WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

মাধ্যমিক 2027 বাংলা সাজেশন (২০২৭) | WBBSE Class 10 Bengali Suggestion 2027 PDF প্রশ্ন উত্তর

মাধ্যমিক 2027 বাংলা সাজেশন (২০২৭ দশম শ্রেণি সাহিত্য সঞ্চয়ন ও কোনি)। WBBSE Class 10 Bengali Suggestion 2027 গল্প, কবিতা (অভিষেক, অসুখী একজন, প্রলয়োল্লাস), প্রবন্ধ (হারিয়ে যাওয়া কালি কলম), পথের দাবী, জ্ঞানচক্ষু, বহুরূপী ৩, ৪ ও ৫ নম্বরের সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর ডাউনলোড করুন।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. মাধ্যমিক 2027 বাংলা নম্বর বিভাজন ও প্রশ্নপত্রের কাঠামো (WBBSE Class 10 Bengali Marks Distribution 2027)
  2. ১. মাধ্যমিক 2027 বাংলা গল্প সাজেশন: ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (Class 10 Bengali Story Suggestion 2027)
  3. প্রশ্ন ১: “পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হইল।”—সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়? (পথের দাবী — ৫ নম্বর)
  4. প্রশ্ন ২: “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে!”—কোন ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে? কেন সেই ঘটনাটি তপনের কাছে অলৌকিক মনে হয়েছিল এবং তার পরিণতি কী হয়েছিল? (জ্ঞানচক্ষু — ৫ নম্বর)
  5. প্রশ্ন ৩: হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে—হরিদার জীবনের এই নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও এবং তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো। (বহুরূপী — ৫ নম্বর)
  6. মাধ্যমিক 2027 গল্প থেকে ৩ ও ৫ নম্বরের অতিরিক্ত বাছাই করা প্রশ্নাবলি (Must-Read Story Questions)
  7. ২. মাধ্যমিক 2027 বাংলা কবিতা সাজেশন: ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (Class 10 Bengali Poem Suggestion 2027)
  8. প্রশ্ন ১: “নমি পুত্র পিতার চরণে, করযোড়ে কহিলা;”—পিতা ও পুত্র কে? পিতার চরণে প্রণাম করে পুত্র কী বলেছিলেন এবং পিতা তার কী উত্তর দিয়েছিলেন? (অভিষেক — ৫ নম্বর)
  9. প্রশ্ন ২: “তারপর যুদ্ধ এল”—যুদ্ধ কীভাবে এল? যুদ্ধের ফলে কবি ও সেই মেয়েটির জীবনে কী প্রভাব পড়েছিল তা ‘অসুখী একজন’ কবিতা অবলম্বনে লেখো। (অসুখী একজন — ৫ নম্বর)
  10. প্রশ্ন ৩: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একদিকে প্রলয় বা ধ্বংসের চিত্র এবং অন্যদিকে নতুনের আগমনের যে জয়গান গেয়েছেন, তা কবিতা অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। (প্রলয়োল্লাস — ৫ নম্বর)
  11. মাধ্যমিক 2027 কবিতা থেকে ৩ নম্বরের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি
  12. ৩. মাধ্যমিক 2027 বাংলা প্রবন্ধ সাজেশন: ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (Class 10 Bengali Essay Text Suggestion 2027)
  13. প্রশ্ন ১: “আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।”—কারা কালি তৈরি করতেন? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন এবং সেকালের কলমের বিবর্তনের পরিচয় দাও। (হারিয়ে যাওয়া কালি কলম — ৫ নম্বর)
  14. প্রশ্ন ২: ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে লেখক রাজশেখর বসু বাংলায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার কী প্রতিকার নির্দেশ করেছেন? (বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান — ৫ নম্বর)
  15. ৪. মাধ্যমিক 2027 বাংলা নাটক (সিরাজদ্দৌলা) ও সহায়ক পাঠ (কোনি) সাজেশন (Class 10 Sirajuddaula & Koni Suggestion 2027)
  16. প্রশ্ন (সিরাজদ্দৌলা): “বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়—মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।”—কে, কাদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? (৪ নম্বর)
  17. প্রশ্ন (কোনি): “ফাইট কোনি, ফাইট”—কথাটি কে, কোন পরিস্থিতিতে বলেছিলেন? এই মন্ত্র কীভাবে সাধারণ ঘরের মেয়ে কোনিকে চ্যাম্পিয়ন সাঁতারুতে পরিণত করেছিল? (৫ নম্বর)
  18. ৫. মাধ্যমিক 2027 বাংলা নির্মিতি সাজেশন: প্রবন্ধ রচনা, সংলাপ, প্রতিবেদন ও বঙ্গানুবাদ (Class 10 Bengali Writing Skill Suggestion 2027)
  19. মাধ্যমিক 2027 বাংলা প্রবন্ধ রচনা সাজেশন (১০ নম্বর) — Top 6 Essays
  20. আদর্শ প্রবন্ধ রচনা নমুনা: দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি (১০ নম্বর)
  21. মাধ্যমিক 2027 সংলাপ ও প্রতিবেদন রচনা সাজেশন (৫ নম্বর)
  22. প্রশ্ন ৪: “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”—কে, কাকে এ কথা বলেছে? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং কীভাবে তা বক্তাকে আলোড়িত করেছিল? (অদল বদল — ৫ নম্বর)
  23. প্রশ্ন ৫: “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বোঝাতে চেয়েছে এবং তার করুণ পরিণতি কী হয়েছিল? (নদীর বিদ্রোহ — ৫ নম্বর)
  24. প্রশ্ন ৬: “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”—কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন? (আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি — ৫ নম্বর)
  25. আদর্শ সংলাপ রচনা নমুনা: মোবাইল ফোনের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ (৫ নম্বর)
  26. মাধ্যমিক 2027 বঙ্গানুবাদ সাজেশন (৪ নম্বর) — আদর্শ নমুনাসহ
  27. মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ৯০-এ ৮৫+ নম্বর পাওয়ার খাতা সাজানোর টিপস (Exam Presentation Tips)
  28. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
  29. মাধ্যমিক 2027 বাংলা সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর দশম শ্রেণির (Class 10) ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাধ্যমিক 2027 বাংলা সাজেশন (মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা সম্পূর্ণ সাজেশন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গাইডলাইন। মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম ভাষা বাংলায় (First Language Bengali – সাহিত্য সঞ্চয়ন, সহায়ক পাঠ কোনি এবং ভাষা বা ব্যাকরণ ও নির্মিতি) ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৮৫+ নম্বর পেতে হলে শুধুমাত্র প্রশ্ন কমন পেলেই চলবে না, বরং পর্ষদের নির্দিষ্ট উত্তর লেখার কাঠামো (Point-wise Answer Structure), উৎস উল্লেখ এবং প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি ব্যবহারের কৌশল জানতে হবে।

এই মেগা আর্টিকেলে আমরা দশম শ্রেণির পাঠ্যবই সাহিত্য সঞ্চয়ন (Sahitya Sanchayan)-এর সমস্ত গল্প (জ্ঞানচক্ষু, বহুরূপী, পথের দাবী, অদল বদল, নদীর বিদ্রোহ), সমস্ত কবিতা (অসুখী একজন, আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি, আফ্রিকা, অভিষেক, প্রলয়োল্লাস, সিন্ধুতীরে, অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান), প্রবন্ধ (হারিয়ে যাওয়া কালি কলম ও বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান), নাটক (সিরাজদ্দৌলা), সহায়ক পাঠ (কোনি) এবং রচনা ও বঙ্গানুবাদের সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পয়েন্ট-ভিত্তিক আদর্শ উত্তর (Complete Model Answers) আলোচনা করেছি।

