WBBSE & WBCHSE পর্ষদ (Class 5–12): সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলা নোটস, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর PDF
WBBSE NOTE Logo
WBBSE NOTE
WBBSE & WBCHSE Portal • Class 5–12
মেনু
Logo WBBSE NOTE
Class 5 to 12 • WBBSE & WBCHSE Menu
✕

উচ্চমাধ্যমিক 3য় সেমিস্টার হিসাবশাস্ত্র (অ্যাকাউন্টেন্সি) সাজেশন 2027 (২০২৭) | WBCHSE Class 12 Accountancy Semester 3 MCQ Suggestion PDF প্রশ্ন উত্তর (৪০ নম্বর নতুন সিলেবাস)

কমার্সের (Commerce) ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্লাস ১২-এর সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা কোনটা বলো তো? পরীক্ষার হলে বসে লম্বা ছক টেনে অংক করার পর যখন দেখা যায় ব্যালেন্স শিট (Balance Sheet) বা ক্যাশ ফ্লো মিলছে না! কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর নতুন সেমিস্টার ব্যবস্থায় তোমাদের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ৩য় সেমিস্টার হিসাবশাস্ত্র বা অ্যাকাউন্টেন্সি পরীক্ষাটি (Semester 3 Accountancy) আসলে কমার্সের পড়ুয়াদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কারণ এই সেমিস্টারে কোনো ২ পাতার বড়ো ছক বা লেজার অ্যাকাউন্ট মেলাতে হবে না—পুরো ৪০ নম্বরই থাকবে OMR শিটে ছোটো ছোটো থিওরি ও ৩০ সেকেন্ডের শর্টকাট ক্যালকুলেশনভিত্তিক MCQ প্রশ্নে!

দীর্ঘদিন ক্লাসরুমে হিসাবশাস্ত্র পড়াতে গিয়ে দেখেছি, ছেলেমেয়েরা অংকের নিয়ম জানলেও ছোটোখাটো আইনি ধারা (যেমন ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন বা ২০১৩ সালের কোম্পানি আইনের ধারা ৫২ ও ৭১), উত্তোলনের সুদের গড় মাস (6.5 মাস না কি 5.5 মাস) কিংবা অনুপাত বিশ্লেষণের (Ratio Analysis) সূত্রগুলোতে গুলিয়ে ফেলে নম্বর নষ্ট করে। তাই আজকের এই উচ্চমাধ্যমিক 3য় সেমিস্টার হিসাবশাস্ত্র সাজেশন (দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার অ্যাকাউন্টেন্সি গাইড ও WBCHSE Class 12 Accountancy Semester 3 MCQ Suggestion PDF) পোস্টে আমরা ৩টি প্রধান ইউনিট—অংশীদারি কারবারের মৌলিক ধারণা ও সুনামের মূল্যায়ন, কোম্পানির শেয়ার ও ঋণপত্রের হিসাবনিকাশ এবং আর্থিক বিবরণী ও অনুপাত বিশ্লেষণ—থেকে ঠিক যে যে প্রশ্ন ও শর্টকাট অংকগুলো পরীক্ষার পাতায় হুবহু কমন আসে, সেগুলো একদম সহজ ভাষায় পরপর সাজিয়ে আলোচনা করছি।

কমার্স ও অন্যান্য বিভাগের সমস্ত সেমিস্টারের নোটবুক পিডিএফ সংগ্রহ করতে আমাদের বুক স্টোর WBBSE NOTE Books Library এবং সেমিস্টার স্টোর WBCHSE Semester 3 & 4 PDF Store থেকে ঘুরে আসতে পারো।

উচ্চমাধ্যমিক 3য় সেমিস্টার হিসাবশাস্ত্র সিলেবাস ও নম্বর তোলার রণকৌশল (WBCHSE Class 12 Semester 3 Accountancy Blueprint)

৩য় সেমিস্টারে হিসাবশাস্ত্রে (পূর্ণমান: ৪০ লিখিত MCQ + ১০ প্রজেক্ট, সময়: ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট) তোমাদের মূলত ৩টি অংশের থিওরি ও ছোটো গাণিতিক সমস্যা তৈরি করতে হবে:

