মাধ্যমিক বাংলা সম্পূর্ণ গাইড ২০২৭ | গদ্য, কবিতা, ব্যাকরণ ও রচনা | WBBSE Class 10

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বর থাকে। সঠিক প্রস্তুতি নিলে এই বিষয়ে ৮০+ নম্বর পাওয়া সম্ভব। এই সম্পূর্ণ গাইডে গদ্য, কবিতা, ব্যাকরণ ও রচনা — সব অংশ কভার করা হয়েছে।
এখানে পাবে:
- ✅ প্রতিটি গদ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
- ✅ কবিতার মূল বিষয়বস্তু ও প্রশ্নোত্তর
- ✅ কারক, সমাস ও বাক্য পরিবর্তনের সহজ নিয়ম
- ✅ রচনার সাজেশন ও কাঠামো
- ✅ পরীক্ষায় নিশ্চিত আসবে এমন প্রশ্ন

গদ্য অংশ
Memory Trick — লেখকের নাম মনে রাখো
জ্ঞানচক্ষু = আশাপূর্ণা দেবী (আশা দিয়ে শুরু — জ্ঞান দিয়ে শেষ) বহুরূপী = সুবোধ ঘোষ (সুবোধ মানে বহু রূপ বোঝে) পথের দাবি = শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অদল বদল = পান্নালাল প্যাটেল
জ্ঞানচক্ষু — আশাপূর্ণা দেবী
গল্পের মূল বিষয়: তপন নামের একটি ছেলে যখন তার গল্প প্রথমবার পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর আবিষ্কার করে যে ছোটোমেসো তার গল্প সংশোধন করে ছাপিয়েছেন — সে তখন বড়দের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারে।
নামকরণের সার্থকতা: তপনের চোখ খুলে যায় — সে বড়দের আসল রূপ বুঝতে পারে, নিজের সৃষ্টির স্বতন্ত্রতা বুঝতে পারে। তাই “জ্ঞানচক্ষু” নামটি সার্থক।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
প্র: “এতদিনে তপনের মনে হলো সত্যিই সে একটা কিছু লিখেছে।” — কখন তপনের এরূপ মনে হয়েছিল?
উ: তপনের লেখা গল্প যখন পত্রিকায় প্রকাশিত হলো, তখন সে পত্রিকার পাতায় নিজের নাম দেখে আনন্দিত হয়। কিন্তু গল্পটি পড়তে গিয়ে দেখে সেটি একেবারে অন্যরকম হয়ে গেছে — ছোটোমেসো পুরোটা বদলে দিয়েছেন। তখন সে ঠিক করে, পরের বার নিজেই গল্প ছাপাবে কারো সাহায্য ছাড়া। এই মুহূর্তেই সে বুঝতে পারে সত্যিই সে কিছু লিখেছে।
প্র: তপনের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উ: তপন মাধ্যমিক শ্রেণির একটি স্বপ্নশীল কিশোর। সে গল্প লিখতে ভালোবাসে। তার মধ্যে রয়েছে — (১) সৃজনশীলতা, (২) স্বাধীনচেতনা, (৩) আত্মসম্মানবোধ, (৪) লেখক হওয়ার স্বপ্ন। ছোটোমেসো তার গল্প সংশোধন করে দেওয়ার পর সে মর্মাহত হয় এবং প্রতিজ্ঞা করে নিজে গল্প ছাপাবে। এটি তার চরিত্রের দৃঢ়তা ও আত্মসম্মানবোধের প্রমাণ।
বহুরূপী — সুবোধ ঘোষ
গল্পের মূল বিষয়: হরিদা নামের এক দরিদ্র বহুরূপী বিভিন্ন সাজ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। একদিন তিনি সন্ন্যাসী সেজে ধনী জগদীশবাবুর বাড়িতে যান, কিন্তু তাকে আসল সন্ন্যাসী মনে করে জগদীশবাবু টাকা দিতে চাইলে তিনি নেন না।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
প্র: হরিদার জীবনের পরিচয় দাও।
উ: হরিদা একজন দরিদ্র বহুরূপী। তিনি বিভিন্ন সাজ ধরে পথে পথে ঘুরে বেড়ান এবং এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর বাসস্থান একটি ছোট্ট ঘরে। তিনি পেশায় বহুরূপী হলেও মনে সৎ ও স্বাভিমানী।
প্র: হরিদা কেন জগদীশবাবুর টাকা নিলেন না?
উ: হরিদা বিরাগী সন্ন্যাসীর ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন। সেই চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তিনি টাকা নেননি। কারণ একজন প্রকৃত বিরাগী কখনো অর্থের প্রলোভনে পড়েন না। হরিদা তাঁর অভিনীত চরিত্রের প্রতি সৎ থেকেছেন।
পথের দাবি — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গল্পের মূল বিষয়: ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা। অপূর্ব একজন তরুণ কেরানি যে মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
প্র: অপূর্বর চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উ: অপূর্ব পথের দাবি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। তার বৈশিষ্ট্য — (১) সৎ ও নীতিবান, (২) দেশপ্রেমিক, (৩) ব্রিটিশ অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার, (৪) মানবতাবাদী। ট্রেনে একজন বাঙালিকে ইংরেজ অফিসার অপমান করলে অপূর্ব প্রতিবাদ করে — এটি তার সাহসের প্রমাণ।
কবিতা অংশ
অসুখী একজন — পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য)
মূল বিষয়: যুদ্ধের বিভীষিকা ও একজন প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা নারীর বেদনা।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
প্র: “অসুখী একজন” কবিতায় যুদ্ধের ভয়াবহতা কীভাবে ফুটে উঠেছে? উ: কবিতায় যুদ্ধের ধ্বংসলীলা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। মেয়েটি অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু যুদ্ধ সব কিছু ধ্বংস করে দেয়। মন্দির, বাড়ি, গাছ সব ভেঙে পড়ে। প্রিয়জন আর ফেরে না। যুদ্ধ মানুষের স্বপ্ন ও ভালোবাসা সব ধূলিসাৎ করে — এই সত্য কবিতায় অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি — শঙ্খ ঘোষ
মূল বিষয়: বিপদের মুখে মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
প্র: কবিতায় কবির আবেদন কী?
উ: কবি শঙ্খ ঘোষ এই কবিতায় সব মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চারদিকে বিপদ, যুদ্ধ, মৃত্যুর ছায়া। এই দুর্যোগের মধ্যে একা বাঁচার চেষ্টা ব্যর্থ। কবি মনে করেন একমাত্র ঐক্যই মানুষকে রক্ষা করতে পারে। “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” — এই আহ্বানই কবিতার মূল বক্তব্য।
ব্যাকরণ অংশ
কারক ও বিভক্তি

