মাধ্যমিক ভূগোল প্রথম অধ্যায় – বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, Trick ও Table সহ | WBBSE Class 10
প্রিয় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা, আজকের এই পোস্টে আমরা মাধ্যমিক ভূগোল প্রথম অধ্যায় — বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ নিয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করব। এখানে পাবে:
✅ সমস্ত MCQ প্রশ্নোত্তর
✅ SAQ (সংক্ষিপ্ত) প্রশ্নোত্তর
✅ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
✅ Memory Trick (মনে রাখার সহজ উপায়)
✅ গুরুত্বপূর্ণ Table ও তুলনামূলক চার্ট
✅ Exam-এ বারবার আসা প্রশ্ন
📌 অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু এক নজরে
এই অধ্যায়ে মোট ৪টি ভাগে আলোচনা হয়:
- নদীর কাজ ও সৃষ্ট ভূমিরূপ
- হিমবাহের কাজ ও সৃষ্ট ভূমিরূপ
- বায়ুর কাজ ও সৃষ্ট ভূমিরূপ (মরু অঞ্চল)
- সুন্দরবন ও পরিবেশ

🧠 Memory Trick: বহির্জাত শক্তির কাজ মনে রাখো
“ক্ষ ব স” = ক্ষয়, বহন, সঞ্চয়
নদী, হিমবাহ, বায়ু — সবাই এই তিনটি কাজই করে। পরীক্ষায় জিজ্ঞেস করলে এই তিনটি নাম লিখলেই নম্বর পাবে।
📊 গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক Table
Table 1: নদী উপত্যকা বনাম হিমবাহ উপত্যকা
| বিষয় | নদী উপত্যকা | হিমবাহ উপত্যকা |
|---|---|---|
| আকৃতি | V আকৃতি | U আকৃতি |
| ক্ষয়ের ধরন | পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় | প্রধানত নিম্নক্ষয় |
| উদাহরণ | গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন | আল্পস পর্বতের উপত্যকা |
| ঢাল | ক্রমশ ঢালু | খাড়া ও মসৃণ |

Table 2: বিভিন্ন মরু ভূমিরূপের তুলনা
| ভূমিরূপ | গঠনের কারণ | আকৃতি | বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| বাখান | বায়ুর সঞ্চয় | অর্ধচন্দ্রাকার | প্রতিবাত ঢাল উত্তল |
| সিফ | বায়ুর সমান্তরালে | তলোয়ারের মতো লম্বা | বায়ুর দিকে সমান্তরাল |
| গৌর | অবঘর্ষ ক্ষয় | মাশরুম আকৃতি | নীচে সরু, উপরে চওড়া |
| ইয়ার্দাং | অবঘর্ষ ক্ষয় | মোরগের ঝুঁটির মতো | Cockscomb নামেও পরিচিত |
| ইনসেলবার্জ | দীর্ঘ ক্ষয় | গোলাকার টিলা | বোর্নহার্ট নামেও পরিচিত |
Table 3: হিমবাহের গ্রাবরেখার প্রকারভেদ
| গ্রাবরেখার ধরন | অবস্থান | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| পার্শ্ব গ্রাবরেখা | হিমবাহের দুই পাশে | পার্বত্য ধ্বংসাবশেষ দিয়ে তৈরি |
| প্রাস্ত গ্রাবরেখা | হিমবাহের সামনে | প্রাচীরের মতো শিলাস্তূপ |
| কেন্দ্রীয় গ্রাবরেখা | দুই হিমবাহ মিললে | দুই পার্শ্ব গ্রাবরেখা একত্রিত হয় |
| তলদেশীয় গ্রাবরেখা | হিমবাহের নীচে | মসৃণ ও চাপা |
❓ বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ)
পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসা MCQ প্রশ্ন:
1. বহির্জাত শক্তির প্রধান উৎস কী? (ক) পারমাণবিক শক্তি (খ) ভূতাপীয় শক্তি (গ) সৌরশক্তি (ঘ) তেজস্ক্রিয় শক্তি
✅ উত্তর: (গ) সৌরশক্তি
💡 Trick: “বাইরের কাজ সূর্যের জোরে” — বহির্জাত = বাইরের শক্তি = সূর্য