ইউনিট ও অধ্যায় বিভাগ নির্ধারিত পাঠ্য অধ্যায়সমূহ (Prescribed Chapters — Class 12 Accountancy Sem 3) পরীক্ষার হলে যে টপিক থেকে প্রশ্ন আসবেই (High-Scoring Focus Areas) পূর্ণমান ও ধরন
Unit – I: অংশীদারি কারবারের হিসাব – ১ (Partnership Firm – I) ১. অংশীদারি কারবারের প্রাথমিক ধারণা (Profit & Loss Appropriation A/c) এবং ২. সুনামের মূল্যায়ন (Valuation of Goodwill) ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন, চুক্তির অনুপস্থিতিতে নিয়ম (6% ঋণের সুদ), স্থির ও পরিবর্তনশীল মূলধন, উত্তোলনের সুদের গড় মাস (6.5, 5.5, 7.5, 4.5), AS-26 এবং গড় মুনাফা, অতি মুনাফা (Super Profit) ও মূলধনীকরণ পদ্ধতিতে সুনাম নির্ণয় ৪০ নম্বরের OMR ভিত্তিক MCQ (মোট ৪০টি প্রশ্ন × ১ নম্বর)
Unit – II: কোম্পানির হিসাবনিকাশ – ১ (Company Accounts – I) ১. শেয়ার মূলধনের ধারণা ও শেয়ার বিলি (Issue of Shares) এবং ২. ঋণপত্র বিলি (Issue of Debentures) ২০১৩ সালের কোম্পানি আইন, প্রাইভেট (সর্বোচ্চ ২০০) ও পাবলিক কোম্পানি (সর্বনিম্ন ৭), অনুমোদিত-বিলিকৃত-সঞ্চিত মূলধন, ন্যূনতম চাঁদা (90%), ধারা ৫২ (Securities Premium), ধারা ৭১ (Debenture), জামানত সিকিউরিটি ও বাট্টা/প্রিমিয়ামে ঋণপত্রের সংখ্যা নির্ণয় (উপরের ৪০ নম্বরের অন্তর্ভুক্ত)
Unit – III: আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ (Financial Statement Analysis) ১. তুলনামূলক ও সমআকার বিবরণী (Comparative & Common-size Statements) এবং ২. অনুপাত বিশ্লেষণ (Accounting Ratios) অনুভূমিক (গতিশীল) ও উল্লম্ব (স্থির) বিশ্লেষণ, চলতি অনুপাত (আদর্শ 2:1), তারল্য অনুপাত (আদর্শ 1:1), দায়-মূলধন অনুপাত (2:1), মজুদ ও দেনাদার আবর্তন অনুপাত, গড় আদায় সময়কাল, পরিচালন অনুপাত ও ROI (উপরের ৪০ নম্বরের অন্তর্ভুক্ত)

১. অংশীদারি কারবারের প্রাথমিক ধারণা ও সুনামের মূল্যায়ন (Accounting for Partnership Firm – I) — সেরা ৭টি শর্টকাট সেট

১. প্রশ্ন: ভারতীয় অংশীদারি আইন কত সালে পাস হয়? একটি সাধারণ অংশীদারি কারবারে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কত এবং সীমিত দায় অংশীদারি (LLP) কেন আলাদা?

উত্তর: বর্তমান ভারতীয় অংশীদারি আইন (Indian Partnership Act) ১৯৩২ সালে পাস হয়েছিল। একটি সাধারণ অংশীদারি কারবারে সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা ২ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ৫০ জন (২০১৩ সালের কোম্পানি আইন ও ২০১৪ সালের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সীমা ৫০ জন নির্ধারিত)। সাধারণ অংশীদারি কারবারে প্রত্যেক অংশীদারের দায় অসীম (Unlimited Liability) এবং কারবারের কোনো পৃথক আইনগত সত্তা থাকে না; কিন্তু LLP (Limited Liability Partnership বা সীমিত দায় অংশীদারি, ২০০৮ আইন)-এর ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, এর পৃথক আইনগত সত্তা থাকে এবং ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন LLP-এর ওপর প্রযোজ্য নয়।