সহজ মনে রাখার Trick:
“কর্তা কাজ করে, কর্ম কাজ পায়, করণে কাজ হয়, সম্প্রদানে দেওয়া যায়, অপাদানে বিচ্ছেদ, অধিকরণে থাকা যায়”
| কারক | প্রশ্ন | বিভক্তি | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| কর্তৃকারক | কে/কারা ক্রিয়া করে? | শূন্য/এ/রা | রাম বই পড়ে |
| কর্মকারক | কাকে/কী ক্রিয়া করা হয়? | কে/রে/শূন্য | রামকে ডাকো |
| করণকারক | কী দিয়ে/কীসের সাহায্যে? | দিয়ে/দ্বারা/কর্তৃক | কলম দিয়ে লেখো |
| সম্প্রদান কারক | কাকে দেওয়া হয়? | কে/রে/জন্য | গরিবকে দান করো |
| অপাদান কারক | কোথা থেকে/কীসের থেকে? | থেকে/হতে/চেয়ে | গাছ থেকে ফল পড়ে |
| অধিকরণ কারক | কোথায়/কখন/কীসে? | এ/তে/য় | ঘরে বসো |
সমাস

সহজ নিয়ম মনে রাখো:
তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়। উদা: রাজার পুত্র = রাজপুত্র | দেশকে প্রেম = দেশপ্রেম
কর্মধারয় সমাস: বিশেষণ + বিশেষ্য, উভয়পদ একই। উদা: নীল যে আকাশ = নীলাকাশ | মহান যে জন = মহাজন
বহুব্রীহি সমাস: অন্য পদই প্রধান অর্থ বোঝায়। উদা: চাঁদ আছে মুখে যার = চাঁদমুখো (সুন্দর মুখবিশিষ্ট ব্যক্তি)
দ্বন্দ্ব সমাস: উভয় পদ সমান গুরুত্বপূর্ণ। উদা: মা ও বাবা = মা-বাবা | সুখ ও দুঃখ = সুখদুঃখ
দ্বিগু সমাস: পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ। উদা: তিন ভুবন = ত্রিভুবন | চার রাস্তার মিলনস্থল = চৌরাস্তা
বাক্য পরিবর্তন
সরল → জটিল → যৌগিক:
সরল: রোগে পড়ে সে স্কুলে যেতে পারেনি। জটিল: যেহেতু সে রোগে পড়েছিল, সেহেতু স্কুলে যেতে পারেনি। যৌগিক: সে রোগে পড়েছিল, তাই স্কুলে যেতে পারেনি।
হ্যাঁ-বাচক → না-বাচক (অর্থ না বদলে): সে সৎ। → সে অসৎ নয়। সবাই তাকে ভালোবাসে। → তাকে কেউ ঘৃণা করে না।
রচনার সাজেশন