2. ‘Basket of Egg Topography’ কাকে বলে? (ক) এস্কার (খ) কেম (গ) ড্রামলিন (ঘ) বহিঃবিধৌত সমভূমি
✅ উত্তর: (গ) ড্রামলিন
💡 Trick: ডিমের ঝুড়ি = ড্রামলিন — D দিয়ে শুরু দুটোই
3. পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য কোনটি? (ক) আমাজন (খ) কংগো (গ) সুন্দরবন (ঘ) দাইনট্রি
✅ উত্তর: (গ) সুন্দরবন
4. ক্ষয়সীমা ধারণার প্রবর্তক কে? (ক) Powell (খ) Davis (গ) Penck (ঘ) Chamberlin
✅ উত্তর: (ক) Powell
5. ‘Cockscomb’ ভূমিরূপ কাকে বলা হয়? (ক) গৌর (খ) জুইগেন (গ) ইয়ার্দাং (ঘ) ইনসেলবার্জ
✅ উত্তর: (গ) ইয়ার্দাং
💡 Trick: Cockscomb = মোরগের ঝুঁটি = ইয়ার্দাং (দুটোই খাঁজকাটা)
6. পৃথিবীর গভীরতম ক্যানিয়ন কোনটি? (ক) গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (খ) কালিগণ্ডকী গিরিখাত (গ) ইয়ারলুং সাংপো ক্যানিয়ন (ঘ) কোলকা ক্যানিয়ন
✅ উত্তর: (গ) ইয়ারলুং সাংপো ক্যানিয়ন (গভীরতা ৫৫০০ মি)
7. কিউসেক কী? (ক) প্রতি সেকেন্ডে ঘনফুট জলপ্রবাহ (খ) প্রতি মিনিটে ঘনমিটার জলপ্রবাহ (গ) প্রতি সেকেন্ডে ঘনমিটার জলপ্রবাহ (ঘ) কোনোটিই নয়
✅ উত্তর: (ক)
💡 Trick: কিউসেক = কিউবিক ফুট/সেকেন্ড | কিউমেক = কিউবিক মিটার/সেকেন্ড
8. UNESCO কোন সালে সুন্দরবনকে World Heritage Site ঘোষণা করে? (ক) 1972 (খ) 1978 (গ) 1982 (ঘ) 1987
✅ উত্তর: (ঘ) 1987
9. নদীর ষষ্ঠঘাতের সূত্র কী বলে? (ক) গতিবেগ দ্বিগুণ হলে বহনক্ষমতা দ্বিগুণ হয় (খ) গতিবেগ দ্বিগুণ হলে বহনক্ষমতা 64 গুণ হয় (গ) জল দ্বিগুণ হলে বহনক্ষমতা 64 গুণ হয় (ঘ) কোনোটিই নয়
✅ উত্তর: (খ) গতিবেগ দ্বিগুণ → বহনক্ষমতা 2⁶ = 64 গুণ
10. ড্রামলিন কীভাবে সৃষ্টি হয়? (ক) বায়ুর সঞ্চয়ে (খ) নদীর সঞ্চয়ে (গ) হিমবাহের সঞ্চয়ে (ঘ) সমুদ্রের কাজে
✅ উত্তর: (গ) হিমবাহের সঞ্চয়ে
✍️ অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) — ১ নম্বরের জন্য
প্র: পর্যায়ন শব্দটি কে ব্যবহার করেন? উ: Chamberlin ও Salisbury।
প্র: আদর্শ নদী কাকে বলে? উ: যে নদীর গতিপথে উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতি — তিনটি অংশই স্পষ্ট তাকে আদর্শ নদী বলে। উদাহরণ: গঙ্গা, সিন্ধু, নীলনদ।
প্র: পৃথিবীর বৃহত্তম নদীদ্বীপ কোনটি? উ: আমাজন নদীর মোহনায় ইলহা-দো-মারাজো (৪০,১০০ বর্গ কিমি)।
প্র: ভারতের বৃহত্তম নদীদ্বীপ কোনটি? উ: অসমে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর মাজুলি দ্বীপ।
💡 Trick মনে রাখো: বিশ্বের বড় = মারাজো, ভারতের বড় = মাজুলি — দুটোই ‘ম’ দিয়ে শুরু।
প্র: নেভে কী? উ: হিমরেখার উপরে প্রবল শৈত্যে পেঁজা তুলোর মতো তুষারপাতকে নেভে বলে।
প্র: ফার্ন কী? উ: নেভের উপর আরও তুষারপাত হলে তুষারের দৃঢ়তা ও ঘনত্ব বাড়ে, তাকে ফার্ন বলে।
💡 Trick: নেভে → ফার্ন → হিমবাহ (তুষারের তিনটি অবস্থা ক্রমে)
প্র: র্যান্ডক্লাফট কী? উ: করির পেছনে মস্তক দেওয়াল ও হিমবাহের মধ্যবর্তী ফাঁককে র্যান্ডক্লাফট বলে।
প্র: ওয়াদি কী? উ: মরু অঞ্চলে সাময়িক বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট শুষ্ক নদীখাতকে ওয়াদি বলে।