২. প্রশ্ন: অংশীদারি চুক্তিপত্র (Partnership Deed) না থাকলে ১৯৩২ সালের আইন অনুযায়ী লাভ-ক্ষতি বণ্টন, মূলধনের সুদ, উত্তোলনের সুদ, বেতন এবং অংশীদারের ঋণের ওপর সুদের নিয়ম কী? (উদাহরণসহ)।

উত্তর: পরীক্ষায় এই নিয়মটি থেকে অন্তত ২–৩টি ঘুরিয়ে প্রশ্ন আসে। মনে রাখবে, অংশীদারি চুক্তিপত্রের অনুপস্থিতিতে—(১) কারবারের লাভ বা ক্ষতি সকল অংশীদারের মধ্যে সমানভাবে (1 : 1 অনুপাতে) বণ্টন করা হবে; (২) অংশীদারদের মূলধনের ওপর কোনো সুদ (Interest on Capital) দেওয়া হবে না; (৩) অংশীদারদের উত্তোলনের ওপর কোনো সুদ (Interest on Drawings) ধার্য করা হবে না; (৪) কোনো অংশীদার কারবার পরিচালনা করলেও তাঁকে কোনো বেতন বা কমিশন (Salary or Commission) দেওয়া হবে না; এবং (৫) কোনো অংশীদার কারবারকে ঋণ দিলে চুক্তি না থাকলেও তিনি বার্ষিক 6% হারে ঋণের ওপর সুদ (Interest on Loan @ 6% p.a.) পাবেন। যেমন—ইন্দ্রজিৎ যদি ১লা জুলাই ২০২৫ তারিখে ফার্মকে ৬০,০০০ টাকা ঋণ দেয় এবং ৩১শে মার্চ ২০২৬ তারিখে হিসাব শেষ হয়, তবে ৯ মাসের সুদ হবে 60,000 × 6% × (9/12) = 2,700 টাকা।

৩. প্রশ্ন: লাভ-ক্ষতি বণ্টন হিসাব (Profit & Loss Appropriation Account) কী জাতীয় হিসাব? অংশীদারের ঋণের সুদ এবং ম্যানেজারের কমিশন কেন এই হিসাবে আসে না?

উত্তর: লাভ-ক্ষতি বণ্টন হিসাব (P/L Appropriation A/c) হলো একটি নামিক হিসাব (Nominal Account), যা লাভ-ক্ষতি হিসাবের (Profit & Loss Account) পরে এবং উদ্বর্তপত্রের (Balance Sheet) আগে নিট মুনাফা অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করার জন্য তৈরি করা হয়। অংশীদারদের মূলধনের সুদ, বেতন ও কমিশন হলো ‘মুনাফার বণ্টন’ (Appropriation of Profit)—তাই এগুলি P/L Appropriation হিসাবে ডেবিট হয়। কিন্তু অংশীদারের ঋণের ওপর সুদ, অংশীদারকে প্রদেয় বাড়িভাড়া এবং ম্যানেজারের কমিশন হলো ‘মুনাফার বিপরীতে ছাঁট বা দায়’ (Charge against Profit)—অর্থাৎ কারবারে ক্ষতি হলেও এগুলি দিতেই হয়; তাই এগুলি লাভ-ক্ষতি বণ্টন হিসাবে না এসে সরাসরি লাভ-ক্ষতি হিসাবে (Profit & Loss Account) ডেবিট করা হয়।

৪. প্রশ্ন: স্থির মূলধন পদ্ধতি (Fixed Capital Method) ও পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতির (Fluctuating Capital Method) মূল পার্থক্য কী? এবং ম্যানেজারের কমিশনের শর্টকাট সূত্রটি লেখো।

উত্তর: স্থির মূলধন পদ্ধতিতে প্রত্যেক অংশীদারের জন্য ২টি হিসাব খোলা হয়—(১) অংশীদারদের মূলধন হিসাব (Partners’ Capital A/c) যার উদ্বৃত্ত সর্বদা ক্রেডিট (Credit) হয় এবং (২) অংশীদারদের চলতি হিসাব (Partners’ Current A/c — এটি একটি ব্যক্তিগত হিসাব বা Personal Account), যেখানে মূলধনের সুদ, বেতন, উত্তোলন ও মুনাফার অংশ লেখা হয় এবং এর উদ্বৃত্ত ডেবিট বা ক্রেডিট উভয়ই হতে পারে। পক্ষান্তরে পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতিতে কেবল ১টিই মূলধন হিসাব খোলা হয় এবং এর জের ডেবিট বা ক্রেডিট হতে পারে। আর ম্যানেজারের কমিশন যদি ‘কমিশন চার্জ করার পরবর্তী নিট লাভের ওপর R%’ (After charging such commission) বলা থাকে, তবে শর্টকাট সূত্র হলো: কমিশন = নিট লাভ × [R / (100 + R)] (যেমন: নিট লাভ ২,১০,০০০ টাকা এবং হার 5% হলে কমিশন = 2,10,000 × 5 / 105 = 10,000 টাকা)।