মাধ্যমিক 2027 বাংলা নম্বর বিভাজন ও প্রশ্নপত্রের কাঠামো (WBBSE Class 10 Bengali Marks Distribution 2027)

মাধ্যমিক ২০২৭ (Madhyamik 2027) বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কোন অংশ থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিভাগ ও পাঠ্য অংশ (Topic / Section) MCQ (১ নম্বর) SAQ (১ নম্বর) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৩ নম্বর) রচনাধর্মী প্রশ্ন (৪ নম্বর) বড়ো প্রশ্ন (৫ নম্বর) মোট নম্বর (Total Marks)
গল্প (সাহিত্য সঞ্চয়ন – ৫টি গল্প) ৩টি (৩×১=৩) ৪টি (৪×১=৪) ১টি (১×৩=৩) নেই ১টি (১×৫=৫) ১৫ নম্বর
কবিতা (সাহিত্য সঞ্চয়ন – ৭টি কবিতা) ৩টি (৩×১=৩) ৪টি (৪×১=৪) ১টি (১×৩=৩) নেই ১টি (১×৫=৫) ১৫ নম্বর
প্রবন্ধ (কালি কলম ও বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান) ৩টি (৩×১=৩) ৩টি (৩×১=৩) নেই নেই ১টি (১×৫=৫) ১১ নম্বর
নাটক (সিরাজদ্দৌলা – শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত) নেই নেই নেই ১টি (১×৪=৪) নেই ৪ নম্বর
সহায়ক পাঠ (কোনি – মতি নন্দী) নেই নেই নেই নেই ২টি (২×৫=১০) ১০ নম্বর
ব্যাকরণ (কারক, সমাস, বাক্য ও বাচ্য) ৮টি (৮×১=৮) ৮টি (৮×১=৮) নেই নেই নেই ১৬ নম্বর
নির্মিতি: বঙ্গানুবাদ (Translation) নেই নেই নেই ১টি (১×৪=৪) নেই ৪ নম্বর
নির্মিতি: সংলাপ অথবা প্রতিবেদন রচনা নেই নেই নেই নেই ১টি (১×৫=৫) ৫ নম্বর
নির্মিতি: প্রবন্ধ রচনা (Essay Writing) নেই নেই নেই নেই ১টি (১×১০=১০) ১০ নম্বর
সর্বমোট লিখিত পরীক্ষা (Written Exam) ১৭ নম্বর ১৯ নম্বর ৬ নম্বর ৮ নম্বর ৪০ নম্বর ৯০ নম্বর

১. মাধ্যমিক 2027 বাংলা গল্প সাজেশন: ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (Class 10 Bengali Story Suggestion 2027)

দশম শ্রেণির সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ে মোট ৫টি গল্প রয়েছে: জ্ঞানচক্ষু (আশাপূর্ণা দেবী), বহুরূপী (সুবোধ ঘোষ), পথের দাবী (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়), অদল বদল (পান্নালাল প্যাটেল) এবং নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়)। ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য পথের দাবী, জ্ঞানচক্ষু এবং বহুরূপী গল্প তিনটি থেকে ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা সর্বাধিক। নিচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির আদর্শ উত্তর ও অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নাবলি দেওয়া হলো।

প্রশ্ন ১: “পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হইল।”—সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়? (পথের দাবী — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ শীর্ষক মূল উপন্যাস থেকে গৃহীত পাঠ্যাংশ ‘পথের দাবী’ গদ্যাংশ থেকে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।
  • সব্যসাচী মল্লিকের পরিচয়: ব্রিটিশ সরকারের চোখে সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন ভারতের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং রাজদ্রোহী বা ‘পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট’। রেঙ্গুন পুলিশ ও পোলিটিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অফিসার নিমাইবাবু তাঁকে ধরার জন্য মরিয়া ছিলেন। কিন্তু সব্যসাচী ছদ্মবেশ ধারণে এতটাই পারদর্শী ছিলেন যে, গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই তিনি অবাধে যাতায়াত করতেন।
  • গিরীশ মহাপাত্র রূপে বাহ্যিক চেহারা ও পোশাক: পুলিশ যখন গিরীশ মহাপাত্রকে সব্যসাচী সন্দেহে ধরে আনে, তখন দেখা যায় লোকটির বয়স ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়, কিন্তু শরীর অত্যন্ত দুর্বল, ক্ষীণ এবং কাশির দমকে জর্জরিত। তার পরনে ছিল শতচ্ছিন্ন মলিন জামা, সবুজ রঙের ফুল-মোজা, বার্নিশ করা বাটালি-তোলা জুতো, মাথায় চেরা সিঁথি ও নেবুর তেলের উগ্র গন্ধযুক্ত চুল এবং বুকপকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল।
  • জিজ্ঞাসাবাদের সময় সৃষ্ট নাটকীয় পরিস্থিতি: ১. অপূর্ব ও নিমাইবাবুর বিস্ময়: রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিকের মতো একজন মহাবিপ্লবীর পরিবর্তে এমন অদ্ভুত পোশাকধারী, রুগ্‌ণ ও হাস্যকর চেহারার গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে অপূর্ব এবং পুলিশ সাহেব নিমাইবাবু দুজনেই স্তম্ভিত ও কৌতুকবোধ করেন। ২. গাঁজার কলকে সংক্রান্ত কৌতুক: গিরীশ মহাপাত্রের টিনের তোরঙ্গ ও বিছানা তল্লাশি করে কোনো বিপ্লবী নথিপত্র না পেয়ে কেবল একটি গাঁজার কলকে পাওয়া যায়। গিরীশ অত্যন্ত বিনীত অথচ চতুর ভঙ্গিতে জানায় যে, সে গাঁজা খায় না, তবে পথে কুড়িয়ে পাওয়া কলকেটি কোনো কাজে লাগতে পারে ভেবে রেখে দিয়েছে। ৩. বুদ্ধিদীপ্ত ছলনা ও মুক্তি: কাশির দমকে হাঁপাতে হাঁপাতে এবং অত্যন্ত নিরীহ ও বোকা মানুষের অভিনয় করে গিরীশ মহাপাত্র পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুর সমস্ত সন্দেহ দূর করে দেয়। ফলে নিমাইবাবু তাকে সব্যসাচী বলে মনে না করে সসম্মানে ছেড়ে দেন এবং বিপ্লবী সব্যসাচী পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে নিরাপদে প্রস্থান করেন।

প্রশ্ন ২: “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে!”—কোন ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে? কেন সেই ঘটনাটি তপনের কাছে অলৌকিক মনে হয়েছিল এবং তার পরিণতি কী হয়েছিল? (জ্ঞানচক্ষু — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কুমকুম’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ‘জ্ঞানচক্ষু’ ছোটোগল্প থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটি চয়ন করা হয়েছে।
  • অলৌকিক ঘটনাটির পরিচয়: ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষে মামার বাড়িতে এসে বালক তপন তার নতুন মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয় এবং দুপুরবেলা তিনতলার সিঁড়িতে বসে আস্ত একটি গল্প লিখে ফেলে (‘প্রথম দিন’)। ছোটোমাসির হাত ঘুরে সেই গল্পটি লেখক মেসোর কাছে পৌঁছায় এবং মেসোমশাই গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ছাপার অক্ষরে হাজার হাজার ছেলের হাতে নিজের লেখা গল্পটি ঘুরবে—এই ঘটনাকেই তপনের কাছে ‘অলৌকিক’ বলে মনে হয়েছে।
  • অলৌকিক মনে হওয়ার কারণ: ১. লেখক সম্পর্কে তপনের পূর্বধারণা: তপন এতদিন ভাবত লেখকরা বোধহয় সাধারণ মানুষ নন, তাঁরা আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব। কিন্তু নতুন মেসোকে নিছক একজন সাধারণ মানুষের মতোই দাড়ি কামাতে, সিগারেট খেতে ও ঘুমোতে দেখে তপনের প্রথম ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মীলিত হয়। ২. নিজের সৃষ্টির স্বীকৃতি: তপনের মতো একজন নেহাত সাধারণ বালকের লেখা গল্প যে সত্যিই ‘সন্ধ্যাতারা’র মতো নামী পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হতে পারে, তা তার কল্পনারও অতীত ছিল। তাই পত্রিকা হাতে পেয়ে তার মনে হয়েছিল পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে।
  • ঘটনাটির করুণ পরিণতি: বাড়ির সকলের সামনে যখন তপনকে তার ছাপানো গল্পটি পড়ে শোনাতে বলা হয়, তখন তপন আবিষ্কার করে যে মেসোমশাই ‘একটু কারেকশন’ করার নামে তার মূল গল্পটির প্রতিটি লাইন আগাগোড়া বদলে পাকা হাতের ভাষায় নতুন করে লিখে দিয়েছেন। বাড়ির সকলে মেসোর মহত্ত্বের প্রশংসা করলেও তপন গভীর অপমান ও বেদনায় বোবা হয়ে যায়। সে সংকল্প করে, ভবিষ্যতে নিজের লেখা নিজেই পত্রিকা অফিসে জমা দেবে এবং আর কখনো অন্যের দয়ায় ছাপার অক্ষরে নাম দেখতে চাইবে না।