প্র: প্লায়া কী? উ: মরু অঞ্চলে সাময়িক বৃষ্টিতে জল জমে তৈরি লবণাক্ত হ্রদকে প্লায়া বলে।
প্র: মোনাডনক কী? উ: সমপ্রায়ভূমিতে কঠিন শিলা দিয়ে তৈরি অবশিষ্ট পাহাড়কে মোনাডনক বলে।
প্র: ভার্ব কী? উ: কেটল হ্রদের মধ্যে সঞ্চিত পলির স্তরকে ভার্ব বলে।
প্র: লোয়েস সমভূমি কোথায় দেখা যায়? উ: চীনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকায়।
প্র: কোন মহাদেশে ভূমিরূপ পরিবর্তনে নদীর ভূমিকা নেই? উ: আন্টার্কটিকায়।
প্র: 1989 সালে সুন্দরবনকে কী হিসেবে ঘোষণা করা হয়? উ: Biosphere Reserve।
প্র: পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি? উ: নীলনদ।
প্র: ফিয়র্ডের দেশ কাকে বলে? উ: নরওয়েকে।
📝 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (২-৩ নম্বর)
প্রশ্ন: বহির্জাত প্রক্রিয়া কী? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: যেসব প্রাকৃতিক শক্তি ভূপৃষ্ঠের উপরে কাজ করে ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমিরূপ পরিবর্তন করে, তাদের বহির্জাত শক্তি এবং তাদের ক্রিয়াকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে। নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ — এগুলি বহির্জাত শক্তির উদাহরণ।
বৈশিষ্ট্য:
- এই প্রক্রিয়া ভূপৃষ্ঠের উপর কাজ করে
- এর প্রধান শক্তির উৎস হলো সূর্য
- উঁচু স্থানে ক্ষয় ও নীচু স্থানে সঞ্চয় ঘটায়
- এই প্রক্রিয়া দুই ভাগে বিভক্ত — অবরোহণ ও আরোহণ
প্রশ্ন: অবরোহণ ও আরোহণ প্রক্রিয়ার পার্থক্য লেখো।
| বিষয় | অবরোহণ | আরোহণ |
|---|---|---|
| অর্থ | ভূমির উচ্চতা কমানো | ভূমির উচ্চতা বাড়ানো |
| প্রক্রিয়া | ক্ষয় ও পরিবহণ | সঞ্চয় |
| উদাহরণ | নদীর উপরগতিতে ক্ষয় | ব-দ্বীপ, পলিসমভূমি গঠন |
| ফলাফল | পর্বত ক্ষয় পায় | সমভূমি উঁচু হয় |
প্রশ্ন: জলপ্রপাত উৎসের দিকে সরে যায় কেন?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতিপথে যখন কঠিন শিলার নীচে কোমল শিলা থাকে, তখন কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় পেয়ে যায়। ফলে কঠিন শিলার অংশটি খাড়াভাবে ঝুলে থাকে এবং জলপ্রপাত তৈরি হয়। প্রতি বছর নদীর জলপ্রবাহ ও প্রস্তরখণ্ডের আঘাতে জলপ্রপাতের পাদদেশে ও পেছনের কোমল শিলা ক্ষয় পেতে থাকে। এইভাবে জলপ্রপাত ক্রমশ উৎসের দিকে সরে যায়।
উদাহরণ: নায়াগ্রা জলপ্রপাত প্রতি বছর প্রায় ১ মিটার করে উৎসের দিকে সরছে।
প্রশ্ন: ড্রামলিন কী? এটি কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে বহিঃবিধৌত সমভূমির উপর উল্টানো নৌকা বা চামচের মতো আকৃতিবিশিষ্ট টিলাকে ড্রামলিন বলে।
গঠন: হিমবাহ গলে যাওয়ার সময় বাহিত নুড়ি, বালি, কাদা পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে এই আকৃতি তৈরি করে। হিমবাহের প্রবাহের দিকে এর একদিক মসৃণ ও ঢালু, বিপরীত দিক খাড়া।
💡 মনে রাখো: এদের একসাথে দেখতে লাগে ডিম ভরতি ঝুড়ির মতো — তাই “Basket of Egg Topography” বলা হয়।
📚 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (৫ নম্বর)
প্রশ্ন: নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
নদীর উচ্চগতিতে ক্ষয়কার্য সবচেয়ে বেশি হয়। নদী প্রধানত চারটি উপায়ে ক্ষয় করে — অবঘর্ষ, ঘর্ষণ, জলীয় ক্রিয়া ও দ্রবণ।
নদীর ক্ষয়কার্যে সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপ:
১. V আকৃতির উপত্যকা: পার্বত্য অঞ্চলে নদী দ্রুত গতিতে নীচের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় নিম্নক্ষয় বেশি করে। ফলে ইংরেজি V অক্ষরের মতো সংকীর্ণ উপত্যকা সৃষ্টি হয়।
২. গিরিখাত ও ক্যানিয়ন: শুষ্ক মরু অঞ্চলে পার্শ্বক্ষয় না হওয়ায় নদী কেবল নিম্নক্ষয় করে। ফলে অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকা তৈরি হয়, তাকে ক্যানিয়ন বলে। কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (গভীরতা ১৮৫৭ মি) পৃথিবীখ্যাত।
৩. জলপ্রপাত: নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা আড়াআড়িভাবে থাকলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় পেয়ে খাড়া ঢালের সৃষ্টি করে। সেখান থেকে জল সরাসরি নীচে পড়ে জলপ্রপাত তৈরি করে।
৪. মন্থকূপ: নদীর তলদেশে ঘূর্ণি গতিতে জলের সাথে নুড়ি ঘুরে ঘুরে গোলাকার গর্ত তৈরি করে, তাকে মন্থকূপ বলে।
৫. শৃঙ্খলিত শৈলশিরা: পার্বত্য অঞ্চলে কঠিন শিলার বাধায় নদী এঁকেবেঁকে চলার সময় একটি পাড় অপর পাড়কে ঢেকে রাখে। এই পাড়গুলিকে শৃঙ্খলিত বা আবদ্ধ শৈলশিরা বলে।
প্রশ্ন: হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ আলোচনা করো।
উত্তর:
হিমবাহ প্রধানত দুটি উপায়ে ক্ষয় করে — (১) উৎপাটন (শিলাখণ্ড বিচ্ছিন্ন করা) ও (২) অবঘর্ষ (ঘষে ঘষে ক্ষয় করা)।
হিমবাহের ক্ষয়ে সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপ:
১. সার্ক বা করি: পর্বতের গায়ে হিমবাহের ক্ষয়ে তৈরি বাটির মতো গভীর গর্তকে সার্ক বা করি বলে। বিভিন্ন দেশে এর বিভিন্ন নাম:
| দেশ | নাম |
|---|---|
| ইংল্যান্ড | করি |
| ফ্রান্স | সার্ক |
| জার্মানি | কার |
| ওয়েলস | কাম |
২. অ্যারেট বা হিমশিরা: পাশাপাশি দুটি সার্কের মাঝখানের খাড়া শৈলশিরাকে অ্যারেট বা হিমশিরা বলে।
৩. পিরামিড চূড়া: তিন বা চারদিক থেকে সার্কের ক্ষয়ে পর্বতের মাঝখানের চূড়া পিরামিডের মতো আকৃতি পায়।
💡 মনে রাখো: মাটারহর্ন পর্বত এর বিখ্যাত উদাহরণ।
৪. U আকৃতির উপত্যকা বা হিমদ্রোণি: হিমবাহের ভার ও অবঘর্ষে পার্বত্য উপত্যকা গভীর ও প্রশস্ত হয়ে U আকৃতি ধারণ করে।
৫. ঝুলন্ত উপত্যকা: প্রধান হিমবাহের উপত্যকা ছোট হিমবাহের উপত্যকার চেয়ে অনেক গভীর হয়। হিমবাহ সরে গেলে ছোট উপত্যকাটি উঁচুতে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে।
৬. ফিয়র্ড: সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে হিমবাহ উপত্যকা এতটাই গভীর হয় যে হিমবাহ সরে গেলে সমুদ্রের জলে ভরে যায়। এই জলপূর্ণ গভীর উপত্যকাকে ফিয়র্ড বলে।
নরওয়ে = ফিয়র্ডের দেশ
৭. রসে মতানে: হিমবাহের গতিপথে কঠিন শিলাটির হিমবাহের দিকের অংশ মসৃণ এবং বিপরীত দিক অমসৃণ হয়।
প্রশ্ন: সুন্দরবনের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর:
সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ১৯৮৭ সালে UNESCO এটিকে World Heritage Site এবং ১৯৮৯ সালে ভারত সরকার Biosphere Reserve ঘোষণা করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
১. সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সুন্দরবনের সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ঘোড়ামারা, লোহাচড়া, নিউমুর দ্বীপ ইতিমধ্যে জলের নীচে চলে গেছে।
২. ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ধ্বংস: উপকূল জলমগ্ন হওয়ায় ম্যানগ্রোভ গাছ মারা যাচ্ছে। এতে সুন্দরী, গরান, গেওয়া গাছ বিপন্ন হচ্ছে।
৩. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের লোনা জল ঢুকে মিষ্টি জলের উৎস নষ্ট করছে এবং কৃষিজমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে।
৪. ঘূর্ণিঝড়ের প্রাদুর্ভাব: উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে আয়লা (২০০৯), আমফান (২০২০) এর মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বারবার আঘাত হানছে।
৫. জীববৈচিত্র্যের হুমকি: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ইরাবতী ডলফিন সহ বহু প্রজাতির প্রাণী বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
🎯 পরীক্ষার আগে মনে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী | নীলনদ |
| পৃথিবীর গভীরতম ক্যানিয়ন | ইয়ারলুং সাংপো (৫৫০০ মি) |
| পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত | সালতো অ্যাঞ্জেল, ভেনেজুয়েলা |
| ভারতের বিখ্যাত জলপ্রপাত | দুধসাগর (গোয়া), যোগ (কর্নাটক) |
| পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ | গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ |
| পৃথিবীর বৃহত্তম নদীদ্বীপ | ইলহা-দো-মারাজো (আমাজন) |
| ভারতের বৃহত্তম নদীদ্বীপ | মাজুলি (ব্রহ্মপুত্র, অসম) |
| পৃথিবীর দীর্ঘতম মহাদেশীয় হিমবাহ | ল্যামবার্ড |
| ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ | সিয়াচেন (কারাকোরাম) |
| ফিয়র্ডের দেশ | নরওয়ে |
| লোয়েস সমভূমি | চীনের হোয়াংহো অববাহিকা |
| সুন্দরবন — World Heritage Site | ১৯৮৭ সাল |
| সুন্দরবন — Biosphere Reserve | ১৯৮৯ সাল |

❓ FAQ — পরীক্ষায় বারবার আসে এমন প্রশ্ন
Q: কিউসেক ও কিউমেকের পার্থক্য কী?
A: কিউসেক = ঘনফুট/সেকেন্ড। কিউমেক = ঘনমিটার/সেকেন্ড।
Q: নদীর ষষ্ঠঘাতের সূত্র কী?
A: নদীর গতিবেগ ২ গুণ হলে বহনক্ষমতা ২⁶ = ৬৪ গুণ বাড়ে।
Q: জলবিভাজিকা কী?
A: দুটি নদী অববাহিকার মধ্যবর্তী উচ্চভূমিকে জলবিভাজিকা বলে।
Q: স্বাভাবিক বাঁধ কীভাবে তৈরি হয়?
A: বন্যার সময় নদীর তীরে পলি জমে উঁচু বাঁধ তৈরি হয়, তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে।
Q: অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কী?
A: নদীর বাঁক অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বাঁকের মুখ বন্ধ হয়ে অশ্বের ক্ষুরের মতো আকৃতির হ্রদ তৈরি হয়।
📌 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করো এবং আমাদের Website: wbbsenote.in ভিজিট করো।