৫. প্রশ্ন: উত্তোলনের ওপর সুদ (Interest on Drawings) গণনার ক্ষেত্রে প্রতি মাসের শুরুতে, মাঝখানে ও শেষে এবং প্রতি ত্রৈমাসিকের শুরুতে ও শেষে সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করলে গড় সময়কাল কত মাস ধরা হয়?

উত্তর: সারা বছর ধরে সমপরিমাণ টাকা নির্দিষ্ট ব্যবধানে উত্তোলন করলে গড় সময়কালের শর্টকাট সূত্র হলো (প্রথম উত্তোলনের পর অবশিষ্ট মাস + শেষ উত্তোলনের পর অবশিষ্ট মাস) ÷ 2। সেই অনুযায়ী—(১) প্রতি মাসের শুরুতে উত্তোলন করলে গড় সময় = 6.5 মাস (যেমন প্রতি মাসের শুরুতে ২,০০০ টাকা করে তুললে বার্ষিক 12% হারে সুদ = 24,000 × 12% × 6.5/12 = 1,560 টাকা); (২) প্রতি মাসের মাঝামাঝি (বা উত্তোলনের তারিখ উল্লেখ না থাকলে) গড় সময় = 6 মাস; (৩) প্রতি মাসের শেষে উত্তোলন করলে গড় সময় = 5.5 মাস; (৪) প্রতি ত্রৈমাসিকের (Quarter) শুরুতে উত্তোলন করলে গড় সময় = 7.5 মাস; এবং (৫) প্রতি ত্রৈমাসিকের শেষে উত্তোলন করলে গড় সময় = 4.5 মাস।

৬. প্রশ্ন: সুনাম (Goodwill) কী ধরনের সম্পত্তি? অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড AS-26 অনুযায়ী কোন সুনাম হিসাবের বইতে দেখানো যায় এবং কোনটি যায় না?

উত্তর: সুনাম (Goodwill) হলো কারবারের সুখ্যাতি বা সুনাম থেকে সৃষ্ট একটি অস্পর্শনীয় স্থায়ী সম্পত্তি (Intangible Fixed Asset)—এটি মোটেই কাল্পনিক সম্পত্তি (Fictitious Asset) নয় কারণ এর বাস্তব বিক্রয়যোগ্য মূল্য আছে। হিসাবনিকাশের আদর্শ মান AS-26 (Intangible Assets) অনুযায়ী কেবলমাত্র ‘ক্রীত সুনাম’ (Purchased Goodwill)—যার জন্য অর্থ বা প্রতিদান প্রদান করা হয়েছে—হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা যায়; কিন্তু দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক দক্ষতায় গড়ে ওঠা ‘স্ব-উৎপাদিত সুনাম’ (Self-generated Goodwill) কখনোই হিসাবের বইতে দেখানো যায় না।

৭. প্রশ্ন: গড় মুনাফা (Average Profit), অতি মুনাফা (Super Profit) এবং মূলধনীকরণ (Capitalisation) পদ্ধতিতে সুনাম নির্ণয়ের সূত্র ও শর্টকাট অংক দেখাও।

উত্তর: সুনাম মূল্যায়নের ৩টি প্রধান সূত্র হলো—(১) গড় মুনাফা পদ্ধতি: কোনো বছরের লাভে অস্বাভাবিক ক্ষতি (Abnormal Loss) থাকলে তা যোগ করে এবং অস্বাভাবিক লাভ বাদ দিয়ে প্রথমে সমন্বিত গড় মুনাফা বের করতে হয়, তারপর সুনাম = গড় মুনাফা × ক্রয়ের বছরসংখ্যা (Number of Years’ Purchase)। (২) অতি মুনাফা (Super Profit) পদ্ধতি: এখানে স্বাভাবিক মুনাফা (Normal Profit) = বিনিয়োজিত মূলধন × (স্বাভাবিক প্রতিদানের হার ÷ 100) এবং অতি মুনাফা (Super Profit) = প্রকৃত গড় মুনাফা – স্বাভাবিক মুনাফা; অতঃপর সুনাম = অতি মুনাফা × ক্রয়ের বছরসংখ্যা। (৩) মূলধনীকরণ পদ্ধতি: নিয়োজিত মূলধন ৫,০০,০০০ টাকা, স্বাভাবিক প্রতিদানের হার 10% এবং গড় লাভ ৮০,০০০ টাকা হলে কারবারের মূলধনীকৃত মূল্য = 80,000 ÷ 10% = ৮,০০,০০০ টাকা; সুতরাং সুনাম = ৮,০০,০০০ – ৫,০০,০০০ = ৩,০০,০০০ টাকা।

২. কোম্পানির শেয়ার ও ঋণপত্রের হিসাবনিকাশ (Accounting for Company – I) — সেরা ৫টি শর্টকাট সেট

৮. প্রশ্ন: ২০১৩ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী ঘরোয়া (Private) ও সর্বজনীন (Public) কোম্পানির সদস্য সংখ্যা কত? এবং অনুমোদিত মূলধন, বিলিকৃত মূলধন ও সঞ্চিত মূলধন (Reserve Capital) কাকে বলে?

উত্তর: ২০১৩ সালের ভারতীয় কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ঘরোয়া বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সর্বনিম্ন সদস্য ২ জন ও সর্বোচ্চ ২০০ জন, এবং সর্বজনীন বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সর্বনিম্ন সদস্য ৭ জন ও সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা সীমাহীন (আর এক ব্যক্তির কোম্পানি বা OPC-তে সদস্য ১ জন)। কোম্পানির পরিমেল বন্ধে (Memorandum of Association) উল্লিখিত সর্বোচ্চ যে সীমা পর্যন্ত মূলধন বিলি করার অনুমতি থাকে তাকে অনুমোদিত বা নামিক মূলধন (Authorised / Nominal Capital) বলে। এর যে অংশ জনসাধারণকে কেনার জন্য বিলি করা হয় তাকে বিলিযোগ্য বা বিলিকৃত মূলধন (Issued Capital) বলে। আর অতলবীকৃত মূলধনের (Uncalled Capital) যে অংশ কোম্পানি বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে কেবলমাত্র কোম্পানির অবসায়নের (Winding up) সময় তলব করার জন্য সংরক্ষিত রাখে, তাকে সঞ্চিত মূলধন (Reserve Capital) বলে।

৯. প্রশ্ন: কোম্পানির ন্যূনতম চাঁদা (Minimum Subscription) কত শতাংশ? এবং ধারা ৫২ অনুযায়ী সিকিউরিটিজ প্রিমিয়াম (Securities Premium) কোন কোন কাজে ব্যবহার করা যায়?

উত্তর: SEBI ও কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো পাবলিক কোম্পানির ন্যূনতম চাঁদা (Minimum Subscription) হলো বিলিযোগ্য শেয়ার মূল্যের 90%; বিবরণপত্র (Prospectus) প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এই 90% আবেদন না পেলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত টাকা আবেদনকারীদের ফেরত দিতে হয়। আর ২০১৩ সালের কোম্পানি আইনের ধারা ৫২ (Section 52) অনুযায়ী অধিহারে শেয়ার বিলি করে প্রাপ্ত Securities Premium উদ্বর্তপত্রের দায়ের দিকে ‘সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত’ (Reserves and Surplus) শিরোনামে দেখানো হয় এবং এটি কেবল ৫টি নির্দিষ্ট কাজে—যেমন (১) সদস্যদের পূর্ণ প্রদত্ত বোনাস শেয়ার (Bonus Shares) বিলি করতে, (২) কোম্পানির প্রাথমিক খরচ (Preliminary Expenses) অবলোপন করতে এবং (৩) শেয়ার বা ঋণপত্র বিলির খরচ ও বাট্টা অবলোপন করতে—ব্যবহার করা যায়; এটি দিয়ে কখনোই নগদে লভ্যাংশ দেওয়া যায় না।

১০. প্রশ্ন: ঋণপত্র (Debenture) কী? সম্পত্তি ক্রয়ের বিনিময়ে বাট্টায় বা অধিহারে ঋণপত্র বিলি করলে ঋণপত্রের সংখ্যা নির্ণয়ের শর্টকাট সূত্রটি উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: ২০১৩ সালের কোম্পানি আইনের ধারা ২(৩০) অনুযায়ী ঋণপত্র (Debenture) হলো কোম্পানির ঋণের স্বীকৃতিপত্র এবং ঋণপত্র গ্রহীতারা হলেন কোম্পানির পাওনাদার (Creditors)—তাই কোম্পানির ক্ষতি হলেও ঋণপত্রের ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ (সবসময় অভিহিত বা Face Value-র ওপর) দিতেই হয়। সম্পত্তি ক্রয়ের বিনিময়ে ঋণপত্র বিলি করলে প্রদেয় ঋণপত্রের সংখ্যা = ক্রয়মূল্য (Purchase Consideration) ÷ প্রতিটি ঋণপত্রের কার্যকর বিলি মূল্য (Issue Price)। যেমন—৮,১০,০০০ টাকার সম্পত্তি ক্রয়ের বদলে ১০০ টাকার ঋণপত্র 10% বাট্টায় (অর্থাৎ 100 – 10 = 90 টাকায়) বিলি করলে ঋণপত্রের সংখ্যা হবে 8,10,000 ÷ 90 = 9,000টি; আর 20% অধিহারে বা প্রিমিয়ামে (100 + 20 = 120 টাকায়) বিলি করলে ঋণপত্রের সংখ্যা হবে 8,10,000 ÷ 120 = 6,750টি।

১১. প্রশ্ন: জামানত সিকিউরিটি (Collateral Security) হিসেবে বিলিকৃত ঋণপত্রের ওপর কত সুদ দিতে হয়? এবং নিট সম্পত্তি অপেক্ষা বেশি বা কম মূল্যের ঋণপত্র দিলে পার্থক্যটি কোথায় যায়?

উত্তর: ব্যাংক ঋণের সহায়ক বা জামানত সিকিউরিটি (Collateral Security) হিসেবে কোনো ঋণপত্র বিলি করলে তার জন্য ‘Debenture Suspense Account’ ডেবিট করা হয় এবং এই জামানতি ঋণপত্রের ওপর কোনো সুদ দিতে হয় না (কেবল মূল ব্যাংক ঋণের ওপর সুদ দিতে হয়)। আবার কোনো চালু কারবারের নিট সম্পত্তি (মোট সম্পত্তি – দায়) অপেক্ষা যদি বেশি মূল্যের শেয়ার বা ঋণপত্র দেওয়া হয়, তবে অতিরিক্ত টাকা সুনাম হিসাবে (Goodwill Account) ডেবিট হয়; আর নিট সম্পত্তি অপেক্ষা কম মূল্যের প্রতিদান দিলে লাভের অংশটুকু মূলধন সঞ্চিতি হিসাবে (Capital Reserve Account) ক্রেডিট হয়।

৩. আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ ও অনুপাত বিশ্লেষণ (Financial Statement Analysis) — সেরা ৫টি শর্টকাট সেট

১২. প্রশ্ন: অনুভূমিক বিশ্লেষণ (Horizontal Analysis) এবং উল্লম্ব বিশ্লেষণ (Vertical Analysis) কাকে বলে? সমআকার বিবরণীতে (Common-size Statement) কাকে 100% ধরা হয়?

উত্তর: যখন একটি প্রতিষ্ঠানের দুই বা ততোধিক বছরের আর্থিক বিবরণীর তথ্য তুলনা করা হয় তখন তাকে অনুভূমিক বিশ্লেষণ বা গতিশীল বিশ্লেষণ (Horizontal / Dynamic Analysis) বলে—এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো তুলনামূলক বিবরণী (Comparative Balance Sheet & Income Statement) এবং প্রবৃত্তি বিশ্লেষণ (Trend Analysis)। পক্ষান্তরে কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরের আর্থিক বিবরণীর বিভিন্ন উপাদানকে একটি মূল উপাদানের শতকরা হারে প্রকাশ করাকে উল্লম্ব বিশ্লেষণ বা স্থির বিশ্লেষণ (Vertical / Static Analysis) বলে—যার উদাহরণ হলো সমআকার বিবরণী (Common-size Statement)। মনে রাখবে, সমআকার আয় বিবরণীতে ‘নিট বিক্রয়’ (Revenue from Operations / Net Sales)-কে 100% ধরা হয়, এবং সমআকার উদ্বর্তপত্রে ‘মোট সম্পত্তি’ বা ‘মোট দায় ও মূলধন’-কে 100% ধরা হয়।

১৩. প্রশ্ন: তারল্য অনুপাত (Liquidity Ratios)—চলতি অনুপাত (Current Ratio) ও দ্রুত বা অ্যাসিড টেস্ট অনুপাতের (Quick Ratio) সূত্র, আদর্শ মান এবং শর্টকাট অংক লেখো।

উত্তর: স্বল্পমেয়াদী ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা মাপার দুটি প্রধান অনুপাত হলো—(১) চলতি অনুপাত (Current Ratio) = চলতি সম্পদ (Current Assets) ÷ চলতি দায় (Current Liabilities), যার আদর্শ মান হলো 2 : 1; এবং (২) দ্রুত বা তারল্য অনুপাত (Quick / Liquid / Acid Test Ratio) = তরল সম্পদ (Quick Assets) ÷ চলতি দায়, যার আদর্শ মান হলো 1 : 1। এখানে তরল সম্পদ = চলতি সম্পদ – (সমাপনী মজুদ পণ্য বা Inventory + অগ্রিম প্রদত্ত খরচ বা Prepaid Expenses) এবং কার্যকরী মূলধন (Working Capital) = চলতি সম্পদ – চলতি দায়।

শর্টকাট অংক: যদি কোনো কোম্পানির চলতি অনুপাত 3 : 1 এবং কার্যকরী মূলধন ৬০,০০০ টাকা হয়, তবে ধরি চলতি দায় = x এবং চলতি সম্পদ = 3x; সুতরাং কার্যকরী মূলধন 3x – x = 2x = 60,000 ⇒ চলতি দায় x = 30,000 টাকা এবং চলতি সম্পদ 3x = 90,000 টাকা। আবার চলতি অনুপাত 2 : 1 থাকা অবস্থায় পাওনাদারকে নগদে টাকা শোধ করলে চলতি সম্পদ ও চলতি দায় সমপরিমাণ কমে, ফলে চলতি অনুপাত বৃদ্ধি পায়!

১৪. প্রশ্ন: সচ্ছলতা অনুপাত (Solvency Ratios)—দায়-মূলধন অনুপাত (Debt-Equity Ratio), স্বত্বাধিকারী অনুপাত (Proprietary Ratio) ও সুদ সংস্থান অনুপাতের সূত্র লেখো।

উত্তর: দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সচ্ছলতা যাচাইয়ের জন্য—(১) দায়-মূলধন অনুপাত (Debt-Equity Ratio) = দীর্ঘমেয়াদী ঋণ (Long-term Debt) ÷ শেয়ারগ্রহীতাদের তহবিল বা মালিকানা তহবিল (Shareholders’ Funds / Equity), যার আদর্শ মান হলো 2 : 1; (২) স্বত্বাধিকারী অনুপাত (Proprietary Ratio) = শেয়ারগ্রহীতাদের তহবিল ÷ মোট সম্পত্তি (Total Assets); এবং (৩) সুদ সংস্থান অনুপাত (Interest Coverage Ratio) = সুদ ও কর পূর্ববর্তী নিট মুনাফা (EBIT) ÷ বার্ষিক ঋণপত্রের ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণের সুদ (যেমন EBIT ১,০০,০০০ টাকা ও বার্ষিক সুদ ২০,০০০ টাকা হলে সুদ সংস্থান অনুপাত = 1,00,000 ÷ 20,000 = 5 Times বা ৫ বার)।

১৫. প্রশ্ন: আবর্তন অনুপাত (Activity / Turnover Ratios) এবং লাভজনকতা অনুপাত (Profitability Ratios)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও সম্পর্কগুলি লেখো।

উত্তর: প্রথমত, মজুদ আবর্তন অনুপাত (Inventory Turnover Ratio) = বিক্রিত পণ্যের ব্যয় (Cost of Revenue from Operations / COGS) ÷ গড় মজুদ পণ্য (Average Inventory), যেখানে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় = নিট বিক্রয় – মোট লাভ। দ্বিতীয়ত, দেনাদার আবর্তন অনুপাত (Trade Receivables Turnover Ratio) = নিট ধারে বিক্রয় (Net Credit Sales) ÷ গড় দেনাদার ও প্রাপ্য বিল এবং গড় আদায় সময়কাল (Average Collection Period) = 365 দিন (বা 12 মাস) ÷ দেনাদার আবর্তন অনুপাত (আবর্তন অনুপাত 5 হলে গড় আদায় কাল = 365 ÷ 5 = 73 দিন)। তৃতীয়ত, পরিচালন অনুপাত (Operating Ratio) এবং পরিচালন মুনাফা অনুপাতের (Operating Profit Ratio) যোগফল সর্বদা 100% হয়—অর্থাৎ পরিচালন অনুপাত 75% হলে পরিচালন মুনাফা অনুপাত হবে 100% – 75% = 25%। চতুর্থত, বিনিয়োজিত মূলধনের ওপর প্রতিদান (ROI) = (EBIT ÷ Capital Employed) × 100।

প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল ও পিডিএফ বুক স্টোর লিঙ্ক 

উচ্চমাধ্যমিক ৩য় ও ৪র্থ সেমিস্টার সমস্ত বিষয়ের সাজেশন ও পিডিএফ বুক ডাউনলোড:

উচ্চমাধ্যমিক 3য় সেমিস্টার হিসাবশাস্ত্র সাজেশন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: উচ্চমাধ্যমিক 3য় সেমিস্টার হিসাবশাস্ত্র (Accountancy) পরীক্ষায় কত নম্বরের প্রশ্ন আসে?

উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণির ৩য় সেমিস্টার হিসাবশাস্ত্রে মোট ৪০ নম্বরের (৪০টি) OMR-ভিত্তিক MCQ প্রশ্ন আসে (সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট এবং কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই)।

প্রশ্ন ২: অংশীদারি চুক্তিপত্র না থাকলে অংশীদারের ঋণের ওপর সুদের হার কত হয়?

উত্তর: ১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন অনুযায়ী অংশীদারি চুক্তিপত্রে উল্লেখ না থাকলেও অংশীদারের প্রদত্ত ঋণের ওপর বার্ষিক 6% হারে সুদ দিতে হয়।

প্রশ্ন ৩: নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement) এবং সুনাম (Goodwill) কোন কোন অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড মেনে তৈরি হয়?

উত্তর: নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরি হয় AS-3 (Revised) অনুযায়ী এবং অস্পর্শনীয় সম্পত্তি বা সুনামের হিসাবনিকাশ করা হয় AS-26 অনুযায়ী।

অরিন্দম দত্ত (Arindam Dutta) ✓
👨🏫 হিসাবশাস্ত্র, কারবারি শিক্ষা ও অর্থনীতি শিক্ষক • WBCHSE ⭐ ১১+ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা
অরিন্দম দত্ত (Arindam Dutta)
🎓 M.Com., M.A. (Economics), B.Ed., WBSET Qualified
অরিন্দম দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির হিসাবশাস্ত্র (Accountancy), কারবারি শিক্ষা (Business Studies), Cost & Tax এবং অর্থনীতি (Economics) বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক।

💬 কোনো প্রশ্ন বা বিশেষ অধ্যায়ের PDF লাগবে? নিচে কমেন্ট করো (Ask a Doubt)

এই অধ্যায় থেকে কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো বিষয়ের সাজেশন ও PDF নোটস লাগলে নিচে বাংলা বা ইংরেজিতে কমেন্ট করে জানাও, আমাদের শিক্ষক টিম দ্রুত উত্তর দেবে!