প্রশ্ন ৩: হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে—হরিদার জীবনের এই নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও এবং তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো। (বহুরূপী — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: বিশিষ্ট গল্পকার সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদার জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে এক অনন্য নাটকীয় বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে।
  • হরিদার সাধারণ জীবনযাত্রা: হরিদা ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভেতর একটি ছোটো ঘরে তিনি থাকতেন। উনুনে হাঁড়ি চড়লেও অনেক সময় ভাতের বদলে কেবল জল ফুটত, কারণ অভাব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ধরাবাঁধা কোনো অফিস বা দোকানের ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা একঘেয়ে কাজ করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ ছিল।
  • বহুরূপী বৃত্তির নাটকীয় বৈচিত্র্য: পেটের দায়ে এবং শিল্পের টানে হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে পথে বের হতেন। তাঁর বিভিন্ন সাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. উন্মাদ বা পাগল: চকের বাসস্ট্যান্ডে মুখে লালা ঝরিয়ে, চোখ রাঙিয়ে এবং কোমরে একটা ছেঁড়া কম্বল জড়িয়ে পাগল সেজে যাত্রীদের চমকে দেওয়া। ২. বাইজি: ঘুঙুর পায়ে দিয়ে ফুলবাবুদের মনোরঞ্জন করা এবং দোকানদারদের কাছ থেকে বকশিশ আদায় করা। ৩. বাউল, কাপালিক ও ফিরিঙ্গি কেরানি: কখনো একতারা হাতে বাউল, কখনো ত্রিশূল হাতে কাপালিক, আবার কখনো হ্যাট-কোট পরে ফিরিঙ্গি সাহেব সেজে মানুষকে তাক লাগিয়ে দেওয়া। ৪. পুলিশ ও বিরাগী: দয়ালবাবুর লিচুবাগানে নকল পুলিশ সেজে স্কুলের চারজন ছেলেকে ধরা এবং মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে আট আনা ঘুষ আদায় করা; আর সর্বশেষে জগদীশবাবুর বাড়িতে জ্যোৎস্নালোকে পরমহংস ‘বিরাগী’ সেজে উপস্থিত হওয়া।
  • হরিদার চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব (শিল্পীসত্তার জয়): জগদীশবাবু যখন হরিদার বিরাগী রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার থলি দান করতে চান, তখন দরিদ্র হরিদা সেই বিপুল অর্থের লোভ অনায়াসে প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ টাকা নিলে তাঁর ‘বিরাগী’ চরিত্রের খাঁটি অভিনয় নষ্ট হয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত কেবল আট আনা বা দশ আনা সাধারণ বকশিশ নেওয়ার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে হরিদা ছিলেন একজন প্রকৃত ও নিষ্ঠাবান শিল্পী।

মাধ্যমিক 2027 গল্প থেকে ৩ ও ৫ নম্বরের অতিরিক্ত বাছাই করা প্রশ্নাবলি (Must-Read Story Questions)

  • জ্ঞানচক্ষু: ১. “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।”—এখানে ‘রত্ন’ ও ‘জহুরি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৩ নম্বর) ২. “তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!”—কার, কেন এমন মনে হয়েছিল? (৩ নম্বর)
  • বহুরূপী: ১. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।”—কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? কেন তা দুর্লভ? (৩ নম্বর) ২. জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদা বিরাগী সেজে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটেছিল তা নিজের ভাষায় লেখো। (৫ নম্বর)
  • পথের দাবী: ১. “বাবুজি, এসব কথা বলার তো দুঃখ আছে।”—বক্তা কে? কোন কথার পরিপ্রেক্ষিতে সে এ কথা বলেছে? (৩ নম্বর) ২. ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অবলম্বনে অপূর্ব চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। (৫ নম্বর)
  • অদল বদল: ১. “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”—কে, কাকে শিখিয়েছে? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (৩/৫ নম্বর) ২. অমৃত ও ইসাবের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ও জামা অদল-বদলের কাহিনি কীভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর)
  • নদীর বিদ্রোহ: ১. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বোঝাতে চেয়েছে? (৩/৫ নম্বর) ২. নদেরচাঁদের নদীপ্রীতি কীভাবে তার মর্মান্তিক পরিণতির কারণ হয়ে দাঁড়াল তা আলোচনা করো। (৫ নম্বর)

২. মাধ্যমিক 2027 বাংলা কবিতা সাজেশন: ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (Class 10 Bengali Poem Suggestion 2027)

কবিতা অংশ থেকে এ বছর অভিষেক (মাইকেল মধুসূদন দত্ত), অসুখী একজন (প পাবলো নেরুদা), প্রলয়োল্লাস (কাজী নজরুল ইসলাম), আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি (শঙ্খ ঘোষ) এবং আফ্রিকা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)—এই পাঁচটি কবিতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিচে সেরা প্রশ্নগুলির আদর্শ উত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন ১: “নমি পুত্র পিতার চরণে, করযোড়ে কহিলা;”—পিতা ও পুত্র কে? পিতার চরণে প্রণাম করে পুত্র কী বলেছিলেন এবং পিতা তার কী উত্তর দিয়েছিলেন? (অভিষেক — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ ‘অভিষেক’ শীর্ষক কাব্যাংশ থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে।
  • পিতা ও পুত্রের পরিচয়: আলোচ্য অংশে ‘পিতা’ হলেন স্বর্ণলঙ্কার অধিপতি রাক্ষসরাজ রাবণ এবং ‘পুত্র’ হলেন রাবণের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা পুত্র বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদ।
  • পুত্র ইন্দ্রজিতের বক্তব্য: প্রিয় অনুজ বীরবাহুর মৃত্যু এবং পিতা রাবণের স্বয়ং যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা শুনে মেঘনাদ দ্রুত লঙ্কাপুরীতে উপস্থিত হন। পিতার চরণে প্রণাম করে করযোড়ে তিনি বলেন: ১. দেবরাজ ইন্দ্রকে জয়ী এই মেঘনাদ জীবিত থাকতে পিতা রাবণ কেন স্বয়ং যুদ্ধযাত্রার আয়োজন করছেন, তা তাঁর কাছে বোধগম্য নয়। ২. রামচন্দ্র যে মায়াবলে লক্ষ্মণের মাধ্যমে বীরবাহুকে হত্যা করে পুনরায় বেঁচে উঠেছেন, সেই মায়ার রহস্য তিনি ভেদ করবেন। ৩. মেঘনাদ পিতার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন যেন তিনি তীক্ষ্ণ শরবর্ষণে নির্মূল করে এই নরাধম রাঘবকে (রামচন্দ্রকে) সমূলে বিনাশ করে লঙ্কার কলঙ্ক মোচন করতে পারেন।
  • পিতা রাবণের উত্তর ও পুত্রস্নেহ: পুত্রের বীরত্বপূর্ণ কথা শুনে রাক্ষসকুলশেখর রাবণ মেঘনাদকে আলিঙ্গন করেন এবং বলেন: ১. রাবণ মেঘনাদকে রাক্ষসকুলের চূড়ামণি বা শ্রেষ্ঠ ভরসা বলে অভিহিত করেন এবং জানান যে, এই ঘোর বিপদের দিনে তিনি মেঘনাদকে বারবার যুদ্ধে পাঠাতে চান না। ২. কিন্তু কাল (নিয়তি) আজ লঙ্কার প্রতিকূল—যেখানে মরা মানুষ (রামচন্দ্র) পুনরায় বেঁচে ওঠে, সেখানে পিতা হিসেবে তাঁর হৃদয় শঙ্কিত। ৩. তাই রাবণ নির্দেশ দেন যে, আগামীকাল সকালে যুদ্ধে যাওয়ার আগে মেঘনাদ যেন আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে গিয়ে ইষ্টদেবী অগ্নির আরাধনা ও যজ্ঞ সম্পন্ন করেন এবং আজ রাত্রিতে তাঁকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করা হোক।

প্রশ্ন ২: “তারপর যুদ্ধ এল”—যুদ্ধ কীভাবে এল? যুদ্ধের ফলে কবি ও সেই মেয়েটির জীবনে কী প্রভাব পড়েছিল তা ‘অসুখী একজন’ কবিতা অবলম্বনে লেখো। (অসুখী একজন — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: চিলির পাবলো নেরুদা রচিত এবং নবারুণ ভট্টাচার্য অনূদিত ‘বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।
  • যুদ্ধ আসার স্বরূপ: শান্ত ও নিস্তরঙ্গ জনজীবনে যুদ্ধ এসেছিল “রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো”। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত যেমন মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও জনপদকে গলিত লাভা ও ভস্মে ঢেকে দেয়, ঠিক তেমনই সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ তার হিংস্র ও ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে আছড়ে পড়েছিল।
  • যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও কবির জীবনে প্রভাব: ১. শিশু ও মানুষ হত্যা: যুদ্ধের নির্মম আঘাতে নিষ্পাপ শিশুরা আর খুন হলো, যার জন্য তাদের কোনো অপরাধ ছিল না। ২. কবির প্রিয় বাসভূমি ধ্বংস: কবির সেই মিষ্টি বাড়ি, সেই বারান্দা যেখানে তিনি ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন, গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা, চিমনি এবং প্রাচীন জলতরঙ্গ—সবই যুদ্ধের গোলাবারুদে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল এবং আগুন ধরে গেল। ৩. সমস্ত শহরের বিনাশ: হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা দেবতাদের মন্দির থেকে শুরু করে সমগ্র শহর কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা এবং পাথরের মূর্তির বীভৎস মুণ্ডুতে পরিণত হলো। কবি নিজেও দূরযাত্রায় বা সংগ্রামে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারলেন না (অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করলেন)।
  • অপেক্ষারত মেয়েটির ওপর প্রভাব (চিরন্তন প্রেম ও আশাবাদ): যুদ্ধের ভয়াবহতা সবকিছু ধ্বংস করলেও কথকের জন্য দরজায় অপেক্ষারত সেই সাধারণ মেয়েটির ভালোবাসাকে ধ্বংস করতে পারেনি। সব ধ্বংসস্তূপ ও রক্তের কালো দাগের ওপর দিয়েও সেই মেয়েটি কবির ফিরে আসার আশায় একা দাঁড়িয়ে রইল। তার এই অবিচল প্রতীক্ষা মানবিক প্রেম ও মাতৃভূমির অমরত্বকেই সূচিত করে।

প্রশ্ন ৩: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একদিকে প্রলয় বা ধ্বংসের চিত্র এবং অন্যদিকে নতুনের আগমনের যে জয়গান গেয়েছেন, তা কবিতা অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। (প্রলয়োল্লাস — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় পরাধীন ভারতের বুকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পতন ঘটিয়ে স্বাধীনতার নবসূর্যোদয়ের বাণী ধ্বনিত হয়েছে।
  • প্রলয় বা ধ্বংসের রুদ্র রূপ: ১. মহাকালের চণ্ডরূপ: কবি দেখেছেন মহাকাল তাঁর চণ্ডরূপ ধারণ করে বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে ভয়ংকর বেগে এগিয়ে আসছেন। ২. রথের ঘর্ঘর ও কৃপাণ: তাঁর দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল রথের চাকার ঘর্ঘর শব্দে অন্ধকার রাত্রির বুক ফেটে যাচ্ছে এবং রক্ত-তড়িত চাবুক হেনে তিনি অন্যায়ের বিনাশ ঘটাচ্ছেন। ৩. অট্টহাসি ও উল্কা ছুটানো: মহাদেবের প্রলয়-নেশার নাচে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে আঘাত লাগছে এবং নীল খিলানে উল্কা ছুটিয়ে তিনি পুরাতন ও জরাজীর্ণ সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করছেন।
  • নতুনের আগমন ও সৃষ্টির উল্লাস: ১. ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির বীজ: কবির মতে, এই ধ্বংস নিছক বিনাশের জন্য নয়; কুৎসিত ও পরাধীনতার গ্লানি মুছে ফেলার জন্যই এই কালবৈশাখীর ঝড়ের প্রয়োজন। ২. তরুণ শক্তির অভ্যুদয়: এই প্রলয়ের দেবতা আসলে চির-সুন্দর ও চির-যুবা। তাঁর জটাজুটের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ‘শিশু-চাঁদের কর’ বা নতুন প্রাণের আশ্বাস। ৩. ঊষার অরুণ হাসি: ভয়ংকর দিগম্বর মহাদেবের অট্টহাসির পরেই দেখা দেবে সুন্দরের ‘অরুণ হাসি’। তাই কবি দেশবাসীকে ভীত না হয়ে মঙ্গল-প্রদীপ জ্বেলে বধূদের ও তরুণদের এই নবযুগের অগ্রদূতকে “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” বলে স্বাগত জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

মাধ্যমিক 2027 কবিতা থেকে ৩ নম্বরের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

  • আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি: ১. “আমাদের ডানপাশে ধস / আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ”—কাদের কথা বলা হয়েছে? এই পরিস্থিতিতে কবির আহ্বান কী? (৩ নম্বর) ২. “আমাদের ইতিহাস নেই”—কেন আমাদের ইতিহাস নেই বলা হয়েছে? (৩ নম্বর)
  • আফ্রিকা: ১. “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।”—কাকে এ কথা বলা হয়েছে? কীভাবে তার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন মুদ্রিত হলো? (৩ নম্বর) ২. “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে; / বলো ‘ক্ষমা করো’”—‘মানহারা মানবী’ কে? কেন তার কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে? (৩/৫ নম্বর)
  • সিন্ধুতীরে: ১. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।”—কন্যাটি কে? সে কোথায় থাকত এবং সেই স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও। (৩/৫ নম্বর) ২. সমুদ্রকন্যা পদ্মা কীভাবে অচৈতন্য পদ্মাবতী ও তার সখীদের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন? (৫ নম্বর)
  • অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান: ১. “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে”—কবি কোথায় অস্ত্র ফেলতে বলেছেন? অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানের শক্তি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে? (৩/৫ নম্বর)

৩. মাধ্যমিক 2027 বাংলা প্রবন্ধ সাজেশন: ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর (Class 10 Bengali Essay Text Suggestion 2027)

পাঠ্যবইয়ের দুটি প্রবন্ধ—শ্রীপান্থের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ এবং রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ থেকে ১টি করে মোট ২টি ৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে, যার মধ্যে যেকোনো ১টির উত্তর লিখতে হয়।

প্রশ্ন ১: “আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।”—কারা কালি তৈরি করতেন? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন এবং সেকালের কলমের বিবর্তনের পরিচয় দাও। (হারিয়ে যাওয়া কালি কলম — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: প্রাবন্ধিক নিখিল সরকার বা ‘শ্রীপান্থ’ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।
  • যাঁরা কালি তৈরি করতেন: লেখক শ্রীপান্থ এবং তাঁর সমসাময়িক গ্রামবাংলার শৈশবের সহপাঠীরা বিদ্যালয়ে লেখার জন্য নিজেরাই বাড়িতে কালি তৈরি করতেন। এ কাজে মা, পিসি ও দিদিরাও তাঁদের সাহায্য করতেন।
  • কালি তৈরির ঘরোয়া ও প্রাচীন পদ্ধতি: ১. সাধারণ পদ্ধতি: বাড়ির রান্নার কাঠের উনুনে কড়াইয়ের তলায় যে পুরু কালি জমত, তা লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে একটি পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নেওয়া হতো। ২. ওস্তাদ বা বিশেষজ্ঞদের পদ্ধতি: যাঁরা কালি তৈরিতে পাকা ছিলেন, তাঁরা ওই কালো জলে হরতকী ঘষতেন। কখনো কখনো মাকে দিয়ে আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে তা সিলে বেটে ওতে মেশানো হতো। ৩. খুন্তি ছ্যাঁকা ও ছাঁকনি: সব ভালো করে মেশানোর পর একটা খুন্তির গোড়ার দিকটা আগুনে লাল করে পুড়িয়ে সেই জলে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। অল্প জল থাকায় তা টগবগ করে ফুটে উঠত। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে মাটির দোয়াতে ভরে নিলেই তৈরি হয়ে যেত লেখার উপযোগী চমৎকার কালি। ৪. প্রাচীন প্রবাদ: প্রাবন্ধিক কালি তৈরির প্রচলিত ছড়াটিও উল্লেখ করেছেন—“তিল ত্রিফলা শিমুল ছালা / ছাগ দুগ্ধে করি মেলা / লৌহপাত্রে লোহায় ঘষি / ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।”
  • সেকালের কলমের বিবর্তন: বাঁশের কঞ্চি কেটে তৈরি কলম, খাগের কলম, হাঁসের পালকের কলম বা ‘কুইল’ (Quill), ব্রোঞ্জের শলাকা বা ‘স্টাইলাস’ (Stylus) পেরিয়ে পরবর্তীকালে লর্ড কার্জনের আমল ও আধুনিক যুগে ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম এবং অবশেষে বল-পেন বা ডট পেনের আবির্ভাব ঘটে।

প্রশ্ন ২: ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে লেখক রাজশেখর বসু বাংলায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার কী প্রতিকার নির্দেশ করেছেন? (বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক রাজশেখর বসু রচিত ‘বিচিন্তা’ প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার অন্তরায় ও তার সমাধান আলোচিত হয়েছে।
  • পাঠকদের শ্রেণিবিভাগ: লেখক প্রথমেই পাঠকদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন—(১) যাঁরা ইংরেজি জানেন না বা অতি অল্প জানেন (অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে ও সাধারণ পাঠক) এবং (২) যাঁরা ইংরেজি জানেন এবং ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান পড়েছেন।
  • বাংলায় বিজ্ঞান রচনার প্রধান সমস্যাগুলি: ১. উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব: ইংরেজি বৈজ্ঞানিক শব্দের সঠিক ও সহজবোধ্য বাংলা প্রতিশব্দ সবসময় পাওয়া যায় না। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা সমিতির কাজ হলেও এখনো বহু শব্দের পরিভাষা তৈরি হয়নি। ২. ইংরেজি ভাষায় চিন্তা ও আক্ষরিক অনুবাদ: আমাদের অনেক লেখক প্রথমে ইংরেজিতে ভাবেন এবং তারপর তার হুবহু বাংলা অনুবাদ করতে যান। ফলে রচনা আড়ষ্ট ও দুর্বেধ্য হয়ে পড়ে (যেমন: The atomic engine has not even reached the blueprint stage-এর অনুবাদ “পরমাণু এঞ্জিন নীলচিত্রের অবস্থাতেও পৌঁছায় নাই”—যা হাস্যকর)। ৩. অলংকার ও লক্ষণার অপপ্রয়োগ: সাহিত্যে রূপক বা ব্যঞ্জনার স্থান থাকলেও বিজ্ঞানের লেখায় তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে (যেমন: ‘হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’—কালিদাসের এই উক্তি কাব্যেরই উপযুক্ত, ভূগোলের নয়)। ৪. লেখকদের ভ্রান্ত ধারণা ও অজ্ঞতা: অনেক সময় অল্পবিদ্যাসম্পন্ন সাংবাদিক বা লেখক যাচাই না করেই ভুল বৈজ্ঞানিক তথ্য পরিবেশন করেন (যেমন: ‘ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর’ বা ‘মশা মাছি সাপ ব্যাং সবই কীট’)।
  • প্রতিকারের উপায়: ১. প্রথমবার কোনো নতুন পারিভাষিক শব্দ ব্যবহারের সময় বন্ধনীর মধ্যে ইংরেজি শব্দটি লিখে দেওয়া উচিত। ২. বহুল প্রচলিত আন্তর্জাতিক শব্দ (যেমন—অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, টেলিফোন, মেলেরিয়া) বাংলায় অবিকৃত রাখা ভালো। ৩. বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভের ভাষা হওয়া উচিত অত্যন্ত সরল, স্পষ্ট এবং সোজাসুজি।

৪. মাধ্যমিক 2027 বাংলা নাটক (সিরাজদ্দৌলা) ও সহায়ক পাঠ (কোনি) সাজেশন (Class 10 Sirajuddaula & Koni Suggestion 2027)

নাটক ‘সিরাজদ্দৌলা’ (৪ নম্বর) এবং সহায়ক পাঠ ‘কোনি’ (৫×২=১০ নম্বর)—এই দুটি অংশের বিস্তারিত একক সাজেশন আমরা আমাদের আগের আর্টিকেল #৮ ও #৯-এ আলোচনা করেছি। এখানে মেগা সাজেশনের পূর্ণতার জন্য সেরা বাছাইকৃত প্রশ্ন ও ১টি করে আদর্শ উত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন (সিরাজদ্দৌলা): “বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়—মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।”—কে, কাদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? (৪ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস ও বক্তা: নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর রাজদরবারে উপস্থিত রাজা রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফর ও রাইদুর্লভ প্রমুখ সভাসদদের উদ্দেশে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
  • প্রসঙ্গ: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাসিমবাজার কুঠির অধ্যক্ষ ওয়াটসনকে লেখা অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের গোপন চিঠি ধরে ফেলে সিরাজ যখন প্রমাণ পান যে ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ষড়যন্ত্র করছে এবং তাঁরই সভাসদরা ধর্মীয় বিভেদ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ইংরেজদের মদত দিচ্ছে, তখন নবাব তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এই মর্মস্পর্শী কথাগুলি বলেন।
  • সিরাজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য: ১. অসাম্প্রদায়িক চেতনা: সিরাজ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে বাংলার সমান অংশীদার বলে মনে করতেন। ২. গভীর দেশপ্রেম ও দূরদর্শিতা: তিনি বুঝেছিলেন যে সভাসদদের গৃহবিবাদ ও ষড়যন্ত্রের সুযোগ নিয়ে বিদেশি বণিক ইংরেজরা সুজলা-সুফলা ‘গুলবাগ’ বাংলাকে পরাধীনতার অন্ধকারে ডুবিয়ে দেবে। তাই নিজের অতীত ত্রুটি স্বীকার করেও তিনি সকলকে মাতৃভূমি রক্ষার শপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশ্ন (কোনি): “ফাইট কোনি, ফাইট”—কথাটি কে, কোন পরিস্থিতিতে বলেছিলেন? এই মন্ত্র কীভাবে সাধারণ ঘরের মেয়ে কোনিকে চ্যাম্পিয়ন সাঁতারুতে পরিণত করেছিল? (৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস ও বক্তা: ক্রীড়া-সাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসে কোচ ক্ষিতীশ সিংহ মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে (৪×১০০ মিটার রিলে রেস) জলের ধারে দাঁড়িয়ে কোনিকে উদ্দেশ্য করে এই কালজয়ী জীবনমন্ত্রটি উচ্চারণ করেছিলেন।
  • পরিস্থিতি: বাংলা দলের হয়ে শেষ ল্যাপে যখন কোনি জলে ঝাঁপ দেয়, তখন প্রতিপক্ষ মহারাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সাঁতারু রমা যোশী অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল। বাংলার সোনার পদক জয়ের আশা যখন প্রায় শেষ, তখনই ক্ষিতীশ সিংহ গ্যালারি ও সুইমিং পুলের ধার দিয়ে ছুটতে ছুটতে চিৎকার করে ওঠেন—“ফাইট কোনি, ফাইট!”
  • কোনির চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠার সংগ্রাম: ১. দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই: শ্যামপুকুর বস্তির দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনি দাদা কমলের মৃত্যু, ক্ষুধার জ্বালা এবং জুপিটার ক্লাবের হরিচরণ ও ধীরেনবাবুদের হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিদিন লড়াই করেছে। ২. ক্ষিতীশের কঠোর প্রশিক্ষণ: ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে কেবল সাঁতারের স্ট্রোক শেখাননি, বরং তার ভেতরের জেদ, অপমানবোধ এবং যন্ত্রণাকে জয়ের শক্তিতে রূপান্তরিত করেছিলেন। ৩. চূড়ান্ত বিজয়: মাদ্রাজের পুলে ক্ষিতীশের সেই ‘ফাইট’ ধ্বনি কোনির কানে পৌঁছাতেই সে নিজের ক্লান্ত ও অবসন্ন শরীরকে ছাপিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে সাঁতার কাটে এবং রমা যোশীকে পরাজিত করে বাংলাকে স্বর্ণপদক এনে দেয়।

৫. মাধ্যমিক 2027 বাংলা নির্মিতি সাজেশন: প্রবন্ধ রচনা, সংলাপ, প্রতিবেদন ও বঙ্গানুবাদ (Class 10 Bengali Writing Skill Suggestion 2027)

নির্মিতি অংশে মোট ১৯ নম্বর থাকে (প্রবন্ধ রচনা ১০ + সংলাপ/প্রতিবেদন ৫ + বঙ্গানুবাদ ৪)। এই অংশে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য নিচের টপিকগুলো সবচেয়ে ভালো করে অনুশীলন করতে হবে:

মাধ্যমিক 2027 বাংলা প্রবন্ধ রচনা সাজেশন (১০ নম্বর) — Top 6 Essays

১. দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Science in Everyday Life & AI) — (সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ) ২. পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার / বিশ্ব উষ্ণায়ন ও অরণ্য সংরক্ষণ (Environmental Pollution & Global Warming) ৩. বাংলার উৎসব (Festivals of Bengal) ৪. চরিত্র গঠনে ও মানবজীবনে খেলাধুলার ভূমিকা (Role of Games and Sports) ৫. একটি গাছ একটি প্রাণ / বৃক্ষরোপণ অভিযান ৬. তোমার প্রিয় সাহিত্যিক / মহাপুরুষের জীবনী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / স্বামী বিবেকানন্দ / ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর)

আদর্শ প্রবন্ধ রচনা নমুনা: দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি (১০ নম্বর)

  • ভূমিকা: আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাত্রিতে নিদ্রা যাওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞান জাদুকরের মতো জড়িয়ে আছে। গুহাবাসী মানুষ যেদিন প্রথম পাথরে পাথর ঠুকে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল, সেদিনই সূচনা হয়েছিল বিজ্ঞানের জয়যাত্রার। আজ একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) মানবসভ্যতাকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
  • প্রাত্যহিক গৃহস্থালি ও নাগরিক জীবনে বিজ্ঞান: সকালে অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দে ঘুম ভাঙা, বৈদ্যুতিক আলো, পাখা, ওয়াশিং মেশিন, রেফ্রিজারেটর, ইন্ডাকশন ওভেন এবং জলের পাম্প—সবই বিজ্ঞানের দান। রান্নাঘরের গ্যাস ওভেন থেকে শুরু করে হাতের স্মার্টফোনটি পর্যন্ত আমাদের নিত্যদিনের শ্রম ও সময়কে বহুগুণ কমিয়ে দিয়েছে।
  • যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থায় বিপ্লব: বিজ্ঞান দূরকে করেছে নিকট। সাইকেল, মোটরগাড়ি, দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন, মেট্রো রেল এবং আকাশপথে এরোপ্লেন পৃথিবীর ভৌগোলিক দূরত্বকে মুছে দিয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট, ৫জি (5G) নেটওয়ার্ক, ই-মেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বার্তা ও ভিডিও আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে।
  • চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃষি ক্ষেত্রে অবদান: একসময় কলেরা, বসন্ত বা যক্ষ্মার মতো মহামারিতে উজাড় হয়ে যেত গ্রাম। আজ বিজ্ঞানের আশীর্বাদে এক্স-রে, ইসিজি, এমআরআই, রোবোটিক সার্জারি এবং জীবনদায়ী ভ্যাকসিন মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি করেছে। কৃষিক্ষেত্রেও ট্রাক্টর, উচ্চফলনশীল বীজ এবং আধুনিক জলসেচ ব্যবস্থার ফলে খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে।
  • শিক্ষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় স্মার্ট ক্লাসরুম, অনলাইন লাইব্রেরি, ই-বুক এবং চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানার্জনের পরিধিকে অসীম করে তুলেছে।
  • বিজ্ঞানের অপব্যবহার ও কুফল: বিজ্ঞান নিজে কল্যাণকর হলেও মানুষের লোভ ও যান্ত্রিক মানসিকতা এর অভিশাপ ডেকে এনেছে। পারমাণবিক মারণাস্ত্র, শিল্পাঞ্চলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ এবং অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি তরুণ প্রজন্মের শৈশব ও মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করছে।
  • উপসংহার: বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ—তা নির্ভর করে মানুষের ব্যবহারের ওপর। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায়, বিজ্ঞানকে কেবল মুষ্টিমেয় মানুষের ভোগবিলাস বা যুদ্ধের কাজে না লাগিয়ে সর্বসাধারণের কল্যাণে ও পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার কাজে নিয়োজিত করতে হবে। তবেই দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের সার্থকতা পূর্ণতা পাবে।

মাধ্যমিক 2027 সংলাপ ও প্রতিবেদন রচনা সাজেশন (৫ নম্বর)

  • সেরা সংলাপ রচনা (Dialogue Writing): ১. মোবাইল ফোনের ভালো-মন্দ বা অতিরিক্ত অনলাইন গেম আসক্তি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ। ২. বৃক্ষরোপণের উপকারিতা ও প্লাস্টিক বর্জন সম্পর্কে দুই বন্ধুর সংলাপ। ৩. মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ।
  • সেরা প্রতিবেদন রচনা (Report Writing): ১. তোমার বিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘নির্মল বিদ্যালয় সপ্তাহ’ বা ‘বৃক্ষরোপণ উৎসব’ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী প্রতিবেদন। ২. ডেঙ্গু সচেতনতা শিবির অথবা রক্তদান শিবির সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন। ৩. সাম্প্রতিক একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা বা পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন নিয়ে প্রতিবেদন।

প্রশ্ন ৪: “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”—কে, কাকে এ কথা বলেছে? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং কীভাবে তা বক্তাকে আলোড়িত করেছিল? (অদল বদল — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: বিশিষ্ট গুজরাটি সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেল রচিত এবং অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনূদিত ‘অদল বদল’ শীর্ষক ছোটোগল্প থেকে আলোচ্য অংশটি চয়ন করা হয়েছে।
  • বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন গল্পের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ইসাবের বাবা হাসান এবং তিনি অমৃতের মা বাহালি বৌদি ও পাড়ার সমবেত মানুষজনের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন। এখানে ‘ও’ বলতে ছোট্ট বালক অমৃতকে বোঝানো হয়েছে।
  • ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে যা বোঝানো হয়েছে: এখানে ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে ধর্ম-বর্ণ ও সংকীর্ণ ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে ওঠা নিখাদ, নিঃস্বার্থ মানবিক ভালোবাসা এবং অকৃত্রিম বন্ধুত্বকে বোঝানো হয়েছে।
  • ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হাসানের হৃদয় পরিবর্তন: ১. জামা অদল-বদল ও ছিঁড়ে যাওয়া: হোলির দিন নতুন জামা পরে অমৃত ও ইসাব বাইরে বেরোলে কালিয়া নামে একটি ছেলের সাথে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামাটি পকেট থেকে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মা-হীন ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাতে অমৃত নিজের অক্ষত নতুন জামাটি খুলে ইসাবকে পরিয়ে দেয় এবং ইসাবের ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়। ২. মায়ের ভয়ে অমৃতের উত্তর: বাড়ি ফেরার পর বাহালি বৌদি যখন ছেঁড়া জামা দেখে অমৃতকে শাসন করতে যান, তখন অমৃত ভীত কণ্ঠে জানায় যে ইসাবের বাবা ইসাবকে খুব মারবেন এবং ইসাবের তো মা নেই যে তাকে বাঁচাবে—তাই সে নিজের জামা ইসাবকে দিয়েছে। ৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জয়: লুকিয়ে দাঁড়িয়ে অমৃতের এই নিষ্পাপ কথাগুলি শুনে কঠোর প্রকৃতির মানুষ হাসানের চোখ জলে ভরে ওঠে। তিনি উপলব্ধি করেন, দশ বছরের একটি ছোট্ট শিশু তাঁর মতো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকেও মানবিকতার ও নিঃস্বার্থ ভ্রাতৃত্বের প্রকৃত পাঠ শিখিয়ে দিল।

প্রশ্ন ৫: “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বোঝাতে চেয়েছে এবং তার করুণ পরিণতি কী হয়েছিল? (নদীর বিদ্রোহ — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ‘নদীর বিদ্রোহ’ ছোটোগল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে।
  • উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: এখানে ত্রিশ বছর বয়সি স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের কথা বলা হয়েছে, যার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নদীর সান্নিধ্যে এবং নদীর প্রতি যার ছিল এক অস্বাভাবিক ও গভীর মমত্ববোধ।
  • নদীর বিদ্রোহের স্বরূপ ও কারণ:
  • ১. যান্ত্রিক সভ্যতার শৃঙ্খল: নদেরচাঁদ মনে করত নদী হলো জীবন্ত এক সত্তা, যে আপন ছন্দে অবাধে বয়ে যেতে ভালোবাসে। কিন্তু মানুষ নিজের প্রয়োজনে নদীর বুকের ওপর কংক্রিট ও লোহার বিশাল ব্রিজ এবং বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করেছে। ২. বর্ষার জলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা: টানা পাঁচ দিন প্রবল বর্ষণের পর নদী যখন পঙ্কিল জলের উন্মত্ত স্রোতে ফুলে-ফেঁপে উঠে ব্রিজের ধারক স্তম্ভগুলিতে প্রবল আঘাত হানতে থাকে, তখন নদেরচাঁদের মনে হয় নদী যেন মানুষের তৈরি এই বন্দিদশা ও বাঁধ ভেঙে ফেলার জন্যই ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছে।
  • নদেরচাঁদের ট্র্যাজিক পরিণতি: বর্ষণমুখর সন্ধ্যাবেলায় নদীর এই রুদ্র রূপ প্রত্যক্ষ করে নদেরচাঁদ এক ঘোরের মধ্যে রেললাইন ধরে হাঁটতে থাকে। নদীর মতো ক্ষুদ্র স্রোতস্বিনীকে বাঁধ দিয়ে আটকানোর যৌক্তিকতা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে এতটাই আত্মবিস্মৃত হয়ে পড়ে যে, পেছন থেকে ছুটে আসা ৭ ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। যান্ত্রিক সভ্যতার প্রতীকী ট্রেনের চাকার তলায় প্রকৃতিপ্রেমিক নদেরচাঁদের এই মৃত্যু গল্পটিকে এক গভীর ট্র্যাজেডিতে রূপ দিয়েছে।

প্রশ্ন ৬: “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”—কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন? (আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি — ৫ নম্বর)

উত্তর:

  • উৎস: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘জলীয় পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে।
  • বিপন্ন সময়ের প্রেক্ষাপট: কবি বর্তমান পৃথিবীর সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের অসহায় অবস্থার এক ভয়াবহ চিত্র এঁকেছেন:
  • ১. চারপাশের অনিশ্চয়তা: আমাদের ডানপাশে ধস এবং বাঁয়ে গভীর গিরিখাদ। মাথার ওপরে শত্রুর বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ—অর্থাৎ সাধারণ মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপ আজ যুদ্ধ, হিংসা ও ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে।
  • ২. জীবন ও ইতিহাসের বঞ্চনা: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে এবং নিষ্পাপ শিশুদের শবদেহ চারদিকে ছড়ানো। ক্ষমতাবানদের রচিত ইতিহাসে সাধারণ মানুষের কোনো স্থান নেই বা থাকলেও তা বিকৃত ও চোখ-ঢাকা।
  • কবির জোটবদ্ধতার আহ্বান: এই চরম হতাশা ও অস্তিত্বের সংকটেও কবি মানুষকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বা পৃথিবীকে মৃত বলে ভাবতে নিষেধ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই বিপন্নতা থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতা, ঐক্য ও সংঘবদ্ধতা। তাই সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ মানুষকে একে অপরের হাত ধরে ‘বেঁধে বেঁধে’ বা জোটবদ্ধ হয়ে টিকে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কবি।

আদর্শ সংলাপ রচনা নমুনা: মোবাইল ফোনের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ (৫ নম্বর)

বিষয়: ছাত্রজীবনে মোবাইল ফোনের ভালো-মন্দ দিক নিয়ে দুই বন্ধু অয়ন ও সায়নের মধ্যে সংলাপ।

  • অয়ন: কীরে সায়ন, কেমন আছিস? কাল বিকেলে খেলার মাঠে তোকে দেখলামই না, বাড়িতে কি কোনো কাজ ছিল?
  • সায়ন: আর বলিস না ভাই, ভালোই আছি। কাল বিকেলে আসলে ফোনে একটা অনলাইন মক টেস্ট দিচ্ছিলাম, তারপর ইউটিউবে ভৌতবিজ্ঞানের একটা অধ্যায় দেখতে গিয়ে কখন যে সন্ধে হয়ে গেছে খেয়ালই করিনি!
  • অয়ন: তা অবশ্য ঠিক। সত্যি বলতে কী, বর্তমান যুগে আমাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট একটা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো কঠিন অঙ্ক বা নোটস মুহূর্তের মধ্যে ঘরে বসেই পিডিএফ আকারে পেয়ে যাচ্ছি।
  • সায়ন: একদমই তাই! তা ছাড়া শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা, অনলাইন ক্লাস করা কিংবা দেশ-বিদেশের সাধারণ জ্ঞানের খবর রাখা—সবই এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু জানিস অয়ন, এর একটা ভয়ংকর অন্ধকার দিকও রয়েছে।
  • অয়ন: ঠিকই বলেছিস। আমাদের ক্লাসেরই বেশ কিছু বন্ধু পড়াশোনার নাম করে ফোন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস (Reels) দেখে আর অনলাইন গেম খেলে সময় নষ্ট করছে।
  • সায়ন: শুধু সময় নষ্ট নয়, সারাক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমছে, মাথাব্যথা বাড়ছে এবং মানসিক অবসাদ ও একাকীত্ব গ্রাস করছে। খেলার মাঠগুলোও কেমন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
  • অয়ন: আমাদের বাংলা শিক্ষক সেদিন খুব সুন্দর একটা কথা বলেছিলেন—”প্রযুক্তি যেন আমাদের দাস হয়, আমরা যেন প্রযুক্তির দাস না হয়ে পড়ি।”
  • সায়ন: খুবই খাঁটি কথা। আমাদের উচিত শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময়টুকু ও পড়াশোনার কাজে মোবাইল ব্যবহার করা এবং বাকি সময়টা পাঠ্যবই পড়া ও মাঠে খেলাধুলা করা।
  • অয়ন: একদম ঠিক বলেছিস। চল, আজ বিকেলে কিন্তু ঠিক চারটের সময় মাঠে দেখা হচ্ছে!
  • সায়ন: নিশ্চয়ই, আজ কোনো মিস হবে না। চল, ক্লাসে যাই।

মাধ্যমিক 2027 বঙ্গানুবাদ সাজেশন (৪ নম্বর) — আদর্শ নমুনাসহ

  • English Passage: Home is the first school where the child learns his first lessons. He sees, hears and begins to learn at home. It is home that builds his character. In a good home honest and healthy men are made.
  • বঙ্গানুবাদ (আদর্শ উত্তর): গৃহই হলো প্রথম পাঠশালা যেখানে শিশু তার জীবনের প্রথম পাঠ গ্রহণ করে। সে গৃহে দেখে, শোনে এবং শিখতে শুরু করে। গৃহই তার চরিত্র গঠন করে। একটি আদর্শ গৃহেই সৎ এবং স্বাস্থ্যবান মানুষ তৈরি হয়।

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ৯০-এ ৮৫+ নম্বর পাওয়ার খাতা সাজানোর টিপস (Exam Presentation Tips)

১. উৎস ও কবি/লেখক পরিচিতি: ৩, ৪ ও ৫ নম্বরের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের শুরুতে একটি আলাদা বুলেট বা সাব-হেডিং করে ‘উৎস’ (মূল গ্রন্থ ও পাঠ্যাংশের নাম) অবশ্যই উল্লেখ করবে। এতে পরীক্ষকের প্রথম দৃষ্টিতেই খাতার মান অনেক বেড়ে যায়। ২. পয়েন্ট-ভিত্তিক উত্তর (Sub-headings): একটানা অনুচ্ছেদে বড়ো প্রশ্নের উত্তর না লিখে আমাদের এই নোটসের মতো ৩ থেকে ৪টি প্রাসঙ্গিক পয়েন্ট বা সাব-হেডিং করে উত্তর লিখবে। ৩. কালির সঠিক ব্যবহার: মূল উত্তর নীল কালিতে (Blue Ink) এবং পয়েন্টের হেডিং, উৎস ও পাঠ্যবইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি কালো কালিতে (Black Ink) লিখবে। ৪. বানান ও হাতের লেখা: বাংলায় বানান ভুলের জন্য নম্বর কাটা যায়। তাই প্রথম ৫ মিনিট প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়ে প্রশ্নের বানানগুলো দেখে নেবে এবং কাটাকুটি এড়িয়ে পরিচ্ছন্ন হাতের লেখায় খাতা সাজাবে।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)

মাধ্যমিক ২০২৭ সমস্ত বিষয়ের সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

মাধ্যমিক 2027 বাংলা সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: মাধ্যমিক 2027 বাংলা পরীক্ষায় কোন কোন গল্প থেকে ৫ নম্বরের প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি? উত্তর: মাধ্যমিক ২০২৭ (Madhyamik 2027) বাংলা পরীক্ষায় সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের ‘পথের দাবী’, ‘জ্ঞানচক্ষু’ এবং ‘বহুরূপী’—এই তিনটি গল্প থেকে ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। এর পাশাপাশি ‘অদল বদল’ ও ‘নদীর বিদ্রোহ’ থেকে ৩ নম্বরের প্রশ্নগুলো ভালো করে পড়ে রাখতে হবে।

প্রশ্ন ২: মাধ্যমিক ২০২৭ কবিতা অংশ থেকে কোন কোন কবিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? উত্তর: কবিতা অংশ থেকে এ বছর ৫ নম্বরের প্রশ্নের জন্য ‘অভিষেক’, ‘অসুখী একজন’, ‘প্রলয়োল্লাস’ এবং ‘আফ্রিকা’ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ৩ নম্বরের জন্য ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ এবং ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ অবশ্যই অভ্যাস করতে হবে।

প্রশ্ন ৩: বাংলা প্রবন্ধ রচনায় ১০-এ ৯ বা ১০ পাওয়ার উপায় কী? উত্তর: প্রবন্ধ রচনায় পূর্ণ নম্বর পেতে হলে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট (ভূমিকা ও উপসংহারসহ) করতে হবে, প্রাসঙ্গিক কবিতার পঙক্তি বা মনীষীদের উক্তি কালো কালিতে উদ্ধৃত করতে হবে এবং ৪০০ শব্দের মধ্যে বানান-নির্ভুল উত্তর লিখতে হবে।

প্রশ্ন ৪: ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ ও ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’—এই দুটির মধ্যে যেকোনো একটি পড়লে কি কমন পাওয়া যাবে? উত্তর: হ্যাঁ, মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্রে দুটি প্রবন্ধ থেকেই ১টি করে মোট ২টি ৫ নম্বরের প্রশ্ন দেওয়া থাকে এবং যেকোনো ১টির উত্তর লিখতে হয়। তবে MCQ ও SAQ-তে ৬-এ ৬ পাওয়ার জন্য দুটি প্রবন্ধই খুঁটিয়ে পড়া উচিত।

প্রশ্ন ৫: মাধ্যমিক 2027 বাংলা সম্পূর্ণ সাজেশনের পিডিএফ (PDF) কোথায় পাওয়া যাবে? উত্তর: আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল wbbsenote.in এবং আমাদের পিডিএফ বুক স্টোর madhyamikbooks.wbbsenote.in থেকে তোমরা মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা ও অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরসহ সাজেশন পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবে।

পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya) ✓
👨🏫 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষিকা • WBBSE & WBCHSE ⭐ ১৩+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
পারমিতা ভট্টাচার্য (Paromita Bhattacharya)
🎓 M.A. (Bengali), B.Ed., UGC-NET & WBSET Qualified
পারমিতা ভট্টাচার্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার) বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরণ, প্রবন্ধ রচনা এবং বঙ্গানুবাদ বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা। তাঁর লেখা পয়েন্ট-ভিত্তিক নোটস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য আদর্শ।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!