WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার দর্শন সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Philosophy Semester 4 Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা, ভেনচিত্র, সত্য-সারণি, মিল ও ভারতীয় দর্শন)

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশ শ্রেণির (Class 12 / HS) চূড়ান্ত লিখিত বোর্ড পরীক্ষা হলো ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ৪র্থ সেমিস্টার দর্শন পরীক্ষা (Semester 4 Philosophy — ৪০ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক বা SAQ ও LAQ পরীক্ষা)। সংসদের নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আমাদের এই উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার দর্শন সাজেশন (দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন সম্পূর্ণ সাজেশন ও WBCHSE Class 12 Philosophy Semester 4 Suggestion PDF) আর্টিকেলে আমরা ৪র্থ সেমিস্টারের দুটি প্রধান ইউনিট—Unit 1: পাশ্চাত্য যুক্তিবিদ্যা (প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা, বুলীয় ভাষ্য, ভেনচিত্র, সত্য-সারণি এবং মিলের পরীক্ষামূলক পদ্ধতি — ২২ নম্বর) এবং Unit 2: সমকালীন ভারতীয় দর্শন (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদ, স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগ এবং মহাত্মা গান্ধির অহিংসা — ১৮ নম্বর)—থেকে বাছাই করা সংক্ষিপ্ত ও বড়ো প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর পরিষ্কার প্যারাগ্রাফে সাজিয়ে দিয়েছি।

📑 এক নজরে এই নোটের সূচিপত্র (Table of Contents)
  1. উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার দর্শন নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন (WBCHSE Class 12 Semester 4 Philosophy Syllabus & Blueprint)
  2. ১. Unit – 1 (অংশ ১): প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা, বুলীয় ভাষ্য, ভেনচিত্র ও সত্য-সারণি — সম্পূর্ণ সমাধানসহ নোটস (১৬ নম্বর নিশ্চিত)
  3. প্রশ্ন ১: সত্য-অপেক্ষক (Truth-functional) যৌগিক বচন কাকে বলে? পাঁচ প্রকার সত্য-অপেক্ষক যৌগিক বচনের নাম, যোজকের প্রতীক এবং তাদের সত্যমূল্যের নিয়মগুলি লেখো। (৪/৫ নম্বর)
  4. প্রশ্ন ২: নিরপেক্ষ বচনের ‘বুলীয় ভাষ্য’ (Boolean Interpretation) ও ‘অস্তিত্বমূলক তাৎপর্য’ বলতে কী বোঝায়? চারটি নিরপেক্ষ বচন (A, E, I, O)-এর বুলীয় সমীকরণ ও ভেনচিত্রের (Venn Diagram) নিয়ম লেখো। (৫ নম্বর)
  5. প্রশ্ন ৩: সত্য-সারণি (Truth Table) পদ্ধতিতে কীভাবে ‘স্বতঃসত্য’ (Tautology), ‘স্বতঃমিথ্যা’ (Self-Contradictory) এবং ‘আপতিক’ (Contingent) বচনাকার নির্ণয় করা হয়—উদাহরণসহ দেখাও। (৫ নম্বর)
  6. ২. Unit – 1 (অংশ ২): আরোহ যুক্তিবিদ্যা ও মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধানের পদ্ধতি (৬ নম্বর নিশ্চিত)
  7. প্রশ্ন ৪: জন স্টুয়ার্ট মিলের ‘অন্বয়ী পদ্ধতি’ (Method of Agreement), ‘ব্যতিরেকী পদ্ধতি’ (Method of Difference) এবং ‘সহপরিবর্তন পদ্ধতি’ (Method of Concomitant Variations)-র সংজ্ঞা, সাংকেতিক আকার, দৃষ্টান্ত ও দুটি করে সুবিধা-অসুবিধা লেখো। (৬ নম্বর)
  8. ৩. Unit – 2: আধুনিক ভারতীয় চিন্তাধারা (রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, বিবেকানন্দের কর্মযোগ ও গান্ধিজির অহিংসা) — ১৮ নম্বর নিশ্চিত!
  9. প্রশ্ন ৫: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানবতাবাদ’ (Humanism) বা ‘মানুষের ধর্ম’ সম্পর্কে দার্শনিক অভিমতটি বিশ্লেষণ করো। (৬ নম্বর)
  10. প্রশ্ন ৬: স্বামী বিবেকানন্দের ‘কর্মযোগ’ (Karma Yoga) ও ‘নিষ্কাম কর্ম’-এর আদর্শ এবং ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’-র দার্শনিক তাৎপর্য আলোচনা করো। (৬ নম্বর)
  11. প্রশ্ন ৭: মহাত্মা গান্ধির ‘অহিংসা’ (Ahimsa) ও ‘সত্যাগ্রহ’ তত্ত্বের স্বরূপ ও প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করো। (৬ নম্বর)
  12. প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)
  13. উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার দর্শন সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

চতুর্থ সেমিস্টারের দর্শনের সম্পূর্ণ নোটবুক পিডিএফ সংগ্রহ করতে আমাদের বুক স্টোর দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের দর্শন নোট বই PDF এবং Philosophy Books Library দেখে নিতে পারো।

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার দর্শন নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন (WBCHSE Class 12 Semester 4 Philosophy Syllabus & Blueprint)

দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টার দর্শনে (পূর্ণমান: ৪০, সময়: ২ ঘণ্টা) কোন কোন ইউনিট পাঠ্য এবং কোন অংশ থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসবে, তার অফিশিয়াল ছক নিচে দেওয়া হলো:

ইউনিট ও বিভাগ (Syllabus Unit) নির্ধারিত পাঠ্য বিষয়বস্তু (Prescribed Topics — Class 12 Philosophy Semester 4) প্রশ্নের ধরন (SAQ, Logic & Descriptive LAQ) নির্ধারিত নম্বর
Unit – 1 (অংশ ১): প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা (Symbolic Logic) • সত্য-অপেক্ষক (Truth-functions): চলক ও ধ্রুবক (~, ., v, ⊃, ≡) ; • নিরপেক্ষ বচনের বুলীয় ভাষ্য (Boolean Interpretation) ও ভেনচিত্র (Venn Diagram) ; • সত্য-সারণি (Truth Table) পদ্ধতিতে স্বতঃসত্য (Tautology), স্বতঃমিথ্যা (Self-Contradictory) ও আপতিক (Contingent) বচনাকার নির্ণয় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ভেনচিত্র অঙ্কন ও সত্য-সারণি গঠন ১৬ নম্বর
Unit – 1 (অংশ ২): আরোহ যুক্তিবিদ্যা (Inductive Logic) • আরোহ অনুমানের স্বরূপ ও কার্যকারণ সম্পর্ক ; • মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধানের পদ্ধতিসমূহ (অন্বয়ী, ব্যতিরেকী, যুগ্ম, সহপরিবর্তন ও পরিশেষ পদ্ধতি) সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ৬ নম্বর (মোট Unit 1 = ২২)
Unit – 2: আধুনিক ভারতীয় চিন্তাধারা (Contemporary Indian Thoughts) ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদ (Rabindranath Tagore’s Humanism) ; ২. স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগ (Swami Vivekananda’s Karma Yoga) ; ৩. মহাত্মা গান্ধির অহিংসা (Mahatma Gandhi’s Ahimsa) সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী বড়ো প্রশ্ন ১৮ নম্বর
সর্বমোট লিখিত নম্বর (Total Semester 4) বর্ণনামূলক ও যুক্তিবিদ্যা ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা পূর্ণমান: ৪০ নম্বর ৪০ নম্বর

১. Unit – 1 (অংশ ১): প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা, বুলীয় ভাষ্য, ভেনচিত্র ও সত্য-সারণি — সম্পূর্ণ সমাধানসহ নোটস (১৬ নম্বর নিশ্চিত)

প্রশ্ন ১: সত্য-অপেক্ষক (Truth-functional) যৌগিক বচন কাকে বলে? পাঁচ প্রকার সত্য-অপেক্ষক যৌগিক বচনের নাম, যোজকের প্রতীক এবং তাদের সত্যমূল্যের নিয়মগুলি লেখো। (৪/৫ নম্বর)

উত্তর:

১. সত্য-অপেক্ষক যৌগিক বচনের সংজ্ঞা: যে যৌগিক বচনের সত্যমূল্য (সত্য বা মিথ্যা) সম্পূর্ণরূপে তার অঙ্গবচনগুলির সত্যমূল্যের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়, তাকে ‘সত্য-অপেক্ষক যৌগিক বচন’ বলে। এখানে p, q, r হলো বচন গ্রাহক বা চলক (Variables) এবং ~, ., v, ⊃, ≡ হলো বচন যোজক বা ধ্রুবক (Logical Constants)।

২. পাঁচ প্রকার সত্য-অপেক্ষক বচনের সত্যমূল্যের নিয়ম: প্রথমত, নিষেধক বা নঞর্থক বচন (Negation — ~p বা ‘নয় p’): মূল বচন p সত্য (T) হলে ~p মিথ্যা (F) হয়, এবং p মিথ্যা (F) হলে ~p সত্য (T) হয়। দ্বিতীয়ত, সংযৌগিক বচন (Conjunction — p . q বা ‘p এবং q’): দুটি সংযোগী অঙ্গবচন p এবং q উভয়ই সত্য (T) হলে তবেই p . q সত্য (T) হয়, অন্য সব ক্ষেত্রে মিথ্যা (F) হয়। তৃতীয়ত, বৈকল্পিক বচন (Disjunction — p v q বা ‘হয় p অথবা q’): দুটি বিকল্পের উভয়ই মিথ্যা (F) হলে তবেই p v q মিথ্যা (F) হয়, অন্য সব ক্ষেত্রে (অন্তত একটি সত্য হলেই) সত্য (T) হয়। চতুর্থত, প্রাকল্পিক বচন (Material Implication — p ⊃ q বা ‘যদি p তবে q’): কেবল পূর্বগ (p) সত্য (T) এবং অনুগ (q) মিথ্যা (F) হলেই p ⊃ q মিথ্যা (F) হয়, অন্য সব ক্ষেত্রে সত্য (T) হয়। পঞ্চমত, দ্বি-প্রাকল্পিক বা সমমান বচন (Material Equivalence — p ≡ q বা ‘p যদি এবং কেবল যদি q’): উভয় অঙ্গবচনের সত্যমূল্য এক (উভয়ই T অথবা উভয়ই F) হলে p ≡ q সত্য (T) হয়, আর সত্যমূল্য ভিন্ন হলে মিথ্যা (F) হয়।

প্রশ্ন ২: নিরপেক্ষ বচনের ‘বুলীয় ভাষ্য’ (Boolean Interpretation) ও ‘অস্তিত্বমূলক তাৎপর্য’ বলতে কী বোঝায়? চারটি নিরপেক্ষ বচন (A, E, I, O)-এর বুলীয় সমীকরণ ও ভেনচিত্রের (Venn Diagram) নিয়ম লেখো। (৫ নম্বর)

উত্তর:

১. অস্তিত্বমূলক তাৎপর্য ও বুলীয় ভাষ্য: গতানুগতিক যুক্তিবিদ্যায় (অ্যারিস্টটল) সামান্য বচন (A এবং E) ও বিশেষ বচন (I এবং O)—সকলেরই অস্তিত্বমূলক তাৎপর্য আছে বলে মনে করা হতো। কিন্তু আধুনিক যুক্তিবিদ জর্জ বুল (George Boole) প্রমাণ করেন যে, সামান্য বচন (A এবং E)-এর কোনো অস্তিত্বমূলক তাৎপর্য (Existential Import) নেই, কেবল বিশেষ বচন (I এবং O)-এর অস্তিত্বমূলক তাৎপর্য আছে। যে শ্রেণিতে কোনো সদস্য নেই তাকে ‘শূন্য গর্ভ শ্রেণি’ (Null Class / Empty Class — S = 0) এবং যাতে অন্তত একজন সদস্য আছে তাকে ‘অশূন্য শ্রেণি’ (S ≠ 0) বলে।

২. চারটি নিরপেক্ষ বচনের বুলীয় সমীকরণ ও ভেনচিত্র (জন ভেন প্রবর্তিত): (ক) A বচন (সকল S হয় P): বুলীয় ভাষ্য হলো ‘SP̄ = 0’ (অর্থাৎ এমন কোনো S নেই যা P নয়; ভেনচিত্রে SP̄ ঘরটি ছায়াবৃত বা Shade হবে)। (খ) E বচন (কোনো S নয় P): বুলীয় ভাষ্য হলো ‘SP = 0’ (অর্থাৎ S এবং P-এর সাধারণ ঘরটি শূন্য; ভেনচিত্রে মাঝখানের SP ঘরটি ছায়াবৃত বা Shade হবে)। (গ) I বচন (কোনো কোনো S হয় P): বুলীয় ভাষ্য হলো ‘SP ≠ 0’ (অর্থাৎ অন্তত একটি বস্তু আছে যা S এবং P উভয়ই; ভেনচিত্রে মাঝখানের SP ঘরে একটি ‘X’ চিহ্ন বসবে)। (ঘ) O বচন (কোনো কোনো S নয় P): বুলীয় ভাষ্য হলো ‘SP̄ ≠ 0’ (অর্থাৎ অন্তত একটি বস্তু আছে যা S কিন্তু P নয়; ভেনচিত্রে SP̄ ঘরে একটি ‘X’ চিহ্ন বসবে)।

প্রশ্ন ৩: সত্য-সারণি (Truth Table) পদ্ধতিতে কীভাবে ‘স্বতঃসত্য’ (Tautology), ‘স্বতঃমিথ্যা’ (Self-Contradictory) এবং ‘আপতিক’ (Contingent) বচনাকার নির্ণয় করা হয়—উদাহরণসহ দেখাও। (৫ নম্বর)

উত্তর:

১. সংজ্ঞা ও পার্থক্য: সত্য-সারণি গঠনের পর প্রদত্ত বচনাকারটির মূল যোজকের (Main Connective) নিচের স্তম্ভে যদি সবকটি সারিতেই কেবল সত্য (‘T’) পাওয়া যায়, তবে বচনাকারটি ‘স্বতঃসত্য’ (Tautology)। যদি মূল যোজকের নিচে সবকটি সারিতেই কেবল মিথ্যা (‘F’) পাওয়া যায়, তবে বচনাকারটি ‘স্বতঃমিথ্যা বা আত্মঘাতী’ (Self-Contradictory)। আর যদি মূল যোজকের নিচে অন্তত একটি ‘T’ এবং অন্তত একটি ‘F’ (অর্থাৎ T ও F উভয়ের মিশ্রণ) পাওয়া যায়, তবে বচনাকারটি ‘আপতিক বা অনির্দিষ্টমান’ (Contingent)।

২. সত্য-সারণির সাহায্যে উদাহরণ: প্রথমত, p v ~p (স্বতঃসত্য বচনাকার): যখন p = T, তখন ~p = F এবং p v ~p = T। আবার যখন p = F, তখন ~p = T এবং p v ~p = T। যেহেতু মূল যোজক ‘v’-এর নিচে দুটি সারিতেই কেবল ‘T’ পাওয়া গেছে, তাই p v ~p একটি স্বতঃসত্য (Tautology) বচনাকার। দ্বিতীয়ত, p . ~p (স্বতঃমিথ্যা বচনাকার): যখন p = T, তখন ~p = F এবং p . ~p = F। আবার যখন p = F, তখন ~p = T এবং p . ~p = F। যেহেতু মূল যোজক ‘.’-এর নিচে কেবল ‘F’ পাওয়া গেছে, তাই p . ~p একটি স্বতঃমিথ্যা (Self-Contradictory) বচনাকার। তৃতীয়ত, p ⊃ (p . q) (আপতিক বচনাকার): এখানে প্রথম সারিতে (p=T, q=T) মান হয় T, কিন্তু দ্বিতীয় সারিতে (p=T, q=F) মান হয় F। যেহেতু T এবং F উভয়ই আছে, তাই এটি আপতিক (Contingent) বচনাকার।

২. Unit – 1 (অংশ ২): আরোহ যুক্তিবিদ্যা ও মিলের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধানের পদ্ধতি (৬ নম্বর নিশ্চিত)

প্রশ্ন ৪: জন স্টুয়ার্ট মিলের ‘অন্বয়ী পদ্ধতি’ (Method of Agreement), ‘ব্যতিরেকী পদ্ধতি’ (Method of Difference) এবং ‘সহপরিবর্তন পদ্ধতি’ (Method of Concomitant Variations)-র সংজ্ঞা, সাংকেতিক আকার, দৃষ্টান্ত ও দুটি করে সুবিধা-অসুবিধা লেখো। (৬ নম্বর)

উত্তর:

১. মিলের অন্বয়ী পদ্ধতি (Method of Agreement): সূত্র: যদি আলোচ্য ঘটনাটি ঘটেছে এমন দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তে কেবল একটিমাত্র সাধারণ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ঘটনা উপস্থিত থাকে, তবে সেই সাধারণ ঘটনাটিই হলো আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য। সাংকেতিক আকার: পূর্ববর্তী ঘটনা A B C থেকে অনুবর্তী ঘটনা a b c; আবার A D E থেকে a d e; আবার A F G থেকে a f g—সুতরাং A হলো a-এর কারণ। বাস্তব দৃষ্টান্ত: ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত বিভিন্ন রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেল তারা প্রত্যেকেই অ্যানোফিলিস মশার কামড় খেয়েছে; সুতরাং অ্যানোফিলিস মশার কামড়ই ম্যালেরিয়ার কারণ। প্রকৃতি ও সীমাবদ্ধতা: এটি মূলত একটি ‘পর্যবেক্ষণমূলক পদ্ধতি’ (সদর্থক দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভরশীল); তাই বহুকারণবাদের আশঙ্কা দূর করতে পারে না এবং সহকার্যকে কারণ বলে ভুল করার সম্ভাবনা থাকে।

২. মিলের ব্যতিরেকী পদ্ধতি (Method of Difference): সূত্র: যে দৃষ্টান্তে আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে এবং যে দৃষ্টান্তে আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে না—এই দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে যদি কেবল একটিমাত্র ঘটনা ছাড়া অন্য সব বিষয়ে মিল থাকে এবং ওই একটি ঘটনা কেবল প্রথম দৃষ্টান্তেই উপস্থিত থাকে, তবে সেই ঘটনাটিই হলো আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্যের অপরিহার্য অংশ। সাংকেতিক আকার: সদর্থক দৃষ্টান্ত A B C থেকে a b c; এবং নঞর্থক দৃষ্টান্ত B C থেকে b c—সুতরাং A হলো a-এর কারণ। বাস্তব দৃষ্টান্ত: বায়ুপূর্ণ জারে ঘণ্টা বাজালে শব্দ শোনা যায়, কিন্তু পাম্প দিয়ে বায়ু নিষ্কাশন করে নিলে ঘণ্টা বাজালেও শব্দ শোনা যায় না; সুতরাং বায়ুর উপস্থিতিই শব্দ শোনা যাওয়ার কারণ। প্রকৃতি ও সীমাবদ্ধতা: এটি একটি ‘পরীক্ষণমূলক ও প্রমাণের পদ্ধতি’; তবে বাস্তবক্ষেত্রে এর অসতর্ক প্রয়োগে ‘কাকতালীয় দোষ’ (Fallacy of Post hoc ergo propter hoc) ঘটে।

৩. মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি (Method of Concomitant Variations): সূত্র: যখন কোনো ঘটনা বিশেষভাবে হ্রাস বা বৃদ্ধি পেলে অপর একটি ঘটনাও নিয়মিতভাবে হ্রাস বা বৃদ্ধি পায়, তখন ওই দুটি ঘটনা কার্যকারণ সম্পর্কে আবদ্ধ। দৃষ্টান্ত: তাপমাত্রা বাড়লে থার্মোমিটারের পারদস্তম্ভ বাড়ে এবং তাপমাত্রা কমলে পারদস্তম্ভ কমে—সুতরাং তাপই পারদের আয়তন বৃদ্ধির কারণ। গুরুত্ব: যেসব স্থায়ী কারণকে (যেমন: তাপ, বায়ুর চাপ, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি) সম্পূর্ণ অপসারণ করা যায় না, সেখানে পরিমাণগত কার্যকারণ নির্ণয়ে এই পদ্ধতি অপরিহার্য।

৩. Unit – 2: আধুনিক ভারতীয় চিন্তাধারা (রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, বিবেকানন্দের কর্মযোগ ও গান্ধিজির অহিংসা) — ১৮ নম্বর নিশ্চিত!

প্রশ্ন ৫: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানবতাবাদ’ (Humanism) বা ‘মানুষের ধর্ম’ সম্পর্কে দার্শনিক অভিমতটি বিশ্লেষণ করো। (৬ নম্বর)

উত্তর:

১. রবীন্দ্র-দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ‘মানুষ’: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র দার্শনিক চিন্তার মূল ভিত্তি হলো উপনিষদ, বৈষ্ণব পদাবলি ও বাংলার বাউল দর্শনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘আধ্যাত্মিক মানবতাবাদ’। ১৯৩০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত হিবার্ট বক্তৃতামালা (যা ‘The Religion of Man’ এবং বাংলায় ‘মানুষের ধর্ম’ গ্রন্থে সংকলিত) তাঁর মানবতাবাদের শ্রেষ্ঠ দলিল।

২. মানুষের দ্বৈত সত্তা (সসীম ও অসীম মানুষ): রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষের মধ্যে দুটি দিক বা সত্তা রয়েছে—একদিকে তার জৈবিক ও স্বার্থকেন্দ্রিক ‘ক্ষুদ্র বা সসীম আমি’ (ভৌতিক মানুষ) এবং অন্যদিকে তার ভেতরে থাকা বিশ্বজনীন, কল্যাণময় ও সৃজনশীল ‘বৃহৎ বা অসীম আমি’ (মহামানব / পরম মানুষ / জীবনদেবতা)। মানুষ যখন তার ক্ষুদ্র অহংকারের গণ্ডি পেরিয়ে প্রেম, শিল্প ও সেবার মাধ্যমে বিশ্বমানবের সাথে যুক্ত হয়, তখনই তার মধ্যে ‘মানুষের ধর্ম’ জাগ্রত হয়।

৩. ঈশ্বরের মানবায়ন ও বিশ্বমানবতাবাদ: রবীন্দ্রনাথ কোনো বিমূর্ত বা জগতের বাইরের ঈশ্বরের কথা বলেননি; তাঁর ঈশ্বর হলেন ‘মানব-ঈশ্বর’—“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”। তাই মন্দিরের রুদ্ধদ্বারে ভজন-পূজন ছেড়ে ধূলিমাখা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করাই রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের মূল কথা।

প্রশ্ন ৬: স্বামী বিবেকানন্দের ‘কর্মযোগ’ (Karma Yoga) ও ‘নিষ্কাম কর্ম’-এর আদর্শ এবং ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’-র দার্শনিক তাৎপর্য আলোচনা করো। (৬ নম্বর)

উত্তর:

১. কর্মযোগের অর্থ ও উৎস: স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর বিখ্যাত ‘কর্মযোগ’ গ্রন্থে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার কর্মতত্ত্বকে আধুনিক যুগের উপযোগী ‘ব্যবহারিক বেদান্ত’ (Practical Vedanta) রূপে ব্যাখ্যা করেছেন। ‘কর্মযোগ’ বলতে বোঝায় নিঃস্বার্থ ও অনাসক্ত কর্মের মাধ্যমে আত্মার মুক্তি বা চিত্তশুদ্ধি অর্জন।

২. নিষ্কাম কর্ম ও ফলাসক্তি ত্যাগ: বিবেকানন্দের মতে মানুষ এক মুহূর্তও কর্ম না করে থাকতে পারে না। কিন্তু সাকাম কর্ম (ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ফলের আশায় কৃত কর্ম) মানুষকে সংসারের বন্ধনে আবদ্ধ করে। পক্ষান্তরে ‘নিষ্কাম কর্ম’—অর্থাৎ ফলের আকাঙ্ক্ষা ও কর্তৃত্বাভিমান সম্পূর্ণ ত্যাগ করে কেবল কর্তব্যের জন্য কর্তব্য সম্পাদন করলে (‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’) মানুষের অহংবোধ দূর হয় এবং মোক্ষলাভ ঘটে।

৩. ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’ (ব্যবহারিক বেদান্ত): অদ্বৈত বেদান্তের মূল কথা হলো—প্রতিটি জীবের মধ্যেই সেই একই পরম ব্রহ্ম বা ঈশ্বর বর্তমান। তাই বিবেকানন্দ ‘জীবে দয়া’ কথাটির বিরোধিতা করে বলেছেন—মানুষকে দয়া করার অধিকার কারও নেই, বরং প্রতিটি মানুষের মধ্যে বিরাজমান ঈশ্বরকে উপলব্ধি করে ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’ করতে হবে (“বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর” )। দরিদ্রনারায়ণ, মূর্খ ও আর্ত মানুষের সেবাই বিবেকানন্দের কর্মযোগের চরম আদর্শ।

প্রশ্ন ৭: মহাত্মা গান্ধির ‘অহিংসা’ (Ahimsa) ও ‘সত্যাগ্রহ’ তত্ত্বের স্বরূপ ও প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করো। (৬ নম্বর)

উত্তর:

১. অহিংসার ব্যুৎপত্তিগত ও সদর্থক অর্থ: মহাত্মা গান্ধি জৈন, বৌদ্ধ দর্শন, গীতা এবং টলস্টয়ের আদর্শ থেকে তাঁর অহিংসা তত্ত্ব গড়ে তোলেন। গান্ধিজির মতে ‘অহিংসা’ কথাটির কেবল একটি নঞর্থক অর্থ (কোনো জীবকে হত্যা না করা বা আঘাত না করা) নেই; এর মূল অর্থ হলো সদর্থক বা ইতিবাচক—যার মানে হলো ‘অসীম ও নিঃস্বার্থ প্রেম’ (Universal Love), করুণা এবং শত্রুর প্রতিও মঙ্গলকামনা করা। শুধু শারীরিক আঘাত নয়, মনে মনে কারও অমঙ্গল চিন্তা করা বা কটু কথা বলাও গান্ধিজির মতে হিংসা।

২. সত্য ও অহিংসার সম্পর্ক (সাধ্য ও সাধন): গান্ধিজির দর্শনে ‘সত্যই হলো ঈশ্বর’ (Truth is God)। সত্য হলো চরম লক্ষ্য বা ‘সাধ্য’ (End), আর সেই সত্যে পৌঁছানোর একমাত্র পবিত্র পথ বা ‘সাধন’ (Means) হলো অহিংসা। গান্ধিজি বলেছেন, অহিংসা কখনোই ভীরু বা কাপুরুষের অস্ত্র নয়—অহিংসা হলো সাহসী ও বীরের সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্র। কাপুরুষতার চেয়ে হিংসা শ্রেয়, কিন্তু অহিংসা হিংসার চেয়ে শতগুণে শক্তিশালী।

৩. সত্যাগ্রহ (Satyagraha): সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিরোধের পদ্ধতিকে গান্ধিজি বলেছেন ‘সত্যাগ্রহ’ (সত্যের প্রতি অবিচল আগ্রহ বা আত্মার শক্তি)। সত্যাগ্রহী প্রতিপক্ষকে আঘাত না করে নিজেই স্বেচ্ছায় দুঃখবরণ (Self-suffering) করে অন্যায়কারীর হৃদয় ও বিবেককে জাগ্রত করেন।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক (Internal Linking Box)

উচ্চমাধ্যমিক ৩য় ও ৪র্থ সেমিস্টার সমস্ত বিষয়ের সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার দর্শন সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: উচ্চমাধ্যমিক 4র্থ সেমিস্টার দর্শন পরীক্ষায় কোন কোন ইউনিট থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসে?

উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণির ৪র্থ সেমিস্টার দর্শনের ৪০ নম্বরের মধ্যে Unit 1: পাশ্চাত্য যুক্তিবিদ্যা (প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা, ভেনচিত্র, সত্য-সারণি ও মিলের পদ্ধতি) থেকে ২২ নম্বর এবং Unit 2: সমকালীন ভারতীয় দর্শন (রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ ও গান্ধিজি) থেকে ১৮ নম্বর আসে।

প্রশ্ন ২: ৪র্থ সেমিস্টারে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা অংশে কোন টপিকগুলি অভ্যাস করলে পুরো নম্বর পাওয়া যায়?

উত্তর: চারটি নিরপেক্ষ বচন (A, E, I, O)-এর বুলীয় ভাষ্য ও ভেনচিত্র অঙ্কন এবং সত্য-সারণি (Truth Table) গঠন করে স্বতঃসত্য, স্বতঃমিথ্যা বা আপতিক নির্ণয় অভ্যাস করলে অংকের মতোই পুরো নম্বর পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৩: মিলের পরীক্ষামূলক পদ্ধতি থেকে বড়ো প্রশ্নের জন্য কোন দুটি পদ্ধতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: জন স্টুয়ার্ট মিলের ‘অন্বয়ী পদ্ধতি’ এবং ‘ব্যতিরেকী পদ্ধতি’ (অথবা ‘সহপরিবর্তন পদ্ধতি’) সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ৪: আধুনিক ভারতীয় দর্শন (১৮ নম্বর) থেকে কোন তিনটি টপিক সিলেবাসে রয়েছে?

উত্তর: মাত্র তিনটি টপিক—(১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদ (৬ নম্বর), (২) স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগ (৬ নম্বর) এবং (৩) মহাত্মা গান্ধির অহিংসা তত্ত্ব (৬ নম্বর)।

প্রশ্ন ৫: উচ্চমাধ্যমিক ৪র্থ সেমিস্টার দর্শনের সম্পূর্ণ উত্তরসহ পিডিএফ বই কোথায় পাওয়া যাবে?

উত্তর: আমাদের বুক স্টোর books.wbbsenote.in/product/wbchse-class-12-semester-4-philosophy-notebook/ থেকে চতুর্থ সেমিস্টারের সম্পূর্ণ দর্শন নোটবুক পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবে।

মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Moumita Banerjee) ✓
👨🏫 দর্শন ও সমাজতত্ত্ব শিক্ষিকা (Philosophy & Sociology) ⭐ ৮+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Moumita Banerjee)
🎓 M.A. (Philosophy), B.Ed., UGC-NET Qualified
মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দর্শন (Logic & Western/Indian Philosophy) এবং সমাজতত্ত্ব (Sociology) বিষয়ের শিক্ষিকা। তর্কবিদ্যা ও বচনের নিয়মগুলো তিনি উদাহরণসহ সহজভাবে বুঝিয়ে দেন।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!