মাইটোসিস কোষ বিভাজন হলো সমীকরণিক বিভাজন। এই বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয় যাদের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। মাইটোসিস মূলত দেহকোষে ঘটে। এই বিভাজনের ফলে কোষের সংখ্যা বাড়ে কিন্তু গুণগত পরিবর্তন হয় না।
মাইটোসিসের জৈবিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই বিভাজনের মাধ্যমে জীবের বৃদ্ধি ঘটে, আঘাত পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষের স্থানে নতুন কোষ তৈরি হয়, অযৌন জননে নতুন জীব তৈরি হয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির থাকে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজন হলো হ্রাস বিভাজন। এই বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় যাদের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক। মিয়োসিস জনন অঙ্গে ঘটে এবং গ্যামেট তৈরিতে সাহায্য করে। মিয়োসিসে ক্রসিং ওভার (Crossing Over) ঘটে যার ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস হয়।
মিয়োসিসের জৈবিক গুরুত্বও অনেক। এই বিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট তৈরি হয়, যৌন জনন সম্ভব হয়, ক্রসিং ওভারের ফলে জীবে বৈচিত্র্য আসে এবং প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থির থাকে।
সংক্ষেপে বলা যায়, মাইটোসিস জীবের বৃদ্ধি ও মেরামতের জন্য দায়ী আর মিয়োসিস যৌন জননের জন্য গ্যামেট তৈরিতে সাহায্য করে — দুটি বিভাজনই জীবনের ধারাবাহিকতার জন্য অপরিহার্য।
মনে রাখার সহজ টিপস
এই অধ্যায়টি মনে রাখার জন্য কিছু সহজ কৌশল আছে যা তোমার কাজে লাগবে।
মাইটোসিস মনে রাখো “M2D” দিয়ে — M = Mitosis, 2 = দুটি কোষ, D = Diploid (দ্বিগুণ ক্রোমোজোম বজায়)।
মিয়োসিস মনে রাখো “M4H” দিয়ে — M = Meiosis, 4 = চারটি কোষ, H = Haploid (ক্রোমোজোম অর্ধেক)।
অযৌন জননের পদ্ধতিগুলো মনে রাখো “বিমুপুকোরে” দিয়ে — বি=বিভাজন, মু=মুকুল সৃষ্টি, পু=পুনরুৎপাদন, কো=কোরকোদ্গম, রে=রেণু উৎপাদন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: মাইটোসিস কোথায় ঘটে?
উত্তর: মাইটোসিস প্রধানত দেহকোষে ঘটে। উদ্ভিদে মূলের অগ্রভাগ ও কাণ্ডের অগ্রভাগে এবং প্রাণীদের ত্বক, পাকস্থলী, অস্থিমজ্জায় ঘটে।
প্রশ্ন: মিয়োসিস কোথায় ঘটে?
উত্তর: মিয়োসিস জনন অঙ্গে ঘটে। প্রাণীদের শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে এবং উদ্ভিদে পুংদণ্ড ও গর্ভকেশরে মিয়োসিস ঘটে।
প্রশ্ন: অযৌন জনন ও যৌন জননের মধ্যে কোনটি বেশি সুবিধাজনক?
উত্তর: পরিবেশ স্থিতিশীল থাকলে অযৌন জনন সুবিধাজনক কারণ এটি দ্রুত ও সহজ। কিন্তু পরিবেশ পরিবর্তনের সময় যৌন জনন সুবিধাজনক কারণ এতে বৈচিত্র্য আসে যা পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: ক্যান্সার কি কোষ বিভাজনের সাথে সম্পর্কিত?
উত্তর: হ্যাঁ। কোষ চক্রের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে থাকে এবং টিউমার তৈরি করে। এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনই ক্যান্সারের মূল কারণ।
আরও পড়ো: [মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান অধ্যায় ২ — বংশগতি ও বিবর্তন] | [মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান MCQ সম্পূর্ণ তালিকা] | [মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ — অভিযোজন]