পরীক্ষায় নিশ্চিত আসবে এমন রচনার বিষয়:
১. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ) কাঠামো:
- ভূমিকা: আধুনিক জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা
- বিজ্ঞানের সুফল: চিকিৎসা, যোগাযোগ, কৃষি
- বিজ্ঞানের কুফল: পরিবেশ দূষণ, অস্ত্র তৈরি
- উপসংহার: সঠিক ব্যবহারই সমাধান
২. পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার কাঠামো:
- ভূমিকা: পরিবেশ কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ
- দূষণের প্রকার: বায়ু, জল, মাটি, শব্দ
- দূষণের কারণ: শিল্পায়ন, যানবাহন, বন কাটা
- প্রভাব: স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু
- প্রতিকার: বৃক্ষরোপণ, আইন, সচেতনতা
- উপসংহার
৩. আধুনিক জীবনে মোবাইল ফোনের প্রভাব কাঠামো:
- ভূমিকা: মোবাইলের বিস্তার
- ইতিবাচক প্রভাব: যোগাযোগ, তথ্য, ব্যবসা
- নেতিবাচক প্রভাব: আসক্তি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন, স্বাস্থ্য
- উপসংহার: সুষম ব্যবহার জরুরি
৪. নারীশিক্ষার গুরুত্ব
- ভূমিকা: শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার
- নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
- নারীশিক্ষার বাধা ও সমাধান
- বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ
- উপসংহার: শিক্ষিত নারী = শিক্ষিত পরিবার = শিক্ষিত দেশ
Quick Revision Table
| বিষয় | মনে রাখার তথ্য |
|---|---|
| জ্ঞানচক্ষু লেখক | আশাপূর্ণা দেবী |
| বহুরূপী লেখক | সুবোধ ঘোষ |
| পথের দাবি লেখক | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
| অসুখী একজন কবি | পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য) |
| আয় আরো বেঁধে থাকি কবি | শঙ্খ ঘোষ |
| আফ্রিকা কবি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| অভিষেক কবি | মাইকেল মধুসূদন দত্ত |
| কর্তৃকারকের প্রশ্ন | কে/কারা |
| কর্মকারকের প্রশ্ন | কাকে/কী |
| করণকারকের বিভক্তি | দিয়ে/দ্বারা |
| অপাদান কারকের বিভক্তি | থেকে/হতে |
| তৎপুরুষে কীসের লোপ | পূর্বপদের বিভক্তি |
| বহুব্রীহিতে মূল অর্থ | অন্য পদে |
FAQ
Q: মাধ্যমিক বাংলায় সবচেয়ে বেশি নম্বর কোথায়?
A: গদ্য ও কবিতার রচনাধর্মী প্রশ্নে (৫ নম্বর করে) এবং প্রবন্ধ রচনায় (১০ নম্বর)। মোট প্রায় ৩০-৩৫ নম্বর এই অংশগুলো থেকে।
Q: ব্যাকরণে কত নম্বর থাকে?
A: মাধ্যমিক বাংলায় ব্যাকরণে সাধারণত ১৫-২০ নম্বর থাকে — কারক, সমাস, বাক্য পরিবর্তন মিলিয়ে।
Q: প্রবন্ধ রচনায় কত শব্দ লিখতে হয়?
A: সাধারণত ৩৫০-৪০০ শব্দের মধ্যে লেখা উচিত। বেশি দীর্ঘ হলে পরীক্ষকের ধৈর্য কমে।
📌 পোস্টটি শেয়ার করো। সব বিষয়ের সম্পূর্ণ নোটস পেতে wbbsenote.in ভিজিট করো।