মাধ্যমিক ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় — বায়ুমণ্ডল | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, Memory Trick ও Table সহ | WBBSE Class 10 Geography

প্রিয় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা, আজকের এই পোস্টে মাধ্যমিক ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় — বায়ুমণ্ডল নিয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করা হলো। এই অধ্যায় থেকে প্রতি বছর MCQ, SAQ ও বড় প্রশ্ন মিলিয়ে প্রায় ৮-১০ নম্বর আসে।
এখানে পাবে:
- ✅ Memory Trick সহ বায়ুর স্তর মনে রাখার উপায়
- ✅ সব MCQ প্রশ্নোত্তর (পরীক্ষায় বারবার আসা)
- ✅ SAQ ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
- ✅ Comparison Table
- ✅ বিশ্ব উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস প্রভাব
- ✅ পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের Quick Revision
📌 অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু এক নজরে

এই অধ্যায়ে মোট ৪টি ভাগে আলোচনা:
- ১. বায়ুমণ্ডলের ধারণা ও উপাদান
- ২. বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস
- ৩. তাপমাত্রা, বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ
- ৪. আর্দ্রতা, মেঘ, বৃষ্টিপাত ও বিশ্ব উষ্ণায়ন
🧠 Memory Trick — বায়ুর স্তর মনে রাখো ৩০ সেকেন্ডে

বায়ুমণ্ডলের ৫টি স্তরের নাম মনে রাখার সহজ উপায়:
“ট্র স্ট্র মে থার্ম এক্স” ট্র = ট্রপোস্ফিয়ার স্ট্র = স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার মে = মেসোস্ফিয়ার থার্ম = থার্মোস্ফিয়ার এক্স = এক্সোস্ফিয়ার
📊 গুরুত্বপূর্ণ Comparison Table
Table 1: বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস
| স্তর | উচ্চতা | তাপমাত্রা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| ট্রপোস্ফিয়ার | ০–১২ কিমি | উচ্চতায় কমে | সব আবহাওয়া এখানে; ট্রপোপজ এর সীমা |
| স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার | ১২–৫০ কিমি | উচ্চতায় বাড়ে | ওজোন স্তর এখানে; জেট বিমান চলে |
| মেসোস্ফিয়ার | ৫০–৮০ কিমি | উচ্চতায় কমে | উল্কাপিণ্ড এখানে পুড়ে ছাই হয় |
| থার্মোস্ফিয়ার | ৮০–৭০০ কিমি | উচ্চতায় বাড়ে | মেরুজ্যোতি এখানে; ISS এখানে |
| এক্সোস্ফিয়ার | ৭০০+ কিমি | অত্যন্ত কম | মহাকাশের সীমানা; স্যাটেলাইট এখানে |
Table 2: বায়ুর গ্যাসীয় উপাদান
| গ্যাস | পরিমাণ (%) | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| নাইট্রোজেন (N₂) | ৭৮.০৮% | জীবের প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে |
| অক্সিজেন (O₂) | ২০.৯৪% | শ্বাসক্রিয়া ও দহনে প্রয়োজন |
| আর্গন (Ar) | ০.৯৩% | নিষ্ক্রিয় গ্যাস |
| কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) | ০.০৩৩% | সালোকসংশ্লেষ ও গ্রিনহাউস প্রভাব |
| অন্যান্য | বাকি অংশ | হিলিয়াম, নিয়ন, ওজোন ইত্যাদি |
💡 Trick: “নাই অক্স আর্গ” = নাইট্রোজেন (৭৮%) অক্সিজেন (২১%) আর্গন (০.৯৩%)
Table 3: নিয়ত বায়ুর তুলনা
| বায়ু | উৎপত্তি অঞ্চল | গন্তব্য | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| আয়ন বায়ু (Trade Wind) | উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ | নিরক্ষীয় নিম্নচাপ | উত্তরে NE, দক্ষিণে SE দিক |
| পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) | উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ | উপমেরু নিম্নচাপ | পশ্চিম দিক থেকে বয় |
| মেরু বায়ু (Polar Wind) | মেরু উচ্চচাপ | উপমেরু নিম্নচাপ | অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক |
Table 4: স্থানীয় বায়ুর তুলনা
| বায়ুর নাম | দেশ/অঞ্চল | প্রকৃতি | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| ফন (Fohn) | আল্পস পর্বত (ইউরোপ) | উষ্ণ ও শুষ্ক | পর্বতের লি ঢালে বয় |
| চিনুক (Chinook) | রকি পর্বত (উ. আমেরিকা) | উষ্ণ ও শুষ্ক | “তুষারভক্ষক” নামে পরিচিত |
| সিরোক্কো (Sirocco) | সাহারা থেকে ভূমধ্যসাগর | উষ্ণ ও আর্দ্র | বালি বহন করে |
| মিস্ট্রাল (Mistral) | আল্পস থেকে ফ্রান্স | ঠান্ডা ও শুষ্ক | শীতকালে বয় |
| বোরা (Bora) | ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক উপকূল | ঠান্ডা ও শুষ্ক | শীতকালীন |
| হারমাট্টান (Harmattan) | সাহারা থেকে পশ্চিম আফ্রিকা | উষ্ণ ও শুষ্ক | “গিনির ডাক্তার” নামে পরিচিত |
| লু (Loo) | থর মরুভূমি (ভারত) | উষ্ণ ও শুষ্ক | গ্রীষ্মকালে বয়; ভারতে বিখ্যাত |
| নরওয়েস্টার (Norwesters) | পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) | ঠান্ডা ঝড়ো | কালবৈশাখী নামে পরিচিত |
💡 Trick: উষ্ণ শুষ্ক স্থানীয় বায়ু = ফন, চিনুক, লু, হারমাট্টান | ঠান্ডা = মিস্ট্রাল, বোরা
Table 5: বৃষ্টিপাতের তুলনা
| বৃষ্টির ধরন | কারণ | কোথায় হয় | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| পরিচলন বৃষ্টি | ভূমি উত্তপ্ত হয়ে বায়ু উপরে ওঠে | নিরক্ষীয় অঞ্চল | বজ্রবিদ্যুৎ সহ; বিকেলে হয় |
| শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি | বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে উঠে | পর্বতের প্রতিবাত ঢাল | অভিমুখী ঢালে বেশি বৃষ্টি |
| ঘূর্ণবৃষ্টি | নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু ঘুরতে ঘুরতে ওঠে | নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল | দীর্ঘস্থায়ী; বিস্তৃত অঞ্চলে |
❓ MCQ প্রশ্নোত্তর
বায়ুর উপাদান ও স্তর
1. বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে যে গ্যাস আছে সেটি হলো — (ক) অক্সিজেন (খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড (গ) নাইট্রোজেন (ঘ) আর্গন
✅ উত্তর: (গ) নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%)
2. জেট বিমান বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে চলে? (ক) ট্রপোস্ফিয়ার (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (গ) মেসোস্ফিয়ার (ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
✅ উত্তর: (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
💡 স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ঝড়-বৃষ্টি নেই তাই জেট বিমান এখানে চলে।
3. ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আছে? (ক) ট্রপোস্ফিয়ার (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (গ) মেসোস্ফিয়ার (ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
✅ উত্তর: (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
4. মেরুজ্যোতি (Aurora) বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায়? (ক) মেসোস্ফিয়ার (খ) থার্মোস্ফিয়ার (গ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
✅ উত্তর: (খ) থার্মোস্ফিয়ার
5. উল্কাপিণ্ড বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে পুড়ে ছাই হয়? (ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (খ) মেসোস্ফিয়ার (গ) থার্মোস্ফিয়ার (ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
✅ উত্তর: (খ) মেসোস্ফিয়ার
6. ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কতটুকু কমে? (ক) ৫°C (খ) ৫.৫°C (গ) ৬.৪°C (ঘ) ৭°C
✅ উত্তর: (গ) ৬.৪°C
বায়ুপ্রবাহ
7. আয়ন বায়ু (Trade Wind) কোন দিক থেকে কোন দিকে বয়? (ক) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ থেকে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপে (খ) উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপে (গ) উপমেরু নিম্নচাপ থেকে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপে (ঘ) মেরু উচ্চচাপ থেকে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপে
✅ উত্তর: (খ)
8. “গিনির ডাক্তার” কোন স্থানীয় বায়ুকে বলা হয়? (ক) ফন (খ) চিনুক (গ) হারমাট্টান (ঘ) সিরোক্কো
✅ উত্তর: (গ) হারমাট্টান
💡 হারমাট্টান পশ্চিম আফ্রিকায় শুষ্ক বায়ু নিয়ে আসে, যা আর্দ্র আবহাওয়া থেকে মানুষকে আরাম দেয় — তাই “ডাক্তার”।
9. কালবৈশাখী কোন স্থানীয় বায়ুর অপর নাম? (ক) ফন (খ) নরওয়েস্টার (গ) বোরা (ঘ) মিস্ট্রাল
✅ উত্তর: (খ) নরওয়েস্টার
10. “তুষারভক্ষক” নামে পরিচিত কোন স্থানীয় বায়ু? (ক) ফন (খ) চিনুক (গ) লু (ঘ) সিরোক্কো
✅ উত্তর: (খ) চিনুক
💡 চিনুক এত উষ্ণ যে পাহাড়ের গায়ে জমা বরফ দ্রুত গলিয়ে দেয়।
11. এল নিনো কোথায় দেখা যায়? (ক) আটলান্টিক মহাসাগরে (খ) ভারত মহাসাগরে (গ) প্রশান্ত মহাসাগরে (ঘ) আর্কটিক মহাসাগরে
✅ উত্তর: (গ) প্রশান্ত মহাসাগরে
12. ভারতের গ্রীষ্মকালীন উষ্ণ শুষ্ক স্থানীয় বায়ু কোনটি? (ক) নরওয়েস্টার (খ) বোরা (গ) লু (ঘ) হারমাট্টান
✅ উত্তর: (গ) লু
বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা
13. পরিচলন বৃষ্টি সাধারণত কোন অঞ্চলে হয়? (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে (খ) মরু অঞ্চলে (গ) মেরু অঞ্চলে (ঘ) মৌসুমি অঞ্চলে
✅ উত্তর: (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
14. পর্বতের কোন ঢালে বেশি বৃষ্টি হয়? (ক) প্রতিবাত ঢালে (খ) অনুবাত ঢালে (গ) দুই ঢালেই সমান (ঘ) কোনোটিই নয়
✅ উত্তর: (ক) প্রতিবাত ঢালে (windward side)
15. আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হলে কী হয়? (ক) মেঘ তৈরি হয় (খ) বায়ু সম্পৃক্ত হয় (গ) বৃষ্টি আসে (ঘ) তুষারপাত হয়
✅ উত্তর: (খ) বায়ু সম্পৃক্ত হয় — এরপর বৃষ্টি হয়
বিশ্ব উষ্ণায়ন
16. কোন গ্যাস গ্রিনহাউস প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দায়ী? (ক) অক্সিজেন (খ) নাইট্রোজেন (গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড (ঘ) আর্গন
✅ উত্তর: (গ) CO₂
17. কিয়োটো প্রোটোকল কত সালে সাক্ষরিত হয়? (ক) ১৯৯২ (খ) ১৯৯৭ (গ) ২০০২ (ঘ) ২০০৫
✅ উত্তর: (খ) ১৯৯৭
18. ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি? (ক) CO₂ (খ) CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) (গ) মিথেন (ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড
✅ উত্তর: (খ) CFC
✍️ SAQ — অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্র: বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে ঘিরে থাকে কেন? উ: পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে।
প্র: ট্রপোপজ কী? উ: ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী বিভাজক সীমাকে ট্রপোপজ বলে। এখানে তাপমাত্রা প্রায় -৫৬°C।
প্র: ওজোন স্তর কেন গুরুত্বপূর্ণ? উ: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) শোষণ করে পৃথিবীর জীবকুলকে রক্ষা করে।
প্র: উষ্ণতার স্বাভাবিক হ্রাস কী? উ: ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা গড়ে ৬.৪°C কমে — এটিকে উষ্ণতার স্বাভাবিক হ্রাস বলে।
প্র: বায়ুচাপ কী? উ: বায়ু তার নিজের ভার দিয়ে ভূপৃষ্ঠের প্রতি একক ক্ষেত্রফলের উপর যে চাপ দেয়, তাকে বায়ুচাপ বলে।
প্র: আইসোবার কী? উ: সমান বায়ুচাপযুক্ত স্থানগুলোকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করা হয় তাকে আইসোবার বলে।
প্র: মৌসুমি বায়ু কী? উ: যে বায়ু ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট দিক পরিবর্তন করে — গ্রীষ্মে সমুদ্র থেকে স্থলে এবং শীতে স্থল থেকে সমুদ্রে প্রবাহিত হয় — তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
প্র: আপেক্ষিক আর্দ্রতা কী? উ: কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ু যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে তার তুলনায় প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে তার অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।
প্র: গ্রিনহাউস প্রভাব কী? উ: বায়ুমণ্ডলে CO₂, মিথেন, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি গ্যাস পৃথিবীর দীর্ঘ তরঙ্গ তাপ বিকিরণ শোষণ করে পুনরায় পৃথিবীতে ফেরত দেয়। ফলে পৃথিবী অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।
প্র: এল নিনো কী? উ: প্রশান্ত মহাসাগরে কয়েক বছর অন্তর পেরু উপকূলে শীতল স্রোতের বদলে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হওয়াকে এল নিনো বলে। এতে বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়।
প্র: CFC কী? ওজোন স্তর কীভাবে ক্ষয় করে? উ: CFC = ক্লোরোফ্লুরোকার্বন। রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার থেকে নির্গত এই গ্যাস স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে ওজোন অণুকে বিশ্লিষ্ট করে ওজোন স্তরে গর্ত তৈরি করে।
📝 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (৫ নম্বর)
প্রশ্ন ১: বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস আলোচনা করো।
[এখানে IMAGE 3 — Flow Chart বসাও]
উত্তর:
পৃথিবীর চারদিকে যে বায়ুর আবরণ রয়েছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। বায়ুমণ্ডলকে মোট ৫টি স্তরে ভাগ করা হয়:
১. ট্রপোস্ফিয়ার (০–১২ কিমি): এটি সর্বনিচের স্তর। এখানে প্রতি ১০০০ মিটারে তাপমাত্রা ৬.৪°C কমে। পৃথিবীর সমস্ত আবহাওয়া — বৃষ্টি, ঝড়, মেঘ — এই স্তরেই ঘটে। এই স্তরে বায়ুর সিংহভাগ ভর অবস্থান করে।
২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (১২–৫০ কিমি): এই স্তরে উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা বাড়ে। এখানে ওজোন স্তর অবস্থান করে যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। জেট বিমান এই স্তরে চলে।
৩. মেসোস্ফিয়ার (৫০–৮০ কিমি): এখানে আবার উচ্চতায় তাপমাত্রা কমে। বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (–১০০°C) এই স্তরে পাওয়া যায়। মহাকাশ থেকে আসা উল্কাপিণ্ড এই স্তরে বায়ুর সাথে ঘর্ষণে পুড়ে যায়।
৪. থার্মোস্ফিয়ার (৮০–৭০০ কিমি): এখানে উচ্চতায় তাপমাত্রা প্রচণ্ড বাড়ে (২০০০°C পর্যন্ত)। মেরুজ্যোতি (Aurora Borealis ও Aurora Australis) এই স্তরে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এই স্তরে অবস্থিত।
৫. এক্সোস্ফিয়ার (৭০০+ কিমি): এটি সর্বোচ্চ স্তর। এখানে বায়ু অত্যন্ত পাতলা এবং মহাকাশের সাথে মিশে যায়। কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট এই স্তরে অবস্থান করে।
প্রশ্ন ২: বায়ুপ্রবাহ কত প্রকার? স্থানীয় বায়ুর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার: ১. নিয়ত বায়ু: সারা বছর নির্দিষ্ট দিকে বয়। যেমন — আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু, মেরু বায়ু। ২. পর্যায়িত বায়ু: ঋতু অনুযায়ী দিক পরিবর্তন করে। যেমন — মৌসুমি বায়ু, স্থলবায়ু, সমুদ্রবায়ু। ৩. আকস্মিক বায়ু: হঠাৎ বয়। যেমন — ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, স্থানীয় বায়ু।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় বায়ু:
ফন: আল্পস পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে স্বিৎজারল্যান্ডে প্রবাহিত উষ্ণ শুষ্ক বায়ু। পর্বতের লি ঢালে আর্দ্রতা হারিয়ে নীচে নামার সময় উষ্ণ হয়।
চিনুক: রকি পর্বতের পূর্ব ঢালে প্রবাহিত উষ্ণ বায়ু। বরফ দ্রুত গলিয়ে দেয় বলে “তুষারভক্ষক” বলা হয়।
লু: গ্রীষ্মকালে থর মরুভূমি থেকে উত্তর ভারতে প্রবাহিত অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু। তাপমাত্রা ৪৫–৪৮°C পর্যন্ত হয়।
কালবৈশাখী (নরওয়েস্টার): এপ্রিল-মে মাসে বাংলায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা ঝড়ো বায়ু। আমের মুকুল ঝরায় বলে কৃষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
হারমাট্টান: সাহারা মরুভূমি থেকে পশ্চিম আফ্রিকার গিনি উপকূলের দিকে প্রবাহিত উষ্ণ শুষ্ক বায়ু। গিনি উপকূলের আর্দ্র আবহাওয়া শুকিয়ে দেয় বলে “গিনির ডাক্তার” নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৩: বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ ও প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর:
বিশ্ব উষ্ণায়ন কী: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা Global Warming বলে।
কারণসমূহ:
১. গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি: CO₂, মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), জলীয় বাষ্প পৃথিবীর তাপ বিকিরণ আটকে রাখে। শিল্পায়ন ও যানবাহন থেকে CO₂ নির্গমন বাড়ছে।
২. বনভূমি ধ্বংস: গাছপালা CO₂ শোষণ করে। বনভূমি কাটলে CO₂ শোষণ কমে এবং বায়ুমণ্ডলে CO₂ বাড়ে।
৩. CFC নির্গমন: রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার থেকে CFC গ্যাস ওজোন স্তর ধ্বংস করে।
৪. শিল্প ও কৃষি: কলকারখানা ও ধানক্ষেত থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হয়।
প্রভাবসমূহ:
১. মেরুর বরফ গলছে: আর্কটিক ও আন্টার্কটিকার বরফ গলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বাড়ছে। ২. সমুদ্রতল বৃদ্ধি: উপকূলীয় শহর ও দ্বীপ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা। ৩. চরম আবহাওয়া: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় বাড়ছে। ৪. কৃষির ক্ষতি: ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ৫. জীববৈচিত্র্য হুমকিতে: অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে।
প্রতিকার:
- কিয়োটো প্রোটোকল (১৯৯৭) — গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর চুক্তি
- প্যারিস চুক্তি (২০১৫) — তাপমাত্রা ১.৫°C সীমায় রাখার লক্ষ্য
- সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার
- বনায়ন কর্মসূচি
প্রশ্ন ৪: তিন প্রকার বৃষ্টিপাতের পার্থক্য আলোচনা করো।

উত্তর:
১. পরিচলন বৃষ্টি: কারণ: গ্রীষ্মকালে ভূমি অত্যন্ত উত্তপ্ত হলে সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত হয়ে হালকা হয়ে উপরে ওঠে। উপরে উঠে শীতল হলে মেঘ ও বৃষ্টি হয়। বৈশিষ্ট্য: বজ্রবিদ্যুৎ সহ; সাধারণত বিকেলে; স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র। অঞ্চল: নিরক্ষীয় অঞ্চল (আমাজন বেসিন, কঙ্গো বেসিন)।
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি: কারণ: আর্দ্র বায়ু পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঠান্ডা হয়। ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি হয়। পর্বত পেরিয়ে অনুবাত ঢালে শুষ্ক বায়ু নামে — এই শুষ্ক অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল বলে। বৈশিষ্ট্য: প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টি; অনুবাত ঢালে কম বৃষ্টি। উদাহরণ: মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি (পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের অন্যতম স্থান)।
৩. ঘূর্ণবৃষ্টি: কারণ: নিম্নচাপ কেন্দ্রে বিভিন্ন দিক থেকে বায়ু ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রে এসে উপরে ওঠে। ঠান্ডা হয়ে মেঘ ও বৃষ্টি হয়। বৈশিষ্ট্য: দীর্ঘস্থায়ী; বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে হয়; অঞ্চল: নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল।
| তুলনার বিষয় | পরিচলন | শৈলোৎক্ষেপ | ঘূর্ণ |
|---|---|---|---|
| কারণ | ভূতাপ | পর্বতীয় বাধা | নিম্নচাপ |
| স্থায়িত্ব | স্বল্প | মাঝারি | দীর্ঘ |
| বিস্তার | সীমিত | একপেশে | বিস্তৃত |
| বজ্রপাত | হ্যাঁ | না | কখনো কখনো |
🎯 শেষ মুহূর্তের Quick Revision — পরীক্ষার আগে পড়ো
| বিষয় | মনে রাখার তথ্য |
|---|---|
| বায়ুতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস | নাইট্রোজেন ৭৮% |
| জেট বিমান যে স্তরে চলে | স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার |
| ওজোন স্তর যে স্তরে | স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার |
| উল্কাপিণ্ড পোড়ে যে স্তরে | মেসোস্ফিয়ার |
| মেরুজ্যোতি দেখা যায় | থার্মোস্ফিয়ার |
| ISS যে স্তরে | থার্মোস্ফিয়ার |
| স্যাটেলাইট যে স্তরে | এক্সোস্ফিয়ার |
| তুষারভক্ষক বায়ু | চিনুক |
| গিনির ডাক্তার | হারমাট্টান |
| কালবৈশাখীর ইংরেজি নাম | Norwesters |
| ওজোন ক্ষয়ের কারণ | CFC গ্যাস |
| বিশ্ব উষ্ণায়নের চুক্তি | কিয়োটো প্রোটোকল (১৯৯৭) |
| প্যারিস চুক্তি | ২০১৫ সাল |
| এল নিনো যে মহাসাগরে | প্রশান্ত মহাসাগর |
| ট্রপোস্ফিয়ারে উষ্ণতা হ্রাস | প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৪°C |
| সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি কোথায় | মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি (মৌসিনরাম) |
❓ FAQ
Q: নরওয়েস্টার ও কালবৈশাখী কি একই?
A: হ্যাঁ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসে বলে ইংরেজিতে Norwesters এবং বাংলায় কালবৈশাখী বলা হয়।
Q: ওজোন স্তরে ছিদ্র আছে কোথায়?
A: আন্টার্কটিকার উপরে ওজোন স্তরে সবচেয়ে বড় গর্ত।
Q: এল নিনো ও লা নিনার পার্থক্য কী?
A: এল নিনো = প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ স্রোত এবং লা নিনা = শীতল স্রোত ফিরে আসা। দুটো বিপরীত ঘটনা।
Q: বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল কী?
A: পর্বতের অনুবাত ঢাল (leeward side) যেখানে বায়ু আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে নামে — এই অঞ্চলে কম বৃষ্টি হয়, একে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল বলে।
📌 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করো। আমাদের website: wbbsenote.